Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অপারেশন লোটাসের ইতিবৃত্ত : দিলীপ মজুমদার ওড়িশার পঞ্চদশ শতকের মহাকবি সরলা দাসের কোটিপূজাই আজ খুঁটিপূজা : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ঢেউ-এর দোলায় তসলিমা নাসরিন : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রথ নিয়ে বাংলা প্রবাদ ও তার সামাজিক তাৎপর্য : অসিত দাস মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘গোধূলির চিতায়’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ এনকাউন্টার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ফুলমনির মাঠ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শুনুন নেতাজি সুভাষ, শুনছেন — : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলতলার ঝগড়ার ‘কলতলা’ ছিল জলের কল আসার অনেক আগেই : অসিত দাস মাড়ির অসুখ থেকে সাবধান সুগার ও প্রেগন্যান্সিরা! হতে পারে ক্যান্সার : ডাঃ পিয়ালী চট্টোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘সাড়ে তিন হাত বারান্দা’ গুণ্ডা দমন, মন উচাটন, আসছে শমন, বাপ রে বাপ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ‘একা এক নারী’র জয়, পরাজয় এবং… : দিলীপ মজুমদার ভরতমুনির নাটকের ডিম ও ঘোড়ার ডিম : অসিত দাস পাণিহাটির মহোৎসব : স্বামী সারদানন্দ শিবশঙ্করের জীবনানন্দ দর্শন : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ব্যক্তিস্বাধীনতা পগার পার, বললেন বিচারক জামদার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৭ জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

১৭৮৫-এর ১লা ফেব্রুয়ারি, ওয়ারেন হেস্টিংস ফোর্টের চাবি জন ম্যাকফারসনের হাতে এবং ট্রেজারির চাবি বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করেন; তবে, তার জাহাজ ‘বেরিংটন’ স্যান্ডহেডসে না পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন নি। হেস্টিংসের সহযাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ডেভিড অ্যান্ডারসন এবং শোর। পরের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শোর, শার্লটকে বিবাহ করেবেন, (শোর ১৭৮৫-এর নভেম্বর মাসে ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাকে বাড়িতে পাননি। ‘বিশাল তুষারঝড় তাকে বাড়িতে বসিয়ে রেখেছিল, সে সময় এক অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক মহিলা তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরের ফেব্রুয়ারিতে সেই তুষারঝড়ের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মহিলাই মিসেস জন শোর হবেন।’ জীবনীকার উল্লেখ করেছেন, ফ্লোয়ার পরিবার অক্সফোর্ডের ওয়াডহ্যাম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা নিকোলাস ওয়াডহ্যামের নারী বংশধারায় এবং জন ওয়াডহ্যামের সূত্রে ‘ইংল্যান্ড আর ফ্রান্সের বেশ কয়েকজন রাজ’ পরিবারের প্রতিনিধি ছিলেন। ফ্লোয়ার নামের সঙ্গে শোর অপরিচিত ছিলেন না, কারণ ১৭৭১-এ রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ কমিটিতে জনৈক চার্লস ফ্লোয়ার ছিলেন) ‘তিনি ছিলেন কর্নিশ নামক এক বিধবা মহিলার একমাত্র কন্যা; তিনি ডেভনশায়ারের প্রাচীন ও সম্ভ্রান্ত ফ্লোয়ার পরিবারের সদস্য, তাঁর স্বামী টেনমন্থে শুল্ক সংগ্রাহকের পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।’

ওয়ারেন হেস্টিংসের উত্তরসূরি হিসেবে স্যার জন ম্যাকফারসন যে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন, তা সম্ভবত কেবলই অন্তর্বর্তীকালীন বা ভারপ্রাপ্ত নিয়োগ ছিল; ১৭৮৫-এর ১০ই মার্চ ‘কোর্ট’ (ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলী) লর্ড ম্যাককার্টনিকে এই পদে নির্বাচিত করে। নিয়োগের খবর পৌঁছানোর মুহূর্তে লর্ড ম্যাককার্টনি খোদ কলকাতাতেই ছিলেন; কিন্তু তিনি কাউন্সিলকে জানিয়ে দেন, এই পদ গ্রহণ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। ইংল্যান্ডে ফিরে ম্যাককার্টনি দেখেন যে গভর্নর-জেনারেলের সেই গুরুত্বপূর্ণ পদ তখনও তাঁর গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে; তবে নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ অভিজাত পদমর্যাদা বা ‘পিয়ারেজ’ (peerage) পাওয়ার জন্য তাঁর অত্যধিক আগ্রহ এবং এই জন্য চাপ দেওয়ার ঘটনাবলী বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল এবং এর ফলে ম্যাকফারসনের পরিবর্তে কর্নওয়ালিসকে নিয়োগ দেওয়া হয় — শোর লিখেছেন –

‘আমি রাগের মেজাজে থাকায় খুব একটা খোলামেলাভাবে আমার বক্তব্য প্রকাশ করতে পারছি না, যদিও আমি নিরপেক্ষভাবে আমার মনোভাব প্রকাশ করার চেষ্টা করব। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি [জন ম্যাকফারসন] খুবই হাসিখুশি, মিশুকে, পরোপকারী মানুষ; তাঁর আরও অনেক গুণ সহজেই শ্রদ্ধা অর্জন করে। তা সত্ত্বেও, আমি জোর দিয়ে বলছি, তাঁর সরকারি কার্যকলাপ নিয়ে ঘৃণা ও ক্ষোভ ছাড়া অন্য কোনো কথা আমি অন্য কারও মুখে শুনিনি। ইংল্যান্ডে আপনারা মুদ্রার কেবল এক পিঠই দেখেছেন; আর এখানে আমরা দেখি তার উল্টো পিঠ। কী কাজ করা হয়েছে, কী কাজ করা উচিত ছিল আর কী কাজ করা বাকি রয়ে গেছে — সেসবই আমাদের জানা। তাঁর মতো এমন চরমভাবে নিন্দনীয় প্রশাসন আগে আর কখনও দেখা যায়নি; কর্মশক্তি, মর্যাদা আর সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানের সম্পূর্ণ অভাবই এই প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে দেখা গেছে গড়িমসি; বলিষ্ঠ পদক্ষেপের বদলে কেবল সতর্কতা ও দ্বিধা—ইওরোপে যদি বিষয়টি এখনও স্পষ্ট না হয়ে থাকে, তবে তার কারণ হলো তাঁর সহকর্মীদের তা তুলে ধরার অক্ষমতা… এদেশীয় ও ইওরোপিয়—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই একবাক্যে বলছেন যে, একমাত্র লর্ড কর্নওয়ালিসের এ দেশে আগমনই পরিত্রাণ বয়ে আনবে। (জীবনীকার উল্লেখ করেছেন যে, ১৭৮১ ম্যাকফারসন সুপ্রিম কাউন্সিলের নথিপত্রে এক কার্যবিবরণীতে সংস্কার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেন, যা শোর তাকে হেস্টিংসের কাছে গোপনীয়ভাবে প্রেরণের জন্য জমা দিয়েছিলেন। মেমোয়ার অফ দ্য লাইফ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৯। হিকির ব্যঙ্গ নাটকের বিজ্ঞাপনে ম্যাকফারসনকে ‘থেন’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেন—’যিনি হাইল্যান্ডের পোশাকে ব্যাগপাইপ বাজাতে বাজাতে আবির্ভূত হতেন। তাকে ডিক্টেটর (হেস্টিংস)-এর সাথে ফিসফিস করে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘সবকিছু গোপন রেখো, বন্ধু, আর আমি তোমাকে শেষ পর্যন্ত সাহায্য করব।’’তাকে ১৭৮৬ সালে ব্যারন উপাধিতে ভূষিত করা হয়। অন্যদিকে, শোরকে টুন (Toone) তীব্রভাবে সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘তিনি ভালো মানুষ ঠিকই, কিন্তু গ্রেহাউন্ডের নাকের মতো ঠাণ্ডা’)

“আমার মতে, মিস্টার ম্যাকফারসন দেশে ফিরে যাবেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত কাউকে নিয়োগ দিতে হবে। আমি আশা করি, পরিচালকমণ্ডলী এই নিয়োগের গুরুত্ব বিবেচনা করবেন এবং এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি যোগ্য, সৎ এবং কর্মঠও। বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজন সর্বোচ্চ মেধা ও পরীক্ষিত সততা।” (Memoir of the Life, vol. i, pp. 126-29)।

২.

ম্যাকফারসন প্রশাসনের প্রতি শোরের নিন্দাবাদ নিয়ে যা-ই বলা হোক না কেন, একথা স্বীকার করতেই হবে সেই সময়কালে — ফেব্রুয়ারি ১৭৮৫ থেকে সেপ্টেম্বর ১৭৮৬ পর্যন্ত — রাজস্ব বিভাগের সংগঠনে বেশ কিছু অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল, যেগুলোকে সাধারণত সংস্কার বলে অভিহিত হয়। ১৭৮৬-র ৭ই এপ্রিল একটা উল্লেখযোগ্য সংস্কার পরিকল্পনা পেশ করা হয়, যে প্রস্তাবকে সুস্থ বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনারূপে বর্ণনা করা যেতে পারে। ১৭৮১-তে প্রাদেশিক পরিষদগুলো বিলুপ্ত করা হলে বিভিন্ন জেলায় কালেক্টর নিয়োগ করা হল, কিন্তু কালেক্টরদের ওপর খুব কমই আস্থা বা প্রকৃত দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। কমিটি, গতানুগতিক দায়িত্বে ভারাক্রান্ত এবং তাদের বাঙালি দেওয়ানের দয়ার উপর নির্ভরশীল হওয়ায়, বন্দোবস্ত গঠনের বিষয় নিজেদের হাতে রেখেছিল, অন্যদিকে রায় রায়ানের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য দেশীয় দেওয়ানদের কালেক্টরদের উপর নিয়ন্ত্রণ চাপানোর হাতিয়ার — তবে সম্ভবত প্রশমনকারী হিসেবে — যুক্ত করা হয়েছিল।

১৭৮৬-এর ৭ই এপ্রিল কালেক্টরদের জন্য নির্ধারিত জেলাগুলোর আরও বাস্তবসম্মত বিভাজন করা হল এবং কানুনগোদের প্রাচীন বিভাগ পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে, সেরেস্তাদার, রেকর্ড রক্ষকের পদ গঠন করা হয়। ১২ই জুন, রাজস্ব কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং রাজস্ব বোর্ড তৈরি করা হয়। কমিটির বিপরীতে, বোর্ডকে সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনের পরিবর্তে অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হল।

এই পরিবর্তনগুলো এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এখানে কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের সেই চিঠির (তারিখ ২২শে ডিসেম্বর, ১৭৮৫) একাংশ উদ্ধৃত করা অপরিহার্য বলে মনে করছি, যে চাহিদা অনুসারে এই পরিবর্তনগুলি সাধন করা হল —

অনুচ্ছেদ। ৩০

‘এই পনেরো বছরের মধ্যে রাজস্ব আদায়ের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই মুহূর্তে এই বিভিন্ন পরিকল্পনার গুণাগুণ বা দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করা আমাদের উদ্দেশ্যের অংশ নয়; কিন্তু এ পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে অবগত যে, পদ্ধতির যে ঘন ঘন পরিবর্তন ঘটেছে, তা অনেক অসুবিধা এবং বিপুল ব্যয়ের কারণ হয়েছে। অতএব, স্থির পরিকল্পনা গ্রহণ করার এটাই উপযুক্ত সময়, এবং সেই উদ্দেশ্যে আমরা নির্দেশ দিচ্ছি যে কলকাতায় একটা রাজস্ব বোর্ড থাকবে, যা কাউন্সিলের একজন কনিষ্ঠ সদস্যকে তাঁর বর্তমান বেতনের সাথে কোনো অতিরিক্ত বেতন ছাড়াই এবং কোম্পানির অভিজ্ঞ প্রবীণ কর্মচারীদের মধ্যে থেকে সবচেয়ে বুদ্ধিমান চারজনকে নিয়ে গঠিত হবে।

অনুচ্ছেদ। ৩১

এই বিভাগের অধীনে (উচ্চতর কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে) আমাদের রাজস্বের প্রতিটি শাখার সম্পূর্ণ প্রশাসন, নিষ্পত্তি, আদায় এবং প্রাপ্তি স্বীকারের দায়িত্ব থাকবে, সেইসাথে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণও থাকবে; কিন্তু কাউন্সিল বোর্ডের আদেশ বা পরোয়ানা ব্যতীত, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো অর্থ ইস্যু করার ক্ষমতা তাদের থাকবে না। এই কর্তৃত্ব একচেটিয়াভাবে অর্পণ করা হবে।’

যে পত্র থেকে পূর্ববর্তী উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে, তার শেষে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, জমিদার এবং অন্য ভূস্বামীদের সাথে লেনদেন করার জন্য কোর্টের ‘একটি চূড়ান্ত ব্যবস্থা তৈরি করার’ পরিকল্পনা ছিল এবং এই মৌসুমের প্রথম দিকে রওনা হওয়া জাহাজের কোনও একটাতে তাদের মনোভাব প্রেরণ করা হবে। এই ইঙ্গিত, যেমন স্যার উইলিয়াম হান্টার উল্লেখ করেছেন, দেখায় যে ‘রাজস্ব আদায়ের একটা স্থায়ী ব্যবস্থার ধারণা ইংল্যান্ডের জমিদার ব্যবস্থার পক্ষে লর্ড কর্নওয়ালিসের কোনো পূর্বধারণার ফল ছিল না এবং লর্ড কর্নওয়ালিস দৃশ্যপটে আসার আগেই এটি রূপ নিয়েছিল।’ (হান্টার — বেঙ্গল এমএসএস. রেকর্ডস, ১৭৮২-১৮০৭, খণ্ড ১, ভূমিকা, পৃ. ২১।)

সেরেস্তাদার পদে নিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন মিঃ জেমস গ্রান্ট, যার লেখা বর্তমান খণ্ডের একটি বৃহৎ অংশ জুড়ে রয়েছে। তাঁর শুরুর কর্মজীবন সম্পর্কে বআজ আর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উপস্থাপন সম্ভব নয়, এবং এই সময়কালে কোম্পানির বেসামরিক কর্মচারীদের এমন কোনো প্রকাশিত তালিকাও নেই যাও উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি নিজেই আমাদের বলেছেন, ‘১১৭৮ [১৭৭২] সালে, দুর্ভিক্ষের পরের বছর, আমার জানার সুযোগ হয়েছিল (ঘটনাস্থলে [ঢাকা] থাকার সময় এবং বন্দোবস্তের রূপরেখা তৈরিতে আংশিকভাবে নিযুক্ত থাকার কারণে, যদিও তখন আমি কোম্পানির চাকরিতে ছিলাম না)।’ (নীচে, পৃ. ৩৫৭। আমাদের জেমস গ্রান্টকে (১) অন্য জেমস গ্রান্টের সাথে গুলিয়ে ফেললে হবে না, যাঁর মুর্শিদাবাদের কার্যকলাপ হেস্টিংসের যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হয়েছিল। পরে জে. গ্রান্ট ১৭৬৪-তে কলকাতায় আসেন, ১৭৭৫-এ আরও পদোন্নতি লাভ করেন এবং ১৭৭৭-এ দেশ ত্যাগ করেন, অথবা (২) আরও এক জেমস গ্রান্টের সাথে গোলানো চলবে না, যিনি ১৭৮৬ -এর ফেব্রুয়ারিতে জেমস ফোকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বেনারসের রেসিডেন্ট হন এবং ১৭৯০-তে ভাগলপুরের কালেক্টর হিশেবে কাজ করেছেন) রাইটার হিসেবে তাঁর নিয়োগের তারিখ ১৩ই মে ১৭৭৮, তাঁর জামিনদার ছিলেন উইম্পল স্ট্রিটের কর্নেল হিউ গ্রান্ট এবং গ্রেট আমান্ড স্ট্রিটের মেজর লকহার্ট রাসেল। তিনি একই বছরের ১৪ই জুলাই কোম্পানির চাকরিতে কলকাতায় আসেন। ১৭৮১-র ২রা জুলাই তিনি হায়দ্রাবাদে রেসিডেন্টের সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৭৮২ -র জুলাইতে মিঃ হল্যান্ডের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সেখানকার রেসিডেন্ট হন। ১৭৮৪-র ২২শে এপ্রিল তিনি পদত্যাগ করেন এবং ১৭৮৬-র ১৯শে জুলাই রাজস্ব বোর্ডের প্রধান সেরেস্তাদার হিসেবে নিযুক্ত হন। মিঃ মরিসের লেখা ‘লাইফ অফ চার্লস গ্রান্ট’ গ্রন্থে জেমস গ্রান্টের কথা প্রায়শই উল্লেখ রয়েছে। চার্লস গ্রান্টের চিঠির ভাণ্ডার থেকে স্পষ্ট যে, তার চাচাতো ভাই, ‘রেডক্যাসেলের জেমস গ্রান্ট,’ তিনি যে পদেই থাকুন না কেন, ১৭৮০-তে ইংল্যান্ডে নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। (এইচ. মরিস- দ্য লাইফ অফ চার্লস গ্রান্ট (লন্ডন ১৯০৪), পৃ. ৩৭) ১৭৮৫ -এর অক্টোবর মাসে, জেমস মালদায় চার্লসের সাথে দেখা করতে যান, চার্লস লেখেন —

‘২৫ তারিখে তারা দেশের উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার জন্য আমাদের থেকে বিদায় নিলেন। জে. জি. তার রাজনৈতিক প্রতিভা ও কৃতিত্বের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নতুন এবং বৃহত্তর ধারণা নিয়ে ফিরে গেলেন, বিশেষ করে উপকূলে এবং এখানে কোম্পানির অধিকৃত অঞ্চলের রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে তার জ্ঞানের ক্ষেত্রে। এই বিষয়ে তিনি এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা তাকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা করা সকলের থেকে এগিয়ে রাখবে এবং সম্ভবত দেশে তার জন্য ব্যাপক খ্যাতির পথ খুলে দেবে, যেখানে তিনি আগামী মৌসুমে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন; কিন্তু অন্যথায় তিনি একই মানুষ, ইহজাগতিক বিষয়ে মগ্ন এবং পরকাল সম্পর্কে উদাসীন।’ (ঐ, পৃ. ৮৩। জেমস ছিলেন শেউগলির গ্রান্টের পুত্র, এবং পিতার মৃত্যুর পর তিনি তাঁর পারিবারিক সম্পত্তির সাথে ‘রেডক্যাসেল’ যুক্ত করেন। মিঃ মরিস উল্লেখ করেছেন যে, চার্লসের কন্যা মারিয়াকে জেমসের দেওয়া বিয়ের প্রস্তাবটি সেই মহিলা ধর্মীয় কারণে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। জেমস ১৮০৮-এর ২২শে অক্টোবর এশারের কাছে মারা যান। ঐ, পৃ. ৩১২।)

গ্রান্টের দৃষ্টিতে জমিদার কেবল একজন রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, কারণ ভূমির উপর সম্পত্তির অধিকার সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রের হাতে ন্যস্ত। মিঃ অ্যাসকোলি তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু অমূল্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ১৭৮৬-তে রাজস্ব কমিটি, ‘এমনকি ১৭৮৪-র নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হওয়ার পরেও, ১৭৮৬-র ৩০শে মার্চ তারিখের চিঠিতে জমিদারের পদকে শর্তাধীন পদ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সেই জন্য এমন জমি বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ জারি করেন, যা আমাদের মতে সরকারেরই সম্পত্তি।’ এরপর সেরেস্তাদার পদ গ্রহণের মাধ্যমে গ্রান্টের মধ্যে এক ধরনের অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যায়, যেমনটি জনাব আসকোলি বলেছেন যার, ‘বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কানুনগোদের বিভাগ পুনর্গঠন করা এবং এর মাধ্যমে জমিদারদের মহান পুনরুজ্জীবনের পথ প্রস্তুত করা।’

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন