Logo
এই মুহূর্তে ::
শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সংগ্রাম, মানবিকতা ও আত্মমর্যাদার জীবনকাব্য — সত্যজিৎ নাথের উপন্যাস “শেষের বেলা” : যশোবন্ত রায় যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের,… কিছুটা আরশোলারও… : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কৃষক আন্দোলনের ঐতিহ্য ও সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলন : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উম্মে মুসলিমা-র ছোটগল্প বারবনিতা সাহিত্যিক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও বঙ্গসাহিত্য : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কবিতার আয়ুষ্কাল — নজরুলের বিদ্রোহী : রফিকুর রশীদ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায়

যশোবন্ত রায় / ৫৬ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

রাখি বন্ধন ভারতীয় সংস্কৃতিতে একটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। প্রতি বছর শ্রাবন মাসের পূর্ণিমার দিন রাখি বন্ধন উৎসব পালন করা হয়। এই দিন বোনেরা তাদের ভাইদের হাতের কব্জিতে সুন্দর পবিত্র সূতো বেঁধে দেয় যা ‘নিরাপত্তা ও মঙ্গলের’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বোনেরা তাদের ভাইদের মঙ্গল কামনা করে এবং ভাইয়েরা বোনদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

রাখী পূর্ণিমাকে ঘিরে রয়েছে নানান পৌরাণিক কাহিনি। রামায়ণ অনুযায়ী, ভগবান রাম সমস্ত বানর সেনাদের ফুল দিয়ে রাখি বেঁধে ছিলেন। এছাড়া, দেবী লক্ষ্মী রাজা বলিকে ভাই হিসেবে মেনে রাখি পরিয়েছিলেন যাতে সে উপহার স্বরূপ বিষ্ণুকে স্বর্গে তাঁর কাছে ফিরে যেতে বলে। অন্যদিকে একবার শ্রীকৃষ্ণের হাত কেটে গেলে দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে কৃষ্ণের হাত বেঁধে দিয়েছিলেন। সেটাকেও রাখি বন্ধনের প্রতীক হিসেবে গন্য করা হয়। অবাঙালীদের কাছে রাখি বন্ধন ‘রক্ষা বন্ধন’ নামেও পরিচিত। কিন্তু বাঙালীদের কাছে রাখি কেবলই ভাই বোনের মধ্যে আবদ্ধ নয়। ধর্মীয় ও সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে রাখিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিয়ে এসেছিল বাঙালি। আর বাঙালির এই রাখি বন্ধনের প্রসঙ্গে অবশ্যই উঠে আসে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করতে গিয়ে রাখিকেই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯০৫ সালের ২০ জুলাই ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের কথা ঘোষণা করে। জানিয়ে দেয়া হয়, এই আইন কার্যকরী করা হবে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর। এর বিরোধিতায় দুই বাংলার সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদে সামিল হন। কবিগুরু এই দিনটিকেই বেছে নিয়ে এপার বাংলা ওপার বাংলার সর্বসাধারণের কাছে আহ্বান জানিয়ে বর্ণ ধর্ম জাতপাত নির্বিশেষে একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে মিলনের উৎসব পালনের অনুরোধ জানালেন। ঠিক হয়, ওই দিন বাংলার মানুষ পরস্পরের হাতে হলুদ সূতো বেঁধে দেবেন। এই দিনকে মিলন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। কবিগুরু এই দিনটিকে রাখি বন্ধন উৎসব হিসেবে পালন করার ডাক দেন। বাংলায় হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বকে ফুটিয়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেন রবীন্দ্রনাথ।

১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর, ৩০শে আশ্বিন বাঙালির ঐক্যবন্ধনের দিন ঘোষিত হয়েছিল। সকলের হাতে রাখি পরিয়ে সংযম গ্রহণের ডাক দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সর্বত্র প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছিল। প্রচারপত্রে বলা হয়েছিল, “ঐ দিন সমস্ত বাংলাদেশের কোথাও কোন গৃহে রন্ধন হইবে না। আমরা বাঙালিরা সেদিন উষ্ণ দ্রব্য ভোজন করিব না। বন-ভোজনের পারণের ন্যায় চিড়া, মুড়কী, ফলাদি আহার করিয়া থাকিব৷ কেবল শিশুর জন্য দুগ্ধ জ্বাল দিতে অন্যত্র অগ্নি জ্বালিব, চুল্লি জ্বালিব না। ঐ দিনকেই প্রতি বৎসর বাঙালির রাখি বন্ধনের দিন করিয়া স্মরণীয় করিয়া রাখিব।” সেদিন কলকাতার রাস্তায় বিশাল মিছিল বের হয়ে গঙ্গার উদ্দেশে যাত্রা করে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন সমাজের গণ্যমান্য নামী ব্যক্তিরাও। মূল শোভাযাত্রার পুরোভাগে নেতৃত্ব দিলেন স্বয়ং বিশ্বকবি। তাঁর কণ্ঠে তখন সেই গান “বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুণ্য হোক, পুণ্য হোক, পুণ্য হোক হে ভগবান।” কবির সঙ্গে কন্ঠ মেলালেন মিছিলের সহযাত্রীরা। মিছিলের মানুষজন গঙ্গায় স্নান সেরে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একে অপরের হাতে হলুদ রঙের সুতো বেঁধে দিলেন। কবির এক ডাকে ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সারা বাংলার মানুষ এক হয়ে পথে নেমেছিলেন। সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে রাণী চন্দ সম্পাদিত ‘ঘরোয়া’তে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, “ঘাটে সকাল থেকে লোকে লোকারণ্য, রবিকাকাকে দেখবার জন্য আমাদের চার দিকে ভিড় জমে গেল। স্নান সারা হল— সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল এক গাদা রাখি। সবাই এ ওঁর হাতে রাখি পরালুম। অন্যরা যারা কাছাকাছি ছিল তাদেরও রাখি পরানো হল। হাতের কাছে ছেলেমেয়ে যাকে পাওয়া যাচ্ছে, কেউ বাদ পড়ছে না, সবাইকে রাখি পরানো হচ্ছে। গঙ্গার ঘাটে সে এক ব্যাপার। পাথুরেঘাটা দিয়ে আসছি, দেখি বীরু মল্লিকের আস্তাবলে কতকগুলো সহিসকে হাতে রাখি পরিয়ে দিলেন রবিকাকা। রাখি পরিয়ে আবার কোলাকুলি, সহিসগুলো তো হতভম্ব। হঠাৎই রবিকাকার খেয়াল গেল চিৎপুরের বড়ো মসজিদে গিয়ে সবাইকে রাখি পরাবেন। হুকুম হল, চলো সব। রওনা হলুম সবাই। গেলুম মসজিদের ভিতরে, মৌলবীদের হাতে রাখি পরিয়ে দিলুম। ওরা একটু হাসলে মাত্র।”

এক ধর্মীয় আচারকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের হাতিয়ারে পরিণত করলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই আন্দোলন সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলল। রবীন্দ্রনাথ রাখির সুতোয় যে সম্প্রীতির বার্তা গেঁথে দিয়েছিলেন তাকে ধরে রাখার উত্তর দায়িত্ব প্রতিটি ভারতবাসীর।

আমরা সবাই রাখী উৎসবের আনন্দ উপভোগ করব অবশ্যই কিন্তু সেটা যেন শুধু একটা উৎসব হয়েই থেকে না যায়। আমাদের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন যেন কেমন আলগা হয়ে যাচ্ছে। দামী ও রঙিন রাখির নিচে ঢাকা পড়ে থাকা সুতোর মতোই ক্রমশ আমরা হারিয়ে ফেলছি সম্পর্কের বন্ধনের ধারণা। যে বন্ধন সৌহার্দ্যের, সৌভ্রাতৃত্বের, সম্প্রীতির। রাখি বন্ধন যেন হয়ে উঠে আমাদের মধ্যে সৌহার্দ্যের, সৌভ্রাতৃত্বের ও সম্প্রীতির উৎসব।

তথ্যসূত্র:

১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনস্মৃতি, আত্মকথা-২, ‘বঙ্গব্যবচ্ছেদ’ প্রতিবেদন ও প্রচারপত্র, (রবীন্দ্ররচনাবলী পঞ্চদশ খণ্ড-খ বিবিধ) ২। রাণী চন্দ সম্পাদিত অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ঘরোয়া’ (বিশ্বভারতী প্রকাশিত)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন