Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ জাতি সংঘের চিঠি : নির্বাচন কমিশন ও ভারত সরকার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি ডালিয়া — ডায়েট ফ্রেন্ডলি রেসিপি : রিঙ্কি সামন্ত ছানি অপারেশন কোথায় ও কখন করা উচিত : ডা. তনুশ্রী চক্রবর্তী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অপারেশন লোটাসের ইতিবৃত্ত : দিলীপ মজুমদার ওড়িশার পঞ্চদশ শতকের মহাকবি সরলা দাসের কোটিপূজাই আজ খুঁটিপূজা : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ঢেউ-এর দোলায় তসলিমা নাসরিন : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রথ নিয়ে বাংলা প্রবাদ ও তার সামাজিক তাৎপর্য : অসিত দাস মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘গোধূলির চিতায়’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ এনকাউন্টার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ফুলমনির মাঠ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শুনুন নেতাজি সুভাষ, শুনছেন — : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলতলার ঝগড়ার ‘কলতলা’ ছিল জলের কল আসার অনেক আগেই : অসিত দাস মাড়ির অসুখ থেকে সাবধান সুগার ও প্রেগন্যান্সিরা! হতে পারে ক্যান্সার : ডাঃ পিয়ালী চট্টোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘সাড়ে তিন হাত বারান্দা’ গুণ্ডা দমন, মন উচাটন, আসছে শমন, বাপ রে বাপ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ‘একা এক নারী’র জয়, পরাজয় এবং… : দিলীপ মজুমদার ভরতমুনির নাটকের ডিম ও ঘোড়ার ডিম : অসিত দাস
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

জাতি সংঘের চিঠি : নির্বাচন কমিশন ও ভারত সরকার : দিলীপ মজুমদার

দিলীপ মজুমদার / ৭৪ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

জাতি সংঘের তিন জন rapporteur ভারত সরকারকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ২০২৬ সালের ১মে। কিছু গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এই চিঠি। জবাব চান তাঁরা সরকারের। সময় ছিল ৬০ দিন। এই চিঠি নিয়ে দেশের মিডিয়ায় খুব বেশি চর্চা নেই। সরকারের মুখে কুলুপ। যে দল সরকারের মাথায় বসে আছেন তাঁদেরও মুখে কুলুপ। কিন্তু বিদেশি মিডিয়ায় তার চর্চা আছে। জাতি সংঘ তো আর আমাদের পাড়ার ক্লাব নয়। একটা আন্তর্জাতিক সংগঠন। সুতরাং তাঁদের চিঠির গুরুত্ব আছে।

Rapporteur বলে কাকে

কোন প্রতিবেদনের রচয়িতাকে rapporteur বলে। ফরাসি rapport ( report) থেকে শব্দটির উৎপত্তি। কোন বিশেষ বিষয় পর্যবেক্ষণ বা তদন্ত করার জন্য সরকার বা আন্তর্জাতিক সংগঠন কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তি হলেন rapporteur। ফরাসি ভাষায় rapporteur হলেন বিলের ম্যানেজার, ইংরেজিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সঙ্গে জড়িত। বিচারবিভাগীয় সিদ্ধান্তগুলি পর্যালোচনার জন্য এঁদের নিয়োগ করা হয়। বাংলায় আমরা এঁদের প্রতিবেদক বলব। ইউনাইটেড নেশনস বা জাতি সংঘও এই রকম প্রতিবেদক নিয়োগ করেন। যে তিন প্রতিবেদক ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছেন জাতি সংঘের পক্ষে, এবার তাঁদের পরিচয় দেব।

তিন প্রতিবেদকের পরিচয়

ক] অধ্যাপক নিকোলাস লেভারাত : নিকোলাস লেভারাত সংখ্যালঘু বিষয়ের চতুর্থ বিশেষ প্রতিবেদক। ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর মানবাধিকার কাউন্সিল তাঁকে নিয়োগ করে। তিনি কাজ শুরু করেন ১ নভেম্বর থেকে। নিকোলাস সুইজারল্যাণ্ডের মানুষ। ফরাসিভাষী। তাঁর প্রথাগত পড়াশুনো ও গবেষণা সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে। আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে গবেষণা করে তিনি পি এইচ ডি ডিগ্রি লাভ করেছেন। ২০০১ সাল থেকে জেনিভা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ২০০৭ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ইউরোপিয়ান স্টাডিজের ডাইরেক্টর নিযুক্ত হন। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন গ্লোবাল স্টাডিজ ইন্সটিটিউট। ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের ডাইরেক্টর। তাঁরই উদ্যোগে ২০১২ সাল থেকে মানবাধিকার সপ্তাহ পালন করা হয়। কাউন্সিল অব ইউরোপে তিনি ইউরোপিয়ান সিভিল সার্ভেন্ট হিসেবে যোগ দেন (১৯৯১-১৯৯৪)। তারপর যোগ দেন ইউনিভার্সিটি লিব্রে দ্য ব্রুক্সেলস-এ। বেলজিয়ামের সংখ্যালঘু বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন। শেষে যোগ দেন জাতি সংঘের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে। অধ্যাপক নিকোলাস ২০টি গ্রন্থের ও প্রায় ১৫০টি গবেষণাপত্রের রচয়িতা।

খ] আইরিন খান : মতপ্রকাশ বিষয়ে জাতি সংঘের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে আইরিন খান নিযুক্ত হন ২০২০ সালের ২১আগস্ট। মানবাধিকার, লিঙ্গসমতা, সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রবক্তা হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ২০০১-২০০৯ পর্যন্ত অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল ও ২০১২-২০১৯ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ডেভলাপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের ডাইরেক্টর জেনারেল, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক ল’ স্কুলের অতিথি অধ্যাপক, স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির চ্যানসেলর ছিলেন। তিনি ২১ বছর ধরে উদ্বাস্তু বিষয়ে ইউ এন হাইকমিশনারএ কাজ করেছেন। তিনি ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক জেন্ডার অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল ও ইউ এন গ্লোবাল কম্প্যাক্ট অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। আইরিন খান নারীদের উপর নির্যাতন বন্ধ করার আন্দোলনের জন্য ২০০৬ সালে সিডনি শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

গ] নাজিলা ঘানিয়া : ২০২২ সালের ১ আগস্ট নাজিয়া ঘানিয়া ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে জাতি সংঘের প্রতিবেদক নিযুক্ত হন। নাজিলা ঘানিয়া অক্সোফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন বিষয়ের অধ্যাপিকা। তার আগে তিনি লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন, চিনেও অধ্যাপনার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার বিষয়ে বহু সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন, এই বিষয়ে শতাধিক গবেষণাপত্র পরিচালনা করেছেন নাজিলা ঘানিয়া।

ভারত সরকারের কাছে চিঠির মূল বিষয়গুলি

প্রতিবেদকদের মূল বক্তব্য SIRকে কেন্দ্র করে। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ঘোষণা করা হয় ৯টি রাজ্য (ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, পঃ বঙ্গ) ও ৩টি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে (আন্দামান-নিকোবর, লাক্ষাদীপ, পুদুচেরি) SIR হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে সব বৈধ ভোটারদের নাম যুক্ত হবে, অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্যরকম দেখা গেল। এই ৯টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু পঃবঙ্গেই ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের নাম বিশেষভাবে বাদ গেছে (“Across 9 States and 3 Union Territories, approximately 52 million names have allegedly removed, with West Bengal particularly affected, where a total of 9.1 million names were repoetedly deleted from the register . Affected individuals of the second phase report being wrongfully excluded despite having provided valid identification. Muslim voters were reportedly disproportionately impacted by the SIR process.”) প্রতিবেদকরা পঃবঙ্গের নির্বাচন কেন্দ্র নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। বৈধ প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও সেখানকার বহু মুসলমান ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৯৫% মুসলমান (“In one constituency, namely Nandigram, allegedly 95 per cent of the deleted voters were Muslims, even though Muslims only make up 25 per cent of the constituency’s electorate. They have sought redress through domestic remedies, including recourse to the ECI and judicial review by the Supreme Court of India, which declined to stay the process on 6 April 2026.) [লক্ষ্য করা গেছে বিজেপি প্রার্থীরা যত ভোটে জিতেছেন, প্রায় সেই পরিমাণ বা তার চেয়ে কিছু বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বহু কেন্দ্রে। এটা সুপরিকল্পনা বলেই অনুমিত হতে পারে। প্র্রতিবেদকদের বক্তব্যে তার ইঙ্গিত আছে, যদিও তাঁদের পক্ষে বিশদভাবে কিছু বলা হয় নি]

প্রতিবেদকদের বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেবার পটভূমিটাও তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপি নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীপ্রমুখেরা ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’দের, বাংলাভাষীদের (প্রতিবেদকরা ‘রোহিঙ্গ’ শব্দটি উচ্চরণ করেন নি) তাড়াবার কথা বলে নাম বাদ দেবার পটভূমি তৈরি করে রেখেছিলেন। ফর্মুলাটি ছিল Detect, Delete, Deport (“Senior Government officials, including the Union Home Minister, have reportedly publicly framed the deletion of voter names as targeting ‘illegal Bangladeshi immigrants’ –rhetoric that conflates legitimate Indian Muslim citizens with foreign nationals . It is reported that there has been repeated invocation of this framing by the highest levels of the executive, including the characterization of the SIR as a mechanism to ‘purify’ electoral rolls of infiltrators. It is also reported that, before Parliament, the Home Minister framed the State- administered electoral process in terms of the removal of a religious community, expressed through the policy formula ‘ Detect, Delete and Deport”)।

AI–ব্যবহার করে সুবিধামত গ্রহণ-বর্জন করারও অভিযোগ প্রতিবেদকরা করেছেন, “We are also concerned by reports of the alleged use of an AI-driven system that flagged ‘irregularities’ in voter data, raising serious issues related to transparency, errors and potential bias.” এই AI ব্যবহার বৈধ ভোটারকে বিচ্ছিন্ন করা, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে বিঘ্নিত করার ঝুঁকিপূর্ণ, “The use of AI-driven systems in the AIR process risks having disenfranchised legitimate voters, undrmining democratic fairness and raising concerns about reliability of automated decision-making in such a high-stakes context.”

ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধি ও সরকারের কর্মকর্তাদের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক ও বিভাজনমূলক আচরণ সম্বন্ধে প্রতিবেদকরা প্রকাশ করেছেন গভীর উদ্বেগ। তাঁরা বলেছেন এই আচরণ আন্তর্জাতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারের (ICCPR) পরিপন্থী। এর ফলে মুসলমান নাগরিকরা নিজেদের স্বদেশে পরবাসী বলে ভাবতে থাকবে (“We are further concerned by the discriminatory rhetoric by politicians and senior public figures of the Govrnment in the context of the SIR exercise, which could amount to potential incitement to discrimination within the meaning of article 20 (2) of the International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR), ratified by India on 10 April 1979. This article prohibits any advocacy of national, racial or religious hatred that constitute incitement to discrimination, hostility or violence. We are concerned that the rhetoric used by authorities may serve to construct Muslim citizens as presumptively foreign, criminal and underserving of civic rights, without any individualized determination of their legal status, in a manner incompatible with the non-discrimination obligation of articles 2 and 26 of the ICCPR.”)।

এস ওয়াই কুরেশি বললেন

এস ওয়াই কুরেশি হলেন প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার (২০১০ সালের ৩০ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১০ জুন পর্যন্ত)। সম্প্রতি ‘India and I : A Hundred Memoires, Not a Memoir’ বইটি প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে কুরেশি SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে ২০০২-৩ সালে বিহারে শেষ বড় আকারের নিবিড় সংশোধনের পর নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ভোটার তালিকা কম্পিউটারাইজড হয়ে যাওয়ায় আর এ ধরনের নিবিড় সংশোধনের প্রয়োজন নেই। তার পরিবর্তে চালু হয় ‘সামারি রিভিশন’ বা সংক্ষিপ্ত সংশোধন প্রক্রিয়া। এতে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা দেখতেন, তথ্য মিলিয়ে নিতেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন সেখানেই সম্পন্ন হত। যখন ৯৯% নাম ইতিমধ্যেই তালিকায় রয়েছে, তখন আবার শূন্য থেকে শুরু করে কে কোথায় থাকে তা খুঁজতে যাওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, ‘কতজনকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়, সেটাই যেন এখন প্রধান লক্ষ্য। মনে হচ্ছে যত বেশি মানুষকে বাদ দেওয়া যাবে, ততই যেন সাফল্যের নম্বর বাড়বে।’

পঃ বঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে তাঁর প্রশ্ন, ‘আট কোটি মানুষকে দৌড় করানোর পর শেষ পর্যন্ত কতজন বিদেশি সনাক্ত হলেন ? আজ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দেশের মানুষ জানতে চায়, আমরা জানতে চাই, কতজন বিদেশিকে চিহ্নিত করা গেছে?’

প্রসঙ্গ ভোট চুরি

জাতি সংঘের চিঠিতে ‘ভোট চুরি’র কথা নেই। থাকার কথাও নয়। কারণ জাতি সংঘ কোন রাজনৈতিক দল নয়। তাঁরা ‘বেনিয়মে’র কথা বলতে পারেন, ভোট চুরির কথা নয়। তাঁদের প্রতিবেদকদের চিঠিতে এই বেনিয়মের কথা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লিখিত হয়েছে। ভারতে ভোট চুরির ব্যাপারটা আর বিপক্ষ দলের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা সেই ২০১৯ থেকে উঠছে। সেই সময়ে দেশের ৬৪ জন বর্ষীয়ান অবসরপ্রাপ্ত আমলা (যাঁরা তৈরি করেছেন কনস্টিটিউশন্যাল কণ্ডাক্ট গ্রুপ বা CCG) এবং ৮৩ জন সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার + শিক্ষাবিদ + সাংবাদিকরা ১৯১৯ সালের ২ জুলাই নির্বাচন কমিশনকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন :

‘বিগত তিন বা তারও বেশি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে ২০১৯-এর সাধারণ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে কম অবাধ ও সুষ্ঠু। অতীতে অপরাধী, বাহুবলী ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দাপট দেখালেও, ইসি আপ্রাণ চেষ্টা চালাত সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা বলতে আমরা বাধ্য হচ্ছি যে বর্তমান ইসি নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা, সততা ও দক্ষতার সমস্ত সীমা-পরিসীমা হেলায় লঙ্ঘন করে সাংবিধানিক এই সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানিতে নিয়ে এসেছে।’

এই সেদিন চেন্নাই থিংকার্স ফোরাম আয়োজিত এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী পরকলা প্রভাকর ভোট জালিয়াতি নিয়ে বলার সময়ে বিরোধী দলগুলির ‘ক্যাসিনো সিনড্রোম’ পরিহার করার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,

‘সংসদ ও রাজ্য বিধানসভার প্রতিনিধিদের সব কিছুই ঝুঁকির মুখে। দয়া করে লড়াই করুন। এ নিয়ে পুরো দেশ উদ্বিগ্ন, চিন্তিত। আমরা যদি এই মুহুর্তটি হাতছাড়া হতে দিই তাহলে ভারতে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যান। এটি ইতিমধ্যেই একটি প্রহসন। আমার বক্তব্য হল যদি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে লোকসভা নির্বাচিত হয়ে থাকে তাহলে এই লোকসভার কোন বৈধতা নেই। যে সংস্থাটি (নির্বাচন কমিশন) এই ধরনের অনিয়মের জন্য দায়ী তাকে সরিয়ে দিতে হবে।’

অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সব্যসাচী দাশ ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি তাঁর যে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন তার নাম ‘Democratic Backsliding in the World’s Largest Democracy’। এই গবেষণাপত্রে তিনি ২০১৯ সালের নির্বাচনের প্যাটার্ন পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন যে ভোটারের নাম নথিভুক্তকরণ, ভোটদানের সময় এবং গণনার সময় বিরাট মাপের কারচুপি হয়।

অমিত দাশগুপ্ত তাঁর ‘কীভাবে ভোট চুরি করেছে বিজেপির নির্বাচন কমিশন’ প্রবন্ধে ভোটচুরির কিছু উপায়, পদ্ধতি ও কৌশলের উল্লেখ করেছেন :

ক] বিভিন্ন দফায় ভোট গ্রহণের মধ্যে কুমতলব স্পষ্ট। অন্ধ্রপ্রদেশের ২৫টি লোকসভা আসনের জন্য ১টি দফায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ অথচ ওড়িশার ২১ টি আসনের জন্য চার দফায় ভোট গ্রহণ। তামিলনাড়ুর ৩৯ আসনের জন্য ভোট হল ১ দফায়, অথচ বিহারে ৪০টি আসনে ভোট হল ৭ দফায়।

খ ] ভোট প্রদানের চূড়ান্ত সংখ্যা বা হার (%) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলম্ব।

গ ] নির্বাচন হয়ে যাওয়ার বহু দিন পরেও নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রকাশ না করা।

ঘ ] ভোটদান পর্ব শেষ হবার পর নির্বাচন কমিশন ভোট প্রদানের যে সংখ্যা প্রদান করেন, তার সঙ্গে বহু দিন পরে ঘোষিত চূড়ান্ত ভোট প্রদানের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ।

ঙ ] প্রদত্ত ভোট ও ভোট গণনার মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি থাকে।

চ ] কোন পর্বে আসনভিত্তিক প্রাথমিক ভোট প্রদানের তথ্য পাওয়া যায় না।

ছ ] রাত যত বাড়ে ততই ভোটদানের হার বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্ন ই ভি এম নিয়ে

অভিযোগ উঠেছে ই ভি এমের কারচুপি নিয়ে। ইভিএম প্রযুক্তিবিষয়ক স্বাধীন কোন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে ইভিএমের মাইকোপ্রসেসরকে পরীক্ষার দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সে দাবিকে গ্রাহ্য করেন নি। ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট যখন মাইকোপ্রসেসর পরীক্ষার নির্দেশ দিলেন, তখন তা এড়াবার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিটি মাইকোপ্রসেসর পরীক্ষার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা ধার্য করেন। হরিয়ানা নির্বাচনের সময় ইভিএমে কত ভোট পড়েছে তা ফের যাচাই করতে অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশন।

বৈধ ভোটারের নাম কাটা, অবৈধ ভোটারের নাম জোড়া

বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বহিরাগত ভোটার ঢোকানোর কিছু প্রমাণ হাজির করেছিলেন :

ক] রমেশ এবং তাঁর ছেলে উমেশ। এঁরা বিহারের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের (AC 108, AC 109) ডুপ্লিকেট বা দ্বৈত ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায়ও তাঁদের নাম আছে। রেকর্ডে নামের সামান্য পরিবর্তন করে স্বাভাবিকতা বজায় রাখার চেষ্টা হয়েছে। উমেশের বাবার নাম কোথাও ‘পরমেশ্বর’, কোথাও আবার ‘রমেশ’।

খ] ২০২৫ সালের বিহারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সুলেখাকুমারীর নাম আছে, তাঁর এপিক নম্বর BYD45957921। তাঁর নাম আবার পঃবঙ্গ ভোটার তালিকায়ও আছে, এপিক নম্বর ARZ26937781। তিনি বিহারের ১১৫ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রের পার্ট ২১৪ ও পঃবঙ্গের ২৭৬ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্রের পাটফ ২৪৫-এ ভোটার।

গ] শ্যামবাহাদুর যাদবের নাম বিহারের ভোটার তালিকায় আছে, এপিক নম্বর AHE026937291। তিনি আবার পঃবঙ্গেরও ভোটার, তাঁর এপিক নম্বর ARZ26937291। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুই রাজ্যেও ভোট দেবেন।

ঘ] কুমুদ সিং ও ডলিদেবীর নাম বিহার ও পঃবঙ্গের ভোটার তালিকায় আছে। তাঁদের বিহার ও পঃবঙ্গের এপিক নম্বর যথাক্রমে : CTTI426691, SSG1926278/ ARZ22933356, ARZ23656171

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনাররা

জাতি সংঘের প্রতিবেদকরা যে চিঠি লিখেছেন সে ব্যাপারে ভারতের নির্বাচন কমিশন বা ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া উল্লেখের পূর্বে একবার আমাদের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারদের কথা বলে নেওয়া যাক :

সুকুমার সেন (২১.০৩.১৯৫০-১৯.১২.১৯৫৮), কল্যাণ সুন্দরম (২০.১২.১৯৫৮-৩০.০৯.১৯৬৭), এস. পি. সেনবর্মা (০১.১০.১৯৬৭-৩০.০৯.১৯৭২), নগেন্দ্র সিং (০১.১০.১৯৭২-০৬.০২.১৯৭৩), টি স্বামীনাথন (০৭.০২.১৯৭৩-১৭.০৬.১৯৭৭), এস এল শাকধর ( ১৮.০৬.১৯৭৭-১৭.০৬.১৯৮২), আর কে ত্রিবেদী (১৮.০৬.১৯৮২-৩১.১২.১৯৮৫), আর ভি এস পেরি শাস্ত্রী (০১.০১.১৯৮৬-২৫.১১.১৯৯০), ভি এস রমাদেবী (২৬.১১.১৯৯০-১১.১২.১৯৯০), টি এন শেষণ (১২.১২.১৯৯০-১১.১২.১৯৯৬), এম.এস.গিল (১২.১২.১৯৯৬-১৩.০৬.২০০১), জে.এম.লংগোধ (১৪.০৬.২০০১-০৭.০২.২০০৪), টি.এস.কৃষ্ণমূর্তি (০৮.০২.২০০৪-১৫.০৫.২০০৫), বি.বি.টাণ্ডন ( ১৬.০৫.২০০৫-২৯.০৬.২০০৬ ), এন গোপালস্বামী (৩০.০৬.২০০৬-২০.০৪.২০০৯), নবীন চাওলা (২১.০৪.২০০৯-২৯.০৭.২০১০ ), এস ওয়াই কুরেশি (৩০.০৭.২০১০-১০.০৬.২০১২), ভি এস সম্পত (১১.০৬.২০১২-১৫.০১.২০১৫), হরিশংকর ব্রহ্ম (১৬.০১,২০১৫-১৮.০৪.২০১৫), নাসিম জাইদি (১৯.০৪.২০১৫-০৫.০৭.২০১৭), এ কুমার জ্যোতি (০৬.০৭.২০১৭—২২.০১.২০১৮), ওমপ্রকাশ রাওয়াত (২৩.০১.২০১৮—০১.১২.২০১৮), সুনীল অরোরা (০২ .১২.২০১৮-১২.০৪.২০২১), সুশীল চন্দ্র (১৩.০৪.২০২১-১৪.০৫.২০২২), রাজীব কুমার (১৫.০৫.২০২২-১৮.০২. ২০২৫), জ্ঞানেশ কুমার ( ১৯.০২.২০২৫-)।

প্রথম নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন। তিনি বাঙালি। তাঁর জন্য আমাদের গর্ব। দেশে প্রথম ভোট হচ্ছে। এক সঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট। দক্ষ হাতে সে ভোট পরিচালনা করেছিলেন সুকুমার সেন। সহজ ছিল না কাজটা। তখনও প্রায় ৮০% মানুষের প্রাথমিক শিক্ষাটুকু ছিল না। এই সব মানুষের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে হবে। শিক্ষাহীন মানুষেরা যাতে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন তার জন্য পৃথক নির্বাচন প্রতীক তৈরি করা হল প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য। প্রতীক ও প্রার্থীর নাম লাগানো প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য পৃথক বাক্স রাখার ব্যবস্থা হল প্রতিটি বুথে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করা। ২ লক্ষ ২৪ হাজার বুথের ব্যবস্থা। বুথ প্রতি ভোটার সংখ্যা ১ হাজার। ২ মিলিয়ন স্টিলের বাক্স। শুধু দক্ষ হাতে নয়, নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছিলেন সুকুমার সেন।

এর পরে যে নির্বাচন কমিশনারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তিনি হলেন তিরুনেল্লাই নারায়ণ আইয়ার শেসান। তাঁর প্রধান কীর্তি হল নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন স্বতন্ত্র সত্তা প্রতিষ্ঠিত করা। শেসান হুংকার দিয়ে বলেছিলেন, ‘গাজরের মতো আমি রাজনৈতিক নেতাদের চিবিয়ে খাই।’ আদর্শ আচরণ বিধি তৈরি করেছিলেন তিনি। পক্ষপাতের অভিযোগে সাসপেণ্ড করেছিলেন বহু অফিসারকে। চালু হল ভোটার আইডি। ব্যয়ের হিসেব জমা দিতে পারেন নি বলে ১৪৮৮ প্রার্থীকে ৩ বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হল। ভোটারদের ভয় দেখানো বা ঘুষ দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষিত হল। শতাধিক নির্বাচনী অনিয়ম চিহ্নিত করা হল।

নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশকুমারের নির্বাচনটাই প্রমাণ করে দেয় তিনি কি ভূমিকা পালন করতে আসছেন। নিয়ম ছিল প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যে কমিটি গঠিত হবে, সেই কমিটি নির্বাচন করবে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার। পাল্টানো হল নিয়ম। বাদ দিয়ে দেওয়া হল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে, তার বদলে রাখা হল অমিত শাহকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই অমিত শাহের অধীনস্থ দপ্তরে কাজ করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। অমিত শাহ নিশ্চয়ই বুঝেছেন যে জ্ঞানেশ কুমার বিশ্বস্ত। তাঁর উপর আসন্ন বিহার বিধানসভার নির্বাচনের ভার ছেড়ে দেওয়া যায়। সেটা হবে জ্ঞানেশ কুমারের কৃতিত্বের প্রথম পরীক্ষা। তারপরে আছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ুর নির্বাচন।

বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি জ্ঞানেশ কুমারের ব্যাপারে জানালেন আপত্তি। বললেন : ‘The most fundamental aspect of an independent Election Commission… free from executive interference ….is the process of choosing the Election commissioner and Chief Election Commissioner .By violating the Supreme Court order and removing the Chief Justice of India from the committee, the Modi government has exacerbated the concerns of hundreds of millions of voters over the integrity of our electoral process.

‘As the LoP, it is my duty to uphold the ideals of Babasaheb Ambedkar and the founding leaders of our nation and hold the government to account. It is both disrespectful and discourteous for the PM and HM to have made a midnight decision to select the new CEC, when the very composition of the committee and the process is being challenged in the Supreme Court and is due to be hard in less than forty-eight hours.’

তৃণমূল কংগ্রেসের সাকেত গোখলে তো অমিত শাহকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলে ব্যঙ্গ করে লিখলেন :

‘ভারতের নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার জন্য অমিত শাহকে ধন্যবাদ। ভারতবাসী নিশ্চিত যে আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভারতীয় জনতা দলের একটি শাখা সংগঠনে পরিণত হবে।’

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের খেলা শুরু হয়েছিল। শেষ বেলায় দেখা গেল হঠাৎ করে ৫ কোটি ভোটের বৃদ্ধি! ১৫ টি রাজ্যের ৭৯টি আসন চলে গেল বিজেপির দিকে। যদি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা না থাকত তাহলে বিজেপি-এনডিএ পেত ২১৪টি আসন, অন্যদিকে বিরোধী জোট পেত ৩০৩টি আসন। জ্ঞানেশ কুমার তাঁর ভূমিকা পালন করেছেন বিহার ও বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে। বিরোধী নেতাদের পাত্তা দেন নি, তাঁদের কথা শোনেন নি। এই কথাগুলিই উঠে এসেছে জাতি সংঘের প্রতিবেদকের চিঠিতে। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার সে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ফুৎকারে। বলেছেন, সব ঠিকঠাক চলছে, স্বচ্ছতা আছে সব পদক্ষেপে। মেহের আলি থাকলে বলত :

তফাৎ যাও তফাৎ যাও, সব ঝুট হ্যায় সব ঝুট হ্যায়…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন