| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কারানল : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সংকট : নিকোলাস বিশ্বাস রামবাগানের ইন্দুবালা : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গণমানুষের কবি সুকান্ত : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার স্বাধীনতা তুমি কার : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্বাধীনতা — অর্জন নয়, দায়িত্বও : যশোবন্ত রায় চোখের বালি যখন চোখের বালিশ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাগ্মী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে কি বাঙালি ভুলে গেল : অসিত দাস পূর্বিতা পুরকায়স্থ-র ছোটগল্প ‘প্রান্তিক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়া : দিলীপ মজুমদার সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি — ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশেকে লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৫ Views জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

২৪৯. টোডরমলের (Turymull) করা জমির মূল্যায়ন ও নিবন্ধনের নথিপত্র সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ‘কানুনগো’ (canongoe) পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এই প্রশাসনিক দপ্তর সরকারি হিসাবের সমস্ত নথিপত্র রাখা হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘নায়েব’ বা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছিল নতুন গ্রাম পত্তন, জমির মালিকানা হস্তান্তর এবং দেশের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় এমন অন্যান্য বিষয়াদি নথিবদ্ধ করার জন্য; এবং তারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রতিটি বিক্রয় বা হস্তান্তর দলিল, জমির পরিমাপ, সীমানা ও বিভাজন লিপিবদ্ধ করতেন। অর্থসংক্রান্ত বা বেসামরিক প্রশাসন-বিষয়ক যেকোনো প্রয়োজনে এই নথিপত্রের সহায়তা নেওয়া হতো; জমি-সংক্রান্ত বিবাদের ক্ষেত্রে এতে প্রচলিত প্রথা ও তার পরিবর্তনের বিবরণ পাওয়া যেত; এছাড়া রাজস্ব ধার্য বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এগুলো নির্দেশিকা হিসেবে এবং জমিদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ আদায়ের ওপর নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করত।

২৫০. গ্রাম পর্যায়েও হিসাব রাখার জন্য কর্মকর্তা ছিলেন, যারা সাধারণত ‘পাটোয়ারী’ (Putwarries) নামে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের পদটি সাধারণত বংশানুক্রমিক বলে গণ্য করা হতো; তাঁদের প্রস্তুতকরা হিসাবই কানুনগোর নথিপত্রের ভিত্তি হিসেবে কাজ করত এবং কোনো কোনো স্থানে কানুনগোরাই তাঁদের নিয়োগ দিতেন বলে জানা যায়। যা-ই হোক, তাঁরা কানুনগো, জমিদার কিংবা অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে নিয়োগ পেয়ে থাকুন না কেন, আমি তাঁদের রাষ্ট্রের কর্মচারী এবং নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রের কাছে দায়বদ্ধ বলেই মনে করি।

২৫১. আকবরের শাসনবিধিতে (আইন-ই-আকবরী) জমি ও খাজনার হিসাব নথিবদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তার কথা নানা নামে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু পদ এখন আর প্রচলিত নেই; তবে মূল নীতিটি সেখানে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল এবং পদের নাম বা পরিভাষা কী ছিল, তা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পর থেকে, এই নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও কাজের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো ব্যবস্থাটিই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে বা অপব্যবহারের শিকার হয়েছে। অন্যরা যেমন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে, কানুনগোরাও তেমনি তা করেছে; আর এ কারণেই কেউ কেউ এই পদটিকে অকেজো বা অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেছেন। কারণ এর থেকে খুব সামান্যই সুফল পাওয়া গিয়েছিল। তাই যৌক্তিক বিচার-বিশ্লেষণের নিরিখে এই সিদ্ধান্তটি সমর্থনযোগ্য নয়।

২৫২. এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার আপাত প্রয়োজনীয়তা এবং এগুলোর মধ্যে যেসব অনিয়ম ও অপব্যবহার ঢুকে পড়েছে তা লক্ষ্য করে, কোনো কোনো কালেক্টর (জেলা প্রশাসক) এগুলো বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে অন্য কর্মকর্তাদের নিয়োগের ধারণাটি উত্থাপন করেছেন।

২৫৩. যেমন, বীরভূমের কালেক্টর প্রস্তাব করেছিলেন যে, নিম্নপদস্থ কানুনগোদের দায়িত্ব পালনের জন্য একজন শেরস্তাদার ও তাঁর সহকারীদের নিয়োগ করা হোক; পূর্ণিয়ার কালেক্টর মফস্বলের হিসাবপত্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে মোহর ও মুৎসুদ্দি নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন; অন্যদিকে সিলেটের কালেক্টর প্রস্তাব করেছিলেন যে, কানুনগোদের দ্বারা পাটোয়ারি পদের কাঠামো নতুন করে বিন্যস্ত করা হোক।

২৫৪. আমার এই নথির (মিনিট) এই অংশটি শেষ করার আগে এমন একটা সমস্যার কথা উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যা কম-বেশি সব শ্রেণীর মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে কৃষকদের ওপর এর আঘাত পড়ে সবচেয়ে বেশি; আমি প্রচলিত রৌপ্যমুদ্রার নানাবিধ ধরন এবং সেগুলোর মান কমে যাওয়ার (অবমূল্যায়ন) কথা বলছি। কৃষকদের ওপর যে বাট্টা বা বিনিময়-মূল্যের পার্থক্য চাপানো হয়, তা অন্য যেকোনো করের মতোই খেয়ালখুশিমতো ও স্বেচ্ছাচারীভাবে নির্ধারিত হয়। এই সমস্যার একটা সুস্পষ্ট সমাধানের কথা মনে আসে; আর তা হলো নতুন মুদ্রা প্রচলন। তবে আমি এখানে এমন একটা বিষয় নিয়ে আগাম আলোচনা করব না যা দীর্ঘকাল ধরে সরকারের সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে এবং যা নিয়ে তাঁরা গুরুত্বসহকারে ও সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করার পরিকল্পনা করছেন।

২৫৫. রাজস্ব-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে আমি আরও কিছু পর্যবেক্ষণ যোগ করব, যা সামগ্রিক আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভূমিকা হিসেবে কাজ করবে।

২৫৬. একটা জনবহুল ও বিশাল দেশের শাসনভার ন্যস্ত রয়েছে অল্প কয়েকজন বিদেশির হাতে, যাদের ভাষা, ধর্ম, রীতিনীতি ও আইনকানুন শাসিত জনগণের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্য থেকেই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে সক্ষম একদল লোকের সহায়তায় অন্যদের ওপর সামরিক কর্তৃত্ব বা ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয়। দেশের খাজনা বা আয়ের একটা বড় অংশ কোম্পানির কোষাগারে জমা হয়; এবং সরকারের যাবতীয় দায় মেটানোর পর যে উদ্বৃত্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তা ইংল্যান্ডে পাঠানোর জন্য এবং গ্রেট ব্রিটেনের বাণিজ্য ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ দেশের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী ব্যবহার করা হয়। [১৯৪]

২৫৭. স্থানীয় অধিবাসীদের শান্ত স্বভাব ও বশবর্তী থাকার অভ্যাসের কারণে আমরা ইতিহাসে নজিরবিহীন এক নিরাপত্তা উপভোগ করছি। এই মুহূর্তে, বাংলায় আমাদের শাসনের চেয়ে অধিকতর স্থায়ী বলে মনে হতে পারে এমন কোনো সরকার নেই; এবং কীভাবে এই শাসনব্যবস্থা বিপর্যস্ত বা উৎখাত হতে পারে তা আলোচনা না করেও এটুকু বলা যথেষ্ট যে, এটা ধরে রাখার নিশ্চিততম উপায় হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা যা প্রজাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে — অর্থাৎ তাদের সম্পত্তির নিরাপত্তা ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি প্রদান এবং তাদের সংস্কার বা প্রথাগুলোর প্রতি যুক্তিসঙ্গত নমনীয়তা প্রদর্শন করে।

২৫৮. আমাদের প্রশাসন এ যাবৎকাল অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত থেকেছে; কোনো সংস্কারের ধারণা হয়তো তড়িঘড়ি করে গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু তা অসংলগ্নভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং পরে নীতিগত ত্রুটির অজুহাতে পরিত্যাগ করা হয়েছে; নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করা হয়েছে এবং একইভাবে আবার বর্জনও করা হয়েছে; আর এসব পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা প্রতিটি নতুন প্রশাসকের আগমনের সাথে সাথেই শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে থাকে।

২৫৯. খুঁটিনাটি পদক্ষেপ স্থানীয় পরিস্থিতি ও আকস্মিক ঘটনার প্রেক্ষিতে সর্বদা পরিবর্তনশীল হতে পারে — যার জন্য আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় — তবে মূল নীতিগুলো যথাসম্ভব সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় হওয়া উচিত।

২৬০. সরকারের নীতিনির্ধারক সদস্য এবং অধীনস্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে; কারণ পদের সাথে সাথে অভিজ্ঞতা হস্তান্তরিত হয় না, তাই সুনির্দিষ্ট নিয়ম দ্বারা সীমাবদ্ধ না করলে, প্রকৃত বা কাল্পনিক উন্নতির আশায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিচার-বিবেচনা বা খেয়ালখুশি অনুযায়ী কাজ করার প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। একই ব্যবস্থা অনুসরণ করা সত্ত্বেও কাজের সফলতার ওপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরিত্রের উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকে; কিন্তু যেখানে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাই নেই, সেখানে গুটিকয়েক ব্যক্তির মেধা, জ্ঞান ও উদ্দীপনা থেকে পাওয়া আংশিক সুফলের চেয়েও ক্ষতিকর দিকগুলো অনেক বেশি প্রকট হয়ে উঠবে।

২৬১. আমাদের ব্যক্তিগত চরিত্রের দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়ে সেগুলোকে নিজেদের উদ্দেশ্য ও স্বার্থের অনুকূলে ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীরা যে দক্ষতা ও সাফল্য প্রদর্শন করে, তা সর্বজনবিদিত; একজন যা প্রত্যাখ্যান করে, অন্যজন তা মঞ্জুর করতে আগ্রহী হয়; আজ যে ব্যবস্থাটি বাতিল করা হলো, অন্য কোনো সময়ে নতুন যুক্তি দিয়ে তা-ই আবার উত্থাপন করা হয়; একবার পরীক্ষা করে ব্যর্থ হয়েছে এমন কোনো বিষয়কেও ব্যর্থতার সপক্ষে বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখিয়ে নতুন করে চালু করা হয়। তারা আমাদের স্বভাব-চরিত্র, পছন্দ-অপছন্দ, বিদ্বেষ ও বন্ধুত্বের বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে; এবং, তাদের অতি-পরিচিত সেই ধীরস্থির সতর্কতার সাথে, তারা নতুন কোনো ব্যবস্থা বা পদক্ষেপ প্রবর্তনের — অথবা পরিত্যক্ত বা বাতিল হয়ে যাওয়া কোনো ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার — অনুকূল সুযোগটি লুফে নেয়। এমনকি অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও, আমাদের সতর্কতা ও অভিজ্ঞতা বিভ্রান্ত হতে পারে; কিন্তু অভিজ্ঞতা সবার ভাগ্যে জোটে না; এবং অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব বিচারবুদ্ধি কোনো প্রস্তাবক বা উপদেষ্টার মতামতের কাছে নতি স্বীকার করে বসে — অথচ সেই সিদ্ধান্তটি কেবল প্রস্তাবিত পদক্ষেপের যথার্থতার ওপর ভিত্তি করেই নেওয়া উচিত ছিল। যেসব অনিষ্ট বা সমস্যাকে কখনোই পুরোপুরি নির্মূল বা সংশোধন করা সম্ভব নয়, সেগুলোর প্রতিকার খুঁজতে হলে আমাদের কেবল ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার ওপরই নির্ভর করতে হবে; এবং আমার কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২৬২. তবে আমাদের প্রজারা যে শুরুতেই এই নীতিটির যথার্থ মেনে নেবে বা এর জন্য আমাদের কৃতিত্ব দেবে, এমনটা আশা করা যায় না। তাদের মনে এই ধারণাটি দৃঢ়ভাবে গেঁথে দিতে এবং স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে গড়ে ওঠা — এবং আমাদের প্রশাসনের ঘন ঘন পরিবর্তনশীল পদক্ষেপের ফলে আরও বদ্ধমূল হওয়া — অভ্যাসগুলো দূর করতে সময়ের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এর ফলে তারা যে সুস্পষ্ট সুবিধা পাবে, তা ধীরে ধীরে তাদের মনে বিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে এবং তাদের এমন সব প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করবে যা আগে কখনোই আশা করা যেত না; কারণ ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলে সেই প্রচেষ্টার সুফল পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ত।

২৬৩. স্বৈরাচার যেমন আমাদের শাসনতন্ত্রের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, তেমনি তা যেকোনো ধরনের উন্নয়নের ধারণাকেও নস্যাৎ করে দেয়। আমরা যদি স্বৈরাচারের নীতিগুলো গ্রহণ করতে চাইতাম, তবে ভারতে আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হতো এবং প্রচলিত বিধিবিধানগুলোকে নতুন করে সাজাতে হতো; কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে, আমরা এমন এক জনগোষ্ঠীকে শাসন করছি যাদের অভ্যাস স্বৈরাচারের দ্বারা গঠিত; তারা তাদের আচরণে স্বৈরাচারসুলভ উচ্ছৃঙ্খলতা এবং এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকফোকর ও ছলচাতুরির আশ্রয় নেয়; এবং তারা আমাদের নীতিমালার নমনীয়তাকে গ্রহণ বা স্বীকার করার চেয়ে বরং তার সুযোগ নিতেই বেশি তৎপর। এই বিষয়টিই আমাকে একসময় এমন এক ধারণার কথা ভাবতে প্ররোচিত করেছিল যে, আমাদের প্রশাসনকে নীতিগতভাবে নয়, বরং বাহ্যিক কাঠামোর দিক থেকে স্বৈরাচারী করা যেতে পারে; এবং অন্ততপক্ষে এটাই প্রমাণ করে যে, প্রতিষ্ঠিত আদেশ ও নিয়মকানুনগুলো — সেগুলো যতই নমনীয় বা উদার হোক না কেন — দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের সাথে কার্যকর করা কতটা জরুরি।

২৬৪. আমরা স্বীকার করে নিয়েছি যে ভূমির মালিকানা স্বত্ব জমিদারদের ওপর ন্যস্ত; এমনকি যদি মুঘল শাসনব্যবস্থা অনুযায়ী এটা প্রমাণও করা যায় যে সম্পত্তিটি সার্বভৌম শাসকের মালিকানাধীন ছিল — যা আমার মতে অসম্ভব — তবুও কোম্পানির উচিত তা ছেড়ে দেওয়া। কেবল মালিকানা স্বত্ব স্বীকার করলেই দেশের কোনো বিশেষ উন্নতি হবে না; এর পাশাপাশি এমন সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন যা সেই অধিকারকে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলবে। দেশের উন্নয়নে এগুলি খুব সামান্যই ভূমিকা রাখে। আমাদের মতো একটা বিদেশি শাসনের দাবিগুলো নিশ্চিতভাবেই দেশীয় শাসকদের আরোপিত করের তুলনায় অধিকতর সহনীয় হওয়া উচিত; এবং আমাদের সম্পদের মূল্যমানকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে আমাদের দাবি বা করের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিজ সরকার থেকে পৃথিবীর অর্ধেক দূরত্বে অবস্থান করায়, ভারতের প্রশাসনের ওপর প্রয়োজনীয় ক্ষমতা খর্ব না করেও সম্ভাব্য সকল বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত; এবং খেয়ালখুশি বা অবাধ ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারিতা থেকে অধিবাসীদের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

২৬৫. যারা পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণগুলো মনোযোগ সহকারে পড়েছেন, তারা নিশ্চয়ই অবাক হবেন না যখন আমি দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবিত যেকোনো পদ্ধতির বিরুদ্ধে এত বেশি আপত্তি উত্থাপিত হতে দেখে দুঃখ প্রকাশ করব। সবচেয়ে সহজ, স্বাভাবিক এবং বুদ্ধিদীপ্ত পদ্ধতিটি হলো নিশ্চিতভাবেই ভূমির মালিকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করা। তবে অন্যদিকে, তাদের অক্ষমতা — তা ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা, অলসতা বা স্বাভাবিক দুর্বলতা — যেকোনো কারণেই হোক না কেন, তার ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধেও সতর্ক থাকতে হবে। [১৯৫]

২৬৬. ভারতে আমাদের সরকার ব্যবস্থা, এর কাঠামো, রাজস্ব সংগ্রহকারীদের যোগ্যতা, একটা স্থায়ী পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং প্রজাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করা যে ভবিষ্যতে আমাদের পদক্ষেপগুলো সুশৃঙ্খল পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে — এসব বিষয় সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করে; এবং আলোচিত বিভিন্ন কার্যপদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা তুলনা ও পরিবর্তনশীল নীতির কুফলগুলো অনুধাবন করে আমি এই মত পোষণ করছি যে, জমিদারদের সাথে একটা সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী পরিকল্পনার ভিত্তিতেই বন্দোবস্ত সম্পন্ন করা উচিত। এই মতামতটি কেবল অন্যদের — যাদের অভিমত আমি আনন্দের সাথে গ্রহণ করছি — মতামতের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং তা ‘কোর্ট অফ ডিরেক্টরস’-এর নির্দেশাবলি এবং আইনসভার অভিপ্রায়ের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev