| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার এখন বারাণসী যেতে মন চায় না : বিজয় চৌধুরী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কারানল : সসীমকুমার বাড়ৈ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সংকট : নিকোলাস বিশ্বাস রামবাগানের ইন্দুবালা : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গণমানুষের কবি সুকান্ত : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার স্বাধীনতা তুমি কার : সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্বাধীনতা — অর্জন নয়, দায়িত্বও : যশোবন্ত রায় চোখের বালি যখন চোখের বালিশ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাগ্মী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে কি বাঙালি ভুলে গেল : অসিত দাস পূর্বিতা পুরকায়স্থ-র ছোটগল্প ‘প্রান্তিক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়া : দিলীপ মজুমদার সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি — ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশেকে লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৬৩ Views জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

২৬৭. এই আলোচনার মাধ্যমে যদি আমার একমাত্র উদ্দেশ্য কেবল এই পদক্ষেপটির প্রস্তাব করাই হতো, তবে এর সুপারিশের জন্য আমি উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের ওপরই নির্ভর করতে পারতাম; কিন্তু এর বিরুদ্ধে যেসব আপত্তি উঠতে পা, সে সব উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আমি সততা ও নিরপেক্ষতার তাগিদকেই প্রাধান্য দিয়েছি। আমি আরও স্বীকার করছি যে, বর্তমানে বিদ্যমান সমস্যাগুলো এতই বিচিত্র ও বহুমুখী যে কোনো একটা পদক্ষেপে সেগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান হয়তো অসম্ভব; তবে প্রজাদের আস্থা পুনরুদ্ধার আর সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে আমরা সংস্কারের নির্দিষ্ট বলিষ্ঠ নীতি গ্রহণ করছি — এমন এক নীতি যা ছাড়া কোনো ব্যবস্থাই সফল হতে পারে না।

২৬৮. এখন প্রয়োজন এই নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা এবং এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সর্বোত্তম নিয়মাবলি প্রণয়ন করা — যার মাধ্যমে জমিদারদের অযোগ্যতা সূত্রে উদ্ভূত সমস্যা রোধ করা এবং রায়তদের (কৃষকদের) নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, এমন এক ক্রমবিকাশমান উন্নতির পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন যা ভবিষ্যতে যথাযথ তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করতে পারবে।

২৬৯. এই লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে, ১৭৮৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই কালেক্টরদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর তথ্য চাওয়া হয়েছিল- গত তিন বছরে জমিদার বা তাদের অধীনস্থ ইজারাদাররা কোনো নতুন কর বা আবওয়াব (অতিরিক্ত কর) আরোপ করেছেন কি না; তারা এমন কোনো নিপীড়ন চালিয়েছেন কি না যা সংশোধনের জন্য বা প্রতিরোধের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন; এবং সাধারণভাবে, রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ পর্যবেক্ষণ জানানো — সেই সাথে বিদ্যমান অনিয়ম সংশোধনের ও ভবিষ্যতে তা প্রতিরোধের জন্য উপযুক্ত নিয়মাবলির প্রস্তাব করা।

২৭০. এরপর ১৭৮৭ সালের ১৯শে আগস্ট তাদের কাছে আরও সুনির্দিষ্ট নির্দেশাবলি পাঠানো হয়, যেখানে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছিল: —

১ম। জমার (রাজস্বের) পরিমাণ।

২য়। যার সাথে বন্দোবস্ত সম্পন্ন করা হবে সেই ব্যক্তি।

৩য়। জমিদার ও ইজারাদারদের দ্বারা রায়তদের ওপর নিপীড়ন রোধের নিয়মাবলি; এবং ইজারাদারদের নিজেদের মধ্যে এমন কোনো গোপন আঁতাত বা কারসাজি রোধের নিয়ম, যার ফলে জমিদার বা ইজারাদাররা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

২৭১. এই নির্দেশাবলি বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছিল এই অভিপ্রায় নিয়ে যে, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক বছরের মেয়াদে একটা বন্দোবস্ত ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হবে; এবং তা সম্পন্ন হলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ব্যাখ্যাসহ তা কোম্পানির সদর দপ্তরে (বিলেতে) পাঠানো হবে। এই তথ্যানুসন্ধানের জবাবে পাওয়া বিবরণী এবং ‘বোর্ড অফ রেভিনিউ’-এর মতামত ১৭৮৮ সালের ২০শে নভেম্বর হাতে পাওয়া যায়।

২৭২. এভাবে পাওয়া তথ্যের সহায়তা আমি পূর্ববর্তী আলোচনায় ইতিমধ্যে মাঝে মাঝে নিয়েছি; এবং পরবর্তী অংশে — অনুসন্ধানের বিষয়বস্তু তিনটি যে ক্রমে বিন্যস্ত রয়েছে, সেই ক্রমেই প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় — আমি এ বিষয়ে আরও বিশদভাবে আলোকপাত করব।

২৭৩. প্রথমত, জমার (=নির্দিষ্ট অঞ্চলে মোট রাজস্বের) পরিমাণ নির্ধারণ। এটা নির্ণয়ের জন্য কালেক্টরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তাঁরা — তাঁদের কাছে থাকা নথিপত্র ও তথ্য অনুযায়ী — পূর্ববর্তী বছরগুলোর বন্দোবস্ত ও রাজস্ব আদায়ের হিসাব পর্যালোচনা করেন। তাঁদের বলা হয়েছিল সর্বোচ্চ করের হার থেকে কী পরিমাণ কর হ্রাস ঘটেছে এবং তার কারণগুলো কী — তা চিহ্নিত করতে; এবং সেই কারণগুলোর প্রভাব সাময়িক নাকি স্থায়ী, তা যাচাই করতে। খুঁটিনাটি স্থানীয় তদন্তের বিষয় কোর্ট অফ ডিরেক্টরসের নির্দেশের পরিপন্থী গণ্য হওয়ায় তাতে আপত্তি জানানো হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে কালেক্টরদের সুনির্দিষ্ট অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করতে এবং তা নির্ধারণের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল। একই সাথে তাঁদের জানানো হয়েছিল যে, সরকারের উদ্দেশ্য এমন কোনো ভারী রাজস্ব বৃদ্ধি করা উচিৎ নয় যা আদায় করা সম্ভব নয়; বরং বন্দোবস্তের পরিমাণ এমন হওয়া উচিত যা সরকার ন্যায্যভাবে দাবি করতে পারে। এই নির্দেশাবলীতে অন্য আনুষঙ্গিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২৭৪. নির্দেশিত পদ্ধতিতে প্রতিটি জমিদারী বা পরগনার রাজস্বের পরিমাণ এমন নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা — যাতে কোনো আপত্তি না ওঠে — যে কতটা কঠিন, সে বিষয়ে আমি অজ্ঞ ছিলাম না। তবে সরকারি নির্দেশনার মূল সুরের সাথে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। আমার মনে হয়েছিল, যদি যথাযথভাবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং স্থানীয় তথ্য ও অভিজ্ঞতার (যেমন — পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় জেলাগুলোতে চাষাবাদের বর্তমান অবস্থা) সহায়তা নেওয়া হয়, তবে কালেক্টররা যথেষ্ট নির্ভুলভাবে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন যে, তাঁদের আওতাধীন জেলাগুলো থেকে সরকারের কত পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা উচিত।

২৭৫. যে প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এই তথ্যগুলো চাওয়া হয়েছিল তা যদি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়, তবে দেশের রাজস্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমাদের এই তথ্যগুলোই কাজে লাগাতে হবে। এমনকি যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এই তথ্যগুলো নিখুঁত নয়, তবুও বর্ণিত সমস্ত পরিস্থিতির আলোকে আমি কোনোভাবেই মনে করি না যে, এতে বিদ্যমান অসামঞ্জস্য বা বৈষম্য এতটাই গুরুতর যে তা সংশোধনের একমাত্র উদ্দেশ্যে ‘হস্তবুদ’ (hustabood) বা বিস্তারিত আয়-ব্যয় সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালনার যৌক্তিকতা তৈরি করে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দীর্ঘ সময়, এর সাথে জড়িত নানাবিধ জটিলতা এবং এটা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একটা সাধারণ বা সামগ্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন স্থগিত রাখার আবশ্যকতা — এসবই হলো এর বিরুদ্ধে প্রধান এবং — আমার মতে — অকাট্য আপত্তি; যা বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ার একটা প্রারম্ভিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করলে অন্যান্য যুক্তির বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২৭৬. এই তথ্যগুলো গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আমরা বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর বর্তমান কালেক্টর এবং তাঁদের পূর্বসূরি — উভয়েরই অভিজ্ঞতার সহায়তা নিচ্ছি। [১৯৬]

২৭৭. কোর্ট অফ ডিরেক্টরস এমন এক রাজস্ব ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন যা অতীতে ঘটে যাওয়া অর্থ আত্মসাৎ বা ঘাটতির (defalcations) শিকার হবে না; এবং তাঁরা মনে করেন যে, কোনো ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত সীমার বাইরে ভূমি-রাজস্ব বৃদ্ধি করাটা হবে একটা ভুল নীতি। ১৭৮১ সালে যে কমিটি বন্দোবস্ত করেছিল, তাদের কাজের ধরন তাঁরা অনুমোদন করেননি; কারণ সেই কমিটি তাদের প্রাথমিক বন্দোবস্তের ভিত্তি হিসেবে ১১৭৮ থেকে ১১৮৭ সালের মধ্যে আদায়করা সর্বোচ্চ প্রকৃত রাজস্বের হিসাবকে ধরেছিল। ডিরেক্টরদের মতে, ওই সময়কালের বার্ষিক আদায়ের গড় হিসাব নিলে তা থেকে একটা বাস্তবসম্মত ও আদায়যোগ্য রাজস্বের সম্ভাবনা পাওয়া যেত। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন যে, নিয়মিতভাবে আদায়যোগ্য একটা পরিমিত ‘জমা’ (নির্ধারিত রাজস্ব) দেশীয় প্রজাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে কোম্পানির স্বার্থকে অনেক বেশি কার্যকরভাবে যুক্ত করে — যা অত্যধিক বা অতিরঞ্জিত ‘জমা’-র ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো জোরকরে বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার চেয়ে শ্রেয়।

২৭৮. তাঁরা ‘রসদ’ বা ক্রমশ বর্ধনশীল রাজস্বের (progressive increase) ধারণারও বিরোধিতা করেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটা নির্দিষ্ট ‘জমা’ বা রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণের যৌক্তিকতা সম্পর্কে আমার চেয়ে দৃঢ় বিশ্বাস আর কারও নেই; এমন একটা ‘জমা’ যা জমিদারদের সাথে চুক্তির মেয়াদে — তা যে সময়ের জন্যই হোক না কেন — অপরিবর্তিত থাকবে। কিন্তু এমন কিছু পরিস্থিতি রয়েছে যা আমাকে বোর্ডের বিবেচনার জন্য এই প্রশ্নটি উত্থাপন করতে প্ররোচিত করছে যে, কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে বন্দোবস্তের শর্তে ‘রসদ’-এর (ক্রমবর্ধমান রাজস্বের) বিধান রাখা উচিত কি না।

২৭৯. মুঘল প্রশাসনের নীতিতে উন্নয়নের অনুপাতে কর আরোপের অধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল; তবে আমার ধারণা, এটা প্রমাণিত যে আকবর থেকে শুরু করে ফারুকশিয়ারের আমল পর্যন্ত তাঁরা সংযমের সাথেই সেই অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। আর যখনই তাঁরা সেই নিয়ম থেকে সরে এসেছেন, রাজস্বের হিসাব ও দাবির ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তাও সেই অনুপাতে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি স্বীকার করি যে সেই একই অধিকার এখন আমাদের ওপর বর্তেছে; কিন্তু কর নির্ধারণের নীতি হিসেবে এটা গ্রহণ করার সুপারিশ আমি কোনোভাবেই করব না। কারণ, আমরা বর্তমানে যে সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি — যদি তা সম্ভব হয় — তার ভিত্তিকেই এটা ধূলিসাৎ করে দেবে। বিবেচনার জন্য এই প্রশ্নটি উত্থাপন করার পেছনে আমার উদ্দেশ্য কিন্তু এমন কোনো রাজস্ব বৃদ্ধি নয় যা দেশ বা জমিদারদের ক্রমশ বর্ধনশীল সক্ষমতার অনুপাতে নির্ধারিত হবে; বরং অন্যান্য কারণও থাকতে পারে।

২৮০. এমন পরিস্থিতি থাকা সম্ভব যেখানে কোনো মৌসুমের আকস্মিক ক্ষতি কিংবা ধারাবাহিক অব্যবস্থাপনার কারণে আয় স্বাভাবিক গড় মানের চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে; অথচ দেশের ওপর নতুন কোনো বোঝা চাপানো ছাড়াই বর্তমান ব্যবস্থার অগ্রগতির মাধ্যমে এই পরিস্থিতির সংশোধন হতে পারে।

২৮১. প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে, ক্ষতি যদি কেবল এক বা দুটি মৌসুমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তাকে রাজস্বের স্থায়ী হ্রাস হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়; ন্যায়বিচার বা ন্যায্যতার খাতিরে যা প্রয়োজন তা হলো — প্রথমত, যেখানে আবশ্যক সেখানে এর জন্য যুক্তিসঙ্গত ছাড় দেওয়া এবং সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত সেই ছাড়ের মেয়াদ বজায় রাখা। দ্বিতীয় ধারণার ক্ষেত্রে একটা বড় জটিলতা রয়েছে। অব্যবস্থাপনার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, তা যদি একবারে আদায় করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা কর্মোদ্যোগের পথে বাধা সৃষ্টি করবে; অন্যদিকে, এমন যুক্তিও দেওয়া যেতে পারে যে, প্রজাদের অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারের কোনো ক্ষতি হওয়া উচিত নয়।

২৮২. তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা এখন এমন একটা নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি যা প্রজাদের মনে আস্থা জোগাবে এবং পরিবর্তনশীল নীতিমালার ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো দূর করবে; আমরা তাদের আমাদের সংযত মনোভাব সম্পর্কে নিশ্চিত করতে চাই এবং সেই সাথে দৃঢ়তা দেখিয়ে বোঝাতে চাই যে, আমরা ন্যায্য পাওনাটুকু আদায় করতে চাইলেও তাদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে দাবি বাড়ানোর পক্ষপাতী নই। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো সেই সব ষড়যন্ত্র বা কূটকৌশলের অবসান ঘটানো, যার মধ্যে তারা কখনও কখনও বাধ্য হয়ে জড়িয়ে পড়েছে, যদিও প্রায়শই তারা অভ্যাসবশতই সেগুলোর আশ্রয় নিয়েছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন এমন কোনো জটিলতা বা বাধার সৃষ্টি না হয় যা এই নীতির কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে — বিশেষ করে কর বা রাজস্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে; কারণ আমার আশঙ্কা, অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের হয়তো এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হতে পারে যা জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও ভিন্নভাবে প্রতীয়মান হতে পারে।

২৮৩. আমাদের বর্তমান আলোচনার উদ্দেশ্য যদি ব্যবস্থার স্থায়িত্বের কথা বিবেচনা না করে, কেবল সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব (জমা) আদায় করা হতো — তবে আমরা জমিদারদের সাথে চুক্তি সম্পাদনের নীতি পুরোপুরি পরিত্যাগ করে অন্য কোনো উপায়ে তা আদায়ের চেষ্টা করতাম। সেই প্রচেষ্টার ফল আশানুরূপ হতো কি না, সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে; কিন্তু যেহেতু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, সব ক্ষেত্রেই যেখানে সম্ভব জমিদারদের সাথেই বন্দোবস্ত করা হবে, তাই সেই বন্দোবস্তের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকেও মূল নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

২৮৪. এই বিবেচনাগুলোকে যদি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে সিদ্ধান্ত দাঁড়ায় যে — ভবিষ্যতে যাদের সাথে আমরা বন্দোবস্ত করব, তাদের ওপর অতীতের অব্যবস্থাপনাজনিত ক্ষতির সম্পূর্ণ দায় চাপানোর পরিকল্পনা আমাদের মাথা থেকে বার করে দেওয়া উচিত অর্থাৎ এই পথ থেকে সরে আসা উচিৎ; অথবা অন্য কথায় বললে, অতীতের কোনো এক সময়ের সর্বোচ্চ কর-হার এবং বর্তমানের কমানো করের পরিমাণের মধ্যকার পার্থক্য তাদের কাছে দাবি করা থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত। সম্পদের উপযুক্ত হিসাব এবং সেই সম্পদ দাবিকরা অর্থের সমতুল্য — এমন প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের প্রচেষ্টা আসলে অযৌক্তিক হবে; তবে যেখানে রাজস্বের ঘাটতি অত্যধিক বলে মনে হয়, এবং যেখানে সম্পদ বিদ্যমান থাকার বিষয়টি প্রমাণিত বা যুক্তিসঙ্গতভাবে অনুমান করা যায় — এবং যা পরিমিত উদ্যম ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আদায়যোগ্য (তাঁদের প্রচেষ্টাকে অতিরিক্ত নিরুৎসাহিত বা ধ্বংস না করেই) — অর্থাৎ যেখানে রাজস্বের উৎসগুলো প্রকৃতপক্ষে নষ্ট করা হয়নি বরং কেবল গোপন বা অপব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে ভবিষ্যতের ব্যবস্থাপনার সাফল্যের ওপর কিছুটা আস্থা রাখা যেতে পারে এবং অতীতে যা ক্ষতি হয়েছে তার একটা অংশ ভবিষ্যতে জমিদারদের কাছ থেকে দাবি করা যেতে পারে। তাঁদের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা যেমন এই ব্যবস্থার সাফল্যের জন্য ক্ষতিকর হবে, তেমনি অতিরিক্ত কঠোরতাও সমানভাবে ক্ষতিকর হবে; আদায় বা করের পরিমাণ সীমিত হতে হবে এবং ভূমির মালিকদের তাঁদের শ্রমলব্ধ ফসল ভোগের সুযোগ দেখিয়ে কঠোর পরিশ্রমের জন্য উৎসাহিত করতে হবে; কিন্তু ন্যায়বিচার বা রাষ্ট্রনীতি — কোনোটিই এমন দাবি করে না যে, সরকার এমন ক্ষতি মেনে নেবে যা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, কিংবা জমিদাররা তাঁদের নিজেদের অব্যবস্থাপনা থেকে বিপুল সুবিধা ভোগ করবেন। বাস্তবে এই যুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা দেখা দিতে পারে; তবুও এর প্রচেষ্টা চালানো উচিত। [১৯৭]

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev