| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাষ্ট্রের বিধি বনাম মায়ের শেষ ইচ্ছে — চিন্ময়কৃষ্ণের ঘটনা যে প্রশ্ন রেখে গেল : যশোবন্ত রায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার নেপালের পর কি কলকাতা জলের তলায় চলে যাবে — চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বৈশ্বিক অস্থিরতায় জাতিসংঘের ছয় অগ্রাধিকার : নিকোলাস বিশ্বাস বাম-ব্যানারে শারদোৎসব না দুর্গোৎসব : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গুরুবাবাদের প্রবঞ্চনা-শোষণ-যৌনতা ও রাজনীতির জম-জমাট রঙ্গ : দিলীপ মজুমদার সিরাত : জীবন খুঁজে দেয় : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘টেবিলের নিচে একটি দেশ’ বানভাসি এলাকায় মানুষ ও সাপের সহাবস্থান, দংশনে বাড়ছে মৃত্যু : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘সংকোচ’ পাখণ্ডী শব্দটির অর্থ যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ লাইন অব প্যাসেজ — সংগ্রামী জীবনের দর্পণ : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার কেন উত্তম মহানায়ক : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ হড়পা বানের হাড়হিম করা দৃশ্য : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উত্তম কুমার : বাঙালির সমাজভাষ্য, মূল্যবোধ ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকার : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় গৈরিক নয়, ‘গৈরেয়’ শব্দটি থেকেই এসেছে ‘গেরুয়া’ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাঙালিয়ানা ও উত্তম কুমার: সংস্কৃতির দর্পণে এক অনন্য মহাকাব্য : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয়
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ রাখি পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৩৭ Views জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরিশিষ্ট, নং ৩।

ভাগলপুরের কালেক্টরের চিঠি, তারিখ ৬ই ডিসেম্বর ১৭৮৭; কানুনগো পদের গঠন ও দায়িত্বাবলি বিষয়ক।

জন শোর, এস্কোয়ার, সভাপতি ও বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর সদস্যবৃন্দ, ফোর্ট উইলিয়াম-এর প্রতি। মহোদয়গণ,

আপনাদের ২৩শে অক্টোবরের পত্রটি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করছি। উক্ত পত্রে আপনারা আমাকে কানুনগো পদ বা ব্যবস্থাটি প্রবর্তনের জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলি প্রস্তাব করার নির্দেশ দিয়েছেন; এই নিয়মাবলি প্রণয়নের সময় আমাকে এই পদের বর্তমান অবস্থার সাথে এর পূর্ববর্তী অবস্থার — যখন এই প্রতিষ্ঠানটি যথাযথভাবে পরিচালিত হতো — তুলনা করতে হবে।

কানুনগো পদ সৃষ্টির পেছনে মুঘল সরকারের উদ্দেশ্য এবং এই কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বের প্রকৃতি তাঁদের নথিপত্র বা রেকর্ডভুক্ত কাগজপত্রের তালিকাটি বিবেচনা করলেই বোঝা সম্ভব। এই নথিপত্রগুলোর নামোল্লেখ করা গেল :

১। দস্তুর-উল-আমল।

২। আমল-দস্তুর।

৩। ফেরিস্ত-দেহাত

৪। শাহী-আমদারি।

৫। আওয়ারাগি

৬। দৌল-তকসীস-বন্দোবস্ত

৭। জমাবন্দি-খাস।

৮। জমা-সায়ের (চবুতরা-কোতোয়ালি, চৌকিদারি ও গুজর-ঘাট)

৯। জমা-মহাল-মীর-বাহরী।

১০। জমা-পাছৌত্রা।

১১। জমা-মহাল-বদরকি।

১২। ইস্ম-নভিসি-জমিদারান।

১৩। হকিকত-বাজি-জমিন।

১৪। জমা-মুকাররি ও ইস্তিমরারি।

১৫। উসুল-বাকি।

১৬। হকিকত-রোজিনাদারান।

[Ist. Dustoor ul umul.; 2d. Umul dustoor.; 3d. Ferisht dehaut.; 4th. Schahy amdarry.; 5th. Awargy.; 6th. Dowl tuckshees bundoobust.; 7th. Jummabundy khass.; 8th. Jumma sayre chobootra cutwally my chowkeyaut wa Guzooeghaut.; 9th. Jumma mahal Meer Bahry.; roth. Jumma Pachowtra.; 11th. Jumma mahul Budderky.; 12th. Ism nevishy Zemindarauım.; 13th. Huckikaut Bazy Zemin.; 14th. Jumma mockurrery wa istumrary.; 15th. Wassool-buky. 16th. Huckekut Rozendaraun]

উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করা হলে এই হিসাবগুলো একটা জমিদারির বার্ষিক পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরত। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকত চাষযোগ্য জমির পরিমাণ, সরকারি রাজস্ব-প্রদত্ত জমি ও খাজনামুক্ত জমির বিবরণ; পূর্ববর্তী আমিলদের (রাজস্ব কর্মকর্তা) প্রবর্তিত প্রথা ও বর্তমান আমিলদের চালু করা নতুন নিয়মকানুন; প্রতিটি প্রজার কাছে দাবিকরা খাজনার পরিমাণ ও বছর শেষে তাদের বকেয়া পাওনার হিসাব; এবং জমিদার বা ইজারাদারের মোট আদায়ের পরিমাণ (বিভিন্ন খাত অনুযায়ী আয়ের বিবরণসহ) ও আদায়ের খরচ — এসবের সঙ্গে আরও অনেক কিছুই। সংক্ষেপে, কানুনগো দপ্তরের উদ্দেশ্য ছিল এমন সব তথ্য সরবরাহ করা যাতে প্রশাসনিক কোনো সুবিধাজনক বিষয় গোপন না থাকে এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অংশের চেয়ে বেশি কোনো ফসল বা আয় জমিদার নিজের দখলে নিতে না পারে; যাতে যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনো জমি জমা বা রাজস্ব-তালিকা থেকে বাদ না পড়ে; এবং যাতে রাজস্ব-উৎপাদনকারী জমির প্রকৃত মূল্য বছর শেষে জানা যায় — যা পরবর্তী বছরের জন্য জমিটি ইজারা দেওয়া হবে নাকি খাস (অর্থাৎ সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে) রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ খাজনাত (উভয় পদ্ধতির যেকোনোটি গ্রহণের অধিকার সরকারের ছিল)।

টিকা

১। দস্তুর-উল-আমল (Dastur-ul-Amal) হলো ফার্সি শব্দ, যার অর্থ হলো কার্যপদ্ধতির ম্যানুয়াল বা প্রশাসনের নিয়মাবলি। মধ্যযুগের মুঘল আমলে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ভারতীয় রাজ্যে রাজস্ব, ভূমি প্রশাসন, এবং রাজকীয় নির্দেশ বা আইন লিপিবদ্ধ করার জন্য এই ধরনের দলিল বা নির্দেশিকা ব্যবহার করা হতো।  মূলত প্রশাসনিক নির্দেশিকা, কানুন বা নিয়মকানুন সংকলন। ব্যবহার – মুঘল প্রশাসন ব্যবস্থায় (যেমন আকবর বা জাহাঙ্গীর-এর আমলে) রাজস্ব নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের নিয়ম ঠিক করতে এটি ব্যবহৃত হতো। দহশালা [দশশালা] সিস্টেম: মুঘল আমলে জমির উৎপাদন ও মূল্যের ১০ বছরের গড়ের ওপর ভিত্তি করে যে রাজস্ব তালিকা তৈরি হতো, তাকেও অনেক সময় এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হতো। ঐতিহাসিক গুরুত্ব: এই দলিলগুলো থেকে তৎকালীন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক বিবরণ, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠامোর সুনির্দিষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়।

২। আমল দস্তুর — মুঘল আমলের রাজস্ব ব্যবস্থায় ‘আমল-দস্তুর’ বলতে মূলত কর আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়ম, পদ্ধতি এবং তার হিসাব-নিকাশ রাখার সরকারি নির্দেশিকাকে বোঝায়। এটি ছিল ভূমি রাজস্ব (Khiraj) নির্ধারণ এবং সংগ্রহের একটি বাস্তবমুখী দলিল। আমল-দস্তুর’ আসলে কী? রাজস্ব আদায়ের গাইডবই : এটি ছিল মুঘল সম্রাট বা দেওয়ানের পক্ষ থেকে জারি করা একটি নিয়মাবলী, যা দেখে স্থানীয় রাজস্ব কর্মকর্তারা (যেমন : আমিন বা কানুনগো) চাষীদের থেকে কর আদায় করতেন। এলাকাভিত্তিক হার: প্রতি অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ এবং ফসলের ওপর ভিত্তি করে করের হার আলাদা হতো। এই ভিন্ন ভিন্ন হার আমল-দস্তুরে লেখা থাকত। কর্মকর্তাদের দায়িত্ব: রাজস্ব কর্মকর্তারা কীভাবে জমি মাপবেন, কীভাবে শস্যের ভাগ করবেন এবং কীভাবে টাকা সরকারি তহবিলে জমা দেবেন — তার স্পষ্ট নির্দেশ থাকত। কীভাবে কাজ করত? জমি পরিমাপ: প্রথমে ফসলি জমি নিখুঁতভাবে মাপা ফলন অনুমান: কোন জমিতে কী পরিমাণ ফসল উৎপন্ন হতে পারে, তার একটি হিসাব করা করের অনুপাত: সাধারণত উৎপাদিত ফসলের এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) বা অর্ধেক (১/২) অংশ কর হিসেবে নির্ধারণ করা হতো, যা আমল-দস্তুর মেনে আদায় করা হতো। ‘দস্তুর-উল-আমল’-এর সাথে পার্থক্য — এই দুটি শব্দ কাছাকাছি হলেও এদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে — আমল-দস্তুর মূলত ভূমি এবং রাজস্ব আদায়ের বাস্তব প্রয়োগ ও হিসাবের সাথে সরাসরি যুক্ত আর দস্তুর-উল-আমল আরও বড় স্তরের দলিল। পুরো মুঘল সাম্রাজ্য পরিচালনার প্রশাসনিক ও আইনি সংবিধানের মতো, যার মধ্যে রাজস্ব ছাড়াও আদালতের নিয়ম, সরকারি পদের দায়িত্ব ইত্যাদি সবকিছু শামিল ছিল।

৩। ফেরিস্ত-দেহাত — ফেরিস্ত-ই-দেহাত (Fahrist-i-Dehat) হলো মুঘল আমলের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দলিল বা গ্রামের তালিকা। ফারসি শব্দ ‘ফেরিস্ত’ মানে তালিকা এবং ‘দেহাত’ মানে গ্রাম বা পল্লি অঞ্চল। সহজ কথায়, এটি ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে তৈরি করা গ্রামভিত্তিক একটি বিস্তারিত খতিয়ান বা — মুঘল রাজস্ব ব্যবস্থায় এই দলিলের গুরুত্ব এবং এর কাজ সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো :

১. ফেরিস্ত-ই-দেহাত আসলে কী?মুঘল আমলে রাজস্ব আদায়ের মূল উৎস ছিল কৃষি জমি। সঠিক কর নির্ধারণের জন্য প্রতিটি পরগনার (কয়েকটি গ্রাম নিয়ে গঠিত এলাকা) অধীনে কতগুলো গ্রাম আছে, তার একটি তালিকা তৈরি করা হতো। এই তালিকা বা খতিয়ানটিকেই বলা হতো ফেরিস্ত-ই-দেহাত। রাজস্বের নথিপত্রে গ্রামগুলোকে সাধারণত ‘মৌজা’ বা ‘দেহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো।

২. এতে কী কী তথ্য থাকত? একটি ফেরিস্ত-ই-দেহাত বা গ্রাম তালিকায় সাধারণত নিচের বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে লেখা থাকত : গ্রামের সীমানা : প্রতিটি গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা।জমির পরিমাণ: গ্রামে মোট কতখানি চাষযোগ্য জমি এবং কতখানি পতিত জমি রয়েছে। ফসলের বিবরণ : কোন জমিতে কী ধরনের ফসল (যেমন: ধান, গম, তুলা) চাষ হয়। করদাতার সংখ্যা : গ্রামে কতজন কৃষক (রাইত) বাস করেন এবং কার কতটুকু জমি আছে। রাজস্বের পরিমাণ : গ্রামটি থেকে কত টাকা বা কী পরিমাণ রাজস্ব (মাল) আদায় করা সম্ভব, তার একটি খসড়া হিসাব (যাকে ‘জমা’ বলা হতো)।

৩. মুঘল রাজস্ব ব্যবস্থায় এর ভূমিকা হল সঠিক কর নির্ধারণ (Zabti ও Dahsala ব্যবস্থা) : সম্রাট আকবরের অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমল যে জাবত (Zabti) এবং দহশালা (Dahsala) ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, তা সফল করতে এই গ্রাম তালিকার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। জমি মেপে সঠিক কর বসাতে এই তালিকা সাহায্য করত। জাগিরদারদের সুবিধা : মুঘল সম্রাটরা যখন কোনো কর্মকর্তা বা মনসবদারকে বেতনের বদলে কোনো এলাকা বা ‘জাগির’ দান করতেন, তখন এই ফেরিস্ত-ই-দেহাত দেখেই বোঝা যেত সেই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেমন এবং সেখান থেকে কত রাজস্ব পাওয়া যাবে। রাজস্ব ফাঁকি রোধ : কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রতিটি গ্রামের হিসাব থাকায় স্থানীয় জমিদার বা রাজস্ব আদায়কারীরা কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কর আদায় করতে বা সরকারের কাছে হিসাব লুকাতে পারত না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ফেরিস্ত-ই-দেহাত ছিল মুঘল আমলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও রাজস্ব প্রশাসনের একটি নিখুঁত আয়না, যা ছাড়া বিশাল মুঘল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রীয় কর ব্যবস্থা চালানো অসম্ভব ছিল

৪। শাহী-আমদারি (বা শাহী আমদানী) বলতে মুঘল আমলে সম্রাটের কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমা হওয়া মোট রাজস্ব বা সরকারি আয়কে বোঝাত। মুঘল সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই ছিল এই রাজস্ব ব্যবস্থা। নিচে মুঘল রাজস্ব ব্যবস্থার মূল বিষয়গুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো :

১. আয়ের প্রধান উৎসসমূহ — মুঘল সরকারের আমদানী বা আয়ের উৎসগুলোকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হতো : ভূমি রাজস্ব (খরাজ) : এটি ছিল আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। চাষীদের ফসলের একটি অংশ (সাধারণত এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক) কর হিসেবে দিতে হতো। বাণিজ্য কর: দেশী ও বিদেশী পণ্যের কেনাবেচা এবং যাতায়াতের ওপর কর নেওয়া হতো। জিজিয়া কর : অমুসলিম প্রজাদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে এই কর নেওয়া হতো (আকবর এটি বন্ধ করলেও আওরঙ্গজেব আবার চালু করেন)। উপহার ও নজরানা : অধীনস্থ রাজা এবং মনসবদাররা (কর্মকর্তারা) সম্রাটকে মূল্যবান উপহার দিতেন। লবণ ও খনি কর : লবণ উৎপাদন এবং হীরা বা অন্যান্য খনি থেকে সরকারের আয় হতো।

২. রাজস্ব আদায়ের এলাকা — রাজস্ব সংগ্রহের সুবিধার জন্য জমিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল : খালিসা জমি : এই জমির পুরো রাজস্ব সরাসরি সম্রাটের কেন্দ্রীয় কোষাগারে (শাহী-আমদারি) জমা হতো। সম্রাটের নিজের খরচ এবং রাজপরিবারের ব্যয় এখান থেকে চলত। জায়গীর জমি: এই জমির রাজস্ব সরাসরি কেন্দ্রীয় কোষাগারে যেত না। এটি মনসবদার বা সামরিক কর্মকর্তাদের বেতনের বদলে দিয়ে দেওয়া হতো। তারা সেখান থেকে রাজস্ব আদায় করে নিজেদের খরচ চালাতেন।

৩. আকবরের ‘আইন-ই-দেহসালা’ ব্যবস্থা — মুঘল রাজস্ব ব্যবস্থাকে সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী করেছিলেন সম্রাট আকবর এবং তাঁর অর্থমন্ত্রী রাজা টোডরমল। তাঁরা ‘দহসালা’ (Dashala) ব্যবস্থা চালু করেন : বিগত ১০ বছরের ফসলের গড় উৎপাদন এবং বাজারের দাম হিসাব করে কর ঠিক করা হতো।জমির উর্বরতা মেপে কর নির্ধারণ করা হতো, যাতে কৃষকদের ওপর জুলুম না হয়। নগদ টাকায় কর দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়।

৪. রাজস্ব কর্মকর্তা রাজস্ব ঠিকঠাক আদায় করে শাহী কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো ছিল : দেওয়ান : কেন্দ্রীয় রাজস্ব মন্ত্রী, যিনি সমস্ত আয়ের হিসাব রাখতেন। আমিল বা আমলগুজার : জেলা পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান সরকারি কর্মকর্তা। কানুনগো ও পাটোয়ারী : গ্রাম পর্যায়ের কর্মকর্তা, যারা জমির সীমানা ও ফসলের হিসাব রাখতেন। সংক্ষেপে, শাহী-আমদারি ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের মেরুদণ্ড, যা দিয়ে বিশাল সেনাবাহিনী পরিচালনা, লাল কেল্লা বা তাজমহলের মতো বিশাল স্থাপত্য নির্মাণ এবং রাজকীয় জীবনযাত্রার খরচ চালানো হতো।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev