শনিবার | ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:২৪
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পরিবেশ দিবসে রবীন্দ্রনাথ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার এবারে দশহরাতে আরামবাগের মনসাডাঙ্গার মনসা মাতার পূজায় ছাগবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বরেন্দ্র ও গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাস, কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের সমন্বয়ে একটি পুনঃপাঠ : অত্রি ভট্টাচার্য ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘ছেঁড়া জামার ঈশ্বর’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

সাপ : ছোট গল্প লিখেছেন ইরাজ আহমেদ

ইরাজ আহমেদ / ১০৩১ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

সাপটা গাছের ডাল বেয়ে ধীরে ওপরে উঠছে। কালচে শরীরে ফ্যাকাশে হলুদ রঙের বরফি কাটা। সাপটা উঠছে একেবেঁকে, গাছ ছেয়ে থাকা বুনো লতাপাতার আড়াল দিয়ে। ফাল্গুন মাসের বিকেলের রোদে চারদিক ঝকঝক করছে। ফরিদ সাহেব বারান্দায় বসে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন সাপটার দিকে। হয়তো ওপরে কোনও ডালে পাখির বাসা আছে। সাপটা যাচ্ছে পাখির বাচ্চার সন্ধানে। একসময় ওটা ধীরে একটা ডালের ওপর দিয়ে লতাপাতার আড়ালে চলে যায়। ছোটোবেলায় শুনেছিলেন, ফাল্গুন মাসে সাপ দেখা ভালো না। কথাটা মনে পড়তে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন ফরিদ সাহেব। তার জীবনের খারাপ আর ভালো। গেল মাঘ মাসে আচমকা বৃষ্টি নেমেছিল। পেছল উঠান পার হতে গিয়ে আছাড় খেয়ে ডান পা’টা ভাঙলো। পারুলের মা তো প্রায় এক বছর ধরে বিছানায়। পুকুরঘাটের সিঁড়িতে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙে গেছে। এই বয়েসে কোমরের হাড় ভাঙলে প্লাস্টারে জোড়া লাগে না। পেশাব-পায়খানা বেডপ্যানে চলছে। জয়নাল ডাক্তার কিছুদিন ধরে নিয়মিত এসে দেখে যায়। ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে পারুলের মায়ের। সুগার লেভেল হাই। ইনসুলিন চলছে।

সাপটাকে আর দেখা যাচ্ছে না। হয়তো পাখির বাসা খুঁজে না পেয়ে নেমে গেছে। ঘরের এত কাছে সাপ আসা ভালো না। কিন্তু কিছু করার নেই। কাকে ডাকবেন সাপ মারতে? এখন তিন দিন খবর দিয়ে পুব পাড়া থেকে কাজের মুনিষ আনতে হয়। এদের বাপ-দাদারাই একসময় এই বাড়িতে মুনিষ খেটেছে। জমি চাষ করেছে, ঘর মেরামত করেছে। আর এখন খবর পাঠিয়ে কারও তিন পুরুষের দেখা পাওয়া যায় না।

দীর্ঘশ্বাস ফেলেন ফরিদ সাহেব। লাঠিতে ভর দিয়ে অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়ান। বেশ বড়ো সাইজের একটা প্লাস্টার বাঁধা পায়ে। হাঁটুর নীচ থেকে ভেঙেছে। ঘরের ভেতর থেকে পারুলের মায়ের দূর্বল গলার আওয়াজ শোনা যায়।

‘কোথায় গেলেন আপনি? ঘরে এসে বসেন। এই সময়ের হাওয়াটা ভালো না, ফট করে ঠান্ডা লেগে যাবে।’

জমিলাকে নিয়ে এই এক ঝামেলা। সারাদিন বিছানায় শুয়ে শুধু ডাকাডাকি করে। এখন বাইরের হাওয়া ভালো না, তখন বাইরে কুয়াশা পড়ছে, গলায় মাফলার না জড়িয়ে কোথায় গেলেন—শুধু খবরদারি। কখনও বিরক্ত হন ফরিদ সাহেব। তারপর আবার ভাবেন, না ডেকেই বা কী করবে বেচারি, তার কিছু হলে তো জমিলার-ই বিপদ বেশি। তাকে সামলাবে কে? অনেক কষ্টে ঘরের চৌকাঠ ডিঙিয়ে ভেতরে আসেন ফরিদ সাহেব। ঘরের ভেতরে অন্ধকার। জানালা খুলতে চায় না জমিলা।

‘এখন বাইরে বসে আছেন কেনো? উল্টোপাল্টা বাতাস দিচ্ছে। এরকম বাতাসে জ্বর হয় মানুষের।’

‘জাম গাছে সাপ উঠেছে, দেখছিলাম। কাল মজিদকে আসতে বলতে হবে। ঘরের এত কাছে সাপ থাকা ভালো না। কোনওদিন ঘরে ঢুকে পড়বে—’

ফরিদ সাহেবের কথা শুনে আঁতকে ওঠে জমিলা। 

‘জাম গাছে সাপ! আর আপনি দাঁড়িয়ে দেখছিলেন?’

‘সাপটা পাখির বাসা খুঁজতে উঠেছিল।’

‘আপনি তাড়াতাড়ি মজিদকে খবর দেন। ওটাকে মারা দরকার। ঘরে চলে আসতে পারে।’

বিছানার পাশে রাখা কাঠের চেয়ারে বসেন ফরিদ সাহেব। অন্যমনষ্ক গলায় বলেন, এলে কী আর হবে, সাপের ছোবল খেয়ে দুজনেই মরবো। ভালোই হবে।

ফরিদ সাহেবের কথা শুনে হাত নাড়ে জমিলা।

‘এইসব কথা বলবেন না। সাপ আমার খুব ভয় লাগে। বাবা গো…’

স্ত্রী-র কথায় সামান্য হাসেন ফরিদ সাহেব। লাঠির মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলেন, ভয় পাওয়ার কী আছে? সারাটা জীবন তো এই গ্রামে সাপ-ব্যাঙের সঙ্গেই কাটিয়ে দিলে।

বিয়ের পর এই বাড়িতে এসে প্রথম প্রথম খুব কান্নাকাটি করতো জমিলা। রাতের বেলা প্যাঁচা ডেকে উঠলে ঘুম ভেঙে বিছানায় বসে থাকতো। গভীর রাতে একসঙ্গে শেয়াল ডেকে উঠলে ভয়ে থর থর করে কাঁপতো। তখন  বাড়ি-ভর্তি মানুষ ছিল। তাদের চার ভাইয়ের মধ্যে বড়ো ভাইজান ঢাকায় চাকরি করেন। বাকিরা বউ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখানেই থাকে। তখন পল্লি বিদ্যুৎ গ্রামে-গ্রামে আলো ছড়ায়নি। জিমলার ভূতের ভয় ছিল। সন্ধ্যাবেলা উঠান পার হয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে চাইতো না। এখন সেই বিশাল বাড়িতে জমিলা সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকে। দুটি মাত্র প্রাণী এখন এই বাড়িতে। চারদিকে চারটা বিশাল ঘরে তালা ঝোলে। বাড়ির ভিটার চারপাশে গজিয়ে উঠেছে আগাছার জঙ্গল। আজকাল ফরিদ সাহেব জঙ্গল পরিষ্কার করান না।  কার জন্য করাবেন? সবাই এখানকার পাট চুকিয়ে যে-যার মতো চলে গেছে শহরে। ফরিদ সাহেব গ্রামেই থেকে যাওয়া স্থির করেছিলেন। জন্মের এই ঠিকানা ফেলে চলে যেতে ইচ্ছে করেনি।

একটু একটু করে সব গেছে। ভাইদের ছেলেরা এসে জমি বিক্রি করে গেছে। চাষাবাদের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন গাছের ফল খেয়ে যায় গ্রামের ছেলেরা। পুকুরের পানির ওপর কয়েক স্তর পুরু শ্যাওলার সাম্রাজ্য। বাড়ির গোয়ালঘর, গোলাঘরের ভেতরে উই পোকা মাটি তুলে পাহাড় বানিয়ে ফেলেছে।

‘মজিদের মা এখনও এলো না…আজ তো রান্না করে দিয়ে যাবার কথা।’

জমিলার কথায় ফরিদ সাহেবের ভাবনার জাল ছিঁড়ে যায়। তাই তো, মজিদের মা-র দুপুরের আগেই আসার কথা। এখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল। সপ্তাহে দু-তিন দিন এসে রান্নার কাজটা করে মজিদের মা। দয়া হলে উঠান আর ঘর ঝাড় দেয়ার কাজটাও করে। মাসে পাঁচশ টাকা গুনতে হয় এজন্য। চিন্তিত হন ফরিদ সাহেব। মজিদের মা না এলে তাকেই রান্না করতে হবে সন্ধ্যায়। তার রান্না মানে তো খাটের তলা থেকে আলু বের করে সেদ্ধ বসিয়ে দেয়া। তারপর লবণ মাখিয়ে খাওয়া। এই পা নিয়ে কোনও কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।

ফরিদ সাহেব একটু মাথা চুলকে বলেন, আসবে মনে হয়। মাস পয়লা বেতন নিতে আসবে।

ঘরের দরজা খোলা। বাইরের উঠান ছেয়ে থাকা পাতা ফাল্গুনের হাওয়ায় সর সর শব্দ তুলে উড়ে যায় অনির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে। ফরিদ সাহেব বাইরে তাকান। ঘরের চালে বাসা বাঁধা পায়রাগুলি উঠানে এসে নামছে। একটু পরে মসজিদের মাইকে আজান শোনা যাবে। ওই বড়ো কালো সাপটার মতো খুব ধীরে পাক খুলে সন্ধ্যা নামবে। পুব পাড়ায় কুকুরগুলি ডেকে উঠবে। রাত আসবে। আজকাল ফরিদ সাহেব বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সন্ধ্যার পর লাইট জ্বালেন না। অন্ধকার নামলে ঘরের ভেতরে শুধু একটা হ্যারিকেন জ্বলে। পুরো বাড়ির ওপর তখন রাজত্ব করতে আসে গাঢ় অন্ধকার। সময়কে আজকাল হাঁটতে অনিচ্ছুক একটা গরুর মতো মনে হয় । দড়ি ধরে টেনেহিঁচড়ে সামনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। পথ আর ফুরায় না। 

লাঠিতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ান ফরিদ সাহেব। দরজাটা বন্ধ করা দরকার। মশা ঢুকছে ঘরে। দরজা বন্ধ করে দিয়ে বিছানায় এসে বসেন ফরিদ সাহেব। আজ মজিদের মা আর আসবে বলে মনে হয় না। আলু সেদ্ধ বসানোর কথা মনে হতেই বিরক্তি এসে ভর করে। 

অনেক রাতে ঘুম ভেঙে যায় ফরিদ সাহেবের। জমিলা তার কাঁধ ধরে নাড়া দিচ্ছে।

‘এই যে শোনেন…আপনি আছেন তো…শুনছেন…’

আজকাল ঘুম ভেঙে জমিলা তাকে এভাবে ডাকে। জমিলার মনে ভয় ঢুকেছে, ঘুমের মধ্যে ফরিদ সাহেব হঠাৎ করে চলে যেতে পারেন। চোখ খুলে ঘুম জড়ানো গলায় ফরিদ সাহেব বলেন, ‘হ্যাঁ শুনছি, বলো।’

‘আমি কাল পারুলকে স্বপ্নে দেখেছি। কথাটা আপনাকে বলা হয়নি।’

ফরিদ সাহেব মাথাটা ঘুরিয়ে স্ত্রী-র দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তুমি আজকাল স্বপ্ন দেখ জমিলা! আমি তো স্বপ্ন দেখার ব্যাপারটাই ভুলে গেছি। কেমন দেখলে ওকে?’

‘ভালো করে দেখতে পাইনি। হঠাৎ দেখলাম বড়ো একটা মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে।’

ফরিদ সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ঘরের বন্ধ হাওয়ায় দুজনের নিঃশ্বাস নেয়ার শব্দ শোনা যায়। ফরিদ সাহেব ভেঙা পা-টা পাশবালিশের ওপর তুলে দিয়ে বলেন, ‘আচ্ছা জমিলা, তুমি বলতে পারো পারুল কেন এত আগে আমাদের ছেড়ে চলে গেলো? তারপরেও এতগুলি বছর আমরা বেঁচে রইলাম কেন? এই পৃথিবীতে আমাদের তো কোনও প্রয়োজন ছিল না।’

জমিলা কোনও উত্তর দেয় না। ফরিদ সাহেব উত্তরের জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে টের পান পাশের মানুষটা আবার ঘুমিয়ে পড়েছে।

২.

মজিদের মা পর পর দু-দিন আসে না। ছেলেকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছে জ্বর হয়েছে। কী করবেন বুঝে পান না ফরিদ সাহেব। মজিদের মা না এলে চারটি ভাত ফুটিয়ে খাবার অবস্থাও তার নেই। এদিকে সকাল থেকে জমিলার আবার জ্বর এসেছে। থার্মোমিটার বলছে একশোর ওপরে। তখন থেকে মনের ভেতরে কুডাক ডাকছে। এরকম জ্বর ভালো না।  এ অবস্থায় জমিলার যদি বড়ো ধরনের কোনও অসুখ হয় তাহলে তার বারোটা বেজে যাবে। আজকাল সামান্য কিছুতেই ভয়ের দীর্ঘ একটা পেন্সিল বুকের ভেতরে দাগ টানে। অসুখ মানেই তো টাকা। ব্যাঙ্কে যে সামান্য সঞ্চয় আছে সে তো চিকিৎসার পেছনেই চলে যাচ্ছে। তারপর? এই প্রশ্নটা দিনে রাতে সবসময় তাকে তাড়া করে ফিরছে। ভাইদের ছেলেদের সাহায্যের জন্য বলে কোনও লাভ নেই, বলতেও চান না তিনি। কিছুদিন আগে লন্ডনপ্রবাসী এক চাচাতো ভাইকে লজ্জার মাথা খেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে ইনিয়েবিনিয়ে টাকার কথাই বলা ছিল। কোনও উত্তর আসেনি। লেখার সময় মনে হয়েছিল নিষ্ফল চেষ্টা। তবু কোথায় একটা আশার আলো নিভু নিভু করে জ্বলছিল, যদি সারোয়ার চিঠির জবাব দেয়। কয়েক দিন পোস্ট অফিসে লোক পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন। তার নামে কোনও চিঠি আসেনি। সামনের দিনগুলির কথা ভেবে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে ফরিদ সাহেবের।

আজকের সকালটা মুখ ফিরিয়ে আছে সব কিছু থেকে। মেঘ করেছে আকাশ জুড়ে। এরকম অন্ধকার দিন ভালো লাগে না ফরিদ সাহেবের। লাঠি ভর দিয়ে বারান্দার চেয়ারটাতে এসে বসেন। জমিলাকে নাস্তা খাওয়ানোর পাট শেষ। স্টোভ জ্বেলে দুই কাপ চা করেছেন, সঙ্গে বিস্কিট। মজিদের মা না এলে রুটি বানানো হবে না। উঠানে দু-দিন ঝাড় পড়েনি। শুকনো পাতার পাহাড় তৈরি হয়েছে। ঘরের চালের ওপর পাতা আর ভেঙা ডালপালার স্তূপ। লোক লাগিয়ে বাড়িটা পরিষ্কার করানো খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু টাকার কথা ভাবলেই পিছিয়ে আসতে হয়। এখন বাড়ি পরিষ্কার করানোর চাইতে খেয়ে বেঁচে থাকা জরুরি। আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করিয়েই বা লাভ কী? কে দেখতে আসছে? ফরিদ সাহেব খুব ভালো করে জানেন তার অবর্তমানে ভাইদের ছেলেরা একদিনের নোটিশে বাড়ি বিক্রি করে দেবে। ওদের কাছে এই তিন পুরুষের ভিটার কোনও মূল্য নেই। তিনি বেঁচে না থাকলে ওরা জমিলাকেও এখানে থাকতে দেবে না। কোথায় যাবে তখন জমিলা? কথাটা ভেবে বুকের ভেতরটা খাঁ খাঁ করে ওঠে। এতগুলি বছর দুজন একসঙ্গে এক ঠাঁই আছেন। তাকে ছাড়া কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে অসুস্থ জমিলা?

আজকাল মানুষের সম্পর্ক নিয়ে অনেক কিছু ভাবেন ফরিদ সাহেব। পরিবার, স্বজন—এই সম্পর্কগুলোকে তার সুন্দর মোড়কে জড়ানো চুইংগামের মতো মনে হয়। মোড়ক খুলে মুখে দেয়া পর্যন্ত ঠিক আছে। কিছুক্ষণ চিবাতে ভালোই লাগে। তারপর একসময় ওপরের মিষ্টি ভাবটা চলে গেলে গোটা জিনিসটা একটা অস্বস্তিকর আঠালো অস্তিত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। সম্পর্কও আসলে এরকমই। প্রথমে সব ঠিক থাকে। দিন গেলে থাকে শুধু আঠালো অস্তিত্ব। এসব কথা ভাবলে বুকের ভেতর থেকে কান্না নিঃশ্বাস ফেলে বোবা জন্তুর মতো। সব ভাইরা যখন এখানে ছিল তখন সংসারের অন্য এক ছবি সাজানো ছিল চোখের সামনে। মানুষের হাসি-কান্নায় ভরা ছিল বাড়িটা। চোখ বন্ধ করলে মনে হয় এই তো সেদিনের কথা। চোখের পলকে রূপকথার গল্পের মতো সব শূন্য হয়ে গেলো। এখন এই যক্ষপুরী পাহারার দায় কাঁধে নিয়ে রয়ে গেছেন তিনি। 

‘দুপুরের খাবার কী হবে? মজিদের মা তো আজও আসবে না।’

ঘরের ভেতর থেকে জমিলার গলা শুনে ভাবনার রাজত্ব থেকে বের হয়ে আসেন ফরিদ সাহেব। তাই তো, আজ দুপুরে খাওয়ার কী হবে? ভেঙা পা নিয়ে দাঁড়িয়ে স্টোভে রান্না করা তার পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু কিছু একটা তো পেটে দিতে হবে। অস্থির লাগে ফরিদ সাহেবের। জমিলার জ্বরটাও কমেনি। 

সন্ধ্যাবেলা কোত্থেকে উড়ে এসে বসেছে একটা কাক। হয়তো ঘরে ফেরার পথ হারিয়েছে।  কাকটা একটানা ডেকেই চলেছে। অসময়ে কাক ডাকা ভালো না। জানালার কাছে থেকে সরে আসেন ফরিদ সাহেব। জমিলার পিঠে পাউডার দিতে হবে। বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে ঘা হয়ে গেছে ওর পিঠে। জয়নাল ডাক্তার একটা ওষুধ-দেয়া পাউডার দিয়েছিল। সেটা শেষ হয়েছে অনেক আগে। এখন সাধারণ পাউডার লাগাচ্ছেন। ফরিদ সাহেব পাশে বসতেই কষ্ট করে পাশ ফিরে শোয় জমিলা। পিঠের ঘা দগদগে হয়ে আছে। কোনওটার মুখ ফেটে গিয়ে রসও গড়াচ্ছে। হাতে পাউডার নিয়ে জমিলার উন্মুক্ত পিঠে ছড়িয়ে দেন ফরিদ সাহেব। খুব আস্তে প্রশ্ন করেন, খুব কষ্ট হচ্ছে, না?

আজকাল জমিলা নিজের কষ্টের কথা খুব একটা বলে না। দুপুরে অবারও আলু সেদ্ধ করেছিলি বেশি করে। কোনওমতে দাঁড়িয়ে থেকে ভাত রান্না করেছেন। ফরিদ সাহেব বুঝতে পেরেছেন, আলু-ভাত কষ্ট করে খেয়েছে জমিলা। একটা কথাও বলেনি। ফরিদ সাহেব জানেন, পিঠের ঘা নিয়েও অসম্ভব কষ্ট পাচ্ছে জমিলা। সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে কোমরের ব্যথা তো আছেই। কিন্তু জমিলার মুখে কোনও শব্দ নেই। যন্ত্রণার অভিব্যক্তি নেই। পাথরের মতো সব সহ্য করে পড়ে আছে মানুষটা। জমিলার কষ্ট দেখে নিজের যন্ত্রণার কথা ভুলে থাকেন ফরিদ সাহেব।

পা টেনে টেনে কাঠের খুঁটিতে ঝোলানো পারুলের ছবির সামনে এসে দাঁড়ান ফরিদ সাহেব। বড়ো বড়ো চোখ ছিল মেয়েটার। শীতের শান্ত নদীর মতো। জীবনের সব হাসি, গান আর আনন্দ থেকে আচমকা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সেই কবে চলে গেছে পারুল। এতগুলি বছর পার হয়ে গেছে তবুও প্রত্যেক দিন পারুলের কথা মনে হয়। বেঁচে থাকলে এখন মেয়েটা তাদের পাশে থাকতো। ছবির সামনে থেকে সরে এসে চেয়ারে বসেন ফরিদ সাহেব। জমিলা মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে। শ্বাস টানার ঘড়ঘড় শব্দ শোনা যাচ্ছে। এই একঘেয়ে শব্দটা ফরিদ সাহেবকে জানান দেয়, জমিলা বেঁচে আছে। কিন্তু সত্যি কি জমিলা বেঁচে আছে? তিনি নিজেও কি বেঁচে আছেন? এই জীবনকে বেঁচে থাকা বলা যায়? ক্রমাগত ঝোপ-জঙ্গলে চাপা পড়ে যাওয়া একটা বাড়ি। সন্ধ্যা হলে শেয়ালের দল এগিয়ে আসে বাড়িটার দিকে। চারপাশে ঘুরে ঘুরে ডাকে। গাছের গায়ে সাপ হেঁটে যায়। গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা ঢেকে দিয়েছে ঘরের চাল। রাত হলে ভেঙা ঘাটের গোড়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা পুকুরের ময়লা পানি দেখলে মনে হয় এখনই কোনও আদিম জানোয়ার উঠে আসবে সেখান থেকে। সেই বাড়ির দমবন্ধ করা একটা ঘরের ভেতরে দুটি প্রাণীর কোনওমতে নিঃশ্বাস নেয়া। প্রতিদিন একজন আরেক জনের মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে সময় পার করা। একে কি বেঁচে থাকা বলে?

আবারও দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। ফাল্গুনের সন্ধ্যা। একঘেয়ে, প্রত্যেক দিনের মতো। কোথায় একটা তক্ষক ডেকে উঠে থেমে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকেন ফরিদ সাহেব। একটু পরে উঠানটা গলা সমান অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। জমিলার শ্বাস টানার ঘড়ঘড় শব্দটা শোনা যায় না। ফরিদ সাহেব চমকে ওঠেন। শব্দটা কি অনেকক্ষণ হলো থেমে গেছে? পা টেনে টেনে বিছানার কাছে গিয়ে জমিলার কপালে হাত রাখেন। না, কপালটা গরম। জ্বর আছে। জমিলা একটু নড়ে উঠে কথা বলে।

‘কী হয়েছে?’

‘কিছু না। তোমার জ্বর দেখলাম। ওষুধ খেতে হবে।’

জমিলার গলার কাছে হাসির মতো শব্দ হয়।

‘জ্বর দেখছিলে, না ভাবছিলে আমি মরে গেছি।’

‘আমার আগে তুমি চলে গেলে তো আমার অনেক চিন্তা কমে যেতো জমিলা।’

‘তাহলে এক কাজ করো, আমাকে মেরে ফেলো।’

চমকে ওঠেন ফরিদ সাহেব। ঘরের ম্লান আলোয় জমিলার মুখের দিকে ভালো করে তাকান ফরিদ সাহেব। জমিলা চশমার কাঁচের ভেতর দিয়ে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

‘তুমি চলে গেলে আমার তো আর কেউ থাকবে না।’

কথাটা বলতে গিয়ে ফরিদ সাহেবের গলা আবেগের বাষ্পে প্রায় বন্ধ হয়ে আসে।

‘এভাবে বেঁচে থাকার কোনও মানে আছে? এর চাইতে মরে গেলে অনেক শান্তি পেতাম। আমার আর ভালো লাগে না।’

কথা বলতে বলতে জমিলার গলা ভেঙে আসে। ফরিদ সাহেব কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন জমিলার মুখের দিকে। কিছু একটা ভাবেন। তারপর নীরবতা ভেঙে বলেন, আমরা দুজন একসঙ্গে মরে গেলে ভালো হতো জমিলা। কোনও চিন্তা থাকতো না।

জমিলা কোনও উত্তর দেয় না। বাইরে শেয়ালের পাল ডেকে ওঠে। অন্ধকার নামছে। ফরিদ সাহেব বিছানার কাছে এসে ঝুঁকে বলেন, ‘জমিলা, মরে যাবে? চলো, আমরা একসঙ্গে মরে যাই। বিষ খেয়ে নিলে দুজনে মরে যাবো। কেউ চোখের পানিও ফেলতে আসবে না আমাদের জন্য। সব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি। আমি এ জীবন আর টেনে নিয়ে যেতে পারছি না।’

জমিলা কোনও কথা বলে না। চাদরের তলা থেকে তার শীর্ণ হাতটা বাড়িয়ে দেয় ফরিদ সাহেবের দিকে। ফরিদ সাহেব জমিলার হাত ধরেন। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে জমিলার।

৩.

কার্বলিক অ্যাসিডের বোতলাটা মজিদ দিয়ে গেছে দুপুরে। সাপ মারার ওষুধ। একবার পেটে গেলে ভেতরের সব পুড়ে যাবে। বোতলটা টেবিলের ওপর রেখে তাকিয়ে থাকেন ফরিদ সাহেব। মজিদকে বলে-কয়ে বাজারে পাঠিয়ে জিনিসটা আনিয়েছেন। বোতলটার দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতরে কেমন একটা ঠান্ডা, পিচ্ছিল অনুভূতি তৈরি হয়। এই অনুভূতির নাম জানা নেই ফরিদ সাহেবের। ঘরের চারদিকে তাকিয়ে দৃষ্টি স্থির হয় পারুলের ছবিটার ওপর। মেয়েটাকে আর দেখবেন না। কান্না ঠেলে ওঠে গলার কাছে। তারপরেই মনে হয়, কাঁদছেন কেন? মরে গিয়ে তো মেয়ের কাছেই চলে যাবেন। জমিলাকে ওষুধটা দেখিয়েছেন। কিছু বলেনি জমিলা। আরও গভীর নীরবতার ভেতরে ডুবে গেছে। অনেকক্ষণ পরে চোখের কোনও দিয়ে এক ফোঁটা কান্না গড়িয়ে নেমেছে। কষ্ট হচ্ছে মনের ভেতরে। কিন্তু আবার মনে হচ্ছে, এই ভালো হলো। কারও কাছে তো তাদের কোনও দায় নেই। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগও নেই। এই চলে যাওয়াটাই ভালো, অনেক ভালো। ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন ফরিদ সাহেব। সময়টা এভাবে ফুরিয়ে ফেলতে হবে কখনও ভাবেননি। মানুষ তো কত কিছুই ভাবে না। তারপরেও তো কত কিছু ঘটে যায় জীবনে।

জমিলাকে কালচে রঙের তরলটা খাইয়ে দিয়ে লাঠিতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ান ফরিদ সাহেব। এবার তার পালা। জমিলা একবারের জন্যও আপত্তি করেনি। শুধু শেষবার ফিসফিস করে বলেছে, ‘ভালো হলো। এই ভালো হলো।’ ফরিদ সাহেব টের পান তার সমস্ত শরীর থর থর করে কাঁপছে। মনে হচ্ছে মুখ থুবড়ে পড়ে যাবেন মাটিতে। ওষুধের শিশিটা শক্ত হাতে চেপে ধরে জমিলার কাঁধ ধরে নাড়া দেন ফরিদ সাহেব। ফিসফিসে গলায় বলেন, ‘তুমি আছো জমিলা, আছে?’

হ্যারিকেনটাও মাটিতে নামিয়ে রেখেছিলেন। জমিলার মুখটা শেষ সময়ে দেখতে চাননি। এবার হ্যারিকেনটা তুলে ভালো করে তাকান জমিলার দিকে। মুখের পাশ দিয়ে সাদা গ্যাঁজা বের হয়ে আসছে। যন্ত্রণায় চোখের মণি বের হয়ে আসছে মনে হয়। কিন্তু আশ্চর্য, কোনও শব্দ নেই মুখে। নিঃশব্দে তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে জমিলা। এবার শিশির মুখ খুলে ফেলেন ফরিদ সাহেব। বাইরে ফাল্গুনের হাওয়া। জানালার কপাটটা বাতাসে শব্দ করে খুলে যায়। শিশিটা হাতের মুঠোয় ধরে জানালার দিকে এগিয়ে যান ফরিদ সাহেব। শেষবারের মতো বুক ভর্তি করে নিঃশ্বাস নিতে ইচ্ছে করে। বাতাসে কীসের যেন গন্ধ ভেসে আসে। হয়তো বুনো ফুলের। আজ কী আকাশে চাঁদ উঠেছে? একবার বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। আকাশে হয়তো এখন অনেক আলো। উঠান ভর্তি পাতা বাতাসের ধাক্কায় যেন জেগে উঠেছে। শুকনো পাতা মাটির ওপর দিয়ে শব্দ তুলে সরে যাচ্ছে। পা টেনে টেনে দরজার কাছে এসে দাঁড়ান ফরিদ সাহেব। দরজা খুলতেই হাওয়া ঝাপটা মারে শরীরে। আশ্চর্য সুন্দর মনে হয় এই অন্ধকারকে। না, মরতে পারবেন না ফরিদ সাহেব। কে যেন বুকের ভেতরে না-না করে উঠছে। শরীরটা দুমড়ে মুচড়ে মাটিতে পড়ে যায়। হাত থেকে ছিটকে পড়ে অন্ধকারে হারিয়ে যায় শিশিটা। ফরিদ সাহেবের গলা দিয়ে অদ্ভুত আওয়াজ বের হতে থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন