দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস (ebola virus)। মৃত্যুর খবরও মিলেছে। তবে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। সতর্ক থাকতে হবে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলা একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা ,ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ, বা ইবোলা হেমোরেজি ফিভার নামে পরিচিত। এটি মানুষের রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়, যার ফলে শরীরের ভেতরে ও বাইরে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হতে পারে এবং মৃত্যুহার অনেক বেশি থাকে। নীলরতন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ পীতবরণ চক্রবর্তী জানান, সংক্রমণ যেভাবে ছড়ায় তা আশ্চর্যের। প্রাণী থেকে মানুষ বাদুড়কে এই ভাইরাসের প্রধান প্রাকৃতিক বাহক বলে মনে করা হয়। সংক্রামিত বন্য প্রাণীর (যেমন — বানর, শিম্পাঞ্জি বা বাদুড়) রক্ত, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, বা কাঁচা মাংসের সরাসরি সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ঘটে।মানুষ থেকে মানুষ: আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে এটি সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত দূষিত কাপড় বা চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, এটি করোনাভাইরাস বা ফ্লুর মতো বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। এর প্রাথমিক লক্ষণ হল:হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতাপেশী ও গলায় ব্যথা, পরবর্তীতে তীব্র ডায়রিয়া, বমি এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ইবোলা একটি বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী সংক্রমণ। এটি মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে, বিশেষ করে আফ্রিকার কিছু অংশে। এটি আক্রান্ত প্রাণী বা মানুষের দেহরসের সংস্পর্শে ছড়ায়। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো ফ্লু-এর মতো। কিন্তু সেগুলো আরও গুরুতর হতে পারে। যদি আপনার মনে হয় যে আপনি ইবোলার সংস্পর্শে এসেছেন এবং আপনার মধ্যে লক্ষণ দেখা দিয়েছে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এদিকে রাজ্য সরকার ইবোলা সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কলকাতা বিমানবন্দরে।
ইবোলা সংক্রমণ যাতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে না পারে, এজন্য সতর্কতা নেওয়া শুরু করল কলকাতা বিমানবন্দর। উল্লেখ্য, আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণের পরই সতর্কতা নেওয়া শুরু হল দেশ জুড়ে। কলকাতা সহ দেশের আন্তজার্তিক বিমানবন্দরগুলোতে থার্মাল স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে কলকাতায় অবতরণ করা আফ্রিকা ফেরত ভারতীয় এবং অন্য দেশের নাগরিকদের স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। আফ্রিকার কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে সিডিসি সূত্রে জানা গিয়েছে। এপর্যন্ত এই দুই দেশের ৫৭৫ জন ইবোলা আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিশ্চিতভাবে রোগ ধরা পড়েছে ৫১ জনের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই রোগে মারা গিয়েছেন ১৪৮ জন।