| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাম নামে কাম নাই, আমিই তো রাম : দিলীপ মজুমদার তৃষিত মাঠের খসড়া : বিশ্বজিৎ মণ্ডল ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মাঠের মাছ ও একটি ঢ়োড়া সাপের গল্প : সুব্রত দত্ত রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর — সমস্যা সমাধানে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ যাদবপুর নামটি এল কোথা থেকে : অসিত দাস ইতিহাস গড়ে নারী, ইতিহাস ধরা থাকে অক্ষরে : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজেপির দুর্ধর্ষ আই টি সেল থেকে মালব্য বিদায় : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বার্ধক্যের নিঃসঙ্গ ছায়া: একাকীত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও অবসাদ : যশোবন্ত রায় মনসার ঢেলাফেলা পার্বণ মনসাভক্তদের একচক্ষু দেবীকে নিবেদনের লোকাচার : অসিত দাস সংকট সমাধান ও সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার এখন বারাণসী যেতে মন চায় না : বিজয় চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কারানল : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সংকট : নিকোলাস বিশ্বাস রামবাগানের ইন্দুবালা : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গণমানুষের কবি সুকান্ত : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার স্বাধীনতা তুমি কার : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৮২ Views জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

৩৭৩. জমিদারদের অধিকার সীমাবদ্ধ ও শর্তসাপেক্ষ। সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাঁরা সরকারি রাজস্ব-নির্ধারণের আওতাভুক্ত জমি হস্তান্তর বা আলাদা করতে পারেন না; নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে সমমূল্যের সম্পত্তি হারানোর বা সম্পূর্ণ জমিদারি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তাঁদের রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং নদীর বাঁধ মেরামতের মাধ্যমে নিজেদের জমিকে প্লাবনের হাত থেকে রক্ষা করাও তাঁদের কর্তব্য। এই দায়িত্বগুলো পালনের অর্থ হলো, তা সম্পাদনের প্রয়োজনীয় উপায় বা সম্পদ জমিদারদের হাতেই রাখা হয়েছে।

৩৭৪. অতীতে বিদ্রোহ বা বহিরাক্রমণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে রক্ষার প্রয়োজনে তাঁদের সেবার প্রয়োজন হতো এবং তখন এই সহায়তা প্রদানের মতো সামর্থ্য তাঁদের ছিল। এই বাধ্যবাধকতাটি মূলত প্রধান জমিদারদের ওপরই বেশি প্রয়োগ করা হতো, তবে তা সকল জমিদারের জন্যই বাধ্যতামূলক ছিল।

৩৭৫. খাজনার একটা অংশের ওপর দাবির সুবাদে সরকার জমি, জমির ফসল, রায়তদের প্রদেয় খাজনা এবং জমির মালিকানা হস্তান্তরের খুঁটিনাটি সব তথ্য জানার অধিকার নিজেদের বলে মনে করত। মফস্বলের কানুনগোদের দায়িত্ব ছিল এই তথ্য নথিবদ্ধ ও সরবরাহ করা; এবং আগে তারা যে হিসাবপত্র রাখত, তা থেকেই এই তথ্য পাওয়া যেত।

৩৭৬. জমি বিক্রি, বন্ধক রাখা এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে প্রায়শই সরকারের অনুমোদন নেওয়া হতো; তবে আমার জানামতে, অনুমোদন না থাকার কারণে সেসব লেনদেন বা হস্তান্তর অবৈধ হয়ে যেত না।

৩৭৭. জমির মালিক কর্তৃক জমি হস্তান্তর বা খাজনার পরিমাণ কমিয়ে ফেলার কোনো পদক্ষেপই জমির রাজস্বের ওপর সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারত না; সরকার স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের হস্তান্তরিত জমি নতুন করে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার এবং সেগুলোকে সরকারি রাজস্বের আওতাভুক্ত করার অধিকার প্রয়োগ করত। পাশাপাশি, জমার (নির্ধারিত রাজস্বের) পরিমাণ প্রতারণামূলকভাবে কমিয়ে ফেলার বিষয়টিও তারা তদন্ত করে দেখত।

৩৭৮. সরকার মাঝেমধ্যে রায়তদের প্রদেয় খাজনা নির্ধারণের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে খাজনা আদায়ের জন্য নিজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ করত। জমিদারদের বাদ দিয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের একটা নজির পাওয়া যায় জাফর খানের কর্মকাণ্ডে; এছাড়া আকবরের শাসন-সংক্রান্ত নথিপত্র (আইন-ই-আকবরী) থেকে জানা যায় যে, ফসল বা উৎপাদনের অংশীদারিত্বের অনুপাত চাষি ও সরকারের মধ্যে নির্ধারিত হতো — অথচ বাংলায় সরকারের পক্ষ থেকে এমন অনুপাত নির্ধারণের কোনো নজির আমার চোখে পড়েনি। যদিও নাজিমরা রায়তদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন, তবে সেই প্রচেষ্টা ছিল আংশিক; এর থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায় না যে বিষয়টি নিয়মিত বা পদ্ধতিগতভাবে করা হতো — আর আমার বিশ্বাস, বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি। জমিদারদের কার্যকলাপ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি ছিল এই ক্ষমতারই একটা সীমিত ও অধিকতর প্রচলিত প্রয়োগ। বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণিত। এভাবে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের ‘আমিল’ ও ‘সেজাওয়াল’ বলা হতো।

৩৭৯. জমিদারদের মালিকানাস্বত্ব স্বীকার করে নিয়েও বলা যায়, সরকার যখন নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে রায়তদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের মাধ্যমে জমিদারদের স্বাভাবিক অধিকারকে পাশ কাটাত বা বাতিল করত, তখন স্বাভাবিকভাবেই জমিদারদের জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো না কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন হতো। কিন্তু বাংলায় অতীতে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে আমার জানা নেই; এই সুবায় মুঘল সরকার জমিদারদের প্রদেয় খাজনার হার, তাঁদের প্রাপ্য মুনাফা কিংবা সাময়িকভাবে জমিদারি থেকে উচ্ছেদ হলে তাঁদের জন্য নির্ধারিত ভাতার পরিমাণ — এসবের কোনোটিই সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করেছিল বলে আমার জানা নেই। আমার ধারণা, এসব ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা সীমা কখনোই নির্ধারিত ছিল না। আমার মতে, টোডরমলের (Turymull) বন্দোবস্তই ছিল জমিদারদের কাছে রাষ্ট্রের পাওনা নির্ধারণের মূল ভিত্তি; এই বন্দোবস্ত প্রবর্তনের সময় থেকে জাফর খানের শাসনকাল পর্যন্ত তা বলবৎ ছিল — অবশ্য সুলতান সুজার গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে (যার বিষয়ে আমার কাছে উপযুক্ত কোনো তথ্য নেই) হয়তো এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। তাঁর (টোডরমলের) আমলে সামগ্রিক রাজস্বের যে বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছিল, তা ছিল পরিমিত।

৩৮০. এই মধ্যবর্তী সময়ে, জমিদাররা নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত যে মুনাফা পেতেন তা ভোগ করতেন; এবং যখন সাময়িকভাবে তাঁদের কাছ থেকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হতো, তখন তাঁরা কোনো অতিরিক্ত ভাতা ছাড়াই কেবল তাঁদের ‘ননকার’ (nankar) জমিটুকু নিজেদের দখলে রাখতেন; কোনো জমিদার যখন তাঁর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতেন, তখন ‘ননকার’ জমির ওপর তাঁর অধিকারও বিলুপ্ত হতো এবং তা তাঁর উত্তরাধিকারীর কাছে হস্তান্তরিত হতো।

৩৮১. একশো বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ‘টোডরমল’-এর (Turymull) নির্ধারিত রাজস্বের হারের তুলনায় সরকারি দাবির যে তারতম্য ঘটেছিল তা এতটাই সামান্য ছিল যে, দীর্ঘকাল ধরে জমিদারি পরিচালনার ফলে অর্জিত মুনাফা সাময়িক বঞ্চনার সময়েও তাঁদের জীবিকা নির্বাহের সংস্থান করে দিত; এটা অত্যন্ত সম্ভাব্য যে, নাজিম বা তাঁদের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত লাভের জন্য নির্ধারিত রাজস্বের বাইরেও জমিদারদের ওপর অতিরিক্ত কর বা চাঁদা ধার্য করতেন, এবং আলোচ্য সময়ে জমিদারদের তা বহন করার সামর্থ্যও ছিল।

৩৮২. শাসকশক্তির মর্জির ওপর নির্ভরশীল অধিকারকে সর্বদা অনিশ্চিত বলেই গণ্য করা উচিত; স্বৈরতন্ত্র জমিদারদের অধিকারের সরাসরি ও প্রকাশ্য লঙ্ঘন না করেও পরোক্ষভাবে তা খর্ব করার দাবি তুলতে পারত, কিন্তু সাধারণভাবে বলতে গেলে, এর আচরণ তাঁদের অনুকূলেই ছিল। আকবরের রাজত্বকালে বাংলার জমিদাররা সংখ্যায় অনেক এবং বিত্তশালী ছিলেন; জাফর খান যখন প্রশাসনের দায়িত্বে নিযুক্ত হন তখনও তাঁদের অস্তিত্ব বজায় ছিল এবং তাঁর ও তাঁর উত্তরসূরিদের অধীনে তাঁদের নিজ নিজ আঞ্চলিক এখতিয়ার বা এলাকার আয়তন সাধারণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল বলেই মনে হয়; আর ইংরেজরা যখন ‘দেওয়ানি’ লাভ করে, তখনও প্রধান জমিদারদের মধ্যে বিত্ত ও মর্যাদার ছাপ স্পষ্ট ছিল।

৩৮৩. ভারতে ভূমির মালিকানা বলতে ইংল্যান্ডের মতো একই ধরনের অধিকার বোঝায় — এমনটা মনে করা ঠিক হবে না; এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য ঠিক ততটাই, যতটা পার্থক্য একটা অবাধ ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতার মধ্যে বিদ্যমান। স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের অধীনে প্রজার অধিকারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতি বা স্পষ্ট সংজ্ঞার প্রত্যাশা করা যায় না; তবে এ ধরনের সরকার যখন প্রজাদের অনুকূলে কোনো আচরণ করে, তখন তাকে তাদের অধিকারের স্বীকৃতি হিসেবেই মেনে নেওয়া উচিত।

৩৮৪. এই তথ্যাবলির ওপর ভিত্তি করে অন্যরা হয়তো বিষয়টিকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবেন এবং অধিকারের নীতিসমূহের সাথে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের কার্যপদ্ধতির মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে সক্ষম হবেন। আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি যে, প্রজাদের নিঃস্ব করে দেওয়ার মতো দাবি উত্থাপন করা সত্ত্বেও বাস্তবে তাদের জন্য কী অবশিষ্ট রাখা হয়েছিল; নজির হিসেবে এই বিষয়টিই আমাদের অনুকরণ করার মতো।

৩৮৫. ভারতে ভূমিই সর্বদা রাষ্ট্রের আয়ের প্রধান উৎস ছিল এবং কর সরাসরি ভূমির ওপরই ধার্য করা হতো; বাণিজ্যকে খুব কমই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হতো।

৩৮৬. যে তালুকদাররা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে খাজনা পরিশোধ করেন, তারা কার্যত সব দিক থেকেই জমিদারদের সমপর্যায়ের; তবে তারা একটা বিশেষ সুবিধা ভোগ করতেন — যা ইদানীং ক্ষুণ্ণ হয়েছে — তা হলো খাজনা বৃদ্ধির আওতামুক্ত থাকা; অন্যদিকে, তারা খাজনা মওকুফের সুবিধাও পেয়েছেন।

৩৮৭. যারা জমিদারদের কাছে খাজনা পরিশোধ করেন তারা অধিকতর নির্ভরশীল; তবে আমার বিশ্বাস, একটা সাধারণ নিয়ম হলো যে, জমিদার নিজের ইচ্ছামতো তাদের খাজনা বাড়াতে পারেন না। জমিদারকে যে বর্ধিত খাজনা দিতে হতো, তার একটা আনুপাতিক অংশ তাদেরও দিতে হতো — এটা ধরে নিতে হবে; কিন্তু যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা হার ছাড়াই কেবল আনুমানিক হিসাবের ভিত্তিতে খাজনা বৃদ্ধি বা মওকুফ করা হতো, তাই তালুকদারদের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতিনীতির ভিন্নতা সব নিয়মকেই ছাপিয়ে গেছে। যে কোনো ধরনের তালুকদার একবার খাজনা মওকুফের সুবিধা পেলে দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী ভবিষ্যতে খাজনা বৃদ্ধির আওতাভুক্ত হন; কিন্তু যদি তিনি তাঁর স্বত্ব বা অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় থেকে অপরিবর্তিত হারে খাজনা দিয়ে থাকেন, তবে তাঁকে এই বৃদ্ধির আওতায় আনা যায় না; তালুক ভোগের শর্তাবলি অনেক সময় বিশেষ প্রকৃতির হয় এবং তা-ই তাঁর ও জমিদারের মধ্যে পালনীয় নির্দিষ্ট নিয়মাবলি নির্ধারণ করে দেয়।

৩৮৮. রায়ত বা কৃষকদের ক্ষেত্রে তাদের অধিকার অত্যন্ত অনিশ্চিত ও অস্পষ্ট বলে মনে হয়। টোডরমল থেকে জাফর খাঁ-র আমল পর্যন্ত জমিদারদের ওপর সরকারের দাবি-দাওয়া যখন কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো, তখন তাদের রায়তদের ওপর নিপীড়ন চালানোর খুব একটা প্রলোভন বা প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু জমিদারদের প্রদেয় অর্থের ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনশীল ও স্বেচ্ছাধীন নীতির প্রভাব পড়েছিল, রায়তদের ক্ষেত্রেও একইভাবে সেই নীতির বিস্তার ঘটেছে। অতীতে সম্ভবত জমির ধরন ও ফসলের উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করেই জমির খাজনার হার নির্ধারণ করা হতো; জমিদাররা যেসব অতিরিক্ত কর বা ‘সেস’ (cesses) আরোপ করতেন তা ছিল মূল হারের ওপর বাড়তি বোঝা, যা শুরুতে নিপীড়নমূলক না হলেও ছিল সম্পূর্ণ খেয়ালখুশিমতো আরোপিত।

৩৮৯. তবে সাধারণভাবে এটা স্বীকরা যে, দীর্ঘকাল ধরে জমি ভোগদখলের ফলে রায়তরা জমির ওপর দখলি স্বত্ব লাভ করে এবং তাদের উচ্ছেদ করা যায় না; কিন্তু এই অধিকার তাদের জমি বিক্রি বা বন্ধক রাখার ক্ষমতা দেয় না এবং এদিক থেকে এটা মালিকানা স্বত্ব থেকে পৃথক। অন্যান্য সব অধিকারের মতোই, স্বৈরাচারী বা পরিবর্তনশীল শাসনব্যবস্থার অধীনে এই অধিকারটিও অনিশ্চিত। জমিদারদের ওপর যখন বাড়তি কোনো বোঝা বা কর চাপানো হয়েছে, তখন তাঁরা রায়তদের কাছ থেকে তা আদায়ের অধিকার প্রয়োগ করেছেন; যদি আমরা স্বীকার করে নিই যে জমির মালিকানা একান্তভাবে জমিদারদের হাতে ন্যস্ত, তবে রায়তদের (কৃষকদের) এমন কোনো অধিকারের স্বীকৃতি আমাদের বাদ দিতে হবে — অবশ্য যদি না তারা মালিকের কাছ থেকে তা অর্জন করে থাকে।

৩৯০. রায়তদের বিষয়ে অনেক কিছুই বলা হয়েছে, তবুও আমি তাদের সম্পর্কিত বিষয়গুলো আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

৩৯১. বাংলার প্রতিটি জেলায় — যেখানে অবাধ ও যথেচ্ছ আদায়ের প্রবণতা সমস্ত নিয়মকানুনকে গ্রাস করে ফেলেনি — সেখানে জমির খাজনা ‘নিরখ’ (Nirk) নামক সুনির্দিষ্ট হার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়; কোনো কোনো জেলায় আবার প্রতিটি গ্রামের জন্য আলাদা হার প্রচলিত থাকে। জমির উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে বিঘা প্রতি এই হার নির্ধারণ করা হয়; কোনো জমিতে বছরে দু-ধরনের ফসল ফলে, আবার কোনোটিতে তিন-ধরনের। অধিক লাভজনক ফসল — যেমন তুঁত গাছ, পান, তামাক, আখ ইত্যাদি — জমির মূল্যকে আনুপাতিক হারে বাড়িয়ে তোলে।

৩৯২. সম্ভবত জমি পরিমাপের ওপর ভিত্তি করেই এই হারগুলো নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং টোডরমলের (Turymull) বন্দোবস্ত ব্যবস্থা হয়তো এর ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। সময়ের সাথে সাথে সেই মূল হারের ওপর অতিরিক্ত কর বা ‘সেস’ (cesses) যুক্ত হতে থাকে এবং পরবর্তীকালীন মূল্যায়নের সময় সেগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়; ফলে প্রতিটি নতুন পরিমাপের সাথে সাথে হারেরও পরিবর্তন ঘটতে থাকে। বর্তমানে ‘নিরখ’-এর বাইরে এবং তার অন্তর্ভুক্ত নয় এমন অনেক ‘আবওয়াব’ বা অতিরিক্ত কর আদায় করা হয়, যদিও সেগুলোর পরিমাণ মূল হারের সাথে একটা নির্দিষ্ট অনুপাতে নির্ধারিত হয়ে থাকে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev