| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্বাধীনতা — অর্জন নয়, দায়িত্বও : যশোবন্ত রায় চোখের বালি যখন চোখের বালিশ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাগ্মী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে কি বাঙালি ভুলে গেল : অসিত দাস পূর্বিতা পুরকায়স্থ-র ছোটগল্প ‘প্রান্তিক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়া : দিলীপ মজুমদার সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি — ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশেকে লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ০ Views জন পড়েছেন
আপডেট শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

১৯৬. পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণগুলো ভালোভাবে বিবেচনা করলে জমিদারদের সাথে বন্দোবস্ত করার ক্ষেত্রে যেসব আপত্তি আর অসুবিধা রয়েছে, এবং সামগ্রিকভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে যেসব সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে, সে সব স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এই আপত্তিগুলোর বিপরীতে এবং জমিদারী বন্দোবস্তের সমর্থনে নিম্নলিখিত যুক্তিগুলো উত্থাপন করা যেতে পারে।

১৯৭. জমিদারদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদের বন্দোবস্তে উপনীত হওয়ার মধ্য দিয়ে, আমরা শাসক আর শাসিতের স্বার্থ একত্রিত করার সর্বশক্তিশালী নীতির ওপর নির্ভর করছি। যদিও এই নীতি পরিবর্তনশীল [যা স্থায়ী বন্দোবস্তের বিপরীত] ব্যবস্থায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তবুও বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে এটা অন্য এক ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে কার্যকর হবে না, যদি সেখানে একে বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয়, এবং বিশেষ করে যদি প্রবিধানগুলো একে শক্তিশালী করার জন্য গৃহীত হয়। এই পদ্ধতি সরকারকে রাজস্ব আদায়ের একমাত্র প্রকৃত নিশ্চয়তা দেয়, কারণ এতে জমির সম্পত্তিকেই রাজস্বের দায়ভার বহনের জন্য দায়ী করা হয়। জমিদারদের এই সম্পত্তি ভোগ করার সুযোগ দিয়েও তাদের পদমর্যাদাজাত বা পদসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা অযৌক্তিক এবং অবিবেচনাপ্রসূত মনে হয়, কারণ জমিদারদের প্রভাব খর্ব করার একটাইমাত্র উপায় হলো তাদের এই কাঠামো থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেওয়া আর তাদের অধিকারের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটানো; যদি এই কাজ ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন করা যেত, এবং যদি তাদের জমিদারি পরিচালনা থেকে বাদ দেওয়া হত, তবে তাদের কিছু ভাতা দিতে হত, এবং তার পরিমাণ সরকারের কাঁধে বড়ো ব্যয়ের বোঝা হিশেবে চেপে বসত, যদি না তাদের স্থলাভিষিক্ত ইজারাদারদের উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া যেত, যদিও তা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম (আংশিক ক্ষেত্রে হয়তো এমনটা হতেও পারত, কিন্তু সর্বক্ষেত্রে কখনোই নয়)। এই ব্যবস্থায় ইজারাদারদের কর্মসংস্থানের ফলে যে সরলতা এসেছে, তা তো আছেই, সাথে এমন এক নিরাপত্তার দিকও রয়েছে যা অন্য সব পরিকল্পনায় পাওয়া যায় না; এবং পরিশেষে, জমিদারদের স্বীকৃত অধিকারের প্রতি কিছুটা অবিচার না করে গ্রহণ করার মতো এটাই একমাত্র পরিকল্পনা।”

১৯৮. নির্দেশিত পদ্ধতিগুলোর কোনো একটা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন, যা আমি এখন আলোচনা করব।

প্রথমত, বাংলায় আমাদের শাসনব্যবস্থার ধরন।

১৯৯. লক্ষ্য করা জরুরি, প্রাচ্যের সমগ্র অর্থব্যবস্থা এমন এক প্রশাসনিক কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত ছিল যা আমাদের ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন; এবং এই দুই ব্যবস্থার মধ্যকার পার্থক্য ও বৈসাদৃশ্যগুলো চিহ্নিত করাকে কোনোভাবেই গুরুত্বহীন মনে করা যায় না।

২০০. সংক্ষিপ্ত তদন্ত এবং খেয়ালখুশিমতো শাস্তি প্রদান ছিল স্বৈরাচারী শাসনের স্বাভাবিক পরিণতি। যখন কোনো রায়ত (কৃষক) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, কিংবা কোনো জমিদার বা তালুকদার কোনো আমিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেন, তখন তদন্ত প্রক্রিয়াটি খুব কমই অনুমানের গণ্ডি পেরোত; অথচ শাস্তির যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য সেই অনুমানকেই যথেষ্ট বলে গণ্য করা হতো। স্থানীয়রা একে অপরের স্বভাব-চরিত্র, মিথ্যাচারের প্রবণতা ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে অবগত থাকায় — সম্ভবত — প্রায়শই উপযুক্ত বিচারই করত; এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই দ্রুততা — যেখানে নিপীড়ন রোধের কোনো সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ছিল না — সেখানে কিছুটা হলেও স্বেচ্ছাচারী নিপীড়নের লাগাম টেনে ধরত।

টিকা ১৯৭

শোর প্রথমেই বলেন যে এই বন্দোবস্ত “শাসক ও শাসিতের স্বার্থকে একত্রিত” করছে। এটা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কেন্দ্রীয় আদর্শিক দাবি — যে জমিদাররা যদি নিশ্চিত হন যে তাদের জমিদারি চিরস্থায়ী ও রাজস্ব স্থির, তবে তারা জমির উন্নতি করবেন, উৎপাদন বাড়াবেন, এবং সরকারের রাজস্ব নিশ্চিত হবে। এটা একটি পারস্পরিক উপকারী সম্পর্ক বলে দাবি করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হল এই ‘স্বার্থের ঐক্য’ ছিল একমুখী — সরকারের রাজস্ব নিশ্চিত হয়েছিল, কিন্তু জমিদাররা শোষক আর লুঠেরা কোলাবরেটরে পরিণত হলেন আর কৃষক-কারিগরকে লুঠের পাত্র বানানো হল। নারী জমিদারদের পক্ষে শাসক আর কোলাবরেটর জমিদারদের এই ‘ঐক্য’ ছিল সম্পূর্ণ বিধ্বংসী, কারণ তাঁদের অধিকার আইনত অস্বীকার করা হল।

পরিবর্তনশীল ব্যবস্থার সমালোচনা ও নতুন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিলেন শোর। তিনি বলছেন যে পূর্ববর্তী পরিবর্তনশীল ব্যবস্থা (যেখানে রাজস্বের হার ও জমিদারি অনিশ্চিত ছিল) এই নীতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায়, যদি নিয়মাবলী শক্তিশালী করা হয়, তবে এই নীতি ধীরে ধীরে কার্যকর হবে। শোর এখানে অতীতের অনিশ্চয়তার দায় জমিদারি প্রথা বা পূর্ববর্তী শাসনের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু তিনি ব্রিটিশ প্রশাসনের নিজস্ব অপরিকল্পনা — যেমন অসম্ভব রাজস্ব লক্ষ্য, নিলাম প্রথা, আইনি জটিলতাকে অস্বীকার করছেন। আমরা বরাবরই বলে এসেছি সরকার নিজের দায়, কুকর্ম, অদক্ষতা, অপরিকল্পনা এড়িয়ে চলেছে। শোর বলছেন যে এই পদ্ধতি সরকারকে রাজস্বের “একমাত্র প্রকৃত নিশ্চয়তা” দেয়, কারণ জমির সম্পত্তি রাজস্বের জন্য দায়ী। অর্থাৎ, জমিদাররা যদি খাজনা না দেন, তবে তাদের জমি বাজেয়াপ্ত করা যাবে — এটা ছিল সূর্যাস্ত আইনের (Sunset Law) ভিত্তি।

এটাই ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করার সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক যুক্তি। কিন্তু এর ফলে জমিদারদের ওপর অমেয় চাপ পড়ল, বিশেষ করে নারী জমিদারদের, যাঁরা রাজস্বের অসম্ভব চাপ, সামলাতে পারলেন না — আর যারা লড়েগেলেন, সেই মহিলা জমিদারদের প্রবিধান তৈরি করে জমিদারি থেকে উৎখাত করা হল আর তাকে ‘অক্ষমতা’ দাগিয়ে অধিকাংশ মহিলা জমিদারের জমিদারি দখল করা হল। শোর বলছেন যে জমিদারদের তাদের পদ-সংক্রান্ত কর্তব্য — যেমন খাজনা আদায়, প্রশাসন, বিচার — পালনের অনুমতি না দিয়ে তাদের সম্পত্তি ধরে রাখতে দেওয়া অযৌক্তিক। তিনি আরও বলেন যে তাদের প্রভাব ধ্বংস করার একমাত্র উপায় হলো তাদের সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া এবং তাদের অধিকার বিলুপ্ত ঘোষণা করা — কিন্তু তা ন্যায়সঙ্গত নয়। শোর এখানে বলছেন যে জমিদারদের কর্তব্য ও অধিকার একসাথে চলে। কিন্তু নারী জমিদারদের ক্ষেত্রে এই যুক্তি উল্টো কাজ করেছে — তাঁদের ‘অক্ষম’ বলে প্রমাণ করে তাঁদের কর্তব্য থেকে বঞ্চিত করা হল, এবং সেই অজুহাতে তাঁদের অধিকারও খর্ব করা হল।

বিকল্প ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের প্রশ্নে শোর বলছেন যদি জমিদারদের বাদ দেওয়া হয়, তবে তাদের ভাতা দিতে হবে, যা সরকারের জন্য বড়ো ব্যয়। আর যদি তাদের বিকল্প (অর্থাৎ সরকারি কর্মচারী বা ইজারাদার) দ্বারা জমি পরিচালনা করা হয়, তবে তা থেকে ভালো ফল পাওয়ার আশা করা যায় না — আংশিকভাবে হতে পারে, কিন্তু সার্বিকভাবে নয়। এটাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যবহারিক যুক্তি — জমিদারদের বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ তা ব্যয়বহুল, অকার্যকর। তাই তাদের স্থায়ী কর্তৃত্ব দেওয়াই ভালো। কিন্তু এই যুক্তি নারীর অধিকার সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে, কারণ নারী জমিদারদের ‘অক্ষমতা’ আখ্যা দিয়ে তাদের বাদ দেওয়াকে ‘প্রয়োজনীয়’ ও ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে প্রচার করা হত।

সরলতা ও নিরাপত্তাই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের শ্রেষ্ঠত্ব, বলছেন শোর। তাঁর ইঙ্গিত ইজারাদার ব্যবস্থায় সরলতা আছে এবং অন্য সব পরিকল্পনার চেয়ে বেশি নিরাপত্তা রয়েছে। শোর এখানে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকে সবচেয়ে সহজ, নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান হিসেবে পেশ করছেন। কিন্তু এই ‘সরলতা’ ছিল জমিদারি প্রশাসনের জটিলতা উপেক্ষা করে একটি কৃত্রিম সরলীকরণ — যা নারীদের সম্পত্তি অধিকার, প্রজাদের স্বার্থ, এবং স্থানীয় অর্থনীতির বৈচিত্র্য অস্বীকার করে। শোর শেষ পর্যন্ত বলছেন যে জমিদারদের স্বীকৃত অধিকারের প্রতি কিছুটা অন্যায় না করে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। এই বাক্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ভণ্ডামি উন্মোচিত করে। শোর বলছেন এই আইন জমিদারদের অধিকারকে ‘স্বীকৃতি’ দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তা সীমিত, সংজ্ঞায়িত ও নিয়ন্ত্রিত করছে। নারী জমিদারদের এই ‘স্বীকৃতি’ ছিল সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক, কারণ তাঁদের অধিকার আইনত অস্বীকার করা হয়েছিল।

অর্থাৎ”শোরের মিনিটে রাজস্ব কাঠামো পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অপরিকল্পনা, ভুল পরিকল্পনার পুরো দায় সরকার নিজের কাঁধে নিচ্ছে না। চাপিয়ে দিচ্ছে হয় নিম্নপদস্থ কর্মী বা জমিদারদের ওপর। ১৯৭ স্তবক সেই কৌশলের চূড়ান্ত প্রকাশ। ১৯৭ স্তবক আদতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আত্মা — যেখানে শোর তার সমস্ত যুক্তি একত্রিত করেছেন – স্বার্থের ঐক্য; রাজস্বের নিশ্চয়তা; জমিদারি কর্তৃত্বের যৌক্তিকতা; সরলতা আর নিরাপত্তা; জমিদারদের অধিকারের প্রতি ‘ন্যায়’। কিন্তু এই ‘আত্মা’র মধ্যে লুকিয়ে আছে শোষণের সুক্ষ্ম কৌশল, যা নারীদের অর্থনৈতিক অধিকার, প্রজাদের স্বার্থ, এবং স্থানীয় অর্থনীতির বৈচিত্র্যকে অস্বীকার করে। উপনিবেশের পতন হোক — যাতে আমরা আইনের ‘আত্মা’ পড়তে শিখি, তার আবরণের নীচে লুকানো প্রকৃত উদ্দেশ্য চিনতে শিখি, এবং সেই ইতিহাসকে নতুন করে লিখতে পারি — যেখানে নারীরা ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র, পার্শ্বচরিত্র নয়।

২০০ টিকা

২০০ স্তবকে শোর লিখছেন, Summary investigation, and arbitrary punishments, were the natural consequences of a despotic government. When a ryot complained against a superior officer, or a zemindar or talookdar against an aumil, the inquiry seldom went beyond presumption, which was deemed sufficient to justify the infliction of punishments. The natives, acquainted with the habits, misrepresentations and practices of each other, as often, probably, judged right as wrong; and the promptitude of decision, in some degree, corrected the licence of oppression, where no regular system existed to restrain it.

শোরের মূল বক্তব্যের প্রস্থম দল হল — Summary investigation, and arbitrary punishments, were the natural consequences of a despotic government. অর্থাৎ গাছাড়া তদন্ত ও স্বেচ্ছাচারী শাস্তি ছিল স্বৈরাচারী শাসনের স্বাভাবিক পরিণতি।

তিনি গাছাড়া তদন্ত ও স্বেচ্ছাচারী শাস্তিকে তাঁদের পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী মুঘল শাসনের স্বাভাবিক পরিণতি হিশেবে দেখছেন। অথচ দাবি করছেন ব্রিটিশ শাসন ছিল তার বিপরীত — ন্যায়পরায়ণ, সুশৃঙ্খল ও সংস্কারমূলক। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় তার উল্টো প্রমাণ পাওয়া যায়। ফ্রান্সিস বুকাননের জরিপ (১৭৯৮) ও রিচার্ড ঈটনের গবেষণা স্পষ্ট করে যে মুঘল আমলে উত্তরবঙ্গে — কোচবিহার, রংপুর ও দিনাজপুরের গ্রামে — যখন রাজস্ব কর্মচারীরা প্রজাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে শুরু করে, তখন গ্রামবাসীরা সরাসরি মুঘল দপ্তরে প্রতিনিধি দল (ডেপুটেশন) পাঠায়। এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কর্মচারীদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ করা হয়। এটা কোনো স্বৈরাচারী শাসনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং, এটা প্রমাণ করে যে মুঘল শাসনে প্রজাদের অভিযোগ জানানোর ও প্রতিকার পাওয়ার একটি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল — যা ব্রিটিশ শাসনে বিলুপ্ত করা হয়। অথচ শোরের বক্তব্য সেই সত্য অস্বীকার করে। তিনি মুঘল শাসনকে স্বৈরাচারী চিহ্নিত করেন, কিন্তু ব্রিটিশ শাসনের স্বৈরাচারিতাকে — যেখানে প্রজাদের অভিযোগের তদন্ত হত না, শাস্তি হত স্বেচ্ছাচারী, এবং নারী জমিদারদের সম্পত্তি হরণ করা হত ‘অক্ষমতা’-র অজুহাতে — সেই স্বৈরাচারিতাকে তিনি লুকিয়ে রাখেন। শোরের ‘সংক্ষিপ্ত তদন্ত’ আসলে ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থার স্বৈরাচারিতার পরিচয় দেয়; আর মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা ছিল ব্রিটিশ শাসনকে ন্যায্য প্রমাণের একটি কৌশল। ঐতিহাসিক প্রমাণ বলছে — মুঘল শাসন যতটা স্বৈরাচারী ছিল না, ব্রিটিশ শাসন ততটাই ছিল স্বৈরাচারী।

তাই শোরের এই স্তবকটি শুধু একটি প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ নয়; এটা উপনিবেশিক শাসনের ভণ্ডামির একটি নথি, যা ইতিহাসকে বিকৃত করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।” আমরা এর আগেই বলেছি — শোরের বক্তব্যে মুঘল শাসনকে স্বৈরাচারী দেখানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ব্রিটিশেরাই ছিল স্বৈরাচারী — এই পুনর্লিখন সেই যুক্তিকেই আরও দৃঢ় করে। উত্তরবঙ্গের ডেপুটেশনের ঐতিহাসিক সত্যটি শোরের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত, এবং সেই সত্যটি থেকেই ব্রিটিশ শাসনের মুখোশ উন্মোচিত হয়।

উপনিবেশের পতন হোক — এই পুনর্লিখন যেন সেই পতনের একটি ধ্বনি।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev