ভারত পথিক রাজা রামমোহন রায়ের ২৫৪ তম জন্মদিন পালন শুক্রবার যথোচিত মর্যাদায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পালন করা হয়। এদিন আধুনিক নবজাগরণের স্রষ্টা ও সমাজসংস্কারকের জন্মভিটা খানাকুলের রাধানগরে জন্মবেদী ও আবক্ষ মূর্তিতে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। এছাড়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া ছৌনাচ, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন স্থানীয় সংগঠনসহ রামমোহন অনুরাগীরা।

প্রসঙ্গত, আরামবাগের হেমন্ত বাগ, খানাকুলের সুশান্ত ঘোষ ও পুরশুড়ার বিমান ঘোষ তিন বিধায়ক রামমোহন স্মৃতিসৌধের সামনে আবক্ষ মূর্তিতে ফুলের মালা দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদন করেন। এরপর রামমোহনের অবদান ও কর্ম ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে সাতসকালে তৃণমূল কংগ্রেসের আরামবাগের যুব সভাপতি পলাশ রায় রাধানগরে জন্মভিটা য় হাজির হন। জন্মবেদী ও আবক্ষ মূর্তিতে ফুলমালা দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। এছাড়া আঞ্চলিক রামমোহন গবেষক দেবাশিস শেঠ জন্মদিনে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবঃ তাঁর অবদানের দিকগুলো তুলে ধরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজহাটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক দিব্যেন্দু সামন্ত, রামনগর অতুল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমিত কুমার আঢ্য , বাচিক শিল্পী সঞ্জয় ঘোষাল প্রমুখ। উল্লেখ্য, এদিন আরামবাগ সহ রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্থানে রামমোহনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিভিন্ন বক্তারা বলেন, সতীদাহ প্রথা নিবারণ এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক ভারতের ভিত্তি স্থাপনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।আধুনিক ভারতের জনক রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) ছিলেন ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত। সমাজ, ধর্ম, শিক্ষা ও সাহিত্যে তাঁর অবদান অপরিসীম।

এছাড়া উল্লেখ করতেই হয় সতীদাহ প্রথা রদ। তাঁর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ সরকার আইন করে সতীদাহ প্রথা বাতিল করে। তাছাড়া ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করে একেশ্বরবাদ প্রচার ও কুসংস্কার দূর করতে তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন। নারী অধিকার রক্ষায় তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং নারীদের সম্পত্তির অধিকার ও শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেন। আধুনিক শিক্ষা প্রসারে প্রাচ্য শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি, বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর ভূমিকা। তাঁকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয়। তিনি বাংলা গদ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। আজ তাঁর ২৫৪ তম জন্মদিনে অবনত মস্তকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।