| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্বাধীনতা — অর্জন নয়, দায়িত্বও : যশোবন্ত রায় চোখের বালি যখন চোখের বালিশ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাগ্মী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে কি বাঙালি ভুলে গেল : অসিত দাস পূর্বিতা পুরকায়স্থ-র ছোটগল্প ‘প্রান্তিক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়া : দিলীপ মজুমদার সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি — ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশেকে লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (৬ষ্ঠ) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫১২ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

ফিফথ রিপোর্ট — পার্লামেন্ট বিতর্কের দ্বিতীয় পর্ব

আমরা এখনও কেলি ফার্মিঙ্গারের ফিফথ রিপোর্ট মূল অনুবাদের পর্বে প্রবেশ করি নি — এখনও চলছে অনুবাদকের মুখড়া।

সেই ভূমিকা সূত্রে আমরা এখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত শাসন নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যে তদন্ত কমিটি তৈরি করেছে, সেই তদন্ত কমিটির নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সদস্যদের বিতণ্ডা আলোচনায় রয়েছি। আপাতত কোম্পানির প্রবল সমালোচক টমাস ক্রিভির বক্তৃতার প্রথম পর্ব শুনছি। এবার দ্বিতীয় পর্ব।

৬ ফেব্রুয়ারি ১৮১২য় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসন, আর্থিক হালত, দুর্নীতি ইত্যাদি তদন্ত করা সিলেক্ট কমিটি বিষয়ক আলোচনায় আমরা গত ৫নং কিস্তিতে এমপি ক্রিভির বক্তৃতার প্রথম পর্ব শুনেছি। আজ ষষ্ঠ কিস্তিতে ক্রিভির বক্তৃতার দ্বিতীয় পর্ব উল্লেখ করব। তার আগে আরেকটু প্রেক্ষিত নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। আগেই বলেছি, ক্রিভি ছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতিতে ভারত শাসক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কট্টর সমালোচক সাংসদ; তিনি এই বিতর্কে বিশেষ করে অংশ নিয়েছেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা ভারতের বাজার নব্য কর্পোরেট ব্যবসায়ী আর উৎপাদকদের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে, কোম্পানির খামতিগুলো পার্লামেন্টে তুলে ধরা। আমরা এর আগের পর্বে ক্রিভির বক্তৃতায় দেখেছি, তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো তদন্ত করার উদ্দেশ্যে ১৮১০তে তৈরি হওয়া পার্লামেন্টারি সিলেক্ট কমিটিকে স্পষ্ট ভাষায় কার্যকর, অক্ষম আখ্যা দিচ্ছেন। তার সুস্পষ্ট অভিযোগ, কোম্পানি ভারতে সরকার চালাতে গিয়ে সরকারি কোষাগারে বিপুল ঋণের (২ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে বৃদ্ধি) বোঝা চাপিয়েছে; তাছাড়া কোম্পানির প্রতিশ্রুতি মত সরকারকে প্রতিশ্রুত বছরে ৫ লক্ষ পাউন্ড দিতে ব্যর্থ।

এমপি ক্রিভি যে সরকারকে দেওয়া যে আর্থিক প্রতিশ্রুতি কথা তুলেছেন, তার ইতিহাস পাঠকের কাছে চুম্বকে ব্যাখ্যা করা দরকার। পলাশীর পর ৭ বছর বাঙলা সুবাজুড়ে কোম্পানি, কোম্পানির আমলা-কর্মকর্তারা, ব্যক্তিগত ব্যবসায়ী, সেনাকর্তারা অবিশ্রান্ত অপ্রাতিষ্ঠানিক লুঠ চালাবার পর কোম্পানি ১৭৬৫ থেকে দেওয়ানি অধিকার লাভ করে প্রাতিষ্ঠানিক লুঠপর্বে প্রবেশ করবে এবং তাদের ধারণা হয়েছিল, কোম্পানির পরিচালনার বিপুল অর্থ খরচ করেও অনেকটা উদ্বৃত্ত তৈরি করা সম্ভব। পলাশী উত্তর বাংলায় দ্বিতীয়বার শাসন করতে আসা ক্লাইভ কর্তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন দেওয়ানি দায়িত্ব নিয়ে বাংলায়-বিহার-ওডিসাজুড়ে রাজস্ব আদায় সূত্রে প্রত্যেক বছর তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানির রাজস্ব দপ্তর বঙ্গদেশের প্রজাদের হাত মুচড়ে যে রাজস্ব আদায় করবে, তার ৭-১০% অর্থাৎ ২ থেকে ৪ মিলিয়ন পাউন্ড উদ্বৃত্ত তৈরি করে লন্ডনে নিশ্চিতভাবে কোম্পানির কোষাগার ভরাতে সক্ষম হবে। এই প্রতিশ্রুতি মাথায় রেখে উদ্বুদ্ধ কোম্পানি কর্তারা ব্রিটিশ রাজকোষে বছরে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দেন। ক্রিভি বলছেন, সেই দেওয়া প্রতিশ্রুতি কোম্পানি রক্ষা করে নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য দেওয়ানি অধিকার লাভের আধ দশকের মধ্যেই কোম্পানি ১৭৬৯-এ মন্বন্তরের বাহানায় তিন বছর ধরে বিপুল গণহত্যা নামিয়ে এনে, কোম্পানিরই কর্মকর্তাদের হিসেবে ৩ কোটি বাঙালির মধ্যে ১ কোটি বাঙালিকে হত্যা করে এবং এই গণহত্যার সময় প্রজাদের রাজস্ব আদায়ে ছাড় দেওয়া তো দূরস্থান, কোম্পানির রাজস্ব আদায়ের পরিমান পলাশীর পর সর্বোচ্চ স্তরে তুলে নিয়ে যাবে। প্রাক্তন আইসিএস রমেশচন্দ্র দত্তের ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস বরাতে আমরা জানি রবার্ট ক্লাইভ কোম্পানির কর্তাদের চিঠিতে লিখে জানিয়েছিলেন ছিয়াত্তরের গণহত্যার বছরটি পর্যন্ত “এই পরিসংখ্যানই দেখিয়ে দিচ্ছে বঙ্গদেশের নিট রাজস্বের ১/৩ অংশই প্রতিবছর দেশের বাইরে পাঠানো হত”। ১৭৭৬ থেকে ১৭৭২ পর্যন্ত আদায় করা রাজস্ব, মুঘল বাদশাহকে দেওয়া কর, তার ব্যয় এবং প্রতি বছরে নিট লাভের একটা তালিকা পাঠকদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা গেল রমেশচন্দ্র দত্তের উক্ত বই সূত্রে –

[উপনিবেশের প্রথম যুগের অর্থমূল্য বর্তমান সময়ের মূল্যে পরিবর্তনের জন্য নরেন্দ্রকৃষ্ণ সিংহ জানিয়েছেন, ১৭৭০-এর আগের বছরে অর্থাৎ ১৭৬৯-তে এক টাকায় তিন মণ চাল পাওয়া যেত। এই হিসাবে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ১ টাকা = ৩×৪০×৫০ (কেজি ৫০ টাকা ধরে) = ৬ হাজার টাকা। ১৭৭১ নাগাদ এক পাউন্ড = ১০ টাকা।]

ফ্রি ট্রেডার ও কোম্পানির সমালোচক গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর ছিলেন টমাস ক্রিভি। ১৮১২-১৮১৩-র সনদ বিতর্কে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তীব্র আর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করেছেন নিয়ম করে। ক্রিভির বক্তব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটিশ জনগণ ও ভারতীয় প্রজা উভয়কেই সেবা করার কাজে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান এবং এর বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকার অবশ্যই দ্রুত খতম করতে হবে। ১৮১৩-র চার্টার অ্যাক্টে কোম্পানির ভারত শাসনের রাজনৈতিক অধিকার বজায় থাকলেও, ক্রিভির মত বহু সমালোচকদের চাপই কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকার রদ করার পেছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

ইন্টারেস্টিং বিষয় হল, আমরা ক্রিভির বক্তব্যেই দেখব একদিকে তিনি যেমন কোম্পানির হাত থেকে ভারতে ব্রিটিশ সওদাগরির একচেটিয়া কাঠামো কেড়ে নেওয়ার প্রবল সওয়াল করছেন অন্য দিকে তিনি দাবি করছেন, যদিও ২৪ বণিকের হাতে ভারত শাসনের অধিকার যাওয়াটা ব্রিটিশ সংবিধান অনুযায়ী অস্বাভাবিক, তবুও তিনি চান না, এক্ষুণি ভারত শাসনের লাগাম নিজের হাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তুলে নিক। তার মতে কোম্পানির হাতেই ভারত শাসনের অধিকার থাকলেই সকলের পক্ষে মঙ্গল, শুধু সরকার ভারত বাণিজ্য অধিকার কোম্পানির হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ভারতের বাজার ব্রিটিশ কর্পোরেট কোম্পানি আর সওদাগরদের হাতে অবিলম্বে তুলে দিক।

এবারে আমরা শুনব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কঠোর সমালোচক টমাস ক্রিভির বক্তব্যের দ্বিতীয় পর্ব

তিনি বলেন আলোচনাটা পার্লামেন্টের ভিতরে না হয়ে আলোচনাটি জনসমক্ষে হওয়া উচিত ছিল, তার আরও কিছু অতিরিক্ত কারণ ছিল: একটি বিষয় ছিল, এই দেশে বাণিজ্যের বর্তমান প্রকৃত মন্দা। এর প্রমাণস্বরূপ, ভদ্রমহোদয়গণ গত বছর ১৮১১-র সম্পত্তি করের হিসাব থেকে দেখতে পাবেন যে, তা ১৮১০-এর হিসাবের চেয়ে ১,১০০,০০০ পাউন্ড কমেগিয়েছে। এই পতন জমির খাজনার ঘাটতি বা শেয়ারের মূল্যহ্রাসের কারণে ঘটেনি, বরং বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার ব্যর্থতার জন্য ঘটেছিল। যদি কর হ্রাস ১,১০০,০০০ পাউন্ড হয়, তবে দেখা যাবে যে মোট ক্ষতি এর দশ গুণ বেশি; অর্থাৎ ১১ মিলিয়ন পাউন্ড।

এরপর তিনি নিজের জ্ঞান থেকে লিভারপুলের বাণিজ্য ও ব্যবসার ব্যাপক পরিবর্তন, বিপুল ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেন, যে বন্দরে এখন অচল বাণিজ্যিক নৌবহর ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। তার হাতে তখন লিভারপুল শহর থেকে পাওয়া একটি নথি ছিল, তার মতে সেই নথি গত বছর ঘটে যাওয়া অসংখ্য দুর্দশার চলতা ফিরতা উদাহরণ। তিনি বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরে পার্লামেন্টে বলেন, গত মাসের প্রথম সপ্তাহে ৮,০০০ দরিদ্র ব্যক্তিকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছিল; দ্বিতীয় সপ্তাহে ১১,০০০ জনকে ত্রাণ দেওয়া হয়; তৃতীয় সপ্তাহে ১৩,০০০ জনকে ত্রাণ দেওয়া হয়; এবং শেষ সপ্তাহে ১৫,০০০ জনকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ এবং দুঃখজনক ঘটনাগুলো উল্লেখ করেছিলেন এই উদ্দেশ্যে যে, সংসদ যেন এমন যেকোনো বিষয়ের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ দেয় যা রাষ্ট্রের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি করে, যেমন প্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মুক্ত বাণিজ্য।পূর্ব ভারতের সাথে মুক্ত বাণিজ্যের সুবিধা দেখানোর জন্য, মাননীয় সদস্য তখন উল্লেখ করেন প্রটেক্টরেট শাসনের সময়ের কথা [প্রটেক্টরেট (Protectorate) শাসন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র অন্য একটি দুর্বল রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে তার বৈদেশিক নীতি ও প্রতিরক্ষার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, যা উপনিবেশবাদের থেকে ভিন্ন কারণ এটি সরাসরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং একটি সুরক্ষিত সম্পর্ক। ইংল্যান্ডে অলিভার ক্রমওয়েলের শাসন আমলে (১৬৫৩-১৬৫৯) এই ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা “লর্ড প্রোটেক্টর”-এর অধীনে পরিচালিত হত — অনুবাদক]। তিনি প্রটেক্টরেট শাসনের প্রথম বছরগুলোর কথা উল্লেখ করেন, যে সময়ে বাণিজ্য উন্মুক্ত ছিল বলেই দেশ বিপুল সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল; এবং এর সঙ্গে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ, আমেরিকারও উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেই দেশ মুক্ত বাণিজ্যের ফলে সবচেয়ে উপকারী ফল লাভ করেছিল। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, যদি জনগণকে মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হয়, যা শান্তির সময়ে ইওরোপের অন্যান্য সমস্ত রাজ্যে বিপুল অর্থনৈতিক উন্নতি অবশ্যই ঘটবে এবং দেশ এবং ব্যক্তি উভয়ের জন্যই সবচেয়ে সুবিধাজনক ফল অর্জিত হবে।

একই সময়ে, তিনি এটাও চেয়েছিলেন যে কোম্পানির আদায় করা আঞ্চলিক রাজস্ব তাদের আরও কিছু বছরের জন্য ভোগ করার অনুমতি দেওয়া হোক; তিনি বলেন, যদিও আমাদের সংবিধান অনুযায়ী খুবই একটি অস্বাভাবিক বিষয় যে মাত্র চব্বিশজন ব্যক্তিগত বণিক একটি বিশাল ভূখণ্ডের মালিক হবেন এবং একটি বিশাল শক্তিশালী সেনাবাহিনীর ওপর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে; তবুও তিনি মনে করতেন যে এটি তাঁদের হাতে থাকাই শ্রেয়, কারণ এই অঞ্চলের প্রশাসন যদি সাম্রাজ্যের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য হস্তান্তর করা হতো, তবে তার প্রভাব আরও খারাপ হতো। তিনি বিশ্বাস করতেন যে কোম্পানির বাণিজ্য থেকে আঞ্চলিক রাজস্বকে আলাদা করার জন্য তাঁর প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি তাঁদের জন্য ততটাই উপকারী হবে, যতটা তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে এটি দেশের জন্য কল্যাণকর হবে। মূলধনের প্রতিটি অংশই সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গিয়েছিল; রাজা উইলিয়ামের আইন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কোম্পানির মূলধন হিসেবে মোট ৭,৭৮০,০০০ পাউন্ড চাঁদা তোলা হয়েছিল। এই মূলধনের যে অংশটি রাষ্ট্রকে অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল এবং ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, তা রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোম্পানিকে প্রদেয় বার্ষিক বৃত্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। এই বার্ষিক বৃত্তিগুলো বিক্রি বা বন্ধক রাখার ক্ষমতা তারা অর্জন করেছিল: তারা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল এবং তদনুসারে সেগুলো বিক্রিও করেছিল। এই ৭,৭৮০,০০০ পাউন্ডের অবশিষ্ট অংশটি গত ত্রিশ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র তাদের ব্যবসার ওপর আসন্ন কোনো বড় সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে সংগ্রহ বা চাঁদা হিসেবে তোলা হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী তোলার পরপরই তা খরচ হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং, ভারতীয় শেয়ারহোল্ডারদের পাশাপাশি রাষ্ট্রের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে কোম্পানির সম্পদ থেকে তাদের মূলধনের সমান একটি অর্থ আদায়ের জন্য কোনো উপায় বের করা; শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অবশিষ্ট একমাত্র স্বার্থ ছিল আঞ্চলিক রাজস্বের মেয়াদ: এবং ভারতে যদি কোনো দুঃসাহসী সামরিক অভিযাত্রীর আবির্ভাব ঘটে, তবে চরম সর্বনাশও ঘটতে পারত। কোম্পানি এবং সরকারের মধ্যে চুক্তিটি প্রকাশ্যে আলোচনা করা উচিত হওয়ার আরেকটি কারণ ছিল এই যে, ব্যক্তিগত কমিটিগুলোতে জনসাধারণের কণ্ঠস্বর সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে বলিদান দেওয়া হয়েছিল। ১৭৯৩-এর আইনটি [১৭৯৩-এর সনদ আইন (Charter Act of 1793) ছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট প্রণীত আইন। এই আইন বলে পার্লামেন্ট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক অধিকার আরও ২০ বছরের জন্য নবায়ন করে এবং কোম্পানির ক্ষমতা এবং এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে। এই আইনে কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটিয়া অধিকার বজায় রাখা, গভর্নর-জেনারেলের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, রাজস্ব এবং বিচার প্রশাসন আলাদা করা এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। — অনুবাদক] এই অবস্থানের একটি নিখুঁত উদাহরণ; সেই চুক্তির আসল চরিত্র ছিল এই যে, এটি ছিল জনসাধারণের মঙ্গলকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে চুক্তিকারী দুটি পক্ষের সুবিধার জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া। সরকার কোম্পানির লভ্যাংশ বাড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছিল এবং কোম্পানি তার বিনিময়ে সংসদের চারজন সদস্যকে অর্থ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিল — এরা ছিল বোর্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি, দুজন কমিশনার এবং একজন সচিব। জনসাধারণের জন্য বার্ষিক ৫,০০,০০০ পাউন্ড বরাদ্দের বিষয়টি ছিল নিছক কল্পনার ফসল। ৬৭৬। এটি ছিল এই বিষয়টি সম্পর্কে ক্রিভির নিজস্ব মত, এবং তিনি আশা করেছিলেন যে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে এই বিষয়ে কিছু ব্যাখ্যা পাবেন: এমন একটি বিষয় যা নিঃসন্দেহে সেই ভদ্রলোকের অনেক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ সিংহাসনের ভাষণেই বিষয়টি বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev