
“সাংবাদিকতা আমার জীবন, লোকসংস্কৃতি আমার প্রাণ।” আশি বছরের এই দীর্ঘ জীবনে যিনি কলমকে সঙ্গী করে চলেছেন, যিনি উত্তরবঙ্গের কারিগরি আর দেশজসংস্কৃতির খোঁজে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন—সেই ড. সুনীল চন্দেরর জন্মদিনে ভিন্ন এক আয়োজন হল রায়গঞ্জের উদয়পুরে। গত ১২ সেপ্টেম্বর তিনি আশি বছরে পা রাখেন।

শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ড. সুনীল চন্দ ১২ সেপ্টেম্বর আশি বছরে পা রাখলেন। তাঁর সাংবাদিক জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার লোকশিল্পী সংগঠন ‘আদি লোকমঞ্চ’ ও ‘বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্রশিল্পী সংঘ’-র উদ্যোগে রায়গঞ্জের উদয়পুরে বাংলা নিউজ চ্যানেলের দপ্তরে তাঁর জন্মদিন উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্তর্জাতিক শোলাশিল্পী প্রয়াত মধুমঙ্গল মালাকারের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর গণেশ রবিদাস ও তাঁর সম্প্রদায় সুনীল চন্দকে কেন্দ্র করে আসর বন্দনা করেন। ড. চন্দন রায়, ড. দীপকচন্দ বর্মন ও বিশ্বেন্দু নন্দ সুনীল চন্দ্রের গবেষণা ও সাহিত্যকর্মের নানা দিক তুলে ধরেন। তপন চৌধুরি, সন্দীপ চক্রবর্তী ও গণেশ রবিদাস ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণার পাশাপাশি তাঁর সাংবাদিক জীবনের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন গবেষক ড. পুরুষোত্তম সিংহ ও সুব্রত সরকার।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পৌঁছে রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিকচন্দ পাল, কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজ, হেমতাবাদের বিধায়ক হরিপদ বর্মন এবং প্রবীণ জননেতা নিমাই কবিরাজ প্রবীণ সাংবাদিককে সংবর্ধনা জানান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রায়গঞ্জ সুরেন্দ্রনাথ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. চন্দন রায়, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. দীপকচন্দ বর্মন, বঙ্গীয় পারম্পরিক কারু ও বস্ত্রশিল্পী সংঘের বিশ্বেন্দু নন্দ, খনশিল্পী গণেশ রবিদাস, জেলা শিল্প কেন্দ্রের প্রাক্তন জিএম সুনীলচন্দ্র সরকার, সাংবাদিক তপন চৌধুরি, সন্দীপ চক্রবর্তী, হিমাংশু দাস এবং কবি অশোক রায়। উপস্থিত ছিলেন দুই দিনাজপুরের বহু লোকশিল্পী ও সাংবাদিক।

অনুষ্ঠানটি সামগ্রিকভাবে লোকায়ত আঙ্গিকে সাজানো হয়েছিল। কর্পোরেট সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নববার্তা দিতেই এমন আয়োজন বলে জানান বিশ্বেন্দু নন্দ। মৃৎশিল্পী ভানু পাল, রাজ্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কাঠের মোখা শিল্পী শচীন সরকার এবং শোলাশিল্পী গৌরব মালাকার জানান তাঁদের অভিভাবকসম একজন গবেষকের জন্মদিনে এরকম অনুষ্ঠান করে তারা তৃপ্ত। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও লোকশিল্পীদের সবাইকে সুনীল চন্দ্রের পক্ষ থেকে জন্মদিনের স্মারক তুলে দেওয়া হয়।