
স্বাতী চতুর্বেদী
শুরু করা যাক স্বাতী চতুর্বেদীকে দিয়ে। লেডি শ্রীরাম কলেজের প্রাক্তনী তিনি। তারপর এসেছেন সাংবাদিকতায়। কাজ করেছেন স্টেটসম্যান, দ্য ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্থান টাইমস, ডেকান হেরাল্ড, ট্রিবিউন প্রভৃতি পত্রিকায়। তাঁর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনগুলি সৃষ্টি করেছে আলোড়ন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ডেইলি মেইল, পাবলিক রেডিয়ো, নিউইয়র্ক টাইমস, বি বি সি, গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েট প্রেস, ওয়াশিংটন প্রেস। রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডাস ২০১৮ সালে দিয়েছে সাহসিকতার পুরস্কার। ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত বই : ‘আই অ্যাম আ ট্রোল : ইনসাইড দ্য সিক্রেট ওয়ার্ল্ড অব বিজেপি’জ ডিজিটাল আর্মি’।
স্বাতীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
বিজেপির ডিজিটাল সৈন্যবাহিনীর দংশনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা স্বাতীর আছে। এই সৈন্যবাহিনীর কাজ হল ক্রমাগত মিথ্যা প্রচার করা। স্বাতীর নামেও এই প্রচার শুরু হয়। তার কারণ তিনি বিজেপির বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করছিলেন। বিজেপি টুইটার হ্যাণ্ডেল স্বাতীর ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার কাজে নামে। প্রচার করা হয় যে স্বাতীর সঙ্গে একজন রাজনীতিবিদের ঘনিষ্ঠ (শারীরিক) সম্পর্ক আছে। প্রত্যেক দিন স্বাতীর ফোনে নোটিফিকেশন আসে। জানতে চাওয়া হয় : গতকাল তাঁর যৌন সম্পর্ক কেমন ছিল … রাতে তাঁর রেট কত …
স্বাতীর গবেষণা
বিজেপির দংশনের শিকার হয়ে স্বাতী তাদের আই টি সেলের কাজকর্ম নিয়ে শুরু করেন গবেষণা। সে গবেষণায় উঠে আসতে থাকে ভয়াবহ ছবি। বিরাট এই দেশে কোটি কোটি সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের ভাবধারা ও বক্তব্য প্রচার করে যাচ্ছেন বিজেপির নেতারা। অনলাইন ট্রোলদের (যাঁরা মূলত হিন্দু দক্ষিণপন্থী মতাদর্শ ও উগ্র জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী) সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন তাঁরা। এঁরা নিজেদের ডিপি-তে সাধারণত হিন্দু দেব-দেবীদের ছবি ব্যবহার করেন। কেউ কেউ আবার ফলোয়ার টানার জন্য বিকিনি-পরা সুন্দরীদের ছবি দেন। তাঁদের মূল নিশানা হল লিবারেল রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী অ্যাক্টিভিস্ট ও সাংবাদিকেরা, আর তিনি নারী হলে তো কথাই নেই।
ইনফরমেশন অ্যাণ্ড টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট
বিজেপির আইটি সেলের পোশাকি নাম ইনফরমেশন অ্যাণ্ড টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট। ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী ডিজিটাল হাতিয়ার, যার প্রধান অমিত মালব্য। বিজেপির এই শক্তিশালী হাতিয়ারের দুটি উদাহরণ :
ক] ২০১৭ সাল। অমিত শা্ তখন বিজেপির সভাপতি। রাজস্থানের একটি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘সত্যই হোক বা ফেক, জেনে রাখবেন যে কোন মেসেজকে আমরা নিমেষে ভাইরাল করার ক্ষমতা রাখি।’ ঠিক কথা। উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে রাজস্থানে অমিত শাহ যথেষ্ট গর্বের সঙ্গে উপরোক্ত কথাগুলি বলেছিলেন, সেখানে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চালাত বিজেপি, যাদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩২ লক্ষ। অমিত শাহ আরও বলেছিলেন, ‘এই ৩২ লক্ষ লোকের কাছে রোজ সকাল আটটায় গুড মর্নিং বার্তার সঙ্গে একটি করে মেসেজ চলে যেত। মেসেজ প্রাপক তাঁর পরিচিত মহলে সেই মেসেজ ফরোয়ার্ড করে দিতেন।’ বিজেপির হোয়াটাসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেসেজ লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করত।
২] অমিত শাহ বলেছিলেন আর একটি মেসেজের কথা। যে মেসেজে বলা হয়েছিল যে অখিলেশ যাদব তাঁর বাবা মুলায়ম সিং যাদবকে থাপ্পড় মেরেছেন। কিন্তু যেদিন থাপ্পড় মারার সংবাদ দেওয়া হয়েছিল, সেদিন অখিলেশ তাঁর বাবার থেকে ৬০০ মাইল দূরে অন্য কোন জায়গায় ছিলেন। অথচ লোকে জেনে গেল মিথ্যেটাই। তার প্রভাবও পড়ল।
হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির খেলা
পুলিৎজার সেন্টারের সৃষ্টি জয়সোয়াল বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির খেলার কথা লিখেছেন। মেটা মালিকানাধীন এই অ্যাপটির জন্য ভারত হল একটি বড় বাজার। ভারতে তার ৪০ কোটি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। বিরাট সংখ্যা। জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশেরও বেশি। এই প্ল্যাটফর্মটির ব্যাপক প্রচলন ও প্রভাবের ফলে ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ‘হোয়াটসঅ্যাপ নির্বাচন’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
রাটগার্স ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক কিরণ গারিমেল্লা (ইনি আবার হোটাসঅ্যাপ নিয়ে গবেষণাও করেছেন) বলেছেন যে ভারতে এই অ্যাপটি এমন সব মানুষের কাছে পৌঁছায়, যাদের কাছে অন্য প্ল্যাটফর্মগুলি পৌঁছাতেই পারে না, এই সব মানুষ শুধু হোয়াটসঅ্যাপই ব্যবহার করেন।
সৃষ্টি জয়সোয়ালের মতে বিজেপির হোয়াটসঅ্যাপ কার্যক্রমের পরিধি দেশের অন্য কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তুলনীয় নয়। গত এক দশকে বিজেপি হোটাসঅ্যাপ গ্রুপের বিশাল একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, যা নির্বাচনী বার্তা ও অপপ্রচার ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করে। ‘ডেকান হেরাল্ডে’র একটি প্রতিবেদন অনুসারে ভারতে এখন বিজেপি দ্বারা পরিচালিত অন্তত ৫০ লক্ষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। দিল্লি থেকে দেশের যে কোন স্থানে মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে যে কোন তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে বিজেপি।
পথিকৃৎ প্রমোদ মহাজন
বিজেপি যে এত আগে থেকে ইন্টারনেটকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করে আসছে তার কৃতিত্ব বিজেপির প্রখ্যাত নেতা ও বাজপেয়ী জমানার তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী প্রমোদ মহাজনের প্রাপ্য। দিল্লির অশোকা রোডে বিজেপির পুরানো দপ্তরে প্রমোদ মহাজনের উদ্যোগে দলের আই টি উইং খোলা হয়েছিল। ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র হিসেবে হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন সন্ধের দিকে প্রমোদবাবু নিয়ম করে একবার সেখানে আসতেন। বেশ কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত তরুণ প্রকৌশলী যোগ দিয়েছিলেন সেখানে। বিদেশ থেকেও বহু সমর্থক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত। তখন ফেসবুক ইনস্ট্রা বা হোয়াটসঅ্যাপ এসব কিছুই আসে নি। অর্কুট নামে একটি প্ল্যাটফর্ম ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছিল। আর ছিল ইয়াহু ও এম এস এম মেসেঞ্জার। সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় বিজেপি তার যাত্রা শুরু করেছিল এগুলোর হাত ধরে।
শুভ্রজ্যোতি ঘোষের ব্যাখ্যা
শুভ্রজ্যোতি ঘোষ বি বি সি নিউজ বাংলার প্রতিবেদক। ‘বিজেপির আইটি সেল কিভাবে এত শক্তিশালী আর বিতর্কিত হয়ে উঠল’ তাঁর লেখা। তিনি বলেছেন যে ইন্টারনেটই যে রাজনৈতিক প্রচারের ভবিষ্যৎ এটা সঠিক সময়ে বুঝেছিল বিজেপি। সেই অনুযায়ী প্রচুর শ্রম ও সম্পদ লগ্নি করেছিল বলে পরে তারা সেটা থেকে এত ডিভিডেন্ট পেয়েছে। বিজেপি প্রথম ডিজিটাল প্রচার শুরু করে ২০০৪ সালে। অটলবিহারীকে আবার জেতাবার জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে শুরু হয় ‘ইণ্ডিয়া শাইনিং’ প্রচার। ২০১০ সাল থেকে বিজেপি অন লাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচার শুরু করে দেয় গুজরাটের গান্ধীনগর থেকে। তখন থেকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবমূর্তি নির্মাণের চেষ্টা শুরু। তাঁকেই প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয়। নিযুক্ত করা হয় প্রযুক্তিবিদ অরবিন্দ গুপ্তাকে। তিনি র্স্টার্ট-আপের ধাঁচে প্রচার চালাতে শুরু করেন। এই সময়ে যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় সেগুলি হল :
১] পার্টি অফিসগুলিতে ভিডিয়ো কনফারেন্সিংএর ব্যবস্থা,
২] বড় বড় নেতাদের জনসভাগুলি ইউটিউব বা ফেসবুকের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থা,
৩] আনলাইনে মাত্র ৫ টাকা দিয়ে বিজেপির সদস্য তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা; এই পদ্ধতি চালু হয় ২০১০ সালে এবং মাত্র ২ বছরের মধ্যে ৫ লক্ষ সদস্য সংগ্রহ করা হয়,
৪] ডিজিটাল মাধ্যমে ক্রমাগত প্রচার চালিয়ে বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর গায়ে ‘পাপ্পু’ ছাপ লাগিয়ে দেওয়া।
বিজেপির আইটি সেলের পরবর্তী কর্ণধার আমিত মালব্য ডিজিটাল প্রচারকে ৩ টি মূল স্ট্র্যাটেজির ভিত্তিতে পরিচালনা করেছিলেন :
১] একটি সলিড টেকনিক্যাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যা ওয়ার্কলোড বহন করতে পারবে,
২] সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমর্থক বা বিলিভার এবং স্বেচ্ছাসেবীদের এক বিপুল বাহিনী তৈরি করা; যাদের ঐক্যবদ্ধ করে ‘স্লোগান ২৭২ প্লাস’এর পক্ষে কাজে উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা,
৩] অনলাইন পেশাদার, ব্যাণ্ড আ্যাম্বাসাডার ও তৃণমূল স্তরে ৪০০টি সংসদীয় কেন্দ্রে ছড়িয়ে থাকা ২২ লক্ষ ভলান্টিয়ার নিয়ে একটি সর্বাত্মক ‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’ ক্যাম্পেন চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা, এখানে তাঁরা নিজেদেরই ‘টুল’ ব্যবহার করবেন এবং বিজেপির হয়ে ‘ফ্রি কনটেন্ট’ তৈরি করে যাবেন।
শুভ্রজ্যোতির মতে, ‘আসলে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহারের যাবতীয় টেকনিক্যাল কৌশল, পেশাদারের যোগদান, লক্ষ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবীর সক্রিয়তা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা এবং একটা মতাদর্শগত ন্যারেটিভের সফল বিপণন— এই সব উপাদানই বিজেপির আইটি সেলকে এত প্রভাবশালী ও সেই সঙ্গে বিতর্কিত করে তুলেছে। ’
এই ক্ষেত্রে অমিত মালব্যের কৃতিত্ব অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। ‘দ্য ইণ্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র সিনিয়র সাংবাদিক পামেলা ফিলিপোজ রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আমি এর অনেকটা কৃতিত্ব দেব অমিত মালব্যকে—কারণ এককালে ফিনান্স সেক্টারে কাজ করার সুবাদে তিনি কোম্পানির মার্জার ( সংযুক্তি) ও অ্যাকুইজিশন (অধিগ্রহণ ) গুরুত্বটা ভালো বোঝেন।’
মালব্য বিদায়
অমিত মালব্য ১১ বছর ধরে বিজেপির আইটি সেলে ছিলেন। মূলত তাঁরই উদ্যোগে বিজেপি নির্বাচনী সাফল্য লাভ করেছে। ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট তাঁকে বিদায় দিল বিজেপি। ২০১৫ সালে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের অধীনে দলের আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন অমিত। বিজেপি ছত্তিশগড়ের নেতা দীপক মাস্কেকে সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের নতুন আহ্বায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেছে। এছাড়া প্রীতি গান্ধী,. শিবানন্দ দ্বিবেদী, অলোক ভাট এবং অরুণ যাদবকে সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সহ-আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। অমিত মালব্যের অপসারণকে’বিজেপির ডিজিটাল সাম্রাজ্যের ইন্দ্রপতন’ বলা যায়। এই মালব্যের আমলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ঘৃণা, ভুয়ো তথ্য এবং অপ্রচার ছড়ানো হত তার পরিমাণ নির্ণয় অসম্ভব।
ডিজিটাল কারসাজি আর জীবন্ত মানুষের প্রতিবাদের ঢেউ
ইতিহাসে শেষ কথা বলে মানুষই। তাই একদিন শেষ হয় ডিজিটাল কারসাজির পালা। বিদায় নিতে হয় মিথ্যা আর অপপ্রচারের কারিগরদের। এতদিন ছিন্নভিন্ন বিরোধীরা যা পারে নি, তাই পারল নব প্রজন্মের বিদ্রোহী তরুণেরা। রাজপথ থেকে ঢেউ উঠল প্রতিবাদের। মানব না বাধা, মানব না ক্ষতি / চোখে যুদ্ধের দৃঢ় সম্মতি। কোন ফতোয়াকে ভয় পেল না তারা। তাই শাসক দ্রুতগতিতে শুরু করল তাদের পোস্ট মুছে ফেলা। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুলাই— ৫ মাসে প্রায় ২ লক্ষ পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে বাধ্য হল শাসকেরা। এর মধ্যে শুধু ইনস্টাগ্রাম থেকে সরানো হয়েছে ১ লক্ষ পোস্ট, আর ফেসবুক থেকে সরানো হয়েছে ৮০ হাজার। এতদিন আইটি সেল চলত টাকায় কেনা ট্রোল আর বিষোদগার দিয়ে। দিন বদলে গেছে। রাজপথে গর্জন। প্রশ্নের পর প্রশ্ন। শেষ করি রবীন্দ্রনাথের কথায় :
দ্যূতচ্ছলে দানবের মূঢ় অপব্যয়
গ্রন্থিতে পারে না কভু ইতিহাসে শাশ্বত অধ্যায়