প্রশাসনিক নির্দেশে হুগলির বৃহত্তম মায়াপুরে গোরুর হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য ছোট-বড়ো ব্যবসায়ী। জেলার বৃহত্তম ও রাজ্যের অন্যতম পশুহাট। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গোরু-ছাগল থেকে শুরু করে মোষ, ভেড়া ও হাঁস মুরগি কেনা বেচা বন্ধ হয়ে গেছে। বিপাকে পড়েছেন অসংখ্য ব্যবসায়ী। এমনকি এই হাটে কোটি টাকার পশুর চামড়া বিক্রি হয়। পাশ্ববর্তী রাজ্য, এমনকি প্রতিবেশী দেশেও এখানকার চামড়া ও পশু সীমান্ত দিয়ে চলে যায়।
প্রসঙ্গত, প্রশাসনের নির্দেশে হাট বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়েছেন গোরু ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। বহু মানুষের জীবিকা এই হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। হঠাৎ করে হাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার ছায়া।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোরুর হাটের আইনি কাগজপত্রে একাধিক অস্বচ্ছতা থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই আপাতত হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে অজিত সাহা ও রোশন আলির নামে এই গোরুর হাটের লাইসেন্স ছিল। পরবর্তীকালে অজিত সাহার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সদস্যরাই হাটের মালিকানার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হলেও এই হাটকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল ছিল। প্রতি সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে গোরু ব্যবসায়ীরা এখানে আসতেন। ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় ছোট দোকানদার, গাড়িচালক, শ্রমিক, খাটিয়াওয়ালা, খাবারের দোকান, সব মিলিয়ে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো গড়ে উঠেছিল এই হাটকে ঘিরে।
এই বিষয়ে গোরুর হাটের ম্যানেজার নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাকে লিখিতভাবে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে আরামবাগ থানার পুলিশ এবং বিডিও অফিস থেকে হাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সেই কারণেই হাট বন্ধ রাখা হয়েছে। হাট মালিকেরাও আপাতত হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এতে বিরাট আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।’ আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, ‘সারা রাজ্যেই বেআইনি গোরুর হাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মায়াপুর গোরুর হাটের কাগজপত্রে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। বিজেপি হাট বন্ধ করেনি। সরকারি নিয়ম মেনে হাট চালাতে হবে। কোনও বেআইনি গোরুর হাট চলতে পারে না।