
বাংলাদেশের বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ কর্নারে সম্প্রতি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ-রাজনীতি বিষয়ক সংগঠন ‘সৃজন’-এর মাসিক পাঠচক্র গত ৭ই অগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি মূলত তিনটি পর্বে বিভক্ত ছিল।
প্রথম পর্ব: কাব্যগ্রন্থ ‘মৃত্যু ও নির্বাসন’-এর পাঠ পর্যালোচনা
কবি শাহ বুলবুলের ‘মৃত্যু ও নির্বাসন’ কাব্যগ্রন্থের ওপর আলোচনায় অংশ নেন কবি হুসাইন আলমগীর, কবি সফিকুল ইসলাম, কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার এবং কবি নুসরাত সুলতানা।

হুসাইন আলমগীর: তিনি উল্লেখ করেন, কবি রাষ্ট্র ও সমাজের দুঃখ-বঞ্চনা ও অসংগতিকে নিজস্ব ভাবনার আলোকেই গণমানুষের সামনে উপস্থাপন করেন। কঠোর সাধনার ফসল এই বইটিতে রূপক, প্রতীক ও বৈপরীত্যের মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজের অন্তর্গত বেদনা ফুটে উঠেছে। কবির সমৃদ্ধ শব্দভান্ডার এবং শৈশব থেকে ঢাকার যান্ত্রিক জীবন ও আন্তর্জাতিক অশান্তির অভিজ্ঞতা এতে স্পষ্ট।
আহমেদ বাসার: তাঁর মতে, কাব্যগ্রন্থটি মৃত্যুময় হলেও এখানে মৃত্যু কোনো ভয়ংকর বিষয় নয়; বরং রোমান্টিক কবিদের মতো পার্থিব যন্ত্রণা থেকে মুক্তির পথ। তবে এটি কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং সমাজ, রাষ্ট্র ও বৈশ্বিক পরিসরে বিস্তৃত।
নুসরাত সুলতানা: তিনি বলেন, শাহ বুলবুলের কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতির পাশাপাশি বৈশ্বিক উপাদান উঠে এসেছে। ‘মেঘের মাদুলি মন’-এর মতো সুন্দর কবিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুঃখ ও গ্লানিতে পুড়ে একজন সাধারণ মানুষ যেভাবে সফল কবি হয়ে ওঠেন, এই কাব্যগ্রন্থ তারই প্রমাণ।

দ্বিতীয় পর্ব: ‘উচ্চশিক্ষা ও রাজনীতি : সাহিত্যের সম্পর্ক’
এই পর্বে লেখক, শিক্ষক ও চিন্তক শিবলী আজাদ বিষয়টির ওপর আলোচনা করেন। তিনি জানান, উচ্চশিক্ষা, রাজনীতি ও সাহিত্যের মধ্যে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চশিক্ষা মানুষের মননবোধ বাড়ায়, টেক্সট পাঠের নানা পদ্ধতি তৈরি করে এবং ডিসকার্সিভ জ্ঞানের জন্ম দেয়। এটি সাহিত্যের দিগন্ত বিস্তৃত করার পাশাপাশি নতুন লেখকের আবির্ভাব নিশ্চিত করে।
তৃতীয় পর্ব: গাজী গিয়াস উদ্দিনের একক কবিতা আলোচনা
কবি গাজী গিয়াস উদ্দিনের পঠিত একক কবিতার ওপর আলোকপাত করেন প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক এবং প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ।
প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক: তিনি বলেন, কবির কবিতায় স্বদেশের রূপ যেমন আছে, তেমনি ফিলিস্তিনের শিশুদের প্রতি মর্মযাতনা এবং পুঁজিবাদ ও জায়নবাদের বিরুদ্ধে মানবমুক্তির বার্তা রয়েছে।

প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ: তিনি জানান, গাজী গিয়াস উদ্দিন সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করলেও কবি হিসেবেই বেশি পরিচিত। দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস-ঐতিহ্য তাঁর লেখার প্রধান বিষয়। উপযুক্ত উপমা, চিত্রকল্প ও গদ্যছন্দের ব্যবহারে তিনি নিভৃতচারী হয়েও উত্তর-আধুনিককালের একজন সফল নিরীক্ষাধর্মী কবি।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
পাঠচক্রে মো. খলিলুর রহমান, আরিফ মঈনুদ্দিন, সাদমান সজীব, মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, হাইকেল হাশমী, সুরাইয়া ফারজানা হাসান, ইব্রাহীম খলিল, মেহেদী হাসান, আরিফা ইসলাম, সালেহা ফেরদৌস, খালিদা তালুকদার, ফারহানা তানিয়া, আশিক রেজা, বোরহান মাসুদ, শারমিন হক, সুলেখা আক্তার শান্তা, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, বাবু বরকতউল্লাহ, ফারজানা ববি, মুর্শিদা রহমান, রফিক লিটনসহ অনেক কবি ও সাহিত্যিক উপস্থিত ছিলেন।