
গত দু’মাসে একের পর এক নিম্নচাপ। প্রবল বৃষ্টিতে শাক থেকে শুরু করে বেশিরভাগ সবজি নষ্ট। ফলে সবজির বাজারে আকাশছোঁয়া দামে নাজেহাল মানুষ। আরামবাগের দক্ষিণ নারায়ণপুরের চাষি কমল চৌধুরী জানান, এবারে বর্ষায় একের পর এক নিম্নচাপের বৃষ্টিতে নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ায় শাক-সবজি নষ্ট হয়েছে। পটল, বেগুন, ঢ্যাঁরস, মূলো, করোলা, ঝিঙে, কপি, কাঁচালঙ্কা ইত্যাদি বেশিরভাগ পচে গেছে। নটে,পালং, পুঁইসহ বিভিন্ন শাক পচে গেছে। তাছাড়া দিনের দিন পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামও যে হারে বাড়ছে তা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। কার্যত মধ্যবিত্তের হেঁশেলে টান পড়েছে।
এদিকে গ্ৰাম ও শহরতলির বাজার ঘুরে দেখা যাচ্ছে আলুর দাম তলানিতে থাকলেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা, পটল ৬০-৮০ টাকা, ঢ্যাঁরস ৪০-৫০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, শসা ৪০-৬০ টাকা, মূলো ৮০-১০০ টাকা, করোলা ৬০-৮০ টাকা, ঝিঙে ৬০-৮০ টাকা ইত্যাদি।
এদিকে, চাষিরা আবার আকাশে কালো মেঘ দেখছেন। আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে আগামী ২৭ আগস্ট উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। এরফলে পর্যাপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ভারী বর্ষণে ইতিমধ্যে নিচু এলাকা জলমগ্ন। হুগলির খানাকুল ও আরামবাগের নিচু এলাকা ডিভিসির ছাড়া জলে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আমন ধান এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি। আগামী দিনে সবজির দাম আরও বেশি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডোঙ্গলের চাষি নিতাই মণ্ডল বলেন, ২ হাজার কপি চারা বসানো হয়েছিল। ভারী বর্ষণে প্রায় সব কপিচারা নষ্ট হয়ে গেছে। যেগুলো দুর্গাপুজোর সময় বিক্রি হত। ভালো দাম পাওয়া যেত। বহু খরচ করে লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
মহকুমা কৃষি আধিকারিক দপ্তর থেকে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে যে সমস্ত সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা বাঁচাতে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ — বাংলাদেশ উপকূল লাগোয়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর বৃহস্পতিবার তাদের দীর্ঘকালীন পূর্বভাসে জানিয়েছে, আগামী ২৭ আগস্ট নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। এটি তারপর শক্তি বাড়িয়ে পরিণত হবে নতুন এক নিম্নচাপে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে পরবর্তীকালে দক্ষিণবঙ্গের জন্য আরও নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া হবে।
বঙ্গোপসাগরে জুলাই থেকে পরপর নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার জেরে দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ওড়িশা ও মধ্য ভারতে।