সোমবার | ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:০২
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্বাদু ও রসালো আলুবোখারা–প্রকৃতির এক অনন্য উপহার : রিঙ্কি সামন্ত প্রবাস বাংলা কালচারাল সোসাইটির অনবদ্য সুরঞ্জলি রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী : ফারজানা নাজ শম্পা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্মৃতিবেলা : শিশুবেলা : ড. শিবশঙ্কর পাল ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়ালেও আতঙ্ক ছড়াবেন না, সতর্ক থাকাই একমাত্র পথ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পরিবেশ দিবসে রবীন্দ্রনাথ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার এবারে দশহরাতে আরামবাগের মনসাডাঙ্গার মনসা মাতার পূজায় ছাগবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১ম) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫৩৭ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬

অনুবাদকের মুখড়া

১৮১২তে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে জমা পড়া ফিফথ রিপোর্ট বা পঞ্চম প্রতিবেদন ১৮১০-এ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিয়ে তদন্ত কমিটির দলিল। বিশেষ কমিটির কার্যপরিধি ছিল কোম্পানির আঞ্চলিক সম্পত্তির অবস্থা সম্পর্কে তদন্ত করা। কমিটি রাজস্ব ও বিচার বিভাগের উপর বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিল কারন মাথায় রাখতে হবে ১৭৫৭র পলাশী উত্তর সময়ে দক্ষিণ এশিয়া উপনিবেশের লুঠ উদ্বৃত্ত নির্ভর করে ইওরোপ এবং বিভিন্ন সাদা কলোনিজুড়ে গড়ে উঠছিল ব্রিটিশ স্টালের পুঁজিবাদ। ফলে ভারতবর্ষের উপনিবেশ থেকে মেট্রোপলিটনে লুঠ অর্থের অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ জরুরি ছিল – তাই  কমিটির রাজস্ব উদ্বেগ ছিল। বিশেষ কমিটি গঠনের আগে মুক্ত ব্যবসায়ী এবং ধর্মপ্রচারকেরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছিল। তার অন্যতম কারন ছিল পলাশী উত্তর সময়ে বিপুল লুঠ [১৭৬৫তে ক্লাইভের বয়ানে প্রতি বছর ২০ থেকে ৪০ মিনিয়ন পাউন্ড সরাসরি ভূমিরাজস্ব থেকেই] ১৭৮০ থেকে প্রতিষ্ঠিত তুলো মিলের উৎপাদনের বাজার ধরা এবং ইংলন্ডে ভারতের কাপর আমদানি নিষিদ্ধ করা।  তাদের অভিযোগ ছিল যে, বণিক সরকার ভারতকে অন্যায় ও নিপীড়নমূলকভাবে শাসন করছে। বিশেষ কমিটিকে ভারতে কোম্পানির আঞ্চলিক সাম্রাজ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ বুঝতে এবং এর শাসনব্যবস্থা ও জনগণের উপর প্রভাব পর্যবেক্ষণ জানাতে বলা হয়েছিল। এই কমিটি নিজেদেরকে কোম্পানির প্রশাসনের রাজস্ব ও বিচার বিভাগের সাথে সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো বোঝার চেষ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। কমিটি ১৭৬৫ দেওয়ানি লাভের পর থেকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও বিচার প্রশাসনের জন্য একের পর এক প্রবর্তিত বিভিন্ন পদ্ধতির একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে। এই ধরনের সমস্ত পরীক্ষার বাস্তব প্রভাব গভীরভাবে তদন্ত করা হয়েছিল। কোম্পানির নথি এবং কোম্পানির বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ে বিশেষ কমিটির পঞ্চম প্রতিবেদন নামে একটি বিশাল প্রতিবেদন ১৮১২ সালে পার্লামেন্টে পেশ করা হয়। এই প্রতিবেদন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অনুকূলে ছিল। ১৮১৩ সালের চার্টার অ্যাক্টকে প্রভাবিত করেছিল। কোম্পানিকে শাসক ও বাণিজ্যিক সংস্থা উভয় রূপেই টিকিয়ে রেখেছিল। যদিও একটি বিশাল আঞ্চলিক সাম্রাজ্যের অধিকারী কোম্পানির ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধে জনমত ছিল, ১৮১৩-র চার্টার অ্যাক্ট কোম্পানিকে ব্রিটিশ সম্রাটের পক্ষে ব্রিটিশ ভারত শাসন করার অনুমতি দেয়। তবে, চার্টার অ্যাক্টের অধীনে কোম্পানি তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভোগ করা একচেটিয়া অধিকার হারায়। পঞ্চম প্রতিবেদন, ১৮১২, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রাথমিক প্রশাসন সম্পর্কে ঐতিহাসিক অনুসন্ধানের জন্য একটি অমূল্য উৎস দলিল। বিশেষ কমিটি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের প্রথম পঞ্চাশ বছরে এর গঠনকে নির্দেশকারী সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করেছিল এবং সেগুলোকে প্রতিবেদনের পরিশিষ্ট হিসেবে ব্যবহার করেছিল। পরিশিষ্টগুলোর মধ্যে যেগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলির মধ্যে রয়েছে জন শোর এবং কর্নওয়ালিসের কার্যবিবরণী, জেমস গ্রান্ট কর্তৃক বাংলার অর্থব্যবস্থার একটি বিশ্লেষণ, রাজস্ব ও বিচার বিভাগীয় পরিসংখ্যান, রাজস্ব বোর্ডের কার্যবিবরণী এবং জেলা বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতিবেদন। এই সমস্ত দলিলপত্র স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে বাংলায় ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র কীভাবে গঠিত ও শাসিত হয়েছিল।

প্রসঙ্গিক তথ্যাবলী

“দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি” সংক্ষেপে “দ্য ফিফথ রিপোর্ট” ১৮১২ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পেশ করা হয়। ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি লাভের পর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন, রাজস্ব আদায়, বাণিজ্য ও প্রশাসনিক নীতির ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার বজার রাখার বিরুদ্ধে বণিকদের ক্ষোভ, ভারত থেকে বিপুল অর্থ আমদানির প্রবাহ বজায় রাখা (যেমন ভূমিরাজস্ব), পলাশী উত্তর সময়ের বিপুল লুঠ অর্থে প্রতিষ্ঠিত কাপড়ের কলের উৎপাদনের জন্য উপনিবেশের বাজার খোলা এবং কোম্পানি যে বাঙলার বিপুল বৈচিত্রের কাপড় ব্রিটেনের বাজারে আমদানি করছিল, সে সব বন্ধ করা ইত্যাদি নিয়ে ব্রিটেনের কর্পোরেট উৎপাদক আর শাসকদের উদ্বেগ বাড়ছিল। ব্রিটিশ সরকার কোম্পানির বিরুদ্ধে ওঠা নানান রকম দুর্নীতি, কোম্পানির কর্মচারীদের অবৈধ কাজকর্ম তদারকি করার জন্য প্রথমে ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট ও ১৭৮৪ সালের পিটস ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পাস করে। এরই ধারাবাহিকতায়, আড়াই দশক পর পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটি কোম্পানির বিষয়াদি তদন্তের দায়িত্ব পায়। এই কমিটি ১৮০৮ থেকে ১৮১২ সালের মধ্যে পাঁচটি রিপোর্ট পেশ করে, যার মধ্যে পঞ্চমটি—”দ্য ফিফথ রিপোর্ট”—সর্বাধিক বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই রিপোর্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৭৬৫ থেকে বাংলা প্রেসিডেন্সিতে কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব নীতির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সমালোচনা জনসমক্ষে উপস্থাপন করা। ক্যালকাটা হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির পত্রিকা বেঙ্গল পাস্ট এন্ড প্রেজেন্টএর সম্পাদক, কলকাতার আর্চডিকন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার ফিফথ রিপোর্টটি সম্পাদনা করেন।

এই রিপোর্টে বাংলাকে আলাদাভাবে ও গভীরভাবে বিশ্লেষণের কারণ ছিল এর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব। বাংলা ছিল কোম্পানির সাম্রাজ্যের আয়ের প্রধান উৎস এবং “সূর্যাস্ত আইন” (১৭৯৩) বা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো নীতির পরীক্ষাগার, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে।

ফার্মিঙ্গারের সম্পাদনা ও বাংলা অংশের মূল বক্তব্য

ফিফথ রিপোর্টের বিশাল দলিল সংগ্রহকে সংকলন ও সম্পাদনা করেন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার। তার সম্পাদিত গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কলকাতা থেকে ১৯১৭ সালে “হিস্টোরিক্যাল ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য বেঙ্গল পোর্শন অফ ‘দ্য ফিফথ রিপোর্ট'” শিরোনামে । ফার্মিঙ্গারের সম্পাদনার বিশেষত্ব হলো, তিনি মূল পার্লামেন্টারি রিপোর্টের মধ্যে বাংলা-সংক্রান্ত অংশগুলো আলাদা করে একটি সুসংহত ও ব্যাখ্যামূলক কাঠামো দেন, যা বাংলার ইতিহাস গবেষকদের জন্য সহজলভ্য করে তোলে। এই বাংলা অংশের মূল বক্তব্য ও অনুসন্ধানগুলোকে কয়েকটি কেন্দ্রীয় বিষয়ের আলোকে বোঝা যায়:

ব্রিটিশ শাসনের সামাজিক প্রভাব ও “ডাকাতি সমস্যা”: রিপোর্টে বাংলায় ব্রিটিশ রাজস্ব নীতি ও ভূমি ব্যবস্থার সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও ব্যাপক দারিদ্র্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।  অনুযায়ী, সেই সময়কার ব্রিটিশ আধিকারিকরা “ডাকাতি”কে একটি বংশানুক্রমিক পেশা বা সম্প্রদায়গত বৈশিষ্ট্য বলে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখান। ফার্মিঙ্গার তার গ্রন্থে এই সরকারি দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করেছেন, যেখানে ডাকাতদের “দুরাত্মা দস্যু”, “পেশাদার ডাকাত” এবং “সমাজের শত্রু” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে । এর মাধ্যমে রিপোর্টে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং শাসনামলের অস্থিরতার একটি চিত্র পাওয়া যায়।

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ধ্বংসাত্মক ফল: রিপোর্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা হলো লর্ড কর্নওয়ালিশ প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩) ব্যবস্থার তীব্র নিন্দা। এই ব্যবস্থায় জমিদারদেরকে স্থায়ীভাবে রাজস্ব দিতে বাধ্য করা হয়, যা প্রায়ই অযৌক্তিক ও অত্যধিক হারে নির্ধারিত ছিল। এর ফলে: ১। বহু প্রথাগত জমিদার দেউলিয়া হয়ে যায়। ২। কৃষকদের ওপর জমিদার ও নীলকরদের শোষণ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ৩। কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়ে।

কোম্পানির একচেটিয়া নীতি ও শিল্প ধ্বংস: রিপোর্টে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক একচেটিয়া নীতিরও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বাংলার বিখ্যাত মসলিন ও রেশম শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ ও দমন করার মাধ্যমে কোম্পানি স্থানীয় শিল্পকে প্রায় নির্মূল করে ফেলে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক কারিগর ও তাঁতি বেকার হয়ে পড়ে এবং গ্রামীণ ও নগর অর্থনীতিতে ভয়াবহ মন্দা নেমে আসে।

প্রশাসনিক দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা: রিপোর্টে কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যাপক দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বেসামরিক প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর অত্যধিক হস্তক্ষেপের বিবরণ রয়েছে। এটি বাংলার স্থানীয় প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে দুর্বল ও বিকল করে দেয়।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন