| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘চার্বাক দর্শন’ দুর্গা যখন মাঠংমা : শ্যামলী কর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার গিরমিটিয়া ভারতীয়দের ইতিহাস — কলকাতা বন্দর থেকে বিশ্বজুড়ে এক সংগ্রামের কাহিনী : কমল ব্যানার্জী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সৃজন-মানসের অন্তর্বয়ন ও লেখাজীবনের প্রেক্ষিত : আনন্দগোপাল হালদার কেতকী কুশারী ডাইসন, রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা ও আমাদের রক্ষণশীল সমাজ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাষ্ট্রের বিধি বনাম মায়ের শেষ ইচ্ছে — চিন্ময়কৃষ্ণের ঘটনা যে প্রশ্ন রেখে গেল : যশোবন্ত রায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার নেপালের পর কি কলকাতা জলের তলায় চলে যাবে — চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বৈশ্বিক অস্থিরতায় জাতিসংঘের ছয় অগ্রাধিকার : নিকোলাস বিশ্বাস বাম-ব্যানারে শারদোৎসব না দুর্গোৎসব : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গুরুবাবাদের প্রবঞ্চনা-শোষণ-যৌনতা ও রাজনীতির জম-জমাট রঙ্গ : দিলীপ মজুমদার সিরাত : জীবন খুঁজে দেয় : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘টেবিলের নিচে একটি দেশ’ বানভাসি এলাকায় মানুষ ও সাপের সহাবস্থান, দংশনে বাড়ছে মৃত্যু : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘সংকোচ’ পাখণ্ডী শব্দটির অর্থ যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ লাইন অব প্যাসেজ — সংগ্রামী জীবনের দর্পণ : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয়
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫১ Views জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দপ্তরের কাজকর্ম — বাইরে থেকে যতই জটিল মনে হোক না কেন — সেগুলোকে কেবল বাস্তবায়নযোগ্য নয়, বরং সহজসাধ্য করার লক্ষ্যে রাজস্ব বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অধিকার ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট ও লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। এছাড়া, সারা বছর ধরে উৎপাদিত ফসলের অংশবিশেষ জমিদার, প্রজা বা চাষি এবং সরকার আর তার কর্মকর্তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট অনুপাতে ভাগ করে দেওয়া হতো; বিহারে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে এই নিয়মই দীর্ঘকাল ধরে চালু ছিল। ধারণা করা যায় যে, যেসব পরগনায় জমি খাস রাখা হতো বা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকত, সেসব স্থানেও অতীতে এই অংশগুলো যথাযথভাবে বণ্টন করা হতো। জমিনদারি বন্দোবস্তে, যেখানে কানুনগো অফিসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্বের পরিমাণ বা বন্দোবস্ত নির্ধারিত হতো, সেখানে জমিনদার তাঁর জমা বা রাজস্ব এবং তাঁর অধীনে কর্মরত পাটোয়ারি (গ্রাম্য হিসাবরক্ষক) ও অন্যান্য নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের বেতন বা ফসলের নির্ধারিত অংশ পরিশোধ করার পর আদায়করা অর্থের অবশিষ্ট বা উদ্বৃত্ত অংশের ওপর অধিকার ভোগ করতেন। তবে এই উদ্বৃত্ত কেবল তখনই অর্জিত হতে পারত যদি সরকারের সাথে তাঁর বন্দোবস্ত বা সাময়িক চুক্তির মেয়াদে এলাকার উন্নয়ন ঘটত, অথবা তাঁর আদায়ের একটা অংশ যদি ভাউলি (ফসল-ভাগ) পদ্ধতির হতো — যেখানে শস্যের দাম বাড়লে বাড়তি লাভের সুযোগ থাকত। অন্যদিকে, তাঁর লোকসান নির্ভর খাজনাত তাঁর নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর; যেমন — ব্যবস্থাপনা ত্রুটিপূর্ণ হলে চাষিরা হয়তো আগের মতো নিবিড়ভাবে চাষাবাদে নিরুৎসাহিত হতে পারত কিংবা তাদের কেউ কেউ অন্য মহালে চলে যেতে পারত। এছাড়া ভাউলি ফসলের ক্ষেত্রে শস্যের দাম কমে গেলে তাঁর আয় কমে যেতে পারত, অথবা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেও তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারতেন।

এই সমস্ত পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ কানুনগোর নথিপত্রে সংরক্ষিত থাকত। বছর শেষে বা সরকারের সাথে জমিনদারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়, এই নথিপত্র আমিলকে (রাজস্ব কর্মকর্তা) সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা খাজনাত যে — অনিবার্য ক্ষতির জন্য কতটা রাজস্ব মওকুফ করা উচিত এবং পরবর্তী বছরের জন্য জমিনদারিটি কীভাবে বন্দোবস্ত করা হবে: খোদ-বন্দোবস্ত (জমিনদারের সাথেই চুক্তি), ফার্ম (ইজারা প্রদান), নাকি খাস (সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রাখা)। শেষোক্ত পদ্ধতিতে জমিনদারকে ক্ষতিগ্রস্ত বা অভিযোগকারী হিসেবে গণ্য করা হতো না, কারণ তিনি তখনও তাঁর রসুম-ই-জমিনদারি বা ফসলের নির্ধারিত অংশ পেতেন; যদিও এই অংশ প্রাপ্তি ছিল শর্তসাপেক্ষ — অর্থাৎ, চাষাবাদের উন্নয়ন এবং সরকারের স্বার্থ রক্ষার জন্য তাঁকে সর্বদা যে সেবা প্রদান করতে হতো, তার বিনিময়েই তিনি এই পাওনা পেতেন।

কানুনগো পদটি ঠিক কবে প্রবর্তিত হয়েছিল কিংবা উপরে উল্লিখিত নিয়মকানুনগুলো কতদিন কঠোরভাবে মেনে চলা হয়েছিল, তা এখন নিশ্চিত করে বলা কঠিন (টিকা দেখুন)। সম্ভবত রাজনৈতিক অস্থিরতার যুগে আমিল, জমিদার এবং খোদ কানুনগোদের নিজেদের স্বার্থে মাঝেমধ্যে এসব নিয়ম লঙ্ঘন করা হতো; আর অবহেলার কারণে পদটি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে এগিয়েছে। আমার ধারণা, বাংলায় এখন এর নাম ও সংশ্লিষ্ট বেতনের বাইরে আর বিশেষ কিছুই অবশিষ্ট নেই। বিহারে, যেখানে প্রদেশের প্রাচীন রীতিনীতিতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি, সেখানে কানুনগোরা তাদের কাজের অনেক কিছুই ধরে রেখেছেন — যদিও স্বাভাবিকভাবেই সেসব কাজ প্রায়শই জমিদারদের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে বিহারের কানুনগোরা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত, এগুলোর সংজ্ঞা বা প্রকৃতি নিয়ে তাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে এবং সরকার চাইলে তারা যেকোনো মাত্রায় এসব দায়িত্ব কঠোরভাবে নতুন করে পালন করতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রাদেশিক রাজস্ব আদায়ের খুঁটিনাটি বিষয়ের সাথে সরাসরি জড়িত এমন একটা পদের নিয়ন্ত্রণ বা পুনর্প্রতিষ্ঠা নিয়ে কোনো প্রস্তাব পেশ করার আগে, জমিদাররা ঠিক কোন শর্তে বা মর্যাদায় তাদের জমিদারি ভোগ খাজনাছেন তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন; যাতে সরকারের অভিপ্রেত অধিকারগুলোর কোনোটি ক্ষুণ্ণ না হয়। ১০ই আগস্টের চিঠিতে আপনারা যেমনটি জানিয়েছিলেন, জমিদারি সংক্রান্ত বিষয়াদির পুঙ্খানুপুঙ্খ স্থানীয় তদন্ত যদি কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের আদেশের পরিপন্থী হয়, তবে কানুনগোদের দিয়ে তাদের পুরোনো দায়িত্বগুলো নতুন করে পালনের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে আমি সতর্ক থাকব; কারণ, নথিপত্রের যে তালিকাটির কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তার চেয়ে কোনো জমিদারের ব্যবস্থাপনা ও আয়ের বিস্তারিত বিবরণ আর কীভাবে পাওয়া সম্ভব, তা আমার কল্পনাতীত।

তাই আমি আশা করি, আপনারা আমার কাছে যে পরিকল্পনাটি চেয়েছেন তার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে, কোন শর্ত বা ভিত্তির ওপর এটা প্রণয়ন করা হবে তা আপনারা নির্ধারণ করে দেবেন। আমি যদি নিজের বিবেচনায় কানুনগো পদের জন্য এমন কোনো পরিকল্পনা পেশ করি — যেখানে জমিদারদের কেবল সরকারের কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং জমির ওপর তাঁদের অধিকার কেবল এমন একটা পদের ওপর নির্ভরশীল যা বংশানুক্রমিক হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যায়ে কঠোর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের অধীন — তবে তা কোর্ট অফ ডিরেক্টরস-এর নির্দেশাবলি এবং জমিদারদের প্রদত্ত অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে বাস্তবায়নযোগ্য নাও হতে পারে; আর এ ধরনের পরিকল্পনা পেশ করে আমি হয়তো আপনাদের মূল্যবান সময়ের অপচয় খাজনাব।

ভাগলপুর, ৬ই ডিসেম্বর ১৭৮৭।

বিনীত, (স্বাক্ষর) এস। ডেভিস, ভারপাওয়া কালেক্টর। [২৪৪]

টিকা ৬৬

কানুনগো – মুঘল রাজস্ব প্রশাসনের মেরুদণ্ড — কানুনগো (Qanungo/Kanungo) ছিল মুঘল রাজস্ব প্রশাসনের একটি কেন্দ্রীয় পদ। ফারসি ভাষায় শব্দটির অর্থ “আইন-কানুনসম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি”। মুঘল আমলে প্রতিটি পরগণায় পাঁচজন প্রধান কর্মকর্তার একজন ছিলেন কানুনগো। কানুনগো পদের উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র অনুসারে, জমিদারি বন্দোবস্তের হিসাব রক্ষার জন্য কানুনগো নিয়োগ পাঠান (আফগান) আমলেই প্রবর্তিত হয়। অর্থাৎ শের শাহ সূরির রাজত্বকালে (১৬শ শতকের মধ্যভাগে) এই পদের সূচনা হতে পারে। এরপর আকবরের আমলে (১৫৫৬-১৬০৫) কানুনগো পদের পূর্ণাঙ্গ সংগঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। “মুরশিদাবাদ-কাহিনী” গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, আকবরের সময় হইতে সম্ভবতঃ নায়েব কানুনগো পদের সৃষ্টি হয়। আবার অন্য সূত্র বলছে, পাঠান আমলেই কানুনগো নিয়োগ প্রবর্তিত হয়, আর আকবরী ব্যবস্থার পরে পরগণা কানুনগোর উপরে একজন “প্রধান কানুনগো” নিযুক্ত হইয়াছিলেন। এই দুটি তথ্যের সমন্বয়ে বলা যায়: পাঠান আমলে পদের সূচনা, আকবরের আমলে সংগঠন, এবং পরবর্তীতে প্রধান কানুনগোর অধীনে একাধিক কানুনগোর সমন্বয়ে একটি স্তরবিন্যাস সৃষ্টি।

কানুনগো ছিলেন রাজস্ব প্রশাসনের “মেমরি সিস্টেম” — তাঁর কাছে জমা থাকত সব ধরনের রাজস্ব-সংক্রান্ত নথিপত্র। তাঁর প্রধান দায়িত্বগুলো ছিল: ১। জমির বিবরণ সংরক্ষণ: কোন জমি চাষাবাদের আওতায় এসেছে, তার সম্পূর্ণ তথ্য সন্নিবেশ করা। ২। উৎপাদনের তথ্য সংরক্ষণ: শস্যের সঠিক বা সম্ভাব্য উৎপাদন মাত্রা নির্ধারণ। ৩। রাজস্ব নির্ধারণ: প্রতি পরগণায় বাৎসরিক সম্ভাব্য উৎপাদিত শস্যের তথ্য সম্বলিত দলিল সংরক্ষণ। ৪। “পাট্টা” ও “কাবুলিয়াৎ” সংরক্ষণ: ভূমি সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণের অনুলিপি (পাট্টা) এবং গ্রহীতার স্বীকৃতিপত্র (কাবুলিয়াৎ) সংরক্ষণ। ৫। রাজস্বের হিসাব: আমিল (রাজস্ব আদায়কারী) কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার পর প্রাদেশিক দেওয়ানের কাছে যে পরিমাণ রাজস্ব পাঠানো হত, তার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ।

উইলসন কানুনগোর কার্যাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, তাঁরা ছিলেন “গ্রাম-রাজস্ব কর্মকর্তা, যাঁরা জমির পরিমাপ ও জরিপের সব তথ্য লিপিবদ্ধ করতেন, করদাতাদের মৃত্যু ও উত্তরাধিকার সম্পর্কে রিপোর্ট করতেন, এবং প্রয়োজনে স্থানীয় রীতি-প্রথা ও সরকারি বিধিমালা ব্যাখ্যা করতেন; তাঁরা নিষ্কর জমি ও বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধার মাধ্যমে পারিশ্রমিক পেতেন”। মুঘল প্রশাসনের একটি নির্দেশিকায় নতুন কানুনগোকে বলা হত: “সম্রাটের কার্য আপনার কাগজপত্রের উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়”। এমনকি তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হত দুই কপি রেকর্ড রাখতে — একটি নিজের বাড়িতে, অন্যটি অফিসে — যাতে আগুন বা বন্যার ক্ষেত্রে অন্তত একটি রক্ষা পায়।

আকবরের সংস্কারের পূর্বে কানুনগোরা জনসাধারণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন এবং ভূমি রাজস্ব থেকে প্রাপ্ত করের একাংশ গ্রহণ করতেন। সম্রাট আকবর এই পদকে তিন পর্যায়ের বেতনভোগী কর্মকর্তার পদে পরিণত করেন। এছাড়া কানুনগোরা নিষ্কর জমি, ভাতা ও বিবিধ সুবিধার মাধ্যমে পারিশ্রমিক পেতেন। পদটি প্রায় সর্বদা জীবনভর এবং সাধারণত বংশানুক্রমিক ছিল। বাংলার প্রেক্ষাপটে কানুনগো – বাংলার ইতিহাসে কানুনগো পদ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। “মুরশিদাবাদ-কাহিনী” অনুসারে, ভগবান কানুনগো (মুর্শিদকুলি খাঁর সময়ে) দক্ষতার সাথে কার্য সম্পাদন করে “বঙ্গাধিকার” উপাধি লাভ করেন। তাঁর ভাই বঙ্গাবনোদ প্রধান কানুনগো পদে নিযুক্ত হন এবং মালদহ জেলায় “বিনোদনগর” গ্রাম পত্তন করেন। বঙ্গাবনোদের পরে ভগবানের পুত্র হরিনারায়ণকে কানুনগো পদ দেওয়া হয়; ১৬৭৯ সালে তিনি সুবা বাংলার অর্ধাংশের কানুনগোর ভার পান। মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে কানুনগোদের ক্ষমতা এতটাই ছিল যে, তাঁদের মোহর দপ্তর ছাড়া দিল্লির বাদশাহর দরবারে রাজস্বের হিসাব গৃহীত হত না। এই ঐতিহাসিক গুরুত্ব থেকেই বোঝা যায়, কানুনগোরা কেবল কেরানি ছিলেন না; তাঁরা ছিলেন রাজস্ব প্রশাসনের তথ্যের একচেটিয়া রক্ষক, এবং সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই রাজস্ব নীতি নির্ধারিত হত।

ব্রিটিশ আমলে কানুনগো প্রথার রূপান্তর — ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পর কানুনগো প্রথা টিকে থাকলেও তার চরিত্র বদলে যায়। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর রাজস্ব ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় কাঠামো বদলে গেলে কানুনগোদের ভূমিকাও সংকুচিত হয়। তবে আইনি জটিলতা বাড়ার সাথে সাথে তাঁদের পরামর্শ ও নথিপত্রের গুরুত্ব কিছুটা টিকে ছিল। রেগুলেশন I of 1819 কানুনগো সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন, যা ব্রিটিশ আমলে এই পদের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে। মূলত কানুনগো প্রথা ছিল মুঘল আমলের কেন্দ্রীভূত তথ্য-নির্ভর রাজস্ব প্রশাসনের একটি মেরুদণ্ড। প্রজাদের ওপর রাজস্বের বোঝা চাপানোর ক্ষেত্রেও এই তথ্যের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। কানুনগোর সংরক্ষিত নথিই নির্ধারণ করত কে কত রাজস্ব দেবে, কোন জমি কত উৎপাদনশীল, এবং কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev