
২৮৫. ‘কমিটি অফ সার্কিটের’ (Committee of Circuit) বন্দোবস্ত ব্যবস্থা পুরো সময়কাল জুড়ে উৎপাদনশীলতা বা শিল্পের ওপর একটা ক্রমবর্ধিষ্ণু কর হিসেবে কাজ করত; কারণ এতে উৎপাদনের অগ্রগতির অনুপাতে বার্ষিক কর বৃদ্ধির দাবি করা হতো, অথবা সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে ইজারাদারদের কেবল একটা বছরের মুনাফা অবশিষ্ট রাখা হতো। কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের নির্দেশাবলি সম্ভবত এই বিবেচনার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছিল এবং এটা লক্ষ্য করেই দেওয়া হয়েছিল যে, প্রকৃত রাজস্ব-হ্রাসের হার সর্বক্ষেত্রেই সরকারের দাবিকরা রাজস্ব-বৃদ্ধির হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল; অনেক ক্ষেত্রেই এই বিষয়টি প্রমাণিত; সুতরাং, এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকতে হবে। সুতরাং, বন্দোবস্ত যদি দশ বছরের মেয়াদের জন্য করা হয়, তবে আমি ‘রসদ’ বা ক্রমবর্দ্ধমান হারে রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি — যেসব ক্ষেত্রে তা আরোপ করা সমীচীন বলে মনে হবে — সর্বোচ্চ তৃতীয় বা চতুর্থ বছরের সমাপ্তি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষপাতী; মেয়াদের অবশিষ্ট সময়টুকু জমিদারদের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।
২৮৬. আমি চাইতাম, যদি সম্ভব হতো, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে জমিদারদের সাথে যে বন্দোবস্ত করা হবে তার অর্থের পরিমাণ প্রস্তাব করতে — যাতে ‘গভর্নর-জেনারেল-ইন-কাউন্সিল’ তা বিবেচনা ও নির্ধারণ করতে পারেন; কিন্তু এই বিস্তারিত কাজ সম্পন্ন করার মতো শারীরিক সামর্থ্য আমার খুব একটা নেই, তাই সম্ভবত এক বছরের মধ্যে প্রধান জমিদারীগুলো ছাড়া অন্যগুলোর ক্ষেত্রে এটা কার্যকর করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।
২৮৭. আমাদের সামনে এখন রয়েছে ‘জমা’ বা রাজস্বের পরিমাণ সম্পর্কে কালেক্টরদের প্রতিবেদন এবং সেগুলোর ওপর রাজস্ব বোর্ডের মতামত। সামগ্রিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে আমাদেরই নেওয়া উচিত; আর যদি এ কাজের জন্য সময়ের অভাব হয়, তবে প্রশ্ন উঠতে পারে যে — যেসব জেলার রাজস্বের পরিমাণ সম্পর্কে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব না, সেগুলোতে কি নির্ধারিত মেয়াদের জন্য বন্দোবস্ত কার্যকর করা হবে?
২৮৮. কার্যপদ্ধতির নিয়ম হিসেবে সাধারণ নীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; তবে সেই নীতিগুলোর প্রয়োগ নির্দেশ করা এবং তা তদারকি করাটা আরও বেশি সন্তোষজনক হবে।
২৮৯. কোনো জমিদারের ওপর ধার্যযোগ্য রাজস্ব বা ‘জমা’ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
২৯০. কোনো জেলার মোট রাজস্ব বা ‘গ্রস জমা’ বলতে মূলত প্রজাদের প্রদত্ত অর্থকেই বোঝায়; তবে রাজস্ব সংগ্রহের বিভিন্ন পর্যায়ে আনুষঙ্গিক খরচের কারণে এই অর্থ থেকে নানাবিধ কর্তন বা ছাড়ের বিষয় থাকে।
২৯১. প্রথমত। মফস্বল খরচ — অর্থাৎ প্রজাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় ও তাদের সাথে বন্দোবস্তের কাজে নিয়োজিত ছোটখাটো কর্মচারীদের (যেমন — পাটোয়ারি, পিয়ন, পাইক ইত্যাদি) ব্যয়।
২৯২. এই কর্মচারীদের পারিশ্রমিক বা ভাতা কোনো কোনো স্থানে জমির বিনিময়ে (জমি বরাদ্দ করে) দেওয়া হয় [মুঘল আমলে এসবের নাম ছিল পাইকান – অনুবাদক], তবে সাধারণত প্রজাদের প্রদত্ত অর্থের মাধ্যমেই এর সংস্থান করা হয়। এগুলোর ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে জেলার দায়িত্বে থাকা জমিদার বা ইজারাদারের ওপর; এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের জন্য উপস্থাপিত হিসাবপত্রে এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ খুব কমই থাকে। কোনো জেলার মোট রাজস্বের কথা বলার সময় আমাদের স্পষ্ট করা উচিত যে, সেই অঙ্কটি এই খরচগুলোর অন্তর্ভুক্ত কি না বা তা থেকে স্বতন্ত্র কি না।
২৯৩. কোনো জেলার পুলিশ বিভাগে নিয়োজিত নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের [লিখছেন — পেটি অফিসার — অনুবাদক] খরচ সাধারণত একই পদ্ধতিতে নির্বাহ করা হয় এবং তা ‘মফস্বল খরচ’-এর অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে কোনো কোনো স্থানে — যেমন নদীয়া জেলায় — এই বাবদ রায়তদের ওপর একটা পৃথক কর বা শুল্ক ধার্য করা হয়।
২৯৪. দ্বিতীয়ত। পরগনার কাজকর্ম তদারকি ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারীদের সংক্রান্ত ‘পরগনা খরচ’। পরগনার রাজস্ব-সংক্রান্ত হিসাবপত্রে, উপরে বর্ণিত মফস্বল খরচ বাদ দেওয়ার পর গ্রামগুলো থেকে পাওয়া খাজনার সমষ্টি দেখানো হয়। পার্থক্যের খাতিরে একে ‘পরগনাতল জমা’ (pergunnatel jumma) বলা যেতে পারে।
২৯৫. তৃতীয়ত। ‘সদর কাছারি খরচ’, অর্থাৎ জমিদারির প্রধান কাছারিতে নিয়োজিত কর্মচারীদের অন্যান্য ব্যয়।
২৯৬. চতুর্থত। ‘পুলবন্দি’ বা বাঁধ মেরামতের খরচ। যখন কোনো জমিদারের ওপর এই দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়, তখন তাঁর প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণের সময় এই খরচটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।
২৯৭. এই সমস্ত খরচ অপরিহার্য; বন্দোবস্ত যেভাবেই করা হোক না কেন, এই ব্যয়গুলো অবশ্যই মোট আদায়করা অর্থ — অর্থাৎ রায়তদের প্রদত্ত অর্থ — থেকে নির্বাহ করতে হবে।
২৯৮. কালেক্টরদের দাখিল করা ‘জমা’র হিসাবপত্রে সাধারণত সরকার ও জমিদার বা ইজারাদারদের মধ্যে নির্ধারিত চুক্তিমূল্যের পরিমাণই দেখানো হয়; তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর থেকে সদর কাছারি খরচ ও পুলবন্দি বাবদ অর্থ বাদ দেওয়া হয় (কারণ এগুলো প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত), আবার অন্য ক্ষেত্রে তা বাদ দেওয়া হয় না। ‘মশাইরা’ বা জমিদারদের ব্যক্তিগত ভাতা এখন কেবল তাঁদেরই দেওয়া হয় যাঁরা জমিদারি দখলের বাইরে আছেন; আর যেসব ক্ষেত্রে জমিদারের সাথে বন্দোবস্ত করা হয়েছে, সেখানে বন্দোবস্তের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তা আর ‘জমা’-র অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় না।
২৯৯. হিসাব প্রস্তুতির বর্তমান পদ্ধতি অনুযায়ী, ‘সদর জমা’-কে ‘মোট’ (gross) বা ‘নিট’ (net) — এই দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পারে।
৩০০. রাজস্ব-সংক্রান্ত সরকারি সারসংক্ষেপে উল্লিখিত ‘মোট সদর জমা’ বলতে জমিদার বা ইজারাদারদের দ্বারা প্রতিশ্রুত বা চুক্তিবদ্ধ রাজস্বের পরিমাণকে বোঝায়; তবে এর মধ্যে মোশাইরা (moshaira), সদর কাছারি (sudder cutcherry) এবং যেখানে প্রযোজ্য সেখানে পুলবন্দি (poolbundy)-র জন্য বরাদ্দকরা অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে; আর প্রথম দুটি বিষয় ‘জমিদারি খরচ’ (zemindarry charges)-এর সাধারণ সংজ্ঞার আওতাভুক্ত। এই খরচগুলো বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তা-ই হলো ‘নিট জমা’ (net jumma)।
৩০১. কালেক্টরদের বেতন ও কমিশন, সহকারীদের ভাতা, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের খরচ, ম্যাজিস্ট্রেট-সংক্রান্ত ব্যয় এবং অনুমোদিত পেনশন — এসবও রাজস্ব থেকে নির্বাহ করা হয়; তবে এগুলোর প্রকৃতি আমার উল্লিখিত অন্যান্য ব্যয়ের চেয়ে ভিন্ন।
৩০২. এখানে উল্লিখিত পার্থক্যগুলোকে এভাবে বিন্যস্ত করা যেতে পারে: প্রথমত, দেশের ‘মোট জমা’ (gross jumma); দ্বিতীয়ত, কোম্পানির দাবি করা ‘মোট সদর জমা’ (gross sudder jumma); এবং তৃতীয়ত, ‘নিট জমা’ (net jumma)। শেষোক্ত দুটি বিষয় হলো প্রথমটির সেই অবশিষ্টাংশ, যা রাজস্ব আদায়ের আনুষঙ্গিক খরচগুলো বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট থাকে। [১৯৮]
৩০৩. সুতরাং, জমিদারদের সাথে বন্দোবস্ত চূড়ান্ত করার সময় আমাদের নির্ধারণ করতে হবে যে কোন কোন খরচ তাদের বহন করতে হবে; এবং তাদের ‘জমা’-র পরিমাণও এই বিবেচনার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে হবে।
৩০৪. যদি আমরা ‘সদর জমা’-র (রাজস্বের নিট বা মূল হিসাবের) সারাংশ গ্রহণ করি, তবে প্রথম দুটি খাত — অর্থাৎ মফস্বল ও পরগনা ব্যয় — ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত বলে ধরে নেওয়া হবে এবং সেগুলোর জন্য আলাদা করে বিবেচনার প্রয়োজন নেই; পক্ষান্তরে, যদি আমরা ‘মোট জমা’ (gross jumma) গ্রহণ করি, তবে এই ব্যয়গুলোর সংস্থান রাখতে হবে — যদি না দেখা যায় যে মোট অঙ্ক থেকে সেগুলো আগেই বাদ দেওয়া হয়েছে, অথবা সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কোনো জমি বা অন্য সম্পদের মাধ্যমে সেগুলোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৩০৫. প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে আমাদের বিবেচনা করতে হবে যে, সদর কাছারি ও পুলবন্দি (বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ) সংক্রান্ত ব্যয়গুলো কি অতীতে সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির বাইরে জমিদার বা ইজারাদার নিজে বহন করতেন, নাকি এ বাবদ তাঁকে কোনো আলাদা ভাতা দেওয়া হতো, অথবা সরকার নিজেই এই ব্যয় পৃথকভাবে পরিশোধ করত। প্রথম পরিস্থিতির ক্ষেত্রে, কোনো অতিরিক্ত সুবিধা ছাড়াই তাঁকে এই ব্যয় বহন করতে হবে; পরবর্তী দুটি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে, হয় জমার পরিমাণ আনুপাতিক হারে কমিয়ে অথবা ব্যয়ের খাত হিসেবে সেগুলোর সংস্থান বজায় রাখতে হবে — যদি না এটা প্রমাণ করা যায় যে, ওই ব্যয়ের সমপরিমাণ সম্পদ বা আয় তাঁর রয়েছে।
৩০৬. একইভাবে, ‘মশাইরা’ (জমিদারের প্রাপ্য ভাতা বা বৃত্তি) সংক্রান্ত বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেখানে বর্তমানে সদর জমা থেকেই এই অর্থ প্রদান করা হয় এবং জমিদারের জন্য জমি বা ওই রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন কোনো পৃথক তহবিল থেকে আয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে হয় কোনো ভাতা চালু রাখতে হবে অথবা তাঁর নির্ধারিত রাজস্ব কমিয়ে এর সংস্থান করতে হবে। এই বিষয়টি কেবল কয়েকটি ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে — আমার ধারণা, মূলত সেসব ক্ষেত্রেই যেখানে জমিদারের জমি বর্তমানে ইজারা দেওয়া আছে; এবং এর ফলে জমার পরিমাণে আপাত হ্রাস ঘটবে, কারণ বর্তমানে যা ব্যয়ের হিসাবে দেখানো হচ্ছে, তা তখন জমার হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।
৩০৭. বিবেচনার জন্য আরেকটি বিষয় রয়েছে। নদীয়া জেলা পাঁচ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল; এবং সরকার সম্ভাব্য সমস্ত আয় বা উৎপন্ন ফসল নিজেদের দখলে নেওয়ায় জমিদার ও তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ভাতা বা সংস্থান মঞ্জুর করতে বাধ্য হয়েছিল। অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়ে থাকতে পারে।
৩০৮. সরকারের পক্ষ থেকে জমিদারদের পরিবারের জন্য পৃথক ভাতার ব্যবস্থা রাখাটা অত্যন্ত আপত্তিকর। যে প্রয়োজনে বা পরিস্থিতিতে এই ভাতার ব্যবস্থাটি মূলত চালু করা হয়েছিল, সেই প্রয়োজনীয়তা কখনোই শেষ হয় না; ফলে এই ব্যয়ভার স্থায়ী রূপ নেয়।
৩০৯. তাই সরকারের উচিত যথাসম্ভব নিজের ওপর এই ধরনের খরচের বোঝা না চাপানো এবং প্রতিটি জমিদারকে তার নিজের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে দেওয়া। যদি এই নজির বা প্রথা অব্যাহত রাখা হয় এবং এর পরিধি বাড়ানো হয়, তবে সময়ের সাথে সাথে এই পেনশনের বা ভাতার পরিমাণ বিশাল আকার ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের মানবিকতা নীতি ও বিচক্ষণতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং আমাদের ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি বা বৈচিত্র্য এর সুযোগ করে দিয়েছে। কোনো জমিদার যদি তার পরিবারের দেখাশোনা করতে ব্যর্থ হন, তবে আমার মতে, দেওয়ানি আদালতে আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে; আর যদি এ বিষয়ে কোনো বিধান না-ও থাকে, তবে বর্তমান বিধিমালার সাথে তা যুক্ত করা যেতে পারে।
৩১০. তবে এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, যেসব জমিদারের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি প্রযোজ্য, তাদের সাথে বন্দোবস্ত করার সময় এ বাবদ কোনো বিশেষ বিবেচনা বা সুবিধা তাদের দেওয়া উচিত কি না। এই সিদ্ধান্তটি উপরে উল্লিখিত পরিস্থিতির যথাযথ বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে; অর্থাৎ, যখন জমিদারের প্রাপ্য আয়কে তার সাথে সম্পাদিত বন্দোবস্তের ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়, তখন অন্যান্য খরচের পাশাপাশি এই বিষয়টিকেও (পরিবারের ভরণপোষণ) তার দায়বদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে। কিন্তু ভবিষ্যতে, জমিদারের পরিবারের কোনো সদস্যের কাছ থেকে পৃথক ভাতার জন্য কোনো আবেদন এলে তা মঞ্জুর করা উচিত নয়; বরং এক্ষেত্রে আমাদের যা করা উচিত তা হলো, জমিদার যাতে তার পরিবারের যথাযথ যত্ন নেন, সে বিষয়ে তার ওপর আমাদের প্রভাব খাটানো।
৩১১. জমিদারির খরচের তালিকায় এমন কিছু দাতব্য অনুদানের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা আসলে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই প্রদান করা উচিত। অবশ্য সুবিধার খাতিরে অনেক সময় জমিদারের মাধ্যমেও এগুলোর অর্থ প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়া আরও কিছু সামান্য বা নগণ্য প্রকৃতির খরচও রয়েছে; এবং সেগুলো কার দ্বারা পরিশোধ করা হবে তা অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে, কারণ ‘জমা’ বা রাজস্বের পরিমাণ এই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ