‘বলো ভাই গিজো গিজো, এসেছে পদ্মা পুজো’। ছেলেবেলার ছড়াটা এখনও মনে পড়ে পদ্মা পূজা এলে। মাস খানেক আগে থেকেই চলছে প্রস্তুতি। পূজার দিন আত্মীয় স্বজনে ভরে উঠত বাড়ি। সকাল থেকে রাস্তায় ঢাকের বাদ্য, ব্যান্ড পার্টি, তাসা পার্টির দল ঘুরছে। পাড়ায় পাড়ায় রাস্তার দু পাশে বাঁশ পুঁতে গেট তৈরি হয়েছে। কদিন আগে ছেলের দল ঢাক বাজিয়ে নিশান তুলেছে গ্রামের গাছে গাছে।
পূজার দিন শোভাযাত্রা বের হবে গ্রামের বাঁধা বটতলা থেকে। পূজা আসবে বীজনগর, সুদপুর, দে-পাড়া, গোঁড়া পাড়া, বনগ্রাম, গোপালপুর, আশপাশের অনেক গ্রাম থেকে। সবাই একত্র হলে যাত্রা শুরু। প্রথমে ঢাকের তালে তালে লাঠি হাতে নৃত্যরত মদমত্ত ভক্তের দল। পিছনে ভক্তদের মাথায় মই’এ সাজানো দেবীর নৈবেদ্য। তাদের পিছনে বলির ছাগল ভেড়া নিয়ে অসংখ্য মানুষ। পশুদের গলায় ফুলের মালা, শিং তেল সিঁদুরে রাঙানো। গ্রাম পরিক্রমা শেষে দলটা সাত পাক দেবে পদ্মাতলা। দুটো বিশাল বট অশ্বত্থ বৃক্ষ ঘিরে শ্যাওডা কুল নানা অজানা গাছের ঝোঁপ জঙ্গলে ঢাকা পুজোতলা। দিনের বেলাতেও আধো অন্ধকার। গ্রাম থেকে দূরে মাঠের মাঝের পুজোতলা এখন লোকে লোকারণ্য। কাছের দুটো পুকুরের জলে চুবিয়ে পশুদের শুদ্ধ করে আনা হচ্ছে দেবীকে নিবেদন করতে হাজির করা হচ্ছে হাড়ি কাঠের সামনে। সেখানে দীর্ঘ লাইন। ভেড়ার পাঁঠা গুলো এই অবসরে একে অপরের সঙ্গে ঢুঁসোঢুসি করছে। ছাগল গুলো নির্বিকার। পড়ে থাকা গাছের পাতা চিবিয়ে খাচ্ছে চোখ মুদে। পা বাঁধা শূকর গুলো চীৎকার করছে। মানুষের এই অন্যায় ব্যবহারে খুব ক্ষুব্ধ তারা। কয়েকটা পাতি হাঁস প্যাক প্যাক করে তাদের সমর্থন করেছে। ও দিকে পশু রক্তে ভেসে যাচ্ছে পূজা অঙ্গন। কয়েক শো বলি। চলবে দ্বিপ্রহর পেরিয়ে। গ্রামের প্রান্তে ডোম পাড়ায় মেলা বসেছে। বিকালে সেখানে বিকিকিনি হবে। আত্মীয় বন্ধুর মেলামেশা, আলাপ পরিচয় চলবে।

আগে গ্রামে দু তিন দিন চলত যাত্রা কবিগান, নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখন অনুষ্ঠান কম শব্দ বেশি। পাড়ায় পাড়ায় ডিজে মাইকের গানে কান ঝালাপালা।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার দুর্গা গ্রামের গ্রাম্য দেবী পদ্মাবতী বা মা পদ্মা।জ্যৈষ্ঠ আষাঢ মাসের শুক্লা দশমীর (দশহরা) দিন তাঁর পূজা। এই গ্রামের প্রধান দেবী তিনি। অন্য কোন পূজা, বিবাহ, অন্নপ্রাশন যে কোন শুভ কাজ শুরু হয় তার স্মরণ করে। এ গ্রামে নতুন ফসল, গাছের প্রথম ফল, গাভীর দুধ প্রথম মা’কে নিবেদন না করে কেউ খায় না। এ গ্রামে বিজয়া দশমী দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের পরেই শুরু হয় না। আগে দেবী পদ্মার পূজা ও বলি তার পর শুরু বিজয়া।বাৎসরিক পূজা ছাড়াও আছে দেবীর নিত্য পূজা ও ভোগ। এক সময়ে সকাল সন্ধ্যা ঢাকের ঢম্বুল দেওয়া হত পদ্মা তলায়। এজন্য ঢাকীদের জমি ছিল। এ ছাড়াও পূজা আয়োজনে দেবোত্তর জমির বন্দোবস্ত ছিল অন্যদের। বাম শাসনে সেই জমি ব্যক্তিগত নামে রেকর্ড হতেই সব দায় মিটে যায়। ব্রাহ্মণরা পূজা প্রাঙ্গনের জমি বিক্রয় শুরু করেন। পূজা তলার অস্তিত্ব যখন প্রশ্নের মুখে তখন গ্রামের নবীন সঙ্ঘ কিছু জমি ক্রয় করে পূজা প্রাঙ্গন রক্ষা করে। আগে আশপাশের সব গ্রাম সামিল হত এই দেবীর পূজায়। অত্যধিক ভীড়, নানান সমস্যায় এখন অনেক গ্রাম নিজেরাই পূজা আয়োজন করে এক দিনেই।
এই দেবী নাকি খুবই জাগ্রত। তাকে মানত করে অনেক সুফল মেলে। ঘরের ঈশান কোনে তার পূজার পুষ্প পুঁতে রাখলে সর্পভীতি দূর হয়। নানা রোগে এই পুষ্প মাটি সুফলদায়ী বলেন অনেকেই। মুসলিমরাও দেবীর পূজা দেন ও পুষ্প নিতে আসেন।

জনশ্রুতি ও রহস্য
কে এই দেবী? কেন তার নাম পদ্মা বা পদ্মাবতী! মাঠের মাঝে ঘন জঙ্গলে কেন তার থান? বৃক্ষ তলে কেন পাথর পূজা! এক অঙ্গনে কেন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন সম্প্রদায়ের পূজা?কেন পাঁঠা হাঁস শূকর বলি! কেন মনসা পূজা থেকে ভিন্ন পূজার নিয়ম কানুন! কত দিন চলছে পূজা? এমন কত প্রশ্ন আছে মানুষের মনে। তার সঠিক উত্তর মেলে না। আমি ইতিহাসের ছাত্র নই, তবুও গোলকধাঁধার জট খোলার চেষ্টা করেছি নিজের মত করে। বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়ে আমার ভুল ত্রুটি সংশোধন করলে বাধিত হব।
জনশ্রুতি নিয়েই শুরু করা যাক। বর্তমান পুরোহিত বংশের স্বর্গীয় কাশীনাথ চক্রবর্তীর মতে কোন এক সময়ে এ গ্রামের জনৈক গোষ্ঠবিহারী রায় নাকি দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুরু করেন দেবীর পুজো। স্ত্রী পদ্মা দেবীর নামেই শুরু হয়েছিল পূজা। বাংলা ১০৯৭ সালে গোষ্ঠবিহারী রায় পরলোকগমন করলে তার স্ত্রী’র হাতে পড়ে পূজার ভার। তিনি নিঃসন্তান তাই মৃত্যুকালে তার সম্পত্তি ও পূজার ভারাপন দেন পুরোহিত গ্রামের ক্ষুদিরাম চক্রবর্তী মহাশয়কে। অপুত্রক অবস্থায় মৃত্যু হলে তার বিষয় সম্পতি স্থানীয় জমিদার বাজেয়াপ্ত করেন। পূজা বন্ধ হয়ে যায়। তখন গ্রামবাসী ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধে বর্ধমানের মহারাজার অধীন কলকাতার উত্তরপাড়ার জমিদাররা পূজার স্থান ও পরিচালনার জন্য পুরোহিত, নাপিত, বাদ্যকরদের চাকরান সম্পত্তি প্রদান করে আবার পূজা চালু করেন। এজন্যই নাকি প্রথম পূজা ও বলির অধিকার জমিদারের। তখন স্থানীয় সব জমিদারই পূজা পাঠাতেন। জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলে অন্য জমিদারদের পূজা আসে না। কিন্তু বিজনগরের বক্সীরা এখনও পূজা পাঠান। প্রথম বলি হয় তাদের। তার পর গ্রামের মিত্রদের। যাইহোক, আবার পূজা শুরু হল।কিন্তু কে এই গোষ্ঠবিহারী! পদ্মাদেবী! ঠিক কবে কখন পূজার দ্বায়িত্ব পান বর্তমান পূজারী বংশ! তার সঠিক তথ্য প্রমাণ নাই। গ্রামের রায় (কায়স্থ) পরিবারের সঙ্গে কাশীনাথ চক্রবর্তী কথিত গোষ্ঠবিহারীর কোন সম্পর্ক নেই। এটা একটা স্বকল্পিত গল্প ছাড়া কিছু নয় বলেই মনে করি। আসলে এই সব আদিম যুগের দেব দেবতাকে হিন্দু শ্রেণীভুক্ত করা ও ব্রাহ্মণ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এই স্বকল্পিত গল্পের অবতারনা। বাংলায় ইংরেজ শাসনে লর্ড কর্নওয়ালিস’-এর (১৭৯৩) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জমিদাররা সব জমির মালিক হন। সেই সুত্রে দেব দেবতার জমিও তাদের অধিকারে আসে। তারা স্থানীয় ব্রাহ্মণদের ঐ জমি দিয়ে সেবায়েত হিসেবে গ্রাম্য দেবদেবীর পূজার অধিকার দেন। এই সব অনার্য অর্বাচীন দেবদেবীর পূজা আগে ব্রাহ্মণরা করতেন না। তাই তাদের আর্যীকরন ও পূজা প্রচলন নিয়ে নানান গল্প কাহিনী অবতারণা।

আমার ধারনা দেবী পদ্মা কোন ব্যক্তির নন, ইনি প্রাগৈতিহাসিক গণদেবী। আদিম অরণ্যচারী মানুষের বিশ্বাসের মানসভূমে জন্ম তার। আদিম কাল থেকে এখানেই ছিল তার অধিষ্ঠান। এ বিষয়ে ডঃ নীহাররঞ্জন রায় তার ‘বাঙালির ইতিহাস’এ বলেছেন, —
বাংলার গাঁয়ে গাঁয়ে লোকালয়ের বাইরে, খোলা জায়গায়, কিম্বা গাছের ছায়ায় একটা করে ‘থান’ বা স্থান থাকে — সেখানে থাকেন গ্রাম্য দেবতা। কোথাও কোথাও গ্রাম্য দেবতার বিগ্রহ থাকে, কোথাও থাকে না। এইসব জায়গায় পশুপাখি বলি দেওয়া হয়। লোকে গ্রাম্য দেবতার নামে মানত করে। তাকে খুশি রাখার চেষ্টা করে। এই গ্রাম্য দেবতা কোথাও কালী, কোথাও ভৈরব বা ভৈরবী, কোথাও বনদুর্গা বা চন্ডী, কোথাও আবার তাঁর স্থানীয় কোন নাম। গ্রাম দেবতা বা দেবী হলেন আর্য পূর্ব আদিম গ্রামগোষ্ঠীর ভয়ভক্তির দেবতা। তাই তার স্থান গ্রামে নয়, গ্রামের বাইরে। ব্রাহ্মণ্য বিধানে গ্রামদেবতার পূজো বারণ, যারা এই দেবতার পূজারী, মনুর বিধানে তারা পতিত হিসেবে গণ্য। তবুও কোন বিধিনিষেধই এইসব গ্রামদেবতার পূজো কোনদিন বন্ধ করতে পারেনি,এবং এদের কেউ কেউ ক্রমশ ব্রাহ্মণ্য সমাজে স্বীকৃত হয়ে ব্রাহ্মণ্য ধর্মেকর্মে ঢুকে পড়েছেন। যেমন শীতলা মনসা বনদুর্গা ষষ্ঠী, নানা রকম চন্ডী, নরমুন্ডমালিনী,শ্মশানচারী কালী, শ্মশানচারী শিবম, পর্ণশবরী, জাঙ্গুলী।

এই সব দেব দেবতা সৃষ্টি ও তাদের অটল আসনের ভিত মানুষের অবিচল বিশ্বাসে গাঁথা যার শিঁকড় ছড়ানো সভ্যতার সূচনা লগ্নে। তাই ডঃ রায় বলেছেন, প্রাচীন বাংলায় আদিবাসী মানুষের ভয়ভাবনা, বিস্ময় আর বিশ্বাসের অনেক কিছুই আজও আমরা মনের মধ্যে পুষে রেখেছি। আমাদের অনেক ধ্যানধারণায়, অনেক অভ্যাসে আজও জড়িয়ে আছে প্রাচীন বাঙালির সংস্কার-আচ্ছন্ন মন। বাঙালির ধর্মকর্মের গোড়াকার ইতিহাস হল জনপদবদ্ধ প্রাচীন বাংলার আদিবাসীদের পুজোআর্চা, ভয়ভক্তি, বিশ্বাস,সংস্কারেরই ইতিহাস।
দেবী পদ্মা সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলার প্রাচীন ইতিহাসে তার প্রমাণ মেলে। ডক্টর নীহাররঞ্জন রায়ের মতে, বাংলা আসাম আর উড়িষ্যায় মনসা দেবীর পূজা হয়। এখন সাধারণত যেভাবে এই পুজো হয়, তা প্রতিমা পুজো নয় — ঘট-মনসা পট-মনসার পুজো, ধানবোঝাই মাটির ঘাটের উপর সর্পধারিনী মনসার ছবি এঁকে তার পুজো কিংবা শোলা বা কাপড়ের পটের উপর সর্পধারিনী মনসার কাহিনী এঁকে টাঙ্গানো পটের সামনে পুজো করাই সাধারণ রীতি। কিন্তু প্রায় হাজার বছর আগে বাংলা দেশে মনসার প্রতিমা পুজো হতো। বাংলা দেশে মনসা দেবীর যেসব মূর্তি পাওয়া গেছে তার প্রত্যেকটিতেই মনসা দেবীর সঙ্গে একাধিক সাপের কোলে একটি মানব শিশুর, একটি ফলের এবং কোথাও কোথাও একটি ভরা ঘটের ছবি আছে। পাল আমলের গোড়ার দিকেই দেখা গেল ব্রাহ্মণ্য ধর্ম মনসা দেবীকে জাতে তুলে নিতে আরম্ভ করেছে। কিন্তু অনেকদিন পর্যন্ত তাকে কোন সুনির্দিষ্ট রূপ দিতে পারেনি। কোন কোন ধ্যানে তার বাহন হাঁস, হাতে তাঁর বই-পুঁথি আর অমৃতকলশ। এসব উপকরণ যে সরস্বতীর তা বলবার দরকার হয় না। দেবী মনসা আর লক্ষী সরস্বতীর সম্পর্কের কথা পরে বলবো।

গণ দেবতার জন্ম
মানুষ যখন ছিল অরন্যচারী গুহাবাসী, যখন মানুষের ধর্ম বোধ ছিল না। তখন তারা প্রকৃতির নানা শক্তিকে ভয় করত, ভক্তি করত। কারণ তাদের বা়ঁচা মরা যেন ছিল প্রকৃতির ইচ্ছে। যে প্রকৃতি তাদের খাদ্য আশ্রয় যোগাত সেই প্রকৃতিই নানা দৈব দুর্বিপাকে কেড়ে নিত প্রাণ। তাই প্রকৃতির করুণা পেতে একদিন পূজা শুরু করেছিল তার। প্রকৃতি স্বরূপা বৃক্ষ নদী পর্বত নাগ তাদের দেবতা হয়েছিল। আদিম মানুষ এক সময়ে আরো সভ্য হল, সমাজ গড়ল। সমাজের শিরোমনি হল ওঝা ওস্তাদ গুনিন পুরোহিত সম্প্রদায়। তারাই রচনা করলেন তন্ত্র মন্ত্র,শাস্ত্র পুরাণ।এ দেশে আর্য অনার্যদের ধর্ম বিশ্বাস ছিল আলাদা। আর্যরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ ভাবত। তাদের কাছে অনার্যরা ছিল অসভ্য অচ্ছূত অস্পৃশ্য অসুর,তাদের দেব দেবতাও ছিল অর্বাচীন। কিন্তু অনার্যরা ছিল দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী। তাদের শক্তিও কম নয়। শুরু হল সংঘাত। দুই পক্ষের এই ধর্ম ও সংস্কৃতির সংঘাত চলে দীর্ঘকাল। পৌরাণিক দেবাসুরের লড়াই সেই দ্বন্দ্বের ইতিহাস। সমন্বয়ের স্বার্থে এক সময়ে অচ্ছুত অনার্য দেবদেবীদের মেনে নিতে হল আর্যদের। রচিত হল নতুন শাস্ত্র পুরাণ। বাংলার লৌকিক দেব দেবীদের নবরূপে ঠাঁই হল সেখানে। আমাদের পদ্মা বা মনসা তেমনই দেবী। এ গ্রামে অনার্য রক্তবাহী নানান সম্প্রদায়ের বাস আছে। দেবী প্রথমে তাদের ছিলেন। তারপর যারা এসেছেন তারাও মেনেছেন দেবীর মহিমা। আপন আপন বিশ্বাস মত পূজা দিয়েছেন। এভাবেই গণদেবী হয়েছেন মা পদ্মা।

দেবী মনসার উদ্ভব কথা
প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র পুরাণে মনসা দেবীর উল্লেখ ছিল না। তখন ঋষি কাশ্যপ আর কদ্রু ছিলেন নাগ’দের জনক-জননী। মহাভারতে পরীক্ষিত পুত্র জন্মেজয়ের সর্প যজ্ঞে সর্প কূলকে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করেন আস্তিক ঋষি।তিনি ছিলেন জরৎকারু মুনির পুত্র। তার মায়ের নামও জরৎকারু। পরে সেই স্থান দখল করেন মনসা। এভাবেই শাস্ত্রে অনার্য দেবী মনসার আবির্ভাব। অবশ্য ঋক বেদের একটি শ্লোকে মনসার ইঙ্গিত মেলে। সেখানে মূখ্যত তিনি সরস্বতী, নামান্তরে ইলা পুষ্টি শ্রী। ছিলেন প্রসন্নময়ী। ইনিই নারী রূপে গন্ধর্বদের ছলনা করে দেবতাদের সমুদ্র মন্থনের সোম বা অমৃত এনে দেন। এই দেবী সম্পর্কিত রূপক ভাবনা গুলি পরে পৃথক হয়ে সরস্বতী লক্ষী ও মনসার সৃষ্টি। এবার ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ, দেবী ভাগবতে সর্প দেবী হিসাবে উল্লেখিত হল মনসার নাম। তবে মূর্তি কল্পে থাকলেন সরস্বতীর মতই হংসবাহিনী, কমলাসনা। শুধু দুই হস্তে ধারন করলেন নাগ।
দ্বিতীয় পর্বে সমাপ্য