
জেমস গ্রান্টের রাজস্ব প্রস্তাবে প্রবেশের মুখড়া হিশেবে অনুবাদকের ভূমিকা
আমরা ফিফথ রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ড অনুবাদের এপেন্ডিক্স ৩-এ জন শোরের রাজস্ব প্রস্তাবনা আলোচনা করেছি ৬৬ কিস্তি অবদি। শোর প্রস্তাবনা মিনিট জমা দেন ১৭৮৯-এর ১৮ জুন তারিখে। শোরের প্রস্তাবনা মূলত, জেমস গ্রান্টের দেওয়া রাজস্ব কাঠামো কি হওয়া উচিত সে বিষয়ে বিরুদ্ধে পাল্টা-বক্তব্য। গ্রান্টের দাবি ছিল বাংলার রাজস্ব আন্ডার-অ্যাসেসড অর্থাৎ যথেষ্ট হারে খাজনা আরোপ করা হয় নি, ফলে আদায় কম হয়। তাঁর দাবি মোগল আমলের রাজস্বের ভিত্তিতে আরও বেশি রাজস্ব চাওয়া উচিত। শোর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।
মাথায় রাখতে হবে ফিফথ রিপোর্টে গ্রান্টের রাজস্ব প্রস্তাবের আগে শোরের রাজস্ব প্রস্তাব আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু গ্রান্ট রাজস্ব প্রস্তাব জমা দেন ২৭শে এপ্রিল ১৭৮৬ আর শোর জমা দেন ১৭৮৯ সালের ১৮ই জুন — অর্থাৎ মোটামুটি তিন বছরের পার্থক্য। শোর তাই গ্রান্টের প্রস্তাব অধ্যয়ন করেই নিজের প্রস্তাবে গ্রান্টের সমালোচনা করেছেন। গ্রান্টের প্রস্তাবনা অনুবাদ আর টিকা করার কাজে প্রবেশের আগে শোর এপেন্ডিক্স ৩এ কি কি প্রস্তাব দিয়েছেন চুম্বকে পাঠককে ধরিয়ে দিতে চাই।
শোর গ্রান্টের রাজস্ব বাড়ানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন মুঘল আমলের রাজস্বের সর্বোচ্চ হার (১৭৬৫ সালের দেওয়ানি হস্তান্তরের সময়ের) বর্তমান রাজস্ব নির্ধারণের মানদণ্ড হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য ১৭৬৫-র পর থেকে বাংলার পরিস্থিতি আমূল বদলেছে — বিশেষ করে ১৭৭০-এর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ [হান্টার বলেছেন ১/৪ থেকে ১/৩ও হতে পারে] ধ্বংস করেছিল, এবং পরবর্তীকালে দুর্ভিক্ষ আর বন্যাও দ্ধাক্কা দিয়েছে। তাই ২৪ বছর পর সেই পুরনো হিসাব আজ অপ্রাসঙ্গিক।
শোরের প্রস্তাব ছিল, রাজস্ব নির্ধারণের ভিত্তি হওয়া উচিত ব্রিটিশ প্রশাসনের ২৪ বছরের অভিজ্ঞতা — বিশেষত সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রকৃত আদায়। তিনি বলেন ১৭৮৬-৮৭-র আদায় কাসিম আলি খাঁর [মীর মাশিম] সময়ের পর সর্বোচ্চ ছিল। তাঁর মতে, এই বাস্তব অভিজ্ঞতা সূত্রে রাজস্বের উপযুক্ত ভিত্তি তৈরি করা দরকার।
শোর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিরোধী ছিলেন না, কিন্তু তিনি মনে করতেন তাৎক্ষণিকভাবে খাজনা স্থায়ীকরণের ভাবনা বিপজ্জনক। তিনি প্রস্তাব করেন দশ বছরের নির্দিষ্ট বন্দোবস্ত, যার অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। তিনি সতর্ক করেন জমিদার আর প্রজাদের মধ্যে চলতে থাকা জটিল আর অনিশ্চিত সম্পর্ক নিয়ে সাম্রাজ্যের সতর্ক হওয়া দরকার; তিনি মনে করতেন বাংলায় জমিদারদের আধা-সার্বভৌম ক্ষমতা ছিল, কিন্তু প্রকৃত মালিকানা ছিল না। তাই এই বিষয় আর সম্পর্ক নিয়ে আরও জ্ঞান আহরণ প্রয়োজন।
শোর বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে রাজস্ব হওয়া উচিত পরিমিত moderate; অতিরিক্ত রাজস্ব চাপালে জমিদাররা দুর্বল হবেন, প্রজারা অত্যাচারের শিকার হবেন, এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমবে। শোর জমিদারদের জমির আদি মালিক হিসেবে দেখতেন এবং তাদের প্রতি ন্যায্যতার পক্ষে ছিলেন। তিনি মনে করতেন, যদি জমিদারদের ন্যায্য আয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয়, তবে তারা জমির উন্নতিতে আগ্রহী হবেন না।
শোরের এই প্রস্তাবনা ছিল সতর্ক, অভিজ্ঞতাভিত্তিক, ধীরে ধীরে এগোনোর পথ। তিনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের লক্ষ্যের বিরোধী ছিলেন না, কিন্তু চাইতেন তা প্রমাণিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হোক, অন্ধভাবে বা তাড়াহুড়ো করে নয়। কিন্তু কর্নওয়ালিসের জয় হয়। শোরের সতর্কবাণী উপেক্ষা করে ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয় — এবং ইতিহাস শোরের আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণ করে।
এই পর্ব থেকে জেমস গ্রান্টের রাজস্ব প্রস্তাবনা। গ্রান্টের প্রস্তাবনার কন্টেন্ট নিয়ে যত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, সে তুলনায় গ্রান্টের লিখন শৈলী বা তার প্রস্তাবনার উদ্দেশ্য নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়েছে বলে মনে করি না। তাই চুম্বকে তার লিখন শৈলী নিয়ে দুই প্রথিতযশা উপনিবেশিক ইতিহাসবিদ কি ভেবেছেন, সেটা আলোচনা করে মূল প্রবন্ধ আলোচনায় প্রবেশ করব। F.D. Ascoli, Early Revenue History of Bengal and the Fifth Report, 1812-ই হোক বা ফিফথ রিপোর্টের সম্পাদক ফার্মিঙ্গারই হোক, গ্রান্টের লেখার শৈলী নিয়ে বেশ কড়া সমালোচনা করেছেন, এবং সেই সমালোচনা একেবারে অপ্রত্যাশিত নয়।
প্রথমের এসকলির সমালোচনা। তিনি Early Revenue History of Bengal গ্রন্থে গ্রান্টের যুক্তির দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে গিয়ে বেশ কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন — The weakest feature of Grant’s case — গ্রান্টের যুক্তির সবচেয়ে দুর্বল দিক ছিল মুঘল আমলের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণকে বাস্তবসম্মত প্রমাণ করার প্রচেষ্টা। Grant can only account for the deficiency by the assumption… For this he adduces no proof — গ্রান্ট ঘাটতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অনুমান ছাড়া কিছুই দেননি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই। Grant’s silence is ominous for his case — গ্রান্টের নীরবতা তাঁর যুক্তির জন্য অশুভ সংকেত। Grant, in fact, fails to establish his case — গ্রান্ট প্রকৃতপক্ষে নিজের যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। Grant appears to have forgotten his own premises, or to have produced an impracticable dialectical scheme — গ্রান্ট নিজের ভিত্তিই ভুলে গেছেন, অথবা একটি অকার্যকর দ্বান্দ্বিক পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। অ্যাসকোলি লিখেছেন যে গ্রান্টের যুক্তির clumsiness আনাড়িপনা শোরের clear style and power of concise argument স্পষ্ট প্রকাশভঙ্গি এবং জোরালো সংক্ষিপ্ত যুক্তির শক্তির তুলনায় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অর্থাৎ, গ্রান্টের লেখা এতটাই জটিল ও অস্পষ্ট ছিল যে শোরের স্পষ্ট ভাষার পাশে তা আরও দুর্বল দেখাত।
এবারে ফার্মিঙ্গার। Fifth Report-এর ভূমিকায় গ্রান্টের লিখন শৈলী [লেখনি = কলম, লিখন শৈলী নয়] ও পদ্ধতি সম্পর্কে কড়া মন্তব্য করেছেন ফার্মিঙ্গার। গ্রান্টের গবেষণাকে mystery রহস্য বলেছেন, কারণ গ্রান্ট দাবি করেছিলেন যে তিনি ২০ খণ্ড ফারসি দলিল পেয়েছেন a light and private purse-এর প্রভাবে, কিন্তু সেই দলিলগুলো কখনো প্রকাশ্যে আনেননি; তিনি আরও বলেছেন, sometimes inconsistent, often contaminated with error, and always composed in a confused and laborious style — কখনও অসঙ্গত, প্রায়শই ত্রুটিপূর্ণ, এবং সর্বদা বিভ্রান্তিকর ও শ্রমসাধ্য ভাষায় রচিত। স্পষ্টভাবে গ্রান্টের কাজের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন The mystery with which references are made to the papers also inclines to throw suspicion on their authenticity — কাগজপত্র বা দলিলগুলোর দিকে যেভাবে রহস্যজনকভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা সেগুলোর সত্যতা বা নির্ভরযোগ্যতাকেও সন্দেহের তালিকায় ফেলে দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে গ্রান্টের লেখায় এমন অনেক inconsistencies অসংগতি ছিল যা জটিল হিসাবের বইয়ে সম্ভব, কিন্তু যদি গ্রান্ট নিজেই সেগুলো বানাতেন, তাহলে এত ভুল থাকত না। এই দ্বৈততা — অর্থাৎ, দলিলগুলো হয়তো সত্য ছিল, কিন্তু গ্রান্ট সেগুলোকে নিজের যুক্তির জন্য ব্যবহার করেছিলেন — ফার্মিঙ্গারের সমালোচনার মূল বিষয়।
কেন এই কড়া ভাষা? অ্যাসকোলি ও ফার্মিঙ্গার দুজনেই প্রশাসনিক ইতিহাসবিদ। অ্যাসকোলি আইসিএস ICS এবং বাংলার বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর সেক্রেটারি। ফার্মিঙ্গার ছিলেন বাংলার রেকর্ড সংরক্ষণ ও ইতিহাস রচনার প্রধান ব্যক্তিত্ব। তাদের বক্তব্য প্রথমত গ্রান্ট যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। গ্রান্ট দাবি করেছিলেন বাংলা under-assessed কম মূল্যায়িত এবং মোগল আমলের রাজস্বের ভিত্তিতে আরও রাজস্ব চাওয়া উচিত। কিন্তু তিনি প্রমাণ করতে পারলেন না যে মোগল আমলে সেই রাজস্ব প্রকৃতপক্ষে আদায় করা সম্ভব ছিল। দ্বিতীয়ত শোরের সাথে তুলনা — শোর ছিলেন প্রকৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রশাসক। দীর্ঘদিনের বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থা পরিচালনা করার অন্দরের আমলা। গ্রান্ট তত্ত্বনির্ভর, তাঁর practical experience অত্যন্ত সীমিত। তৃতীয়ত ঐতিহাসিকভাবে শোরের মত সত্য হল। পরবর্তীকালে ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে শোরের সতর্কবাণী সত্য ছিল — অতিরিক্ত রাজস্বের বোঝা জমিদার ও প্রজাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তাই অ্যাসকোলি ও ফার্মিঙ্গার গ্রান্টের যুক্তিকে impracticable অকার্যকর theoretical তত্ত্বনির্ভর পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
গ্রান্টের ভূমিকার সংক্ষিপ্তসার
গ্রান্টের মূল লক্ষ্য ছিল প্রমাণ করা যে বাংলার রাজস্ব আন্ডার-অ্যাসেসড — অর্থাৎ, বাংলার ওপর যে রাজস্ব আরোপিত হয়েছিল, তা দেশের প্রকৃত ক্ষমতার তুলনায় অনেক কম ছিল। গ্রান্ট দাবি করেন যে রাজস্ব নির্ধারণের জন্য ১৭৬৫ সালের (দেওয়ানি লাভের বছরের) রাজস্ব মূল্যায়ন এবং মোগল আমলের নথিপত্রের ভিত্তি নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, সেই নথিগুলোতে বাংলার প্রকৃত রাজস্ব ক্ষমতার সঠিক চিত্র রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে দেওয়ানি লাভের পর থেকে স্থানীয় কর্মচারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব নথিগুলো গোপন বা নষ্ট করেছে — যাতে কোম্পানি বাংলার প্রকৃত আর্থিক ক্ষমতা সম্পর্কে অন্ধকারে থাকে এবং তাদের জালিয়াতি ধরা না পড়ে। তিনি বলেন, “the constant uniform affirmation… that they were all or in great part, carried off or lost in the troubles of Cossim Aly”। গ্রান্ট মনে করতেন, মোগল আমলের সর্বোচ্চ রাজস্বের হার (যা ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি হস্তান্তরের সময় নির্ধারিত ছিল) ভিত্তি ধরে বাংলার রাজস্ব বাড়ানো উচিত এবং সম্ভব। তিনি দাবি করেন, বাংলা আরও অর্ধ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫২ লক্ষ রুপি) বেশি রাজস্ব দিতে সক্ষম।
পরিশিষ্ট, নং ৪।
বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থার ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ; মুঘল বিজয়ের সময়কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কালানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত — ভারতে ব্রিটিশ শাসনাধীন ও করদ রাজ্যসমূহের রাজনৈতিক সমীক্ষা (A Political Survey of the British Dominions and Tributary Dependencies in India) গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। রচয়িতা: জনাব জেমস গ্রান্ট। (APPENDIX, No. 4. An Historical and Comparative ANALYSIS of the FINANCES of BENGAL; Chronologically arranged in different periods from the Mogul Conquest to the present time:-Extracted from a Political Survey of the British Dominions and Tributary Dependencies in India. By Mr. JAMES GRANT.)
মাননীয় জন ম্যাকফারসন, গভর্নর-জেনারেল ও কাউন্সিল (গোপন রাজনৈতিক পরিদর্শন বিভাগ), ফোর্ট উইলিয়াম সমীপে। (To the Honourable JOHN MACPHERSON, Esq. Governor General, &c. Council in their Secret Political Department of Inspection, Fort William)
মাননীয় মহোদয় ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ,
সম্রাট আকবরের অধীনে মুঘল বিজয়ের সময়কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সুবা-ই-বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থার ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ আপনাদের সামনে পেশ করার সৌভাগ্য আমার হল। এই বিশ্লেষণ কালানুক্রমিকভাবে তিন পর্যায়ে বিন্যস্ত, যার মধ্যে প্রথম দুটো পর্যায় সংযুক্ত খণ্ডটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ন্যায্য অধিকারভুক্ত অথবা ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদ-এর মাধ্যমে কার্যত তাদের হস্তান্তরিত সরকারি আয়ের বিদ্যমান উৎসগুলোর উদ্ভব, ক্রমবিকাশ আর বিস্তৃতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হবে। এই রাজস্ব উৎসগুলো নিঃসন্দেহে তাদের পূর্ণ মাত্রায় পুনরুদ্ধারযোগ্য — যদিও যে দ্রুততা আর সহজে একসময় দুর্ভাগ্যবশত রাষ্ট্র এগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, হয়তো ঠিক সেই একই দ্রুততায় তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। ১৭৮৪ সালে মাননীয় বোর্ডের বিবেচনার জন্য পেশ করা আ পলিটিক্যাল সার্ভে অফ দ্য নর্দার্ন সরকারস (A Political Survey of the Northern Circars) শীর্ষক আমার পূর্ববর্তী একটা গ্রন্থে আমি সমগ্র হিন্দুস্তানের রাজস্ব ব্যবস্থার প্রকৃতি, এ সংক্রান্ত অধিকার আর ব্যবস্থাপনার সাধারণ নীতিগুলো সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছি। সেখানে ওই মূল্যবান অঞ্চলগুলো থেকে প্রকৃত আদায়ের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ করে আমি দেখিয়েছিলাম, স্থানীয় এজেন্টদের যোগসাজশপূর্ণ কারচুপির ফলে কোম্পানি — যিনি ভূমির সার্বভৌম মালিক — বার্ষিক প্রায় অর্ধ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে। এই এজেন্টরা তাদের নতুন প্রভুদের থেকে দাপ্তরিক তথ্য গোপন করত এবং সরকারি অর্থের বিনিময়ে অর্জিত সেই জ্ঞানকে প্রতারণামূলকভাবে নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের কাজে লাগাত।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ