Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উম্মে মুসলিমা-র ছোটগল্প বারবনিতা সাহিত্যিক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও বঙ্গসাহিত্য : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কবিতার আয়ুষ্কাল — নজরুলের বিদ্রোহী : রফিকুর রশীদ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ হেলালগীতি : ড.মুন্সি আবু সাইফ সোনাম ওয়াংচুক — গান্ধিবাদী অনশনের ঐতিহ্য : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নুসরাত সুলতানা-র ছোটগল্প ‘ইনকিউবেটর’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্পেন — রবীন্দ্রনাথ কখনও এখানে খেতে আসেননি : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ জাতি সংঘের চিঠি : নির্বাচন কমিশন ও ভারত সরকার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি ডালিয়া — ডায়েট ফ্রেন্ডলি রেসিপি : রিঙ্কি সামন্ত ছানি অপারেশন কোথায় ও কখন করা উচিত : ডা. তনুশ্রী চক্রবর্তী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অপারেশন লোটাসের ইতিবৃত্ত : দিলীপ মজুমদার ওড়িশার পঞ্চদশ শতকের মহাকবি সরলা দাসের কোটিপূজাই আজ খুঁটিপূজা : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ঢেউ-এর দোলায় তসলিমা নাসরিন : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রথ নিয়ে বাংলা প্রবাদ ও তার সামাজিক তাৎপর্য : অসিত দাস মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘গোধূলির চিতায়’
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৯ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

৪০. এখন আমরা এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করি — এই প্রক্রিয়ার বস্তবিক  উদ্দেশ্য ছিল জমিদাররা যে মুনাফা অর্জন করত, সেই মুনাফা থেকে বঞ্চিত করা এবং সেই সম্পূর্ণ অংশ রাষ্ট্রের কোষাগারে আত্মসাৎ করা। এই ব্যবস্থা কেবল একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্তই ফলপ্রসূ হতে পারত; কারণ জমিদাররা তাদের আয়ের একাংশ ছেড়ে দিতে সম্মত হলেও, প্রজাদের ওপর নতুন নতুন কর বা বাড়তি বোঝা চাপানোর অধিকার তো ছেড়েই দিতেন না বরং রাষ্ট্রের কাছে সেই হারানো অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতেন। বাস্তব অভিজ্ঞতাও এই সত্যকেই প্রমাণ করে; আর এই প্রবণতা থেকেই বর্তমানে নানাবিধ খাজনাক, আবওয়াব এর দাবির সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার উৎস খুঁজে পাওয়া সম্ভব — এই বিষয়টা সাধারণ মানুষের পক্ষে তো বটেই, এমনকি অন্য কারোর পক্ষেই বোঝা বা সহজবোধ্য করা প্রায় অসম্ভব।

৪১. জাফর খান, সুজা ও আলীবর্দীর আরোপিত অতিরিক্ত করের পরিমাণ ১৬৫৮ সালের ‘তুমার’ বা প্রমিত রাজস্ব-নির্ধারণের (standard assessment) প্রায় ৩৩ শতাংশ; আর সম্ভবত একই সময়ে প্রজাদের ওপর জমিদারদের আরোপিত রাজস্বের হার ৫০ শতাংশের কম ছিল না। কারণ, নাজিমদের দেয় অর্থের বাইরেও তাঁদের নিজেদের জীবিকা ও পারিশ্রমিকের জন্য অর্থের প্রয়োজন ছিল, যা তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই প্রজাদের থেকে আদায় করতেন।

৪২. যেসব পরিস্থিতি নাজিমদের এই কর আরোপের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল বলে আমার ধারণা, সে সব পরিস্থিতি বিচার করলে আমরা তাদের আচরণকে সম্ভাব্য সর্বোত্তম আলোয় বিচার করতে পারি; কিন্তু কোনোভাবেই স্বীকার করি না যে নাজিমরা তাদের দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং জমিদারদের আদায়করা অর্থের পরিমাণের মধ্যে কোনো যথাযথ সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পেরেছিলেন। আমার বিশ্বাস, এ ধরনের কর আরোপের ভিত্তি হিসেবে সুনির্দিষ্ট কোনো অনুসন্ধানের চেয়ে সাধারণ ধারণা বা সম্ভাব্য মুনাফার অনুমানকেই তাঁরা অনেক বেশি গুরুত্ব দিতেন — অর্থাৎ, একটি কর প্রদানের বিষয়টিকেই তাঁরা অন্য আরেকটি কর দাবির যৌক্তিক ভিত্তি হিসেবে গণ্য করতেন। প্রতিটি করের পৃথক পরিমাণ খুব একটা বিশাল ছিল না এবং বাংলার মোট রাজস্বের ওপর পাঁচ বা দশ লক্ষ টাকার সংযোজনকে খুব একটা বোঝা বলে মনে হতো না। কিন্তু মীর কাসেমের ভাগ্যেই জুটেছিল এমন এক দাবি উত্থাপনের বিষয়টি — যার মাধ্যমে তিনি মাত্র এক বা দুই বছরের মধ্যেই রাজস্বের পরিমাণ এমনভাবে বাড়িয়েছিলেন, যা বিগত প্রায় দুই শতাব্দীর মোট বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

৪৩. ভূমিতলের চাষিরা — যাদের শ্রমই রাষ্ট্রের আদায় করা সম্পদ — তাদের কথা এই ব্যবস্থাসমূহে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না; জমিদারদের দাবি করা অর্থ বা কর পরিশোধ করলেই তা চিরস্থায়ী হিসেবে গণ্য করার বিষয়টিই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়েছিল। কৃষকদের (রায়ত) কাছ থেকে আদায় করা রাজস্বের পরিমাণ জমির উৎপাদনের তুলনায় কী অনুপাতে ছিল, তার কোনো হিসাব করা হয়নি; এমনকি সেই অর্থের পরিমাণ সীমিত রাখার বা উৎপাদনের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিশ্চিত করার জন্যও কোনো নিয়ম নির্ধারণ করা হয়নি [43. The cultivators of the soil, whose labours constitute the real wealth of the state, do not appear to have been considered in these arrangements; it was sufficient that they had paid the exactions of the zemindars to render them perpetual; no calculation was made of the proportion which the revels, levied from the ryots, bore to the produce of the lands; nor any rule prescribed for limiting that amount, and for securing a certain portion of the produce of them.]। [এই পয়েন্টটার মূল ইংরেজি উল্লেখ করলাম, কারন এই পয়েন্টে সম্পাদক ফার্মিঙ্গার মন্তব্য করেছেন sic in orig., যদৃষ্টং তৎ লিখিতং। তিনি কেন এটা লিখেছেন, তার একটা ব্যাখ্যা টিকা ১-এ দেওয়াগেল]

৪৪. ১৭৫৫ সালে আলীবর্দী খানের শাসনকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত নাজিমরা জমিদারদের ওপর যে কর বা বোঝা চাপিয়েছিলেন এবং জমিদাররা কৃষকদের কাছ থেকে যে বর্ধিত অর্থ আদায় করেছিলেন, তা আদৌ নিপীড়নমূলক ছিল কি না — সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য আমার কাছে নেই। পরবর্তী সময়ের আদায়ের হারের ভিত্তিতে যদি কোনো অনুমান করা হয়, তবে ধরে নিতে হবে যে সেই বোঝা খুব একটা বড় ছিল না এবং সে সময়ে দেশের সম্পদ বা উৎপাদনক্ষমতা সেই আদায়ের মাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট করা যাক, কর আরোপের এই পদ্ধতি মূলত কৃষক এর জমিদার — দু’পক্ষেরই জন্যই ধ্বংসাত্মক ছিল; এবং এর প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল জমিদারদের জোর করে অর্থ আদায়ে বাধ্য করা এবং সবাইকে প্রতারণা, তথ্য গোপন ও চরম দুর্দশার দিকে ঠেলে দেওয়া।

৪৫. কাসিম আলী এই নীতিকে আরও প্রসারিত করেন এবং কৃষকরা যা কিছু রাজস্ব/খাজনা পরিশোধ করত, তার প্রায় পুরোটাই রাষ্ট্রের কোষাগারে আদায়ের আত্মস্যাৎ করার উদ্যম নেন। তাঁর শাসনের শুরুর দিকে, নিজস্ব প্রতিনিধি পাঠিয়ে জমিদার ও রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তাদের আয়ের উৎস এবং অর্থ আদায়ের পদ্ধতিগুলো যাচাই করেন; এবং তাঁর পূর্বসূরিদের ধার্য করা করের অতিরিক্ত হিসেবে একবারে ৭৪,৮১,৩৪০ টাকা আদায়ের দাবি জানান। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃষকদের জীবিকা ও আয়ের জন্য নির্ধারিত অংশটুকু থেকেও তাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন। [১৭৮]

এপেন্ডিক্স ১

২৬ পয়েন্টে ফার্মিঙ্গারের এপেন্ডিক্স ১ আবার দিলাম, আর তার ব্যাখ্যা উল্লেখ করলাম।

আজমির প্রদেশে ১,১৭,৯১,৮৫৩ টাকার রাজস্বের বিবরণ

ক্রম      নাম      পরিমাণ (টাকা)

১ম       ওয়াজাশাত খাসনোভারসি             ২,৫৮,৮৫৭

২য়      নজরানা মুকররি                      ৬,৪৮,০৪০

৩য়      সরফ মাথাউত                        ১,৫২,৭৮৬

৪র্থ      মাথাউত ফিলখাঞ্চ                    ৩,২২,৬৩১

৫ম      ফৌজদারি আবওয়াব                  ৭,৯০,৬৩৮

৬ষ্ঠ      চৌত মারহাট্টা                        ১৯,১৪,০৯৫

৭ম      আহুক ও খিস্ত গোর                   ১৫,৩১,৮১৭

৮ম      নজরানা মনসুর গঞ্জ                   ১,৯২,১৪০

৯ম      আলিবর্দি খানের (প্রথম)              ৫,০১,৫৯৭

১০ম     আলিবর্দি খানের (দ্বিতীয়)             ২২,২৫,৫৫৪

মোট রাজস্ব :                                   ১,১৭,৯১,৮৫৩ টাকা

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট)

এই তালিকা ফিফথ রিপোর্টের সাথে জুড়ে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল – আবওয়াব (অতিরিক্ত কর) নামে পরিচিত সেই সব রাজস্বের তালিকা করেছে যা ১৭২২ থেকে ১৭৬৩-র মধ্যে সুবাহদারি (ভাইসরয়াল) রাজস্ব হিসেবে আরোপ করা হয়েছিল।

মূল পয়েন্ট — আবওয়াব: মূল ‘তুমার জুমা’ (ভিত্তি রাজস্ব) এর ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর। মুঘল আমলে এই করগুলো রাজস্ব বৃদ্ধির প্রধান হাতিয়ার ছিল, যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলেও অব্যাহত থাকে; ফৌজদারি আবওয়াব: সামরিক আর পুলিশি ব্যবস্থাপনার জন্য ধার্য কর; চৌত মারহাট্টা: মারাঠা আক্রমণ ঠেকাতে মারাঠাদের দেওয়া কর (চৌথ); বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব আলিবর্দি খান (১৭৪০-১৭৫৬), এই অতিরিক্ত কর আরোপ করে রাজস্ব বাড়িয়েছিলেন। এই তালিকা ফিফথ রিপোর্টে গ্রান্ট এর শোরের বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ গ্রান্ট এই অতিরিক্ত করগুলোকে প্রমাণ হিসেবে দেখাতে চেয়েছিলেন যে বাংলার রাজস্ব বৃদ্ধির ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, শোর যুক্তি দিয়েছিলেন যে এই করগুলো ইতিমধ্যেই কৃষকদের ওপর অত্যাচার চাপিয়েছিল, তাই তা আরও বাড়ানো উচিত নয়।

কাসিম আলি খানের (মীর কাসিম) রাজস্ব সংযোজন

ক্রম      নাম                                                                পরিমাণ (টাকা)

৯ম      কিফফত হাস্তবুদ (ভূমি জরিপের সারাংশ)                         ১৪,৭২,৫৯৯

১০ম     শার্ফ সিক্কা (মুদ্রা বিনিময় কর)                                     ৪,৫৩,৪৮৮

১১শ     কিফফত ফৌজদারান (সামরিক থানা/পুলিশি খরচ)                ৩৬,৭৪,২৩৯

১২শ     তাওফির জাগিরদারান (জাগিরদারদের ওপর অতিরিক্ত কর)       ১৮,৮১,০১৪

বাংলার খালসা ও জাগির জমির মাহাল ও সায়ার-এর ওপর ভাইসরয়াল করের সারমর্ম, ১৭২২ থেকে ১৭৬৩

বিয়োগ : সুজা খানের (শুজা-উদ-দৌলা) দ্বারা ত্রিপুরার হিসাবে স্থানান্তরিত অংশ

আবওয়াবের (অতিরিক্ত কর) নেট পরিমাণ: ১,১৭,৯১,৮৫৩ টাকা

ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা

এই তালিকাটি মীর কাসিমের (যাকে ১৭৬০-১৭৬৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নবাব বানায়) আমলে রাজস্বের ভিত্তি-নথি। মূলত মুঘল আমলের প্রচলিত আবওয়াব বা অতিরিক্ত করের  তালিকা; ফিফথ রিপোর্টের ঐতিহাসিক পরিশিষ্টের অংশ।  ফিফথ রিপোর্টের সম্পাদক ডব্লিউ. কে. ফার্মিঙ্গার এই নথিগুলোকে তার সম্পাদিত খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যাতে জেমস গ্র্যান্ট যে ঐতিহাসিক রাজস্ব তথ্য ব্যবহার করেছিলেন, তার ভিত্তি বোঝা যায়। এই নথিতে যে চারটে প্রধান আবওয়াবের উল্লেখ রয়েছে: ১. কিফফত হাস্তবুদ (১৪,৭২,৫৯৯ টাকা):  ভূমি জরিপ ও হিসাব-নিকাশের জন্য ধার্য কর, যা রাজস্ব ব্যবস্থার পরিচালনা খরচ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ২. শার্ফ সিক্কা (৪,৫৩,৪৮৮ টাকা) : পুরাতন ও নতুন মুদ্রার বিনিময়ে ধার্য কর; এই কর কৃষকদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাতো, বিশেষ করে যখন মুদ্রার মান নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতো। ৩. কিফফত ফৌজদারান (৩৬,৭৪,২৩৯ টাকা):  সবচেয়ে বড় কর, যা সামরিক ও পুলিশি ব্যবস্থাপনার নামে ধার্য করা হয়; এই কর ফৌজদারি (সামরিক) ব্যবস্থাকে সমর্থন করত এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান খরচ মেটাত। ৪. তাওফির জাগিরদারান (১৮,৮১,০১৪ টাকা) : জাগিরদারদের (যাদের ভূমি-রাজস্বের অংশ বণ্টন করা ছিল) ওপর অতিরিক্ত কর; এটি মূলত জাগির-প্রথার অপব্যবহার রোধ ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণের জন্য আরোপিত হয়েছিল। মোট অতিরিক্ত কর (বিয়োগের পর) দাঁড়ায় ১,১৭,৯১,৮৫৩ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ কর ১৭২২ থেকে ১৭৬৩-র মধ্যে বাংলার কৃষক ও কারিগরদের ওপর চাপানো হয়েছিল; এটাই ফিফথ রিপোর্টে গ্রান্ট-শোর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। গ্রান্ট এই ঐতিহাসিক কর-উদাহরণ ব্যবহার করে বলেন যে বাংলার রাজস্ব আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, অন্যদিকে জন শোর এই করগুলোকেই কৃষক-শোষণের প্রমাণ হিসেবে দেখান।

টিকা ১

ফার্মিঙ্গার ‘Sic in orig.’ লিখেছেন কেন, তা বুঝতে গেলে এই শব্দগুচ্ছটির অর্থ এবং এর ব্যবহারের প্রেক্ষাপট জানা দরকার। ‘Sic in orig.’ হলো এক লাতিন শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ “মূল (নথি/উৎস)-এ এইভাবেই আছে” বা বলা যায় ‘যদৃষ্টং তৎ লিখিতং’। লেখক বা সম্পাদক উদ্ধৃতি বা বক্তব্যের মধ্যে বানানগত, ব্যাকরণগত বা অর্থগত ভুল বা অস্বাভাবিকতা দেখতে পান, কিন্তু মূল উৎসের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তা পরিবর্তন না করে সেভাবেই রাখতে চান, তখন তিনি এই চিহ্নটি ব্যবহার করেন। এটি পাঠককে জানানোর একটি মাধ্যম যে, “আমি এই ভুলটি দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু এটি মূল লেখকের/নথির, আমার নয়।”

এই অংশ ফিফথ রিপোর্টে জন শোরের (স্যার জন শোর) মিনিটের  অংশ। ফার্মিঙ্গার ‘Sic in orig.’ ব্যবহার করে এই বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেছেন: ১. বানানগত অসঙ্গতি (Sic in orig.-এর প্রধান কারণ) উদ্ধৃত অংশে ফার্মিঙ্গার সম্ভবত ‘revels’ শব্দটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এখানে ‘revels’ শব্দ আসলে ‘revenues’ (রাজস্ব) হওয়া উচিত ছিল। জন শোরের মূল মিনিটে সম্ভবত এই বানান ছিল, যা ফার্মিঙ্গার ‘Sic in orig.’ চিহ্ন দিয়ে জানিয়েছেন যে মূল নথিতে এই বানানই ছিল, এবং তিনি সেটি অপরিবর্তিত রেখেছেন। ২. ফার্মিঙ্গারের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ফার্মিঙ্গার মূলত এই অংশটির প্রতি তাঁর সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। শোর এখানে বলছেন যে কৃষকদের (যাদের শ্রমই রাষ্ট্রের প্রকৃত সম্পদ) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সময় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। জমিদারদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও, রায়তদের ওপর কতটা বোঝা পড়ছে, তার কোনো হিসাব করা হয়নি এবং তাদের উৎপাদনের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিশ্চিত করার কোনো নিয়মও তৈরি করা হয়নি।

ফার্মিঙ্গারের ভাষায়, শোরের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মূল নথিতে ‘revels’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে শোর হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন ‘রাজস্ব’ (revenues) বা ‘খাজনা’ (rents)। ফার্মিঙ্গার ‘Sic in orig.’ ব্যবহার করে আমাদের সতর্ক করেন যে, এটি মূল নথির একটি ছোটখাটো ভুল বা অস্বাভাবিকতা, কিন্তু শোরের সমালোচনার মূল বক্তব্য অপরিবর্তিত রয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ফার্মিঙ্গার এই চিহ্নটি ব্যবহার করেছেন: মূল নথির প্রতি সম্মান জানাতে (যেমনটি ছিল, সেভাবেই রাখতে); পাঠককে সতর্ক করতে যে, এই বানান বা শব্দগত অসঙ্গতি তাঁর নয়, বরং মূল লেখকের; তথ্যটির নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে, যাতে কেউ মনে না করে যে সম্পাদক নিজে কোনো ভুল করেছেন। ফার্মিঙ্গারের এই সতর্কতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঐতিহাসিক দলিলপত্রের অনুবাদ ও সম্পাদনার সময় এই ধরনের ক্ষুদ্র বিষয়গুলোর দিকেও নজর রাখা জরুরি, কারণ এগুলো মূল তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন