Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ হেলালগীতি : ড.মুন্সি আবু সাইফ সোনাম ওয়াংচুক — গান্ধিবাদী অনশনের ঐতিহ্য : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নুসরাত সুলতানা-র ছোটগল্প ‘ইনকিউবেটর’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্পেন — রবীন্দ্রনাথ কখনও এখানে খেতে আসেননি : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ জাতি সংঘের চিঠি : নির্বাচন কমিশন ও ভারত সরকার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি ডালিয়া — ডায়েট ফ্রেন্ডলি রেসিপি : রিঙ্কি সামন্ত ছানি অপারেশন কোথায় ও কখন করা উচিত : ডা. তনুশ্রী চক্রবর্তী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অপারেশন লোটাসের ইতিবৃত্ত : দিলীপ মজুমদার ওড়িশার পঞ্চদশ শতকের মহাকবি সরলা দাসের কোটিপূজাই আজ খুঁটিপূজা : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ঢেউ-এর দোলায় তসলিমা নাসরিন : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রথ নিয়ে বাংলা প্রবাদ ও তার সামাজিক তাৎপর্য : অসিত দাস মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘গোধূলির চিতায়’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ এনকাউন্টার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ফুলমনির মাঠ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শুনুন নেতাজি সুভাষ, শুনছেন — : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলতলার ঝগড়ার ‘কলতলা’ ছিল জলের কল আসার অনেক আগেই : অসিত দাস
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৮ জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

৭.

‘ফিফথ রিপোর্ট’ (Fifth Report)-এর পাঠকদের বিশেষ গুরুত্ববহ আরও একটা বই নিশ্চিতভাবে পড়া উচিত: — “আ স্কেচ অফ সাম লেট অ্যারেঞ্জমেন্টস, অ্যান্ড আ ভিউ অফ দ্য রাইজিং রিসোর্সেস ইন বেঙ্গল” (A Sketch of some Late Arrangements, and a View of the Rising Resources in Bengal) — লেখক: টমাস ল (Thomas Law), এস্কোয়ার (ফোর্ট উইলিয়ামের রাজস্ব পরিষদের প্রাক্তন সদস্য)। [বাংলায় ‘ল’ (Law) পরিবার সম্পর্কে বিশদ তথ্যের জন্য দেখুন Bengal: Past and Present, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৭০-৭১। আমার ধারণা, ক’ পরিবারের আমাদের এই আলোচ্য মানুষ ছিলেন কার্লাইলের বিশপ এডমন্ড ল-এর পুত্র এবং প্রথম ব্যারন এলেনবরো আর এলফিন এবং বাথ অ্যান্ড ওয়েলসের বিশপের ভাই। ১৭৯৩-তে তিনি আমেরিকায় অভিবাসিত হন; সেখানে জাতীয় মুদ্রা ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রচেষ্টাকালে ট্যালিরান্ডের (Talleyrand — ইউরোপীয় ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ফরাসি কূটনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ। ফরাসি বিপ্লব, নেপোলিয়নের শাসন এবং রাজতন্ত্রের পুনর্বাসন — একাধারে ছয়টা আলাদা আলাদা শাসনামলে অত্যন্ত দক্ষতায় পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করেন — অনুবাদক) সাথে তাঁর পরিচয় হয় এবং ১৮৩৪-এ ওয়াশিংটনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেই হিসেবে তিনি ছিলেন গভর্নর-জেনারেল আর প্রথম আর্ল অফ এলেনবরোর খুড়ো এবং জাম্বেসি-অঞ্চলের বিখ্যাত জেসুইট মিশনারি অগাস্টাস হেনরি ল’র প্রপিতামহের ভাই great-uncle। গয়ার একটা অংশের নাম মূলত ‘এলাহাবাদ’ হিশেবে পরিচিত ছিল — টি. ল-এর করা উন্নয়নমূলক কাজের স্মারক হিসেবে সে নাম পরিবর্তন করে ‘সাহেবগঞ্জ’ রাখা হয়] লন্ডন: জন স্টকডেল, পিকাডিলির ছাপা। ১৭৯২।

তাঁর বিশিষ্ট পরিবারের সুবিদিত আর্থিক দক্ষতার উত্তরাধিকারী হিসেবে, এই গ্রন্থে ‘ল’ (Law) ভারতে অবাধ বাণিজ্যের পক্ষে এবং বিহারে ‘মোকারারি’ (Mukarrari — জমিদারি বা ভূমি বন্দোবস্ত ব্যবস্থার একটি ঐতিহাসিক পরিভাষা — অর্থ স্থায়ী বা নির্দিষ্ট। ব্রিটিশ শাসনামলে এবং মুঘল আমলে মূলত এমন ভূমি ইজারা বোঝাতো, যার খাজনা বা ভাড়া চিরকালের জন্য নির্দিষ্ট থাকে এবং কখনোই বাড়ানো যায় না — অনুবাদক) ভূমি-স্বত্ব ব্যবস্থার গুণাগুণের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন; পাশাপাশি, তৎকালীন ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোও তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে উন্মোচন করেছেন। বইটার বড় গুণ, এতে লেখক ভারতের অগ্রগতির ক্ষেত্রে হেস্টিংস (Hastings) ও ফ্রান্সিস (Francis) — উভয়েরই অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

পাঠকের উচিত অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে ১৮৭৯-এ কলকাতায় দুই খণ্ডে প্রকাশিত “দ্য জমিদারী সেটলমেন্ট অফ বেঙ্গল” (The Zemindary Settlement of Bengal) গ্রন্থটিও অধ্যয়ন করা।

ওয়াল্টার কে. ফার্মিঙ্গার।

পঞ্চম প্রতিবেদন

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিষয়াবলি সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির (Select Committee) পক্ষ থেকে।

পরিশিষ্ট নং ১।

মিঃ শোরের কার্যবিবরণী (মিনিট), তারিখ ১৮ জুন ১৭৮৯; বাংলা প্রদেশের ভূমি সংক্রান্ত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বিষয়ে।

১. [ইস্ট ইন্ডিয়া] কোম্পানি প্রথম এই প্রদেশগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশের রাজস্ব আদায়ের অধিকার অর্জনের পরের সময় থেকে আঠাশ বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং চিরস্থায়ীভাবে দেওয়ানি রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া [grant of the Dewanny] [টিকা ১] সম্পূর্ণ হস্তান্তরের পর চব্বিশ বছর অতিবাহিত হয়েছে।

২. এই অধিকৃত অঞ্চলের প্রকৃতি ও বিস্তৃতি, আমাদের শাসনাধীন জনগণের বৈশিষ্ট্য এবং তাদের ভাষা ও রীতিনীতির ভিন্নতার কথা বিবেচনা করলে — পাশাপাশি এ কথাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, আমরা যখন এর শাসনভার গ্রহণ করি তখন এখানকার পূর্ববর্তী শাসনকাঠামো সম্পর্কে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না এবং এশীয় অর্থব্যবস্থা পরিচালনার [টিকা ২] ক্ষেত্রেও আমাদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ছিল নগণ্য — এমতাবস্থায় আমাদের দ্বারা কোনো ভুল-ত্রুটি হওয়া কিংবা বর্তমানে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেওয়াটা মোটেও বিস্ময়কর নয়।

৩. মুঘল শাসনব্যবস্থা — এমনকি তাদের স্বর্ণযুগে এবং অত্যন্ত বিচক্ষণ শাসকদের অধীনেও — মূলত শাসকের নিজস্ব বিবেচনাবোধের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রজাদের নিরাপত্তা, তাদের সম্পত্তির সুরক্ষা এবং দেশের সমৃদ্ধি — সবকিছুই নির্ভর করত সম্রাটের ব্যক্তিগত চরিত্রের ওপর। সম্রাটের আচরণই ছিল তাঁর প্রতিনিধিদের আচরণের মাপকাঠি; সম্রাট যত বেশি বিচক্ষণ, ন্যায়পরায়ণ, সতর্ক আর মানবিক হতেন, প্রাদেশিক শাসনকর্তারাও ততটাই নিষ্ঠা আর একাগ্রতায় তাঁদের দায়িত্ব পালন করতেন। আবার সম্রাটের গুণাবলি অথবা তার অভাবের অনুপাতে অধস্তন কর্মচারীদের কর্মতৎপরতা ও সততার মাত্রাও কম-বেশি হতো। দুর্বল সম্রাট আর দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রী সর্বপ্রকার বিশৃঙ্খলার জন্মদাতা আর তাকেও প্রশ্রয় দিতেন, কারণ সম্রাটের ইচ্ছার ঊর্ধ্বে কোনো আইন ছিল না; সরকারি কর্মকর্তাদের খুব কমই উপযুক্ত বেতন দেওয়া হতো, ফলে বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ন্যায়বিচারের বিকৃতি কিংবা অবাধ নিপীড়নের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা দিত। আমার মতে, এই বর্ণনা সকল মুসলিম শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে নৈতিক আদর্শের তত্ত্বের সাথে বাস্তব আচরণের সর্বদা বিরোধ বিদ্যমান থাকে; আর অসাধারণ গুণাবলি বা সহনশীলতার দু-একটি দৃষ্টান্ত কেবল ব্যতিক্রম হিসেবেই গণ্য হয়, যা সামগ্রিক এই পর্যবেক্ষণের সত্যতাকে খুব একটা ক্ষুণ্ণ করে না।

৪. আমাদের দেওয়ানি লাভের অনেক আগেই [মুঘল] সাম্রাজ্যের প্রাণশক্তি অপূরণীয়ভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং এর শাসনব্যবস্থা — যার স্বরূপ এর শ্রেষ্ঠ শাসকদের আদেশনামা ও কার্যপদ্ধতির মাধ্যমে কিছুটা অনুধাবন করা সম্ভব — তাও চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছিল। কোম্পানি যখন এই অধিকার লাভ করে, তাদের নির্দেশাবলি প্রণয়নের ক্ষেত্রে একমাত্র পথপ্রদর্শক ছিল [মুঘল] সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করা প্রাদেশিক প্রশাসনের কার্যপ্রণালী; তারা দীর্ঘকাল ধরেই [মুঘল] সাম্রাজ্যের আইনকানুন মেনে চলা বন্ধ করে দিয়েছিল।

৫. ভারতে ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থার কাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যায় যে, দ্রুত কোনো সংস্কার বা উন্নতি সাধনের জন্য এটি খুব একটা উপযুক্ত নয়। এর নীতিনির্ধারক বা সদস্যরা ঘন ঘন পরিবর্তিত হন; ফলে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জনের বা তা কাজে লাগানোর আগেই তাঁদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক/প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা বা নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় প্রচুর সময় ব্যয় হয় এবং কাজের ক্রমাগত চাপে পড়াশোনা আর চিন্তাভাবনার খুব কম অবসরই পাওয়া যায় — অথচ বৌদ্ধিক এনগেজমেন্ট ছাড়া এ দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার মূল নীতি আর খুঁটিনাটি সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করা অসম্ভব। উপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই তা সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি না করে, কেবল প্রচলিত রীতিনীতি বা অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়। বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘকাল নিয়োজিত যে কোনো ব্যক্তিই — যদি তিনি অকপট, খোলামেলা হন — স্বীকার করবেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর মত বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং এক বছরের প্রাপ্ত তথ্য পরের বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে; ফলে আংশিক পরিস্থিতি বা হয়তো ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা নজিরগুলোই (precedents) শেষ পর্যন্ত কার্যপ্রণালীর স্থায়ী নিয়মে পরিণত হয়। কারণ, বিচক্ষণ ব্যক্তি দ্বিধায় পড়লে, সেই সমস্যার সমাধানে তিনি পূর্ব-উদাহরণ বা নজিরের আশ্রয় নিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। নথিপত্র বা রেকর্ডের আধিক্য — আসলে বড় সুবিধা হওয়ার কথা ছিল — বাস্তবে তা এক বিশাল অসুবিধায় পরিণত হয়েছে; কারণ এগুলোর মধ্যে কেবল অন্যদের অভিজ্ঞতারই সন্ধান পাওয়া যায় এবং তা যাচাই বা ব্যবহারের জন্য প্রচুর সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়।

[এই স্তবক, ৬ নং পয়েন্ট কি না জানি না, উল্লেখ নেই] তবে বাংলার শাসনকার্যে অংশীদার হিসেবে নিয়োজিত প্রত্যেকেরই কর্তব্য — নিজের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে সামগ্রিক ব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান পেশ করা; কারণ এমন উদ্যম না থাকলে এই ব্যবস্থা অনিবার্যভাবেই অধঃপতনের দিকে ধাবিত হবে। তাই বোর্ডের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমি এখন এ দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মতামত তুলে ধরতে চাইছি, যার লক্ষ্য হলো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। পূর্ববর্তী [১৬৯] চিন্তাভাবনাগুলোতে অন্যদের পক্ষে যে সাফাই গাওয়া হয়েছে, তা আমার নিজের জন্যও দাবি না করে পারছি না। যাদের কাজের ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতাকে পথপ্রদর্শক হিসেবে ব্যবহারের আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে নিন্দা করার জন্য আসুন আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করি।

৭. আমি কিছুটা দ্বিধা নিয়েই এই [মিনিটস, কার্যবিবরণী লেখার] কাজে হাত দিচ্ছি; কারণ যদিও কোম্পানির সেবায় আমার সরকারি দায়িত্বের সুবাদে এই কাজের জন্য আমাকে যোগ্য বলে মনে করা হয়েছে, তবুও আমি নিজেই খুব ভালোভাবেই জানি যে আমার এখনও অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। আমি কেবল এটুকু ভেবেই দুঃখিত যে, ঘন ঘন অসুস্থতা এবং বিরামহীন কাজের চাপে, বহু ত্রুটি-বিচ্যুতি সূত্রে আমাকে হয়তো ক্ষমা চাইতে হচ্ছে এবং এই স্বীকারোক্তি দিতে হচ্ছে। ভারতে দীর্ঘকাল বাসের ফলে আমার যে অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়, তা যেন এমন কোনো মতামতকে বৈধতা না দেয় যা আমি অবাধ আলোচনার বিষয় হিসেবেই দেখতে চাই — ঠিক যেমন অবাধে আমি তা প্রকাশ করছি। আমার মন্তব্যগুলো হয়তো অনেক সময় বিক্ষিপ্ত মনে হতে পারে, তবে আশা করি সেগুলো খুব একটা অসম্পূর্ণ বা সিদ্ধান্তহীন বলে মনে হবে না। ইওরোপ থেকে পাওয়া নির্দেশ অনুযায়ী বর্তমানে যে বেশ কয়েক বছরের দীর্ঘমেয়াদী [পরে চিরস্থায়ী চিহ্নিত হবে – অনুবাদক] বন্দোবস্ত (Settlement) প্রবর্তনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে, তার প্রস্তুতি হিসেবেই আমি এই মন্তব্যগুলো করছি।

৮. জমিদার ও তালুকদারদের অধিকার ও বিশেষ সুবিধা নিয়ে আমার লিখিত কার্যবিবরণীর নথি যে যুক্তি আর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে, তা যদি কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের গৃহীত আর ঘোষিত এই মতকে আরও সুদৃঢ় করে — এই শ্রেণির মানুষরাই ভূমির প্রকৃত মালিক — তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিশ্চিত হলো বলে ধরা যায়। অবশ্য শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথে এটা একটামাত্র পদক্ষেপ; আরও কার্যপদ্ধতি আর খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে যা কিছু করণীয়, তার জন্য আরও গভীর জ্ঞান আর স্থানীয় তথ্য প্রয়োজন।

৯. বাংলার সামগ্রিক রাজস্ব নির্ধারণের বিষয়ে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী মত প্রচলিত রয়েছে, যা দেশের সমৃদ্ধি আর কোম্পানির স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর একটা মত হলো, সামগ্রিকভাবে এই রাজস্বের পরিমাণ অত্যধিক এবং দেশের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি; অন্য মত হলো, রাজস্বের হার প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব। প্রথম মতটি অত্যন্ত দক্ষতা ও আর্থিক বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞানের সাথে তুলে ধরেছেন মিস্টার ফ্রান্সিস [এবং স্বয়ং শোরও – কারন আমরা জানি প্রাথমিকভাবে শোরই ফ্রান্সিসের মিনিট লেখার অন্যতম কোলাবরেটর – অনুবাদক]; আর দ্বিতীয় মতটির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন মিস্টার জেমস গ্রান্ট — যিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে এবং নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

টিকা ১

পলাশির পর মীর জাফর নবাব হয়ে কোম্পানির কাছে বিপুল অর্থের দেনাদার হয়ে পড়েন। ১৭৬০-এ কোম্পানি তাকে উচ্ছেদ করে জামাই মীর কাসিমকে ক্ষমতায় বসায়। নতুন নবাবের সাথে কোম্পানি গোপন চুক্তি সম্পাদনের সূত্রে, বর্ধমান, মেদিনীপুর ও চট্টগ্রামের জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই তিন অঞ্চলে কোম্পানি চাহিদা ছিল ১। রাজস্ব আদায়ের অধিকার; ২। মীর জাফরের বকেয়া দেনা পরিশোধ; এবং নগদ অর্থ। এই ঘটনা ঘটে হেনরি ভ্যান্সিটার্টের গভর্নরশিপের সময়। কলকাতার কোম্পানির কর্তারা বুঝতে পারে নবাব বদল করেই লাভজনক জমি দখল করা যায়। কোম্পানির হাতে ১৭৬০-এ তিন জমিদারি তুলে দেওয়া ছিল প্রথম পর্বের প্রাতিষ্ঠানিক লুঠের যুগ।

কোম্পানি আগামী দিনে যে লুঠের স্থাপত্য নির্মান করবে, সেই কাজে জেলা তিনটের গুরুত্ব

বর্ধমান – কৃষি আর ব্যবসার কেন্দ্র; মেদিনীপুর — লবণ উৎপাদনে অর্থকরী অঞ্চল — লবণ হবে আগামী দিনে ভূমি রাজস্বের পর দ্বিতীয় রাজস্ব আদায় ক্ষেত্র; চট্টগ্রাম — বন্দর আর সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই তিন জেলার বাৎসরিক রাজস্ব ছিল প্রায় ৫ লক্ষ পাউন্ড স্টার্লিং — কোম্পানির বিরাট অর্থনৈতিক লাভের নিশ্চয়তা। কোম্পানির নথিপত্রে এই তিন জমিদারিকে বলা হয়েছে হস্তান্তরিত জেলা’ Ceded Districts। এই অঞ্চলগুলোতে কোম্পানি সম্পূর্ণ রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করে। সে নিজস্ব কর্মচারী নিয়োগ করে সরাসরি রাজস্ব সংগ্রহ আর শাসন পরিচালনা করল। মীর কাসিম অবশ্য স্বাধীনচেতা ছিলেন। তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে রাজধানী সরিয়ে ইউরোপীয় আদলে সেনাবাহিনী গঠন করেন, যা শেষ পর্যন্ত কোম্পানির সঙ্গে সংঘাতে গিয়ে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে তার পরাজয় ঘটায়।

মীর কাসিমের সঙ্গে ২৭শে সেপ্টেম্বর, ১৭৬০-এর এই চুক্তি ছিল পলাশীর পর প্রাতিষ্ঠানিক লুঠের ভিত্তি। ফিফথ রিপোর্টের পরিশিষ্ট আর অন্য ঐতিহাসিক সূত্র থেকে জানা যায় : “…for all charges of the Company and of the said army and provisions for the field, etc., the lands of Burdwan, Midnapoor, and Chittagong, shall be written and granted.” যদিও ফিফথ রিপোর্টের ভাষায় একে ‘সেনাবাহিনীর খরচ মেটানোর জন্য অর্পিত জমি’ বলা হয়েছে, বাস্তবে ছিল কোম্পানির প্রথম বড় আকারের রাজস্ব-ভিত্তিক লুণ্ঠন। ফার্মিঙ্গারের ভাষায়, ‘সামরিক ব্যয় নির্বাহের জন্য’ হলেও ‘প্রকৃতপক্ষে তা ছিল ক্ষমতা লাভের বিনিময়ে মূল্য’।

এই পর্ব থেকেই ‘প্রাতিষ্ঠানিক লুঠ’ শুরু হয়েছিল এবং ফিফথ রিপোর্ট সেই লুঠের ‘আইনি’ দলিলায়ন। রিপোর্টের ‘পরিভাষা’ যাই হোক না কেন, ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে বলতে পারি, এই সময় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক লুঠ পর্ব শুরু। এখানে কোম্পানির নির্মিত পণ্য – ক্ষমতা আর নিরাপত্তা বিক্রি করে একটি দেশের সম্পদে কর্তৃত্ব দখল করে। এটাই আগামী ১৯০ বছরের লুঠের ভিত্তি তৈরি করবে।

এরপর ১৭৬৫তে আরেকটা নতুন বর্গের শুরু ‘দেওয়ানী ভূমি’ Diwani lands। মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের থেকে বাংলা বিহার ওডিসার দেওয়ানি লাভের ভূমিকে কোম্পানির খাতায় দেওয়ানী ভূমি বলা হতো। এই অঞ্চলগুলোতে কোম্পানিকে সম্রাটের পক্ষ থেকে নির্ধারিত রাজস্ব দিতে হতো। এটা আমরা ফিফথ রিপোর্টের প্রথম খণ্ডের তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করেছি। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি কীভাবে ‘হস্তান্তরিত জেলা’ (Ceded Districts) ও ‘দেওয়ানী ভূমি’ (Diwani lands)-এর মতো পরিভাষা তৈরি করা হয়েছিল লুঠকে প্রশাসনিক ও আইনি রূপ দেওয়ার জন্য। ফিফথ রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ডের আলোচনায় এই পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এখান থেকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও রাজস্ব নীতির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

টিকা ২

ফিফথ রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ডে, শোর মিনিটসের ২ পয়েন্টে ভারতীয় অর্থ ব্যবস্থা পরিচালনা না বলে কেন এশীয় অর্থব্যবস্থা পরিচালনা বললেন

১. ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বৃহত্তর আখ্যান নির্মাণ — শোর যখন রাজস্ব নীতি বা অর্থব্যবস্থার কথা বলছিলেন, তিনি সম্ভবত সম্পূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশ বোঝাতে চেয়েছেন। কিন্তু ‘ভারত’ বলার চেয়ে ‘এশিয়া’ বলা ছিল সাম্রাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। ব্রিটিশরা নিজেদের শুধু ভারতেরই নয়, সমগ্র এশিয়ার ‘শাসক’ হিসেবে দেখতে চাইছিল। ‘এশিয়া’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তারা এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে তাদের আগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

২. ‘ভারত’ বনাম ‘এশিয়া’ — ইচ্ছাকৃত দূরত্ব তৈরি — ‘ভারত’ বা ‘বাংলা’ শব্দ ব্যবহার করলে শোরের বক্তব্য নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বা ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়ে যেত। কিন্তু ‘এশিয়া’ একটি বিমূর্ত, বৃহৎ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ মহাদেশ — যার মধ্যে ভারত, চীন, পারস্য সবই পড়ে। এই বিমূর্ততা শোরকে উপনিবেশিক শাসনের কঠোর বাস্তবতা থেকে দূরত্ব তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। এছাড়াও, শোর যখন ‘এশীয় অর্থব্যবস্থা’ বলছেন, তখন তিনি মুঘল, চীনা, পারস্য — সব ধরনের অর্থব্যবস্থাকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলছেন; কিন্তু শোরের নিজের অভিজ্ঞতা ছিল মূলত বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থা নিয়ে। এই সাধারণীকরণের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন অর্থব্যবস্থার মধ্যে একটি ‘সাম্য’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, যা ব্রিটিশদের পক্ষে সবগুলোকে একই রকম ‘পশ্চাৎপদ’ ও ‘সংস্কারযোগ্য’ বলে চিহ্নিত করা সহজ করেছিল।

৩. প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি — শোর ছিলেন স্যার উইলিয়াম জোন্সের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং এশিয়াটিক সোসাইটির সঙ্গেও জুড়ে ছিলেন; তিনি সেই ‘প্রাচ্যবাদী’ চিন্তাধারারই অংশ ছিলেন, এডওয়ার্ড সাঈদের ভাষায়, ‘প্রাচ্য’কে (Orient) একক, রহস্যময় ও অপরিবর্তনশীল সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করে। ‘এশিয়া’ ব্যবহারের মাধ্যমে শোর এই ধারণাকেই পুষ্ট করেছেন যে এশিয়ার সব অর্থব্যবস্থা একই রকম, আর তাই ব্রিটিশ ‘বিজ্ঞানসম্মত’ রাজস্ব নীতি সেখানে প্রযোজ্য।

৪. উপনিবেশিক শাসনের ‘সার্বজনীন’ তত্ত্ব তৈরি — শোরের রাজস্ব নীতির মূল কথা ছিল ‘এশীয় অর্থব্যবস্থা’ পরিচালনার সাধারণ কাঠামো তৈরি করা। তিনি চেয়েছিলেন জমিদারি প্রথা, রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি — এই সবকিছুকে একটি ‘সার্বজনীন’ তত্ত্বে পরিণত করতে, যা ভারত, চীন বা পারস্য — সব জায়গায় প্রযোজ্য হবে। এই সাধারণীকরণের মাধ্যমেই ব্রিটিশ শাসন নিজেকে ‘সভ্যতার মিশন’-এর অংশ হিসেবে প্রচার করত, যেখানে এশিয়ার ‘পশ্চাৎপদ’ অর্থব্যবস্থাকে ইউরোপীয় ‘আধুনিক’ কাঠামোতে রূপান্তরিত করা সম্ভব।

সুতরাং, শোরের ‘এশিয়া’ ব্যবহার ছিল — ১. ভৌগোলিক নির্ভুলতা — যেহেতু তাঁর আলোচনার পরিধি শুধু বাংলার চেয়ে বড় ছিল। ২. ইচ্ছাকৃত দূরত্ব তৈরি যাতে উপনিবেশিক শাসনের কঠোর বাস্তবতা থেকে মনকে সরিয়ে রাখা যায়। ৩. প্রাচ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন – যেখানে এশিয়াকে একক, অপরিবর্তনশীল সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ৪. সাম্রাজ্যের বৃহত্তর আখ্যানের অংশ যেখানে ব্রিটিশ শাসনকে শুধু ভারতের নয়, সমগ্র এশিয়ার জন্য একটি ‘সভ্যতামূলক প্রকল্প’ হিসেবে প্রচার করা হয়।

শোরের এশিয় শব্দের ব্যবহার নিরীহ ভাষাগত পছন্দ ছিল না — ছিল উপনিবেশিক আধিপত্যের আদর্শিক কাঠামো সুসংহত করার কৌশল। এই ভাবনাই ‘এশিয়াকে’ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দৃষ্টিতে শোষণের ‘ইউনিট’-এ পরিণত করে। জন শোরের ‘এশিয়া’ শব্দ ব্যবহার, ফিফথ রিপোর্টের পরিভাষা, গ্র্যান্টের ‘হালকা ব্যক্তিগত মানিব্যাগ’, সিডেড আর দেওয়ানি ল্যান্ড — এই সব যেন এক সূত্রে গাঁথা — উপনিবেশিক শাসন কীভাবে ভাষা, আইন, শিল্প ও পরিসংখ্যানকে ব্যবহার করে লুণ্ঠনকে ‘স্বাভাবিক’ ও ‘সভ্য’ রূপে প্রতিষ্ঠা করে সেই নিদর্শনের একটি ঝাঁকি। উপনিবেশ-বিরোধী চর্চা শুধু অর্থনৈতিক লুঠের বিরুদ্ধে নয়, বরং সেই আদর্শিক কাঠামোর বিরুদ্ধেও সংগ্রাম, যা ভাষার মাধ্যমেও লুঠ টিকিয়ে রাখে।

লড়াই দীর্ঘজীবী হোক।

উপনিবেশের পতন হোক।

হকার-চাষি-কারিগরদের বিকেন্দ্রীভূত উৎপাদন ব্যবস্থার জয় হোক।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন