তসলিমার কলকাতা আসার খবরটা শোনার পর থেকেই আমার ৪ঠা মে’র পরবর্তী সময়ের রাগ, দুঃখ, আনন্দ, বিরক্তি, অস্থিরতা, কষ্ট, যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা সব মিলেমিশে দমবন্ধ হয়ে থাকা একটা নিস্তরঙ্গ নির্জন একলা ভাবনায় ঘুরপাক খেতে থাকা মাস আড়াইয়ের যাপনটা একটু একটু করে মুক্তি পেতে শুরু করলো ওর উনিশ বছর আগে কলকাতায় থাকার সময়কার আমার তোলা নানান ছবির ভিতরে। নিজের দেশ থেকে নির্বাসিত একটি মেয়ের বিষাদময় জীবনের নানান দিনলিপির মুহূর্ত আবার চোখের সামনে একটু একটু করে শয়ে শয়ে ছবির ভিতরে ভেসে উঠলো….
আমি মুহূর্তের সন্ধানে ডুবে থাকা ছাড়া জীবনে আর তেমন কিছু গুরুত্ব দিয়ে করিনি। মেজর কোনো অ্যাসাইনমেন্ট না থাকলে সারাদিন শুধু ছবির নেশায় ঘুরে বেড়াতাম শহর জুড়ে। তসলিমা তখন থেকেই আন্তর্জাতিক নাম। আমার নিজের গরজেই ওর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছিলাম। তসলিমা শহরে থাকলে কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে আমার চেষ্টা থাকতো কিছু অন্যরকম ছবি তুলে ধরার…. সেরকম বহু ছবি আমার ঝুলি থেকে এই কদিনে বেড়িয়েছে যার প্রতিটাই একটা গল্প। তবুও যার নেশা মুহূর্তকে বন্দি করা সেকি আর কলকাতা থেকে বিতাড়িত তসলিমার উনিশ বছর পর ফেরার ছবি তোলবার সুযোগটা হাতছাড়া করবে?
অতএব তসলিমার সঙ্গে কথা বলেই হাতে লণ্ঠন করে ঠনঠন না না কাঁধে ঝোলা হাতে ক্যামেরা নিয়ে ওর কলকাতা সফরের ফটোগ্রাফারের তকমা গলায় ঝুলিয়ে ৩১ শে জুলাই থেকে গতকাল ৪ঠা আগস্ট দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে কলকাতা ফেরার নানান মুহূর্তকে ক্যামেরায় বন্দি করেই কাটলো এই কদিন। নিজের দেশে মাথায় মৃত্যু ফতোয়া জারি থাকা তসলিমাও কিন্তু আমার ফটোগ্রাফির একটা সাব্জেক্ট। ওর কলকাতা ও ভারতযাপনের বৃত্তটাই আমি ফলো করছি।
কলকাতাতে ফিরে তসলিমা ভীষন খুশি। দেখতে গেলে যে ভয়ংকর পরিস্থিতির ভিতরে ও কলকাতা ছেড়েছিলো তার ছিটেফোঁটাও কোথাও দেখা যায়নি। নিরাপত্তার স্বাভাবিক কড়াকড়ি যথেষ্ট পরিমাণে থাকলেও একদম নিস্তরঙ্গ লেখকসুলভ পরিবেশের ভিতরেই কেটে গেল। নির্বাসনের সময়কার স্মৃতির পাতাগুলো ফিকে হয়ে তসলিমার জীবনে এই শহর আবার হয়তো তার প্রাণের শহর হয়ে উঠবে….
চুপ থাকবোই ভেবেছিলাম কিন্তু তাল যখন কেটেইছে তখন কয়েকটা কথা না বললেই নয়…. আমার মত যারা এই শহরে বিরুদ্ধতা, অসহোযোগিতা, হিংসা ও বিশ্বাসভঙ্গের ভিতর দিয়েও বন্ধুত্ব, সহযোগিতা বজায় রেখে তবেই পেয়েছি সম্মান-স্নেহ-ভালোবাসা সেই কলকাতায় তসলিমার আগমনে একদিকে যেমন খোলা হাওয়ার দখিন জানলা দেখতে পেলাম, তেমনই রবীন্দ্র সদনে কবি জয় গোস্বামীর ঘটনাটা না ঘটলেই ভালো হত।
বাক স্বাধীনতা উদযাপনের সন্ধ্যায় একজন লেখককে সংবর্ধনা দেয়া হবে আবার একই কারণে আরেক কবিকে বলতে না দিয়ে মঞ্চ থেকে নামিয়ে আনা হবে এটা ঠিক হয়নি। অনুষ্ঠানে জয়কে তসলিমা নিজে ডেকেছিলো। ওর হাতে থাকা কাগজের পাতায় কিছু কথা আমরা শুনলে কি অসুবিধা হত? জয় তৃণমূল সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলো তাই সে শুধুই চটিচাটা তকমার যোগ্য এটা সেদিনের অনুষ্ঠানেরই পরিপন্থী হয়েছে।
ওই মঞ্চেই উপস্থিত সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিগত সরকারের আমলে একেবারে যাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিলো। যা তার প্রতি দমন পীড়নই বলা যায়। জয়ের সঙ্গে যা করা হলো সেটা তো সেই আগের মতই ব্যবস্থা রইলো। কি পরিবর্তন তবে হলো?
জয়কে তৃণমূলের চামচা বলে দাগিয়ে দিয়ে কোনো লাভ নেই। ওর সৃষ্টিতেই ও বিখ্যাত। আমি এটুকুই বলতে পারি, আনন্দবাজারের ডেস্কে জয়, সুনীলদা, শক্তিদা, আবুল বাশার, শ্রীপান্থ, রমাপদ চৌধুরী, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এদের গায়ে গা লাগিয়ে যখন সাহিত্য, সমাজ, জীবনের ভাবনার আলাপগুলো শুনতাম মনে হত এরা সাধারণ মানুষের ভাবনার থেকে বহু ঊর্ধ্বে থাকা জগতের মানুষ। সেখানে তাদের কোনো না কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির প্রতি গুণমুগ্ধতা থাকতেই পারে। সেই দোষে ওই লেখক কবি সাহিত্যিককে কারোরই অপমানিত করার অধিকার জন্মায় না।
নিজেকে একটু বড়ো করা হয়তো হবে কিন্তু দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছরের চিত্র সাংবাদিকতার জীবনে আমার আজ অবধি কোনো সেলিব্রিটি ব্যক্তিত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক ঠোক্কর লাগে নি। কারণ আমি তাদের নকশাল, কংগ্রেস, বাম, তৃনমূল, বিজেপি এসব রঙ দিয়ে ভাবিনি। আমার ছবি নিয়ে বিষয় আমি সেটুকুতেই তাদের বেঁধে রাখতাম। ফলে বাংলার বা দেশের শিল্পী সাহিত্যিক লেখক কবি সবার সঙ্গেই আমার আজও যথেষ্ট সদ্ভাব বজায় আছে। কারণ আমি নিজের রাজনৈতিক মতামত দিয়ে কবি সাহিত্যিককে বিচার করবো কেন? বরং তাদের শিল্পকীর্তি নিয়ে কথা বলবো।
আমি জ্যোতিবাবুর সময় থেকে রাজনৈতিক ছবি তুলছি। জাতীয় স্তরেও অনেক নেতা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কভার করেছি। সবাই যথেষ্ট সাহায্য করেছে আমার কাজে। আবার এমনও হয়েছে যে — ছবি তুলতে গিয়ে তারা বিরক্ত হয়েছে। হয়েছে তো হয়েছে। আমি কখনও সেসব নিয়ে জটলা পাকিয়ে লবি করিনি। খোদ বুদ্ধবাবুই তো কোনো একবার ভোটের ঝামেলায় সিপিএমের ক্যাডাররা ক্যামেরা ভেঙে দেওয়ায় সেই নিয়ে আমরা হুজ্জত করাতে আমাকে দেখেই বেশ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলেছিলেন, “আমাদের রিলিফ ফান্ড থেকে আপনাকে ক্যামেরার টাকা দেওয়া হল। আপনার কোম্পানি (আনন্দবাজার পত্রিকা) দেয় নি। আমরা দিলাম।”
আমি উত্তরে বলেছিলাম, “বুদ্ধবাবু ক্যামেরা আনন্দবাজার দেয় কি দেয় না তার চেয়ে আপনাদের ক্যাডাররা ক্যামেরা ভেঙেছে এই দায়িত্ব আপনাদের নিতেই হবে। আর টাকা আমি চাইনি ফটোগ্রাফার এ্যাসোসিয়েশন আপনার কাছে তদবির করেছে।” উনি কথা না বাড়িয়ে চলে যান। তখন উনি মুখ্যমন্ত্রীও নন। তথ্যমন্ত্রী। তারপর তো মুখ্যমন্ত্রী হলেন। কত ছবি তুলেছি তার ইয়ত্তা নেই। ওনার মেয়ে সুচেতনার সঙ্গে বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করার সূত্রে আমার খুব যোগাযোগ ছিলো একসময়। কোই ওদের কারোর প্রতি তো আমার কোনো বিদ্বেষ নেই।
আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত একটা চরিত্রকে আমি ফলো করেছি প্রায় ওনার রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু থেকেই। শেষ কয়েকবছর নবান্নে কাজ করেছি। ওনার কাজকর্ম চোখের সামনে দেখে ভালো লেগেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেগুলো লিখেছি। বেশ করেছি। অফিসিয়াল কিছু মতানৈক্য দেখা দিয়েছিলো সেগুলোতে বিরক্ত হয়েছি। সেসময় বলিনি কারণ একটা জায়গায় কাজ করার কিছু রীতিনীতি মেনে চলতে হয়। এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে সেসব কথা বলেছি বলে অনেকেই কটূক্তি করে যে, “এইতো দল বদলে ফেললেন; এখন উনি নেই তাই বড়ো বড়ো কথা বলছেন।” তাদেরকে বলি, বাবা মায়ের শ্রাদ্ধ কি কেউ বেঁচে থাকতে করে? আর দোষ বলেছি বলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে চিরশত্রু হয়ে গেলেন — না।
ঘটনা হচ্ছে, রাজনীতি ক্রমবর্ধমান একটি প্রসেস। আমি তো সামান্য একটা ফটোগ্রাফার আমার কথার মূল্য নাহয় ছেড়েই দিলাম কিন্তু তসলিমা, জয় এদের মত বিখ্যাত ব্যক্তিদের দিয়েও সেই ধারাকে বিচার করা বোকামী। এখন শাসক বুদ্ধ, শাসক মমতা কিংবা সদ্য আগত শাসক শুভেন্দুর রাজনৈতিক লড়াইয়ে স্ব স্ব রাজনৈতিক মতের প্রতি অনুরক্ত মানুষরা যদি মনে করে কবি সাহিত্যিকদেরও তাদের মনের মত কথা বলতে হবে তাহলে তো তসলিমার শহরে আসার উদ্দেশ্যটাই মাঠে মারা গেল। সরকারের বিজ্ঞাপনই বারবার বলছে ভরসা যেখানে ইন ভয় যেখানে আউট সেখানে মানুষের এই বালখিল্যতা পোষায় না। তসলিমার কথা শুনতে যারা এসেছিলেন তারা তাহলে বাক স্বাধীনতার প্রতিষ্ঠা ও প্রগতির পতাকাবাহী হতে চান না এটাই বুঝে নিতে হবে।
অনেকেই বলছেন, তসলিমা নিজে কেন প্রতিবাদ করলেন না? এটা ঠিকই ও কিছু বললে হয়তো ব্যাপারটা অতদূর গড়াতো না। কিন্তু তসলিমাকে যারা চেনেন তারা জানেন যে, ওর লেখা যতটা সাহসী ও নিজে কিন্তু নার্ভাস থতমত প্রকৃতির। এতদিন পর কলকাতায় এসে এতবড়ো মঞ্চে হঠাৎ হইচইয়ে ও তৎক্ষণাৎ কিছু বুঝতে পারেনি। ওর আশঙ্কা হয়েছিলো যদি জয়কে বলতে বলার জন্য গোটা অনুষ্ঠানটা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তো খুব খারাপ হবে। জয় ওর বন্ধু। ওর বিশ্বাস ছিলো পরে জয়ের সঙ্গে কথা বললেই এটা মিটে যাবে। এবং মিটে গেছেও। তসলিমা জয়ের বাড়িও যাবে ভেবেছিলো তবে সময়ের অভাবে সেটা হয়ে ওঠেনি।
তসলিমা আসার খবর শোনার পর থেকেই বহু সংবাদ মাধ্যমে আমরা দেখেছি জয়-তসলিমার কলকাতা ছাড়ার সময়ে প্রতিবাদ না করার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। অথচ জয়কে আপনারা ক্ষমা করতে পারলেন না। ক্ষমাই পারে সামাজিক সুস্থতা ও সাংস্কৃতিক সভ্যতা রুচি দিয়ে আমাদেরকে একে অপরের সঙ্গে বেঁধে রাখতে। তসলিমাও তো এই কারণেই ভারতেই থাকতে চায়।
এটা বুঝতে হবে যে, কোন কবি কোন লেখক যতই সরকারের গুণ গান কিংবা বদনাম করুন তারা কিন্তু চিরকালই থেকেছে তাদের সাহিত্য তাদের সৃষ্টির ভিতরেই। সরকার তাদের মনোমত হোক বা নাহোক তারা তাদের সাহিত্য চর্চা করে যাবে তাদের একান্ত যাপনে। এভাবেই একজন জয় একজন সুনীল তৈরি হয়েছে। তাদের গায়ে ডান বাম মধ্য এর ব্যাজ লাগিয়ে আমরা ভাগ করে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামতে পারি না। এটা ভবিষ্যতের জন্যও সুখকর নয়।
একটা সরকার চললে সাংস্কৃতিক জগতের মানুষদের সুবিধা অসুবিধায় খোঁজ নেওয়া বা আর্থিক সহায়তা প্রদান এগুলো সরকার ছাড়া কে করবে? এখন সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও লেখককে কারণে অকারণে সরকারকে গালি দিতে হবে এটা দাবি হলে তো মহা মুশকিল।
আমি তো দেখছি তসলিমাকেও ফেলে দেওয়া হচ্ছে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সুবিধা করে দেওয়ার ক্যাটাগরিতে…. এগুলো ঠিক নয়। এই কদিন তসলিমার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া ও নানান গল্পের ফাঁকে রবীন্দ্র সদনের ঘটনাটা এসেছে। সেখানে ও দ্বিধাহীন বলেছে বিশ্বজুড়েই মানুষের বাক স্বাধীনতাই বিশ্বাস করে। যে কারণেই এত ব্যস্ততার মধ্যেও ও ঠিক সময় বের করে পানিহাটিতে পরাধীন ভারতের সময় নারী শিক্ষা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনের সমাধি ও আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে দিল্লী ফিরে গেল। ওর সঙ্গে যা হয়েছে তার বিরুদ্ধে শুধু নয় সবরকম মৌলবাদের বিরুদ্ধেই ওর প্রতিবাদ সবসময় থাকবে এটাই ওর মূল বক্তব্য।
আচ্ছা এই সরকারের আমলেই যদি কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে আর তসলিমা সেটার সমালোচনা করে তাহলে কি আপনারাও তাকে বয়কট করবেন?
লেখক সে তার স্বাধীনতায় লিখবে বলবে চলবে। এবং ওর সঙ্গে যা ঘটেছিলো তারপর ওকে তো এখানে কেউ নিয়ে আসতে আগ্রহীও হয়নি। সেখানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার নিয়ে এসেছে বলে স্বাভাবিকভাবেই তসলিমা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এটা যদি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকজনদের পছন্দ নয় বলে তসলিমাকে কটু কথা বলার মধ্যে কোনো বীরত্ব নেই।
এখন মজাটা হলো, তসলিমা, জয়, সুনীলদা, শঙ্খদা, নচিকেতা, কবির সুমন-সহ শিল্পী সাহিত্যিক লেখক কবি মহলের কেউই যখন এই ভাগাভাগির খেলা থেকে বাঁচতে পারছে না তাহলে আমি তো নেহাতই একজন সাধারণ ফটোগ্রাফার। ফলে আমিও দাগী কারণ বিগত সরকারের অধীনে আমি কাজ করেছি। তাই আমার আজকাল থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত সাংবাদিক জীবনের যাবতীয় অর্জনকে তাচ্ছিল্য অসম্মান করা নিয়ে আর কিই বা বলবো!
ভালো জিনিসটাই থাকে। খারাপ জিনিস বেশিদিন থাকে না। আমি আর্ট ফটোগ্রাফি করতে পারি না। আমি আদ্যোপান্ত একজন ফটো-জার্নালিস্ট। হার্ডকোর খবরের ছবি তোলাটাই আমার কাজ। সেখানে খুন, জখম, দুর্ঘটনা, মারপিট, রাজনৈতিক কভারেজের ভিতরেই আমার ঘোরাফেরা। সেই সূত্রেই তসলিমার এত বছর পর কলকাতায় আসার ছবি তোলার কাজটা করলাম।
এইভাবেই একের পর এক কভারেজের ভিতর ঢুকে থাকতে আমি চিরকালই ভালোবাসি। এর বাইরে আমাকে মুখ দেখাতে হবে, সোসাইটিতে নম্বর বাড়াতে হবে, এমন জীবন যাপন আমার দ্বারা সম্ভব নয়। আপনাদের কাছে আমি হয়তো মূর্খ বোকা, এযুগের সঙ্গে বেমানান কিন্তু আমার তাতে বয়ে গেল।
আপনারা সেদিন জয় গোস্বামীকে অপমানিত করলেন, আমাকে তো নিত্য গালাগালি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চটিচাটা দালাল উপাধিতে; অথচ যেসব নেতা মন্ত্রীরা দল হারার দুদিন যেতে না যেতেই দলবদল করে এখন আপনাদেরই গা ঘেঁষে রং বদলে নিলো গিরগিটির মত তাদের বিরুদ্ধে একটা কথা বলতে পারেন না। এই পরিবর্তনে তাহলে কি লাভ?
আমি যে মেজাজে আনন্দবাজারে কাজ করেছি সেই মেজাজেই নবান্নের চোদ্দোতলাতেও বারো বছর ছিলাম। তাতে হয়তো আমার বদনাম জুটেছে রাগী অহংকারী; কিন্তু আমি এটাই। আমার কারোর কাছে কিছু প্রমাণ করার নেই। কারণ আমার কাজটাই আমার বিশ্বাস। আমি সেই ছবির ভিড়ে ঠাসা দিনযাপনের ভিতরেই ঘোরাফেরা করবো।
এখন আপাতত নটে গাছ মুড়িয়ে দিয়ে আমার কথা ফুরালো। সরকার আসবে সরকার যাবে। সেই তালে তাল দিয়ে কলকাতার ভাষা বদলাতে থাকবে। কিন্তু জয়, তসলিমারাই ইতিহাসের পাতায় রয়ে যাবে। তাই সময়ের গর্ভেই ভালোমন্দের বিচার থাকুক।