| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বার্ধক্যের নিঃসঙ্গ ছায়া: একাকীত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও অবসাদ : যশোবন্ত রায় মনসার ঢেলাফেলা পার্বণ মনসাভক্তদের একচক্ষু দেবীকে নিবেদনের লোকাচার : অসিত দাস সংকট সমাধান ও সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার এখন বারাণসী যেতে মন চায় না : বিজয় চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কারানল : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সংকট : নিকোলাস বিশ্বাস রামবাগানের ইন্দুবালা : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গণমানুষের কবি সুকান্ত : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার স্বাধীনতা তুমি কার : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্বাধীনতা — অর্জন নয়, দায়িত্বও : যশোবন্ত রায় চোখের বালি যখন চোখের বালিশ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাগ্মী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে কি বাঙালি ভুলে গেল : অসিত দাস পূর্বিতা পুরকায়স্থ-র ছোটগল্প ‘প্রান্তিক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়া : দিলীপ মজুমদার সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি — ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

বার্ধক্যের নিঃসঙ্গ ছায়া: একাকীত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও অবসাদ : যশোবন্ত রায়

Reporter
যশোবন্ত রায় / ৫৪ Views জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

বিজ্ঞানের অগ্রগতি, চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে গড় আয়ু আজ আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘায়ুর সঙ্গে নীরবে বেড়ে চলেছে আরেকটি গভীর সামাজিক সংকট—প্রবীণদের একাকীত্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক অবসাদ।

মাস কয়েক আগে আসামের যোরহাটের এক প্রবীণ মহিলার পরিচারিকার সাহায্য নিয়ে সাজানো ডাকাতির ঘটনা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তদন্তে জানা যায়, সন্তানের মনোযোগ ও সান্নিধ্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এমন ঘটনার আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘটনাটি কেবল একটি ব্যতিক্রমী সংবাদ নয়; বরং আমাদের সময়ের এক নির্মম সামাজিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, বার্ধক্যের সবচেয়ে বড় কষ্ট অর্থের অভাব নয়; বরং আপনজনের সান্নিধ্যের অভাব, সম্পর্কের শূন্যতা এবং নিঃসঙ্গতার দীর্ঘ ছায়া।

বিশ্বজুড়ে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজনের বয়স হবে ৬০ বছরের বেশি। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ২.১ বিলিয়নে পৌঁছাবে। ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও প্রবীণ জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু তাদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেই হারে গড়ে ওঠেনি। ফলে বহু প্রবীণ ব্যক্তি পরিবারে থেকেও মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।

প্রবীণদের একাকীত্ব এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয়। ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটির মতে, সামাজিক সংযোগ মানুষের মৌলিক চাহিদার অংশ; অর্থবহ সম্পর্ক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা সুস্থ জীবনের অপরিহার্য উপাদান।

একসময় দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে যৌথ পরিবার ছিল প্রবীণদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানসিক আশ্রয়ের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু নগরায়ণ, কর্মসংস্থানের পরিবর্তন, বৈশ্বিক অভিবাসন এবং পারিবারিক কাঠামোর রূপান্তরের ফলে সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবার বাবা-মা ও সন্তানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে। সন্তানরা উচ্চশিক্ষা, চাকরি বা জীবিকার প্রয়োজনে অন্য শহর কিংবা বিদেশে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই শহরে বসবাস করলেও কর্মব্যস্ত জীবনের কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে অর্থবহ সময় কাটানোর সুযোগ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ পেরিয়ে যায়, অথচ তাদের সঙ্গে মনের কথা বলা হয় না। ফলে সম্পর্ক থেকে যায়, কিন্তু আত্মিক সংযোগটি হারিয়ে যায়।

প্রবীণদের একাকীত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অনেকেই পরিবারে থেকেও মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন বোধ করেন। কর্মব্যস্ততা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের অর্থবহ যোগাযোগ কমে যায়। বয়সজনিত কারণে সামাজিক পরিসর সংকুচিত হওয়ায় এই বিচ্ছিন্নতা আরও তীব্র হয়। ফলে চারপাশে মানুষ থাকলেও তারা গভীর নিঃসঙ্গতায় ভোগেন, যা মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

একসময় দীর্ঘদিনের একাকীত্বকে কেবল আবেগগত সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, দীর্ঘস্থায়ী একাকীত্ব মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর ও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলে। গবেষণা বলছে, দীর্ঘস্থায়ী একাকীত্ব হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, স্মৃতিভ্রংশ ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে উদ্বেগ, হতাশা ও অবসাদের অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে। কিন্তু আমাদের সমাজে এসব লক্ষণকে প্রায়ই ‘স্বাভাবিক বার্ধক্য’ বলে মনে করা হয়, ফলে অনেক প্রবীণ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও একাকীত্ব মানুষের মধ্যে মনোযোগ আকর্ষণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করতে পারে। এটি অপরাধপ্রবণতার বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং গভীর মানসিক যন্ত্রণার প্রতিফলন। যোরহাটের প্রবীণ মহিলার ঘটনাটি এর জলন্ত দৃষ্টান্ত। তবে অধিকাংশ প্রবীণ নীরবে কষ্ট সহ্য করেন এবং নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতেও সংকোচ বোধ করেন। অনেক ক্ষেত্রে এই নিঃসঙ্গতা আত্মহত্যার প্রবণতার দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

প্রবীণদের এই বহুমাত্রিক সমস্যার সমাধান কেবল অর্থনৈতিক সহায়তা বা বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাদের প্রয়োজন আবেগগত নিরাপত্তা, সামাজিক স্বীকৃতি, পরিবারের অংশ হওয়ার অনুভূতি এবং নিয়মিত মানবিক যোগাযোগ। পরিবারের সদস্যদের তাদের সঙ্গে সময় কাটানো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ত করা যেমন জরুরি, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও প্রবীণবান্ধব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পরিসর বাড়ানো, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কমিউনিটি সাপোর্ট ও প্রবীণবান্ধব নীতিমালা জোরদার করা প্রয়োজন।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভিডিও কল ও অনলাইন যোগাযোগ প্রবীণদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তি কখনোই সরাসরি মানবিক উপস্থিতি ও আন্তরিক যোগাযোগের বিকল্প নয়।

আজ আমাদের সমাজ এক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি। যে মা-বাবা নিজেদের স্বপ্ন, সময় ও স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের বড় করে তোলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেক সময় তারাই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে উপেক্ষিত মানুষ। এটি কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; বরং সামাজিক মূল্যবোধেরও সংকট।

যোরহাটের সেই প্রবীণ মহিলার ঘটনা আমাদের একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে—মানুষ শেষ বয়সে অর্থ বা বিলাসিতা চায় না; চায় আপনজনের সান্নিধ্য, কিছু আন্তরিক সময়, সামান্য সম্মান এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।  প্রবীণদের একাকীত্ব কোনো ব্যক্তিগত দুর্বলতা নয়; এটি আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতা। এই বাস্তবতার মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ ভালোবাসা, সংযোগ এবং মানবিক উপস্থিতিই হতে পারে বার্ধক্যের নিঃসঙ্গ অন্ধকার দূর করার সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো।

২১ আগস্ট প্রবীণ নাগরিক দিবস।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev