| | |
এই মুহূর্তে ::
বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শাশ্বত বোস-এর বড়োগল্প এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে নন্দিনী অধিকারী-র বড়োগল্প ‘দুর্গাদালান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নকশালবাড়ি স্থাননামের নকশাল শব্দটির উৎসের সন্ধান : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনয় মজুমদারের কবিতা — বিজ্ঞান ও দর্শনের রসায়নজাত স্বতন্ত্র নির্মাণ : আনন্দগোপাল হালদার উৎসবে মানুষ নতুন হয়ে ওঠে : হাসান আজিজুল হক ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘চার্বাক দর্শন’ দুর্গা যখন মাঠংমা : শ্যামলী কর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার গিরমিটিয়া ভারতীয়দের ইতিহাস — কলকাতা বন্দর থেকে বিশ্বজুড়ে এক সংগ্রামের কাহিনী : কমল ব্যানার্জী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সৃজন-মানসের অন্তর্বয়ন ও লেখাজীবনের প্রেক্ষিত : আনন্দগোপাল হালদার কেতকী কুশারী ডাইসন, রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা ও আমাদের রক্ষণশীল সমাজ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাষ্ট্রের বিধি বনাম মায়ের শেষ ইচ্ছে — চিন্ময়কৃষ্ণের ঘটনা যে প্রশ্ন রেখে গেল : যশোবন্ত রায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার নেপালের পর কি কলকাতা জলের তলায় চলে যাবে — চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বৈশ্বিক অস্থিরতায় জাতিসংঘের ছয় অগ্রাধিকার : নিকোলাস বিশ্বাস বাম-ব্যানারে শারদোৎসব না দুর্গোৎসব : অসিত দাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৩৭ Views জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

[গ্রান্টের মিনিটে দেওয়ানি লাভের আগে ও পরের অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক পর্যালোচনায় প্রতারণার একটি সাধারণ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়েছে। দেওয়ানির পর কোম্পানির পক্ষে নিযুক্ত প্রথম দেশীয় প্রশাসনের নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদ রেজা খান। কাসিমকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জাফর আলী খানের সুবাদারির আমলে তিনি জাহাঙ্গীরনগরের নায়েব ছিলেন — যা ছিল নিজামতের অধীনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদ। মিনিটে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজস্বের প্রকৃত হিসাব গোপন করে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন; ১৭৭২ সালের হাউস অফ কমন্সের নথিতে সেই জালিয়াতির বিবরণ লিপিবদ্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে নায়েব সুবাহ ও দেওয়ান হিসেবে কার্যত সমগ্র নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হলে তাঁর স্বার্থসিদ্ধি প্রায় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। তাঁর সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন হিন্দু সহকর্মী রায়-রায়ান (যার দুর্বল নিয়ন্ত্রণ তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা কেবল বাড়িয়েছিল), রাজা দুলভরাম এবং হিসাবরক্ষক রাধা কান্ত সিংহ (গঙ্গাগোবিন্দের বড় ভাই ও প্রাণকৃষ্ণের পিতা)। এছাড়া কানুনগো পদের সাথে জড়িত ছিলেন একজন মুৎসুদ্দি, যিনি খালসা দপ্তরের পেশকার পদে নিযুক্ত হয়ে নাবালক ভাইপো ও দত্তক পুত্রের জন্য দায়িত্ব নিশ্চিত করেন। মিনিটে ক্লাইভ-এর প্রশাসনিক সহযোগী নির্বাচনের যথার্থতাও স্বীকার করা হয়েছে। লেখকের মতে, এই স্থানীয় জোট ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট নথিপত্রের পাহাড় তৈরি করে ইউরোপীয় তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। মুঘল আমলের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী কানুনগো পদটি কায়স্থ সম্প্রদায়ের দুটি পরিবারের মধ্যে বিভক্ত ছিল এবং দত্তক ও নায়েব-উকিলের মাধ্যমে তা পরিচালিত হতো। দেওয়ানি লাভের পর বিগত বিশ বছরে বাংলায় অন্তত দুই কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে — একই ভুল উত্তর সরকার (Northern Circars) অঞ্চলেও ঘটেছে। কাসিম আলীর ক্ষমতাচ্যুতির সময় নথিপত্র ধ্বংসের প্রচলিত কাহিনীর পেছনে দেশীয় কর্মকর্তাদের নিজেদের অনিয়ম গোপন করার উদ্দেশ্যও কাজ করেছে বলে মিনিটে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে]

প্রতারণার যে সাধারণ সিদ্ধান্তের কথা বলা হচ্ছে, তা কেবল উদার ও নিরপেক্ষ মননশীল ব্যক্তিরাই মেনে নেবেন — তবে তার আগে দেশের অর্থব্যবস্থা পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত ঘটনা ও পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করতে হবে। দেওয়ানি লাভের আগের ও পরের পরিস্থিতির তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমেই এখানে বিষয়টি তুলে ধরা হবে, কারণ সরাসরি ও স্বাধীন যুক্তির পথ অনুসরণ করার মতো পর্যাপ্ত উপাদান বা ভিত্তি এখানে অনুপস্থিত। তবে, এমন প্রতারণা বা ছলাকলার পেছনে যে ব্যক্তিগত স্বার্থ থাকতে পারে — সেই সম্ভাবনার বিষয় এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়গুলো তাঁদের মনে সহজেই ধরা দেবে যাঁরা কোম্পানির পক্ষে নিযুক্ত প্রথম দেশীয় প্রশাসনের চরিত্র, অবস্থান, ক্ষমতা বা প্রভাব সম্পর্কে জানেন বা স্মরণ করতে পারেন। এই প্রশাসনের নেতৃত্বে ছিলেন একজন মুসলমান; আর মহানবী মুহাম্মদের অসংখ্য অনুসারীর মধ্যে নৈতিক নীতিবোধের প্রশ্নে যদি সামান্যতম কোনো পার্থক্য বা ভিন্নতা থেকেও থাকে — তবে সেই ব্যক্তির সম্পর্কে লোকমুখে শোনা ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিগত জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও — আমি তাঁর গুণাবলির পাল্লাটিকেই ভারী বলে মনে করতে চাই। তাঁর ধার্মিকতার প্রমাণ হিসেবে না হলেও, অন্তত তাঁর বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ হিসেবে ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি বাহ্যিক শ্রদ্ধা ও আচরণগত নিষ্ঠাকে স্বীকার করা যেতে পারে; যদিও তাঁর সক্ষমতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে দ্রুত অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনা করলে — যে পথে প্রকৃত এশীয়দের ক্ষেত্রে নিরানব্বই বারই চরম তোষামোদ, অর্থলোভ, অসততা ও দুর্নীতির আশ্রয় নিতে হয়; অথবা, যদি সামরিক প্রতিভার জোরে একবারও সেই প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব হয়, তবে তার সাথে অনিবার্যভাবেই জড়িয়ে থাকে গুপ্তহত্যা, বিশ্বাসঘাতকতা, নিষ্ঠুরতা ও নিপীড়ন। কাসিমকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জাফর আলী খানের সুবাদারির দুই বছর সময়ে এই ব্যক্তি জাহাঙ্গীরনগরের নায়েব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন — যা সেই সময় নিঃসন্দেহে নিজামতের অধীনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদ ছিল। কারণ এই প্রশাসনিক এলাকাটি ছিল সর্ববড় এবং প্রদেশটি ছিল সর্বাধিক সম্পদশালী; তাছাড়া রাজকীয় নথিপত্রে খাজনার পরিমাণ কম দেখানো হলেও, প্রাদেশিক প্রতিনিধির গোপন ও পৃথক কর-তালিকায় তা সর্বদা সর্বোচ্চ হিসেবেই ধার্য করা হতো। আর্থিক বিশৃঙ্খলার এই স্বল্প সময়ে সমগ্র বাংলা জুড়ে দুই কোটি টাকারও বেশি বকেয়া পাওনা সৃষ্টি হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয় — যে কথা তিনি নিজেও অকপটে স্বীকার করবেন; তবে একই সূত্র থেকে এটা আশা করা অযৌক্তিক হবে যে, এর কতটা ঢাকার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল তা জানা যাবে; কারণ গৃহযুদ্ধের যে বিপর্যয় অন্যত্র সামগ্রিক ঘাটতির কারণ বলে মনে করা হয়, তা এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুব একটা অনুভূত হয়নি এবং শান্তি ফিরে আসার পরেও বকেয়া অব্যাহত রাখার অজুহাত হিসেবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। একইভাবে, ১৭৬৫ সালের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত — অর্থাৎ দেওয়ানির প্রথম বছরের — চার মাসের সম্ভাব্য আদায়ের (যা বার্ষিক বন্দোবস্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল) উপযুক্ত হিসাব দাবি করাটাও পুরোপুরি ন্যায্য হবে না; কারণ এই মাসগুলোতে সমগ্র হিন্দুস্তানেই সময়ের ব্যাপ্তির তুলনায় রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ সাধারণত কম থাকে এবং জমা-বন্দি বা রাজস্বের চূড়ান্ত বন্দোবস্তের আগে তা কোনোভাবেই বৈধ করা সম্ভব ছিল না — অথচ সেই বন্দোবস্ত প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল ওই বছরেরই জুলাই মাসে মুর্শিদাবাদ দরবারে আমাদের প্রথম রেসিডেন্টের আগমনের অনেক পরে। তা সত্ত্বেও, তৎকালীন উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দাবি মেটানোর অজুহাতে যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এবং তা এখন ১৭৭২ সালের হাউস অফ কমন্সের নথিপত্রে লিপিবদ্ধ রয়েছে; এর উদ্দেশ্য ছিল সেই বড় ধরনের অর্থ আত্মসাৎকারীকে আড়াল করা এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আগাম ও চতুরতার সাথে পাল্টা অভিযোগ আনা — যাদের হয়তো ক্ষণস্থায়ী ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের ভাগীদার হওয়ার ফাঁদে ফেলা হয়েছিল, যাতে মূল হোতা নিজে বছরের পর বছর ধরে চলা বিশাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ নিজের করে নিতে পারেন। তবে তখনও পর্যন্ত, এই ধরনের অর্থ আত্মসাতের কৌশল এবং তা গোপন করার উপায়গুলো কেবল একজন প্রাদেশিক ডেপুটি বা স্থানীয় প্রতিনিধির নিম্নতর পদের সঙ্গেই মানানসই ছিল; কিন্তু পরবর্তীকালে যখন তিনি একই কর্তৃপক্ষের অধীনে নায়েব সুবাহ ও দেওয়ান হিসেবে কার্যত সমগ্র নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হলেন, তখন তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রবলতাকে পরিমাপ করা ঠিক ততটাই অসম্ভব হয়ে পড়ল, যতটা অসম্ভব প্রাচ্যের কোনো স্বৈরাচারী শাসকের ইচ্ছাপূরণের অদম্য প্রভাবকে সংজ্ঞায়িত করা। এটা সত্য যে, মন্ত্রীর লাগামহীন ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিছু নামমাত্র সহযোগীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, কিন্তু তাঁর হিন্দু সহকর্মী রায়-রায়ানের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ তাঁর স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপকে কেবল ত্বরান্বিত ও সুদৃঢ়ই করেছিল। অন্যদিকে, একজন ব্যাংকার সহযোগীর পরামর্শ — যিনি কেবল অর্থ-লেনদেনের লাভেই আগ্রহী বা অভিজ্ঞ ছিলেন এবং যার অর্জিত মুনাফা ছিল দেশ থেকে সংগৃহীত বিপুল নগদ অর্থের (যা পরবর্তীতে অপব্যবহৃত হতো) অনুপাতে বিশাল — স্বাভাবিকভাবেই সেই অন্যায্য ও কুটিল পথকে আরও ত্বরান্বিত করেছিল।

আবার এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, মুঘল শাসনব্যবস্থায় অর্পিত সাময়িক দায়িত্বের ওপর একমাত্র কার্যকর সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত প্রধান কানুনগোর বংশানুক্রমিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদটি বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকেই কায়স্থ সম্প্রদায়ের দুটো ভারতীয় পরিবারের মধ্যে অসমভাবে বিভক্ত ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ পদের কার্যকারিতা — যা অলস ও অজ্ঞ মুসলিম প্রশাসনের অধীনে বংশানুক্রমিকভাবে চললেও মূলত ব্যক্তিগত দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারের ওপর নির্ভর করত, নিছক বংশগত দাবির ওপর নয় — তা নিশ্চিত করার জন্য একটা সাধারণ হিন্দু রীতি অনুসরণ করা হতো। এই রীতি অনুযায়ী, দত্তক নেওয়া উত্তরাধিকারী (সে তিনি বংশের, রক্তের সম্পর্কের বা বর্ণের — যেমন নাবালক নাতি, ভাইপো বা এমনকি কুড়িয়ে পাওয়া সন্তানই হোন না কেন) পিতা, মাতা বা গৃহের অভিজ্ঞ ব্রাহ্মণ উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে কাজ করতেন এবং সম্রাটের দরবারে নায়েব বা উকিল উপাধিধারী একজন অনুগত ও প্রশিক্ষিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সেই নাবালক চ্যান্সেলর, নিবন্ধক ও সুবার রাজকীয় নথিপত্রের রক্ষকের প্রতিনিধিত্ব করতেন। আলোচ্য সময়ে, একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান মুৎসুদ্দি — যার নাম বিস্মৃতির আড়াল থেকে উদ্ধার করা উচিত — ক্ষুদ্রতর কানুনগোর পক্ষে এই অর্পিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর পদমর্যাদা অপেক্ষাকরা নিচু হওয়ায় তিনি মন্ত্রীর উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আরও উপযুক্ত হাতিয়ার হয়ে উঠেছিলেন; এবং সে অনুযায়ী তিনি খালসা দপ্তর-এর পেশকার পদে নিযুক্ত হন। তিনি তাঁর নাবালক ভাইপো ও দত্তক পুত্রের জন্য নিজের পূর্ববর্তী দায়িত্বটি নিশ্চিত করেন এবং অভিজ্ঞ পিতাকে পাশ কাটিয়ে যান — যদিও সেই পিতা নিজেও তখন নিঃসন্দেহে বাস্তব দেওয়ান-এর উচ্চ পদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন (যে পদে তিনি বর্তমানে কোম্পানির অর্থ বিভাগে আসীন আছেন)। ঠিক একইভাবে, তিনি এখন সম্ভবত তাঁর নাবালক নাতির অনুকূলে সুবিধাজনক দত্তক গ্রহণের মাধ্যমে এবং নতুন করে হস্তান্তরের সেই একই প্রক্রিয়ায় নিজের পদটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরের প্রত্যাশা করছেন।

ষড়যন্ত্রকারী স্থানীয় ব্যক্তিদের এমন এক শক্তিশালী জোটকে নিয়ন্ত্রণ করা — অথবা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাদের আর্থিক কার্যকলাপের রহস্য উন্মোচন করা — ছিল অত্যন্ত দুরূহ কাজ। বিশেষ করে যখন ইওরোপিয় তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত ও বিপথে চালিত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকরাভাবে অস্পষ্ট সব নথিপত্র ও তথ্যের পাহাড় তৈরি করে রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এমন এক তাৎক্ষণিক ও স্বজ্ঞাত জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল যা কেবল দীর্ঘ ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব; এমনকি ক্লাইভের মতো প্রতিভাবান ও নিস্বার্থ ব্যক্তির পক্ষেও — যিনি তাঁর সামরিক ব্যক্তিত্বের তেজ, দক্ষতা ও প্রভাবের সহায়তা পেতেন — সাম্রাজ্য বিস্তারের সেই প্রাথমিক দিনগুলোতে এই প্রচেষ্টায় সফল হতে দীর্ঘ সময় বাধার সম্মুখীন হতে হতো। তাঁর মনোনীত প্রশাসনিক সহযোগীদের নির্বাচনের যথার্থতা নিয়েও কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না; কারণ, হিন্দুস্তানে সম্মানবোধ, বিচক্ষণতা, সংযম ও ন্যায়পরায়ণতার (স্থানীয় প্রেক্ষাপটে বিচার্য গুণাবলী) ক্ষেত্রে মোহাম্মদ রেজা খানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো মুসলমান পাওয়া অসম্ভব ছিল; তেমনি রাজস্ব আদায়ের কাজে অভিজ্ঞ ও নমনীয় স্বভাবের — অথবা দেশবাসীর কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় — কোনো হিন্দুর সন্ধান রাজা দুলভরামের চেয়ে ভালো পাওয়া যেত না; আর সেই একই সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন কোনো মুৎসুদ্দি বা হিসাবরক্ষক পাওয়া যেত না যিনি পেশাগত কাজে অধিকতর ধূর্ততা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারতেন — অথবা যিনি রাজকোষের পাওনা, জমিদার ও সরকারি কর্মকর্তাদের অবৈধ আয়, রাজস্বের হিসাব তৈরি বা বিশ্লেষণের কৌশল এবং কর ও ভূ-সম্পত্তির অংশবিশেষ ভাগ করা, উপ-বিভাজন, মিশ্রণ, সংযোজন, হ্রাস বা সম্পূর্ণ গোপন করার কাজে (যার ফলে ভারতীয় অর্থব্যবস্থার সাধারণ প্রক্রিয়াগুলোও জটিল ও দুরূহ হয়ে পড়ত এবং কাজের কঠিনতা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পেত) অধিকতর দক্ষ ছিলেন — যেমনটি ছিলেন রাধা কান্ত সিংহ (যিনি ছিলেন গঙ্গাগোবিন্দের বড় ভাই এবং প্রাণকৃষ্ণের পিতা)। তা সত্ত্বেও, এটা একটা দুঃখজনক বিষয় — এবং আমি আশা করি এটা শীঘ্রই সর্বজনবিদিত সত্যে পরিণত হবে — যে, সেই আদি ত্রয়ীর (triumvirate) আমলে প্রবর্তিত ব্যবসায়িক রুটিন, দাপ্তরিক নথিপত্র এবং অধিকার বা প্রথাগত রীতিনীতির কারণে দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত ও ন্যায্য রাজস্বের ক্ষেত্রে এক নিশ্চিত ও অমার্জনীয় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দেওয়ানি লাভের সেই স্মরণীয় সময় থেকে কোম্পানির শাসনামলের বিগত বিশ বছরে অন্তত দুই কোটি টাকার এই ক্ষতি সাধিত হয়েছে — ঠিক যেমনটি আমরা উত্তর সরকার (Northern Circars) অঞ্চলে অপেক্ষাকরা কম সময়ে ঘটতে দেখেছি। সেখানেও স্থানীয় প্রতিনিধিদের একটা গোষ্ঠীর ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করার সেই একই মারাত্মক ভুল করা হয়েছিল; এই প্রতিনিধিরা প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ গোপন করতে অথবা সার্বভৌমত্বের ন্যায্য ও অনস্বীকার্য অধিকার ও জমিদারি স্বত্বের প্রকৃত প্রকৃতিকে বিকরাভাবে উপস্থাপন করতে গভীর স্বার্থান্বেষী ছিল। বাংলার বুকে বিশাল সব কর্তন, সামান্য কিছু সংযোজন এবং করর অব্যাখ্যাত মওকুফের মাধ্যমে যে বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে, তার জটিল ও কুটিল পথগুলো খুঁজে বের করা — পাশাপাশি উচ্চতর খালসা দপ্তর-এর প্রাচীন নথিপত্র অনুযায়ী করযোগ্য বিভিন্ন জেলার নির্ধারিত ক্রম, আয়তন ও নামকরণের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকরা বিশৃঙ্খলা বিশ্লেষণ করা — যদি সম্ভবও হতো, তবে তা হতো অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও অপ্রয়োজনীয় এক শ্রম। কারণ, রাজস্বের সদর সারাংশ (sudder abstracts) তৈরির ক্ষেত্রে সম্প্রতি এমন সব বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যেখানে ইওরোপের সার্ডিনিয়া রাজ্যের দ্বিগুণ আয়তনের কোনো জমিদারি এলাকার বার্ষিক বন্দোবস্তের হিসাব আর কোনো নগণ্য তালুক বা অখ্যাত গ্রামের হিসাবকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা হয়েছে; অথচ আধুনিক বন্দোবস্তের বিশাল নথিপত্রের নব্বই শতাংশতেই দেশের মোট রাজস্বের এক-শতাংশেরও হদিস পাওয়া যাবে না। এই ধরনের খুঁটিনাটি বিষয় — যা হয়তো ধীরস্থির, ধৈর্যশীল ও অক্লান্ত পরিশ্রমী কোনো হিন্দুর পক্ষে বিশাল ও ক্ষুদ্র — উভয় ধরনের আর্থিক লেনদেনের হিসাব মেলানোর জন্য উপযুক্ত হতে পারে — কিন্তু আমাদের বর্তমান অনুসন্ধানের বিশাল বিষয়ের সাথে তা মোটেও মানানসই নয়। একটা অসীম বস্তুর সামগ্রিক ও বিশদ রূপ যেমন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ক্ষুদ্র লেন্সের মধ্য দিয়ে এক পলকে দেখা অসম্ভব, তেমনই একটা বিশাল সাম্রাজ্যের — যার একাংশ গঠিত অস্পষ্ট ও বিশালাকার সব প্রদেশ নিয়ে এবং অন্য অংশ গঠিত অতি ক্ষুদ্র কোনো গ্রামের খণ্ড-বিখণ্ড অংশ নিয়ে — সেই সাম্রাজ্যের বিশাল আর্থিক কর্মকাণ্ডকে বার্ষিক ব্যবহারের উপযোগী কোনো নথিতে তুলে ধরার চেষ্টাও সমান অযৌক্তিক বলে মনে হতে পারে। তাছাড়া, কাসিম আলীর ক্ষমতাচ্যুতির সময় রাজকোষের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ধ্বংস বা আত্মসাৎ করে নিয়ে যাওয়ার যে প্রচলিত কাহিনীটি শোনা যায়, তার মূলে হয়তো কিছুটা সত্যতা থাকতে পারে; যদিও দেশীয় রাজস্ব কর্মকর্তারা মূলত নিজেদের অতীতের অনিয়ম বা আত্মসাতের ঘটনাগুলো যাতে খতিয়ে দেখা না হয় — এবং সেই অনিয়মের মূল উৎস পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত সংস্কারের পথ যাতে প্রশস্ত না হয় — তা ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই কাহিনীটি বারবার প্রচার করে থাকেন। তবে এটা সত্য যে, তাঁর নিজস্ব শাসনকালের ইতিহাস, কর আরোপের সাধারণ নীতি কিংবা সেইসব প্রদেশের তকসীম-হস্তবুদ (রাজস্ব ও আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত) হিসাব সংক্রান্ত হয়তো কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সত্যিই হারিয়ে গেছে বা পাওয়া যাচ্ছে না — যেসব নথিতে আমিলদার বা রাজস্ব আদায়কারীদের ব্যক্তিগত বাড়তি আয় বা কেফিয়ত-এর অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করার বিষয়টি সুবিধাজনকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল; সেক্ষেত্রে, পরবর্তী কর্তৃপক্ষের বিশাল আকারের অর্থ আত্মসাৎ বা তছরুপের বিষয়টি সমর্থন করার কোনো অবকাশ না থাকলেও, তা নিয়ে খুঁটিনাটি আপত্তি তোলার মতো সামান্য সুযোগ হয়তো থেকে যায়।

বিস্তৃত টিকা

১. মোহাম্মদ রেজা খান (Muhammad Reza Khan)

দেওয়ানি লাভের পর কোম্পানির পক্ষে নিযুক্ত প্রথম দেশীয় প্রশাসনের প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন মুসলমান এবং মুঘল প্রশাসনিক কাঠামোর অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। কাসিম আলী খানের ক্ষমতাচ্যুতির পর জাফর আলী খানের সুবাদারির আমলে তিনি জাহাঙ্গীরনগরের (ঢাকা) নায়েব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন — যা সেই সময় নিজামতের অধীনে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, বিস্তৃত ও লাভজনক পদ ছিল। কারণ জাহাঙ্গীরনগর ছিল সর্ববৃহৎ প্রশাসনিক এলাকা এবং প্রদেশটি ছিল সর্বাধিক সম্পদশালী; রাজকীয় নথিতে খাজনা কম দেখানো হলেও প্রাদেশিক প্রতিনিধির গোপন কর-তালিকায় তা সর্বোচ্চ হিসেবেই ধার্য হতো। পরবর্তীতে তিনি নায়েব সুবাহ ও দেওয়ান পদে অধিষ্ঠিত হয়ে কার্যত সমগ্র নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হন। গ্রান্টের মিনিটে তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো — তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজস্বের প্রকৃত পরিমাণ, আদায় পদ্ধতি ও হিসাব-নিকাশ গোপন করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। দেওয়ানির প্রথম বছরে সমগ্র বাংলা জুড়ে দুই কোটি টাকারও বেশি বকেয়া সৃষ্টি হয়েছিল বলে তিনি নিজেও স্বীকার করতেন। ১৭৭২ সালের হাউস অফ কমন্সের নথিতে তাঁর জালিয়াতির বিবরণ লিপিবদ্ধ রয়েছে বলে মিনিটে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাচ্যের স্বৈরাচারী শাসকের মতো তাঁর ইচ্ছাপূরণের প্রবণতা পরিমাপ করা অসম্ভব ছিল বলে লেখক মন্তব্য করেছেন। [আব্দুল মাজেদ খানের The Transition in Bengal, 1756–75: A Study of Saiyid Muhammad Reza Khan বইটা পড়তে পারেন]

[টিকা পরের কিস্তিতে চলবে]

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev