| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মাঠের মাছ ও একটি ঢ়োড়া সাপের গল্প : সুব্রত দত্ত রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর — সমস্যা সমাধানে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ যাদবপুর নামটি এল কোথা থেকে : অসিত দাস ইতিহাস গড়ে নারী, ইতিহাস ধরা থাকে অক্ষরে : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজেপির দুর্ধর্ষ আই টি সেল থেকে মালব্য বিদায় : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ : নিকোলাস বিশ্বাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বার্ধক্যের নিঃসঙ্গ ছায়া: একাকীত্ব, বিচ্ছিন্নতা ও অবসাদ : যশোবন্ত রায় মনসার ঢেলাফেলা পার্বণ মনসাভক্তদের একচক্ষু দেবীকে নিবেদনের লোকাচার : অসিত দাস সংকট সমাধান ও সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্ক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার এখন বারাণসী যেতে মন চায় না : বিজয় চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কারানল : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সংকট : নিকোলাস বিশ্বাস রামবাগানের ইন্দুবালা : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গণমানুষের কবি সুকান্ত : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার স্বাধীনতা তুমি কার : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্বাধীনতা — অর্জন নয়, দায়িত্বও : যশোবন্ত রায় চোখের বালি যখন চোখের বালিশ : অসিত দাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর — সমস্যা সমাধানে চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন

Reporter
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হাসান মোঃ শামসুদ্দীন / ১১২ Views জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট একটা দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যায় পরিণত হতে চলছে। এটা বাংলাদেশের জন্য এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। গত নয় বছর ধরে বাংলাদেশ এই সংকট টেনে চলছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই সংকটের ব্যাপকতা বোঝাতে সক্ষম হলেও এর শান্তি পূর্ণ সমাধানের পথ এখনও আলোর মুখ দেখছে না। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে, ত্রাণ সহায়তা কমে আসা, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, সীমান্তে মাদক পাচার, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারনে বাংলাদেশ — মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন এবং পরিবেশ পরিস্থিতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ, বহুপক্ষীয় উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া এবং নিষেধাজ্ঞার মত উদ্যোগ নেয়া হলেও এসব কার্যক্রম এই সংকট সমাধানে ফলপ্রসূ হয়নি। মিয়ানমার সরকার রাখাইনে আরাকান আর্মির অবস্থানে বিমান হামলা চালানোর সময় মিয়ানমার থেকে আসা গোলাগুলি সীমান্তের লোকজনের ঘরবাড়ি ও চাষের জমিতে পড়ে এবং এর ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ও তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যের বেশীরভাগ এলাকা এবং বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। আরাকান আর্মির কাছে বিপুল পরিমান অস্ত্রের মজুত রয়েছে এসব অস্ত্র অবৈধ পথে যাতে বাংলাদেশে না আসতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের এই সংকটের প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যাতে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান সংঘাতে নতুন করে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এখন বাংলাদেশের নিরাপত্তার উপর চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য দেয়া ত্রাণ সহায়তা কমে আসছে, একদিকে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অন্যদিকে ত্রাণ সহায়তা কমে গেলে বাংলাদেশের উপর চাপ বাড়বে, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। সমস্যা সমাধানে সকল পক্ষকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক অর্থায়নের অভাবে ডব্লিউ এফ পি ১ এপ্রিল থেকে ‘নিড-বেসড’ পদ্ধতিতে তিন ক্যাটাগরিতে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু করেছে। রোহিঙ্গা পরিবারগুলো মাথাপিছু ১২ ডলারের বদলে এখন সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ১৭ শতাংশ পরিবার পাচ্ছে ৭ ডলার, ৩৩ শতাংশ পাচ্ছে ১২ ডলার এবং বাকি ৫০ শতাংশ পাচ্ছে ১০ ডলার করে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যানড্রুজ রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা কমায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায় যে, এ ধরনের পদক্ষেপ মানবিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।

রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের চলাচলের ওপর আরাকান আর্মি নানা ধরনের বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। রোহিঙ্গাদের জীবিকা অর্জনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এবং চলাচলের ওপর এই বিধি নিষেধের কারনে তাদের জীবন জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং অবৈধ ও বৈষম্যমূলক কর আরোপের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি পদ্ধতিগতভাবে ভেঙে দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের উপর চালানো নিপীড়নের কারনে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ও তারা রাখাইন ত্যাগে বাধ্য হচ্ছে। আরাকান আর্মি যদি ন্যায়বিচার এবং বৈধতা চায় তবে তাদেরকে রাখাইনে বসবাসকারী সমস্ত জাতিগত গোষ্ঠীর সাথে সমান আচরণ এবং রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। আরাকান আর্মির রোহিঙ্গাদের প্রতি মনোভাবের কোন পরিবর্তনের বিষয়ে এখন ও কিছু জানা যায়নি। আরাকান আর্মির সাথে বাংলাদেশের কোন পক্ষের সম্পর্ক স্থাপন ও যোগাযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা শক্তিশালী চক্র বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে চাপের মুখে রেখেছে। কোস্টগার্ড ও বিজিবি এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা বৃদ্ধি করে মাদক-সন্ত্রাস মোকাবিলা সম্ভব হবে না। আঞ্চলিক সহযোগিতা, সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিয়ে এই মাদক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দ্বন্দ্ব বাড়ছে এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে তারা রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করেছে। তালিকায় থাকা ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানায় এবং ৪ হাজার ২৪১ জনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে জানায়। তারা রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা এসব রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে কাজ অব্যাহত রাখবে। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে স্বীকৃত ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর একটি হিসেবে গণ্য না করে তাদেরকে ‘বাঙালি হিসেবে উল্লেখ করে।

বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) জানায় যে, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়, তারা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী এবং একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। যা অতি সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত মিয়ানমার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবেই স্বীকার করত। রোহিঙ্গাদের উপর ‘বাঙালি’হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকারের শামিল। মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কিছুটা ইতিবাচক অবস্থান দেখানোর পাশাপাশি ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক মহলে তাঁদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।

মিয়ানমার জানায় যে, যাচাইকৃত ও রাখাইনের সাবেক বাসিন্দাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ‘কাম অ্যান্ড সি’ সফর, বাংলাদেশে ‘গো অ্যান্ড টক’সফর, সরেজমিন যাচাই এবং পাইলট প্রকল্পের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমাধানযোগ্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় এবং এ ইস্যুকে আন্তর্জাতিকীকরণে তারা অসন্তুষ্ট। এখানে উল্লেখ্য যে মিয়ানমার গত নয় বছরে পরিস্থিতি উন্নয়নে কোন উদ্যোগ নেয়নি। বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি এবং ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান কাজ করতে চায় বলে জানা গেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমাধান কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার ২১ এপ্রিল ২০২৬ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে রোহিঙ্গাদের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি রোহিঙ্গাদের সম্পর্কিত সকল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন, পর্যালোচনা এবং সুপারিশ প্রদান করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সম্পর্কিত বিষয়গুলি তদারক করবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে বাংলাদেশ। চীনসহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় এ চাপ আরো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় চীনের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন বিষয়কে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কূটনৈতিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এই বিপর্যয় মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোকে সাথে নিয়ে কাজ করছে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন সহজতর করতে এবং সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের সহায়তা চেয়েছে। তুরস্ক রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ রাখছে। জাপান সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে অনুদান সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে এবং রাখাইন পুনর্গঠনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ঘৃণা ও বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক। মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গা বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও আরাকান আর্মিকে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়ন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করতে হবে।

সামনের দিনগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় শক্তিশালী রোহিঙ্গা নীতি এবং মিয়ানমার সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট পলিসি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে একই সঙ্গে কয়েকটি ক্ষেত্রে একসাথে যেতে হবে। মানবিক সহায়তার ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা মোকাবেলায়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের সাথে জড়িত সকল অংশীজনের উচিত নতুন দাতা এবং এই সংকট মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা। জরুরি ও সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য একটি সংরক্ষিত তহবিল গঠন করে নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নীতি প্রণয়ন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশে দল, মত নির্বিশেষে সবাইকে এই সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাস্তবতার নিরিখে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মোঃ শামসুদ্দীন, এন ডি সি, এ এফ ডব্লিউ সি, পি এস সি, এম ফিল (অবঃ), মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev