শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:০০
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার এবারে দশহরাতে আরামবাগের মনসাডাঙ্গার মনসা মাতার পূজায় ছাগবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বরেন্দ্র ও গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাস, কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের সমন্বয়ে একটি পুনঃপাঠ : অত্রি ভট্টাচার্য ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘ছেঁড়া জামার ঈশ্বর’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অশুভ শক্তির বিনাশ ও ভক্তের সুরক্ষায় নৃসিংহ চতুর্দশী : রিঙ্কি সামন্ত বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

অপারেশন লোটাস এবং ‘সুনার’ বাংলা : দিলীপ মজুমদার

দিলীপ মজুমদার / ৩০২ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

আমার বঁধুয়া আন বাড়ি যায়

বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যে শ্রীরাধার মান-অভিমানের কথা জানেন সকলে। রাধা কৃষ্ণপ্রেমিক। তিনি তাঁর জীবন-যৌবন সমর্পণ করেছেন কৃষ্ণকে। অথচ কৃষ্ণ ঝেড়ে ফেলতে পারেন নি তাঁর ভ্রমরবৃত্তি। রাধার ঘরের পাশ দিয়ে তিনি চলেছেন অন্য এক প্রেমিকার সন্নিধানে। পঞ্চদশ শতকের কবি চণ্ডীদাসের পদে শ্রীরাধার মানের চমৎকার একটি ছবি ফুটে ওঠে। রাধা তাঁর সহচরীকে বলছেন :

সই, কেমনে ধরিব হিয়া?

আমার বঁধুয়া আন বাড়ি যায়

আমারই আঙিনা দিয়া।

সে বঁধু কালিয়া না চায় ফিরিয়া

এমতি করিল কে?

আমার অন্তর যেমন করি্ছে

তেমনি হউক সে।

বহু শতাব্দী পরে আজ যখন রাজনীতি ক্ষেত্রে দলত্যাগের ছবি দেখি, তখন চণ্ডীদাসের শ্রীরাধার মানপর্যায়ের পদের কথা মনে পড়ে। লালঝাণ্ডা আঁকড়ে ছিলেন শংকর ঘোষ, তিনি চলে গেলেন বিজেপিতে। আজকের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একদা তৃণমূল দলের কোল আলো করেছিলেন। তিনি আত্মরক্ষার উপায় হিসেবে বিজেপি দলের দিকে হাত বাড়ালেন, তখন এমনি কষ্ট হয়েছিল তৃণমূল দলের। এটা বছর পাঁচেক আগের কথা। মাত্র কদিন আগের কথা ভাবুন। ২৪ এপ্রিল আম আদমি পার্টির রাঘব চাড্ডা টুক করে চলে গেলেন বিজেপিতে। সঙ্গে নিয়ে গেলেন অশোক মিত্তলকে।

আয়া রাম গয়া রাম

আজকের রাজনীতির জগতের বিখ্যাত প্রবাদ এটি। এ প্রবাদের জন্মের ইতিহাসও বেশ মজার। ১৯৬৭ সাল। হরিয়ানার হাসানপুর (বর্তমানে হোডাল) থেকে বিধানসভার সদস্য হয়েছেন গয়া লাল (?—২০০৯)। প্রথমে তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনে জয়ের পর কংগ্রেস দলে যোগ দেন তিনি। তারপর অল্পদিনের মধ্যে বার বার দল বদল করেন কংগ্রেস থেকে সংযুক্ত ফ্রন্টে, সংযুক্ত ফ্রন্ট থেকে কংগ্রেসে। কংগ্রেস নেতা রাও বীরেন্দ্র সিং ( ১৯২১- ২০০৯) গয়া লালকে চণ্ডীগড়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নিয়ে যান এবং সেখানে ঘোষণা করেন ‘গয়া রাম এখন আয়া রাম’; তার মানে যে গয়া লাল কংগ্রেস ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তিনি আবার ফিরে এসেছেন কংগ্রেসে। কিন্তু কয়লা না ছাড়ে ময়লা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গয়া লাল পরম নিষ্ঠার সঙ্গে দল বদল করে গিয়েছেন। ১৯৭২ সালে তিনি তিনি অখিল ভারতীয় আর্য সভার অধীনে হরিয়ানা বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৭৪ সালে চৌধুরী চরণ সিং-এর (১৯০২-১৯৮৭) অধীনে ভারতীয় লোকদলে যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে তিনি হন জনতা দলের প্রার্থী।

দলত্যাগের ইতিহাস, দলত্যাগবিরোধী আইন

১৯৫৭-১৯৬৭। শুরু হল তলত্যাগের খেলা। কংগ্রেস (আই) দল থেকে চলে গেলেন ৯৮ জন ; অন্য দল থেকে এলেন ৪১৯ জন। তবে ব্যতিক্রম আছে। যে দলে ছিলেন, সে দল ত্যাগ করেছেন কিন্তু কংগ্রেস (আই) তে নাম লেখান নি, এমন কিছু ছিলেন। তাঁরা গঠন করলেন নতুন দল। ১৯৬৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভায় নির্বাচিত হন ৩৫০০জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৫৫০ জন দলত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দেন। গয়া লালের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এক একজন একাধিকবার দল বদল করেছেন।

এই দলত্যাগের উপদ্রব মোকাবিলা করার জন্য ১৯৬৭ সালে চতুর্থ লোকসভার সময় ওয়াই বি চ্যবনের সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয় একে দলত্যাগবিরোধী বিল পেশের প্রথম প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে। তখন বিরোধীরা এই বিল সমর্থন করেন। ইন্দিরা গান্ধির (১৯১৭-১৯৮৪) নেতৃত্বাধীন সরকার বিলটিকে এক যৌথ নির্বাচন কমিটির বিবেচনার জন্য পাঠায়। পরবর্তী নির্বাচনে অন্যান্য সমস্ত আইন প্রণয়ন প্রস্তাব বাতিল হয়ে যাওয়ায় এই বিল পাশ হতে পারে নি।

১৯৭৭-৭৯ সাল। মোরারজি দেশাই-এর (১৮৯৬-১৯৯৫) নেতৃত্বে তখন প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকার। কিন্তু ৭৬ জন সংসদের দলত্যাগে সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। জনতা পার্টির মধ্যে ভারতীয় লোকদল (বি এল ডি), সোশ্যালিস্টরা এবং বহুগুণা গোষ্ঠীর সঙ্গে জনসংঘ-আর এস এস গোষ্ঠীর মতপার্থক্য দেখা যায়। ১৯৭৯ সালের জুলাই মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চরণ সিংয়ের নেতৃত্বে জনতা পার্টিএ একটা বড় অংশ জনতা (সেকুলার) বা জনতা (এস) দল গঠন করেন। ফলে মোরারজি দেশাইএর সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। ১৫ জুলাই মোরারজি পদত্যাগ করেন। এর পর লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে এলেন ইন্দিরা গান্ধি। ৫২৫ আসনে নির্বাচন হয়েছিল, তার মধ্যে কংগ্রেস ( আই ) একাই লাভ করে ৩৫১টি আসন। এই যুগে দলত্যাগের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি ব্যাপক আকার লাভ করে। অ-কংগ্রেস নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দলত্যাগে আঞ্চলিক প্রসাসনগুলির পতন হত। এই প্রবণতাকে তখনকার কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন্দ্র পাতিল ( ১৯২৪-১৯৯৭) ‘গোল্ডরাশ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন — (‘Whenever there was a Congress-led administration at the center, the regional administrations fell due to the defection of non-congress elected representatives, The Chief Minister of Karnataka, Virendra Patil called this trend a ‘goldrush’.). অকংগ্রেসি আঞ্চলিক দলগুলি ভাঙার জন্য ইন্দিরা গান্ধি ভারতীয় সংবিধানের ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করেছেন ৫০ বারের অধিক। কেরালা, তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের সরকার ভেঙে দিয়েছেন ; এম জি রামচন্দ্রন ( ১৯১৭-১৯৮৭), এম করুণানিধি ( ১৯২৪-২০১৮), শরদ পাওয়ারের ( ১৯৪০–) মতো বিরোধী নেতাদের বিব্রত করেছেন।

১৯৮৪ সাল। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দলত্যাগবিরোধী বিলটি প্রস্তাব করেন। বিল নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয়। ১৯৮৫ সালের ৩০ জানুয়ারি লোকসভা ও ৩১ জানুয়ারি রাজ্যসভায় বিলটি অনুমোদন লাভ করে। ১৯৮৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সেই বিল রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করে এবং ১৮ মার্চ কার্যকর হয়। এই আইনে একজন নির্বাচিত সদস্যকে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছিল — যদি তিনি পদত্যাগ করেন, নিজ দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভোট দেন,অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ বিলের উপর ভোটাভুটির সময় অনুপস্থিত থাকেন। তবে এই আইন রাজনৈতিক দলগুলির একীকরণ ও বিভাজনের অনুমতি দেয় যার মধ্যে এক তৃতীয়াংশ সদস্যের দ্বারা দলের বিভাজন এবং দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের দ্বারা অন্য দলে যোগদান (একত্রীকরণ ) অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করতেন যে দলত্যাগ শুধুমাত্র সংখ্যার নিরিখে দেখা উচিত নয়; এই ধরনের দলত্যাগ কিভাবে জনগণের রায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে সেই প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন। অশোককুমার সেন দলত্যাগের অনুমতি দেওয়ার এই ব্যাপারটিকে গোঁড়া রাজনীতির শৃঙ্খল থেকে বিধায়কদের মুক্তি দেওয়া হিসেবে আখ্যা দিয়ে ন্যায্য প্রমাণ করেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে শচীন পাইলট এবং রাজস্থান কংগ্রেস বিধায়করা হাইকোর্টে দলত্যাগবিরোধী আইনকে চ্যালেঞ্জ করেন এই বলে যে বিধানসভার কোন সদস্যের মত প্রকাশের মৌলিক স্বাধীনতাকে বিপন্ন করা উচিত নয়।

অপারেশন লোটাসের জন্ম

২০০৮ সাল। জন্ম হল অপারেশন লোটাসের। কেউ তাকে বলে অপারেশন কমল। আবার কেউ বলে অপারেশন ব্ল্যাক লোটাস। এই অপারেশনের কার্যকর্তা ছিলেন জি জনার্ধন রেড্ডি। যিনি ছিলেন খনি টাইকুন ও বেলারির প্রাক্তন বিজেপি মন্ত্রী। তিনি দলত্যাগবিরোধী আইন এড়িয়ে বিধায়কদের সমর্থন লাভ করার জন্য ঘুষ, শাস্তি ইত্যাদি কৌশল ব্যবহার করেন, যাতে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

২০০৮ সালে কর্নাটক বিধানসভার মোট ২২৪ টি আসনের নির্বাচনের ফলাফল = বিজেপি-১১০, জাতীয় কংগ্রেস-৮০, জে ডি এস-২৮, জে ডি ইউ-০, স্বতন্ত্র-৬। দেখা যাচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বিজেপির ৩টি আসন কম ছিল। বিজেপি ৬ জন নির্দলের সমর্থন লাভ করে কৌশলে। মুখ্যমন্ত্রী হন বি এস ইয়েদুরাপ্পা। নিজেদের অবস্থানকে আরও সুরক্ষিত করার জন্য বিজেপি আরও ৭ জন বিধায়ককে প্রলুব্ধ করে। এঁদের মধ্যে ৩ জন কংগ্রেসের সদস্য ও ৪ জন হলেন জে ডি এসের সদস্য। দলত্যাগীদের নাম : জে নরসীমা স্বামী, আনন্দ আসনটিকার, জগেশ, বালাচন্দ্র জারকিহোল, কে শিবানগৌড়া নায়েক, উমেশ কাট্টি, ডিসি গৌরীশঙ্কর।

তারপরে দলবদলের চলল খেলা : সৌজন্যে বিজেপি

অপারেশন লোটাসের পরে মজা পে্য়ে গেল বিজেপি। সুযোগ নিল বিরোধী দলের দুর্বলতার। দল ভাঙাতে লাগল নানাভাবে। ইডি-সিবিআইএর ভয় দেখিয়ে। টাকা ঘুষ দিয়ে। ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে। ২০১৪ সালে ভারতের রঙ্গমঞ্চে হাজির হলেন নন-বায়োলজিক্যাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ক্যারিশমা আছে। বুক চাপড়ে গ্যারান্টি দিতে জানেন। ভয় আর লোভের সঙ্গে যুক্ত হল এই ক্যারিশমা। লার্জার দ্যান লাইফ মূর্তি। আর নিরন্তর সেই ভাবমূর্তি নির্মাণ করে যেতে লাগল তাদের আইটি সেল।

অরুণাচলের প্রায় সমস্ত কংগ্রেস বিধায়ককে টেনে নিল বিজেপি। সেই থেকে এই রাজ্যে ক্ষমতায় আছে বিজেপি।

২০১৪ সাল। উত্তরাখণ্ড থেকে ৯ জন কংগ্রেস বিধায়ক চলে এলেন বিজেপিতে। ব্যাস। উত্তরাখণ্ডে বিজেপির ক্ষমতা করায়ত্ত।

২০১৫ সাল। অসমের নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে। বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে পরিশুদ্ধ হলেন।

২০১৭ সাল। মণিপুর বিজয়। কংগ্রেসের ১ জন বিধায়ক দলত্যাগ করে বিজেপিতে ঢুকে গেলেন। অন্য ৮ জন বিধায়ক কংগ্রেস না ছেড়ে সমর্থন করলেন বিজেপিকে।

২০১৯ সাল। কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোটের ১৬ জন বিধায়ক দলত্যা্গ করে। ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

২০২০ সালের মধ্যপ্রদেশ।  জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ছিলেন কংগ্রেস নেতা। তিনি ২২ জন বিধায়ককে নিয়ে কংগ্রেস ত্যাগ করে চলে এলেন বিজেপিতে।

২০২১ সাল। পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারীসহ বেশ কিছু তৃণমূল নেতা ও কর্মী যোগ দিলেন বিজেপিতে, শুদ্ধ হলেন ওয়াশিং মেশিনে।

২০২২ সাল। গোয়ার ৮জন কংগ্রেস বিধায়ক দলত্যাগ করে যোগ দিলেন বিজেপিতে।

২০২৬ সাল। দিল্লির আম আদমি পার্টির তরুণ নেতা রাঘব চাড্ডাকে ডেপুটি স্পিকারের পদ থেকে অপসারিত করেছিল আম আদমি পার্টি ; পরিবর্তে বসিয়েছিল অশোক মিত্তলকে। রাঘব চাড্ডা বিজেপিতে চলে গেলেন অশোক মিত্তল ও অন্যান্যদের নিয়ে।

কি হতে যাচ্ছে ‘সুনার’ বাংলায়?

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন। বিজেপি দখল করতে চায় বাংলা। তার জন্যই তার হিন্দি বলয়ের নেতারা ‘সুনার’ বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সেই ২০১৯ থেকে বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া এখানে এসে বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে। কেন পড়বে? তাই এবার সর্বশক্তি প্রয়োগ। কাজে লেগে গেল নির্বাচন কমিশন। সুকুমার সেন, টি এন শেসনের সেই নির্বাচন কমিশন। এখন সে বেআব্রু। তাই এস আই আর। তার দোসর বিবিধ এজেন্সি। তৃণমূল যদি ম্যাজিক ফিগারের সামান্য কিছু বেশি আসন পায়, তাহলেই বিজেপির খেলা শুরু হয়ে যাবে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি ২৭৭ জন বিধায়ক কেনার জন্য ৬৫৯৯ কোটি টাকা খরচ করেছে, দিল্লির বিধায়কদের কেনার জন্য এনেছিল ৮০০ কোটি টাকা। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের বাজেট কত কে জানে!


আপনার মতামত লিখুন :

3 responses to “অপারেশন লোটাস এবং ‘সুনার’ বাংলা : দিলীপ মজুমদার”

  1. Abhijit Banerjee says:

    এক সাংঘাতিক সংকটের মুখে আমরা, আপনার লেখায় খুব স্পষ্ট।
    এখন শুধু সময় জানে কোথায় চলেছি আমরা।
    Quo Vadis ছায়া ছবিতে সম্রাট নিরোর বেহালা বাদনের দৃশ্য মনে পড়ছে যখন রোম পুড়ছিল স্বেচ্ছা কৃত অগ্নিসংযোগে।

  2. প্রবীর কুমার সামন্ত says:

    “আসা-যাওয়ার পথের ধারে
    গান গেয়ে মোর কেটেছে দিন
    আসা-যাওয়ার……
    মন্দ কি
    ” সব ঠাঁই মোর ঘর আছে আমি
    সেই ঘর মরি খুঁজিয়া-
    ………………………..
    ঘরে ঘরে আছে পরমাত্মীয়
    তারে আমি ফিরি খুঁজিয়া ।”

    দেশপ্রেমিকরা বদ্ধ জলাশয়ে বাস করলে দেশবাসীর কি হবে!
    সুতরাং-
    যা দেবী সর্বভূতেষু নমস্তসৈ-

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন