| | |
এই মুহূর্তে ::
গড়িয়াহাট কি ছিল অলস, অকর্মণ্য বলদের হাট : অসিত দাস চলচ্চিত্র অভিনয়ের সংজ্ঞা ছিলেন উত্তম : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আমার প্রিয় গল্পগুলো : নুসরাত সুলতানা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কবিদের লেখনীতে শরৎ ঋতু : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নিঝুম রাতের পাড়ি : সুব্রত দত্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ জলবায়ূ দুর্যোগ কোনো সীমান্ত মানে না : নিকোলাস বিশ্বাস জিয়াউর রহমানের বিএনপি গঠন ও ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ : অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গপুঙ্গবের রাখী : অসিত দাস কবরের মানুষ : সোহেল আর রানা (তরু) আজ রাখী বন্ধন…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নিম্নচাপের বৃষ্টিতে নষ্ট সবজি, আকাশ ছোঁয়া দামে নাজেহাল মানুষ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় রামযাত্রার মাঠ ফাঁকা : অয়ন মুখোপাধ্যায় যাদবপুরের যাদবদের গোপালনের ইতিহাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাম নামে কাম নাই, আমিই তো রাম : দিলীপ মজুমদার তৃষিত মাঠের খসড়া : বিশ্বজিৎ মণ্ডল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মাঠের মাছ ও একটি ঢ়োড়া সাপের গল্প : সুব্রত দত্ত রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর — সমস্যা সমাধানে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ রাখি পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

চমকের ভোট, ভোটের চমক ত্রিপুরায় : সিতাংশুরঞ্জন দে

Reporter
সিতাংশুরঞ্জন দে , আগরতলা / ৩৬৮ Views জন পড়েছেন
আপডেট বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

১৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা বিধানসভার ত্রয়োদশ নির্বাচন। মানুষ গত দেড় মাসের অভিজ্ঞতায় অনেকটাই আশ্বস্ত যে, ভোট তাঁরা দিতে পারবেন। বিজেপি আইপিএফটি জোটের সরকার পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল, সে হল মানুষের ভোটাধিকার মানুষ প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা! সেই প্রশ্নটি সামনে এনে ত্রিপুরায় এই প্রথম কংগ্রেস আর বামেদের সমঝোতা হয়ে গেল। সেই দিক থেকে এইবারের ভোটে সবচেয়ে বড় চমক কিন্তু এই সমঝোতা বা নৈকট্য। আর শেষ পর্যায়েও পর পর চমক দিয়ে যাচ্ছেন তিপ্রা মথা সুপ্রিমো ত্রিপুরার রাজ পরিবারের উত্তরাধিকারী প্রদ্যোত মানিক্য কিশোর দেব্বর্মন।

ভোটের ফলাফল জানা যাবে দুই মার্চে। দীর্ঘ অপেক্ষার কারন হল, নির্বাচন কমিশন এই দফায় তিন রাজ্যের ভোট ঘোষনা করেছে একসঙ্গে। উত্তর পূর্বের বাকি দুই রাজ্য বাকি দুই রাজ্য মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে ভোট গ্রহন ২৭ ফেব্রুয়ারিতে। তিন রাজ্যের গননা হবে একই দিনে। ষাট আসনের ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচনে এইবার ভোটার রয়েছেন ২৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৫৮৪। প্রার্থী রয়েছেন ২৫৯ জন। বিজেপির প্রার্থী রয়েছে ৫৫। বাকি পাঁচ আসনে শরিক আইপিএফটি (ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা)। যদিও শরিক দল শেষ অবধি একজন প্রার্থী বেশি রেখেছে। মানে একটি আসনে শেষ অবধি সমঝোতা হলনা। মানে আইপিএফটির প্রার্থী ছয় জন। বামেরা ৪৬ আসনে প্রার্থী দয়েছে তাঁর মধ্যে সিপিএম-এর রয়েছে ৪৩। কংগ্রেসের সঙ্গে ১৩ খানা আসনে সমঝোতা হয়েছে। আর একটি আসনে রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী পুরুষোত্তম রায় বর্মণ। তাঁকে উভয় দলের সমর্থন রয়েছে। প্রদ্যোত মানিক্য কিশোর দেববর্মনের তিপ্রা মথা ৪২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রয়েছে ২৮ জন।

ত্রিপুরায় উপজাতি সংরক্ষিত ২০ আসনের বাইরে মথা আরও ২২টি সাধারন বা তপশীল জাতি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এই আসনগুলির মধ্যে দুটি বা তিনটি বাদ দিলে বাকিগুলিতে যদিও উপজাতি ভোট ফলাফলে নির্ণায়ক নয় তবুও প্রদ্যোত কিশোর মূলত থানসা (ককবরকে থানসা মানে ঐক্য)-র কথা বলে এবং তাঁর দল যে সাম্প্রদায়িক নয় তাঁর দৃষ্টান্ত হিসাবে বাঙ্গালী প্রার্থী দিয়েছে এই সব আসনে। ভোটের ময়দানে ৪০ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দিতা হচ্ছে বিজেপি বনাম বাম-কংগ্রেসের। বাকি ২০ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ে থাকছে বিজেপি, বাম-কংগ্রেস এবং অবশ্যই তিপ্রা মথা। ২০ আসনের মধ্যে ২০১৮ সালে বিজেপি একা ১০ আসন পেয়েছিল। আট আসন পায় আইপিএফটি আর দুইটিতে বামেরা জয়ী হয়েছিল।

২০২০ সালের শেষ দিকে মথার আত্মপ্রকাশের পর আইপিএফটি নিশ্চিহ্ন হয়ে সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে পড়ে। জন্মের ছয় মাসের মধ্যে ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে সিপিএমকে ক্ষমতাচ্যুতই করে নি, শূণ্য করে দিয়ে শাসক দল বিজেপিকে সেখানে বিরোধী আসনে বসায় মথা। রাজ পরিবারের সদস্য “বুবাগ্রা’’ প্রদ্যোত কিশোরের প্রতি উপজাতি মানুষের অচল রাজভক্তি পাহাড়ে মূলনিবাসী মানুষের মধ্যে দারুন প্রভাব তৈরি করে দেয়। সারা দেশে যখন সিএএ নিয়ে তীব্র আন্দোলন চলছিল সে সময়ে মথাও এই আইনের বিরোধিতায় পথে নামে। তাঁদের কর্মীদের অপর গুলি চালায় বিজেপি সরকারের ত্রিপুরা পুলিশ। সেই থেকে বিজেপির সঙ্গে মথার যে দূরত্ব তৈরি হয় তা ২০২৩ এর ভোট ঘোষনার পর দিল্লি থেকে চার্টার্ড বিমান পাঠিয়েও মেটাতে পারেন নি বিজেপির জাতীয় স্তরের নেতারা।

২০২১ সালেই জনরব শুরু হয়েছিল, তেইশে মথা যে দিকে যাবে সে দিকেই হবে সরকার গঠন। আর মথার মতন আঞ্চলিক দলগুলির পরিণতি যে শেষ পর্যন্ত দিল্লির ক্ষমতাসীন দল হবে এই কথা অনেকেই বিশ্বাস করে নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রদ্যোতকিশোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মধ্যস্থতায় দিল্লি থেকে আসা চার্টার্ড বিমানে সপার্ষদ উড়েছিলেন বটে, কিন্তু জোট বা সমঝোতা করলেন না। ফিরে এসে জানালেন একাই লড়ছে মথা। আমাদের দাবি গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড। লিখিত প্রতিশ্রুতি পাই নি তাই কারো সঙ্গে যাই নি। আবার এও জানালেন একা লড়াইয়ের ফলে ভোট ভাগাভাগিতে যাতে বিজেপির সুযোগ তৈরি হয়ে না যায় তাঁর জন্য তিনি সদা সতর্ক থাকবেন।

ততদিনে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের সমঝোতা হয়ে গেছে, আসন রফাও প্রকাশ্য। ঘটনাটা শুরু হয়েছিল সেপ্টেম্বরের দিকে। বামেদের জনসভার মঞ্চ থেকে মানিক সরকার, জিতেন চৌধুরী প্রকাশ্য আবেদন জানান— ভোটে কে কি কৌশল নেবেন সে নিজনিজ দলের নিজস্ব বিষয়। এর আগে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে বিরোধী দল রাজনৈতিক এই কর্মকান্ডে থাকতে পারবে কিনা, সাধারণ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা! তাই সম মনোভাবাপন্ন গনতান্ত্রিক দলগুলি একসঙ্গে আসুন ভোটের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করি। কংগ্রেস এবং বামেরাই শুধু নয় সেই সময়ে তিপ্রা মথাও জানাল,— কমন এনিমি বিজেপি। কংগ্রেস এবং সিপিএম ডিসেম্বরে যৌথ বিবৃতি দিয়ে, মানুষের ভোটাধিকার, গনতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহাবান জানায়। এই যৌথ বিবৃতিতে মথা প্রধান স্বাক্ষর না করলেও তাঁর সম্মতি জ্ঞাপন করে দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে একই অবস্থানে থাকলেও বাম এবং কংগ্রেস ত্রিপুরায় তৃণমূলকে বিজেপির পংক্তিতেই রেখে মথার মুখাপেক্ষী হয়।

মথা তাঁদের প্রার্থী তালিকা ঘোষনা করে একেবারে শেষ দিকে। তাঁদের তালিকায় সাব্রুম বিধানসভা কেন্দ্র যেখানে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন চৌধুরী দাড়িয়েছেন সেখানে প্রার্থী রইলো না, যদিও অসংরক্ষিত এই আসনে অনেক উপজাতি ভোটার রয়েছেন। কেন দেননি? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রদ্যোত কিশোর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জিতেন বাবুর মতন নেতার বিরুদ্ধে আমার পক্ষে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কি বাম কংগ্রেসের দিকে ঝুকে আছে মথা? আচরনে, কথায় বার্তায় বারবারই এই প্রশ্ন, কৌতুহল উস্কে দিয়ে চলেছেন প্রদ্যোত। প্রচারের শেষ লগ্নে এক সন্ধ্যায় আগরতলায় ৭ নম্বর রামনগর কেন্দ্রের বাম কংগ্রেসের সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পুরুষোত্তম রায় বর্মনের একটি সভায় ভাষন দিচ্ছিলেন কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মন। আচমকাই সভার সামনে এসে প্রদ্যোতের গাড়ি থামে।

সভার আয়োজকেরা প্রদ্যোতকে দেখতে পেয়ে সমাদর করে মঞ্চের দিকে নিয়ে যায়। মাইকে সুদীপ বাবুও তাঁকে আহাবান জানান। প্রদ্যোত মঞ্চে উঠে মাইক হাতে নিয়ে, জানান আমি যদি ৬ আগরতলার ভোটার হতাম তাহলে সুদীপ বাবুকেই ভোট দিতাম। নির্দল প্রার্থী পুরুষোত্তম রায় বর্মনের জয়ের জন্য শুভকামনা জানিয়ে মঞ্চ ছাড়ার আগে সুদীপ বর্মনের সঙ্গে নিবিড় আলিঙ্গনের ছবিটি নিমিষে রাজ্যময় হয়ে যায়। সবার একটাই প্রশ্ন, এটা কি নিছক সৌজন্যতা নাকি বাম কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার বার্তা দিলেন বুবাগ্রা (ককবরকে মহারাজার মতন পদাধিকারীকে এই অভীধায় সম্মোধন করার রেওয়াজ আছে)? তাঁর সুস্পষ্ট কোন জবাব না পেয়েই ত্রিপুরার মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছেন। যদিও সিপিএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন চৌধুরি বিভিন্ন সময়ে বলেছেন বিজেপি বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয় সেজন্য আমাদের মধ্যে কথা হচ্ছে, হবে। মথা সুপ্রিমো ও চান না ভোট ভাগে অন্য কোনও দল সুযোগ পায়।

এই নির্বাচনে বাম কংগ্রেসের সমঝোতাকে অশুভ বলছেন বিজেপির নেতারা। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বাম কংগ্রেস জোটের শোচনীয় পরিনতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দাবি করছেন এই দুই দল বিধানসভায় শূণ্য হবে। কিন্তু ত্রিপুরায় বাম কংগ্রেসের সমঝোতা চরিত্র খানিক ভিন্ন রকম। নেতারা সমঝোতা ঘোষণার দুই আড়াই মাস আগে থেকেই রাজ্যের নানান জায়গায় বিজেপির বিরুদ্ধে কোথাও নাগরিক ফোরাম কোথাও বা মঞ্চ নাম দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার শ্লোগান তুলে পথে নেমে যায় কংগ্রেস ও বামের সমর্থকেরা। আবার জোট ঘোষনার পর দেখা গেছে আর কে পুর বিধানসভায় বামেরা আসনটি আরএসপিকে দেয় কিন্তু স্থানীয় বাম, কংগ্রেসের দাবি ছিল আসনটি যেন কংগ্রেস পায়। সেই কংগ্রেস নেতার পক্ষে বাম কংগ্রেসের মিলিত মিছিলও দেখাগেল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমানার দুই দিন আগে। অন্য একটি ঘটনা কমলপুরে। আসনটি কংগ্রেসের। কংগ্রেস যাকে প্রার্থী করল সেই প্রার্থী কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। যেহেতু গোজ মনোনয়ন রয়েছে সিপিএমের বরিষ্ঠ এক নেতারও, তাই কংগ্রেসের কর্মীরা সাতসকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে। বক্তব্য, আপনি ই আমাদের প্রার্থী। আপনাকে মনোনয়ন তুলতে দেব না। শেষ অবধি পুলিশ ডেকে এনে পুলিশের সহায়তায় মনোনয়ন তুলতে হয় তাঁর। আবার এই নেতাই পরবর্তীতে কংগ্রেস প্রার্থীর পক্ষে সিপিএম, কংগ্রেসকে ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে নামান ও বিজেপি প্রার্থীকে টেক্কা দিয়েছেন।

এ ছিল নিচুতলার চিত্র। ওপরতলার ঘটনা তুলনায় বিশৃঙ্খল এবং হতাশার ছিল প্রথম পর্বে। কংগ্রেস এবং বামেরা যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করে আসন সমঝোতার কথা বললেও বামেরা একক ভাবে তেরটি আসন কংগ্রেসের জন্য রেখে, একটিতে নির্দল প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ৪৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয়। বামেদের বক্তব্য ছিল তাঁরা কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনদিন পর কংগ্রেসও তাঁদের প্রার্থি তালিকা ঘোষনা করে দেয় তবে তের আসনে নয় সতের আসনে। সব কয়টাতে মনোনয়নও দিয়ে দেয়। পালটা চাপ তৈরিতে এবার বামেরা যে তের আসন কংগ্রেসকে দিয়েছিল সে গুলিতেও প্রার্থী দিয়ে দেয়। রাজ্যের মানুষ দশকের পর দশক ধরে বাম কংগ্রেসের রাজনীতিতে এই সব দেখে দেখে অভ্যস্ত বলে তাঁদের এই ধরনের আচরনে কেউ অবাক হয় নি। কিন্তু অবাক হতে হল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে, যখন কংগ্রেস অতিরিক্ত চার আসনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করল আর বামেরা তেরটি আসন থেকেও যথারীতি প্রার্থী তুলে নিল।

এর পর তো চমকের পর চমক। কংগ্রেসের নেতারা যৌথ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলে দিচ্ছেন এই সমঝোতায় যখন বিজেপি পরাস্ত হবে তখন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। এআইসিসির পর্যবেক্ষক প্রাক্তন সাংসদ ডা. অজয়কুমার কংবা অধীররঞ্জন ত্রিপুরা ভোটের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঘোষনা করছেন— মুখ্যমন্ত্রী উপজাতি অংশের হবেন, তাঁর নাম জিতেন্দ্র চৌধুরী। এই বক্তব্য খন্ডন করেনি সিপিএম। কারন ঘোষনা মঞ্চে মানিক সরকারও উপস্থিত ছিলেন। এই বার্তা নিঃসন্দেহে সিপিএমের হারানো উপজাতি ভিত্তিভূমিতে তাঁদের সংগঠনকে উজ্জীবিত করবে, প্রভাব ফেলবে ভোটেও। গত দশ দিনের ভোট প্রচারে মানিক সরকার, বীরজিত সিংহ কিংবা জিতেন্দ্র চৌধুরী, সুদীপ রায় বর্মনকে এক মঞ্চে দেখতে চেয়েছেন রাজ্যের মানুষ। দেখেছেন, শুনেছে তাঁদের কথা।

অপর দিকে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী, বিত্তবান দল বিজেপিও প্রচারে কোথাও কসুর করেনি। হেমা মালিনী, স্মৃতি ইরানিদের কথা বাদ দিলে যোগী আদিত্যনাথ, রাজনাথ সিং, জেপি নাড্ডা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের চপার ছোট্ট ত্রিপুরার আকাশে ফড়িঙের মতো ওড়াওড়ি করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ৪৮ ঘন্টায় দুইবার রাজ্যে এসে তিনটি সভা করেছেন। এক মাসে দুইবার সভা করেছেন একই মঞ্চে। অমিত শাহ একবার রাত্রিবাস করলেন, দ্বিতীয়বার অর্ধেকের বেশি রাত আগরতলায় কাটিয়ে শেষ রাতে দিল্লি গেলেন। এইবারের প্রচারে যার কথা বলতেই হয়, প্রায় প্রতিরাতেই চপারে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করলেন প্রতিবেশী আসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁদের ভাষনে কংগ্রেস সিপিএমকে যতটা না আক্রমণ তাঁর সমান বা বেশি আক্রমণ ছিল মথার বিরুদ্ধে। তলে তলে কংগ্রেস-বাম জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও তুলেছেন।

বলাই বাহুল্য তিন রাজ্যে এক সঙ্গে নির্বাচন হলেও বাকি দুই রাজ্য নিয়ে তাঁদের তেমন মাথাব্যথা নেই। বাকি দুই রাজ্যেই প্রতিদ্বন্দী আঞ্চলিক দল, যাদের পরিচিতি নেই সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে। তুলনায় বাম কংগ্রেসের সমঝোতায় যদি ত্রিপুরা থেকে বিজেপিকে হটে যেতে হয় তাহলে ঘটনাটি সর্বভারতীয় রাজনীতি যখন হিন্ডেনবার্গে, বিবিসির তথ্যচিত্রে তোলপাড়, যখন টি-শার্টে পদযাত্রা শেষ করে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস উজ্জীবিত তখন সর্বভারতীয় বিজেপিকে আরো বিব্রত রাখবে। তাই চেষ্টার শেষ নেই। কিন্তু ঘটনা কাকতালীয় হলেও গত আগস্ট সেপ্টেমব থেকেই বিরোধীরা যখন প্রশ্ন তুলতে শুরু করলেন, ভোটে মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত হবে কিনা, গণতন্ত্র থাকবে কিনা তখন নির্বাচন কমিশন ত্রিপুরায় তেইশের ভোটে দুইটি মিশন ঘোষনা করে। প্রথমত, জিরো পোল ভায়োলেন্স, দ্বিতীয়টি, সর্বাধিক ভোট। লক্ষ্যমাত্রা ৯২ শতাংশ। এই হার অবশ্য ত্রিপুরায় নতুন নয়, এর আগে ২০১৩ সালে পড়েছিল। বামের সরকার গিয়ে বামের সরকারই এসেছিল সেই ভোটে।

সেই সরকারগুলি প্রত্যাবর্তনের পরেও রাজ্যে নির্বাচনোত্তর হিংসার ঘটনা ঘটতো। এ ছিল ত্রিপুরার স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এই ঘতোণা চলতো এক সপ্তাহ দশদিন। নতুন মন্ত্রিসভা শপথের পর পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যেত। স্বাভাবিক হয়ে পড়তো বিরোধী দলের যাবতীয় কর্মকান্ড। কিন্তু ২০১৮ সালে নতুন সরকার আসার পর, সরকারের শপথ গ্রহনের পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী সেই সন্ত্রাস বন্ধ করান নি। প্রথমে বামেদের বিরুদ্ধে পরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আর সবশেষে বিজেপির বিরুদ্ধেও সন্ত্রাস চলেছে। দলের প্রধান অফিস থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের এমন কোনও দলীয় অফিস নেই কংগ্রেস বা সিপিএমের যেখানে পাঁচ বছরে আক্রমন, অগ্নিসংযোগ বা বেদখল হয় নি। এই ঘটনা গুলির পাশাপাশি এই আমলে যতগুলি নির্বাচন, উপনির্বাচন হয়েছে সবখানেই হিংসা ছিল মাত্রাহীন। নিগম ও নগরের নির্বাচনে ত্রিপুরায় এসে শাসক দল ও তাঁর পুলিশের আক্রমনের শিকার হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূলের নানান নেতারা।

সর্বশেষ বিধাসভার চারটি আসনের নির্বাচনে আগরতলার বুকে সীমাহীন সন্ত্রাস হয়েছে। অশীতিপর বিশিষ্ট নাগরিকদের ওপর হামলা, শারিরীক নিগ্রহ, ভোটারকে ছুরিকাঘাত সবই দেখেছেন মানুষ। তাই এই নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষনার আগে থেকেই একদিকে বিরোধীরা যখন “আমার ভোট আমি দেব” বলে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছিল নির্বাচন কমিশনও তাঁদের নির্বিঘ্ন ভোটে সর্বাধিক ভোট প্রয়োগের মিশন সমান প্রচারে নেয়। একমাত্র গণতন্ত্র সুরক্ষা ইস্যুতেই কাছাকাছি এসে যায় কংগ্রেস বাম। সমঝোতায় না এসেও নৈকট্য বজায় রাখছে মথা। অপর দিকে নির্বাচন কমিশনও ২৮ লক্ষ ভোটারের ৩,৩৩৭ খানা বুথের ভোট পাহারায় ৪০ হাজারের বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসেছে, এর বাইরে রাজ্যের পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশতো রয়েছেই। বিরোধীদের ভোট প্রচারের প্রথম কথাই হচ্ছে, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র। শাসক বিজেপি বিকাশ বা উন্নয়নেই ভোট চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে ভোট চাইতে গেলে এক ভোটার তাকেও প্রশ্ন করেন, ভোটটা দিতে পারবো তো? মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, অবশ্যই পারবেন। সকাল সকাল চলে যাবেন।

অর্থাৎ নিজের এজেন্ডার বিকাশের কথা বলার পর বিরোধীদের উত্থাপিত এজেন্ডার জবাবও দিতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে। ভোটার আশ্বস্ত হলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev