রাজ্যের প্রথম দফার ১৫২ টি আসনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন যাতে হয়, এজন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বুথের চারপাশে থাকছে ‘লক্ষ্মণরেখা’। জানা যাচ্ছে, পোলিং বুথের চারপাশে এবার সাদা চক দিয়ে ১০০ মিটার বৃত্ত এঁকে নির্দিষ্ট সীমান্ত চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। ওই সীমার মধ্যে ভোটার ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি থাকবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ কমিশনের। এঁকে দেওয়া এই লক্ষ্মণরেখার বাইরে থাকবেন বিএলও এবং সরকারি আধিকারিক। যাঁরা প্রাথমিক নথি যাচাই করবেন। এছাড়াও গণ্ডির ভিতরে থাকবে আরও একধাপ নিরাপত্তা বলয়। দুটি টেবিলে নতুন করে ভোটারদের নথি পরীক্ষা করা হবে। ভুয়ো ভোটার ঠেকাতে এহেন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ ভোট করাতে একাধিকস্তরে নজরদারির ব্যবস্থা কমিশন নিয়েছে। ভোটার স্লিপ বিলির ক্ষেত্রেও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। এবার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ পৌঁছে দিয়েছেন বিএলওরা। তবে এখানে দায়িত্ব শেষ নয়, ভোটার স্লিপ বিতরণে কেউ যদি বাদ পড়ে যান, সেই সংক্রান্ত তথ্য প্রিসাইডিং অফিসারকে রাখতে হবে। কেন তাঁকে দেওয়া যায়নি সেই সংক্রান্ত তথ্যও প্রিসাইডিং অফিসারকে জানিয়ে রাখতে হবে।
চূড়ান্তভাবে ভোটদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এবং ছবি ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে অনুমতি দেওয়া হবে।
পাশাপাশি, প্রথম দফা ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই আগে সীমানা সিল করে দেওয়া হয়েছে । কমিশন সূত্রে খবর, বর্ডার লাগোয়া অঞ্চল দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজরদারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সীমান্তের ওপার থেকে যাতে কেউ এপারে ঢুকতে না পারে, এদিক থেকেও যাতে কেউ ওপারে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও জোর দিয়েছে কমিশন। সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালু হয়েছে । এতেই শেষ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ভোটে অস্ত্র ও বোমা পেলেই সাসপেন্ড হবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা। তাছাড়া ব্যালট সংরক্ষণে কড়া নির্দেশ কমিশনের। কোনো ভোটকেন্দ্রে অশান্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ভোটের দিন বোমা ফাটলে বা সাধারণ মানুষকে বোমার ভয় দেখানো হলে সংশ্লিষ্ট থানার ইনসপেক্টর বা ওসি সহ তদারকির দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে হবে। ইতিমধ্যে বিস্ফোরক উদ্ধার, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার জন্য রাজ্যের সমস্ত থানার কাছে নির্দেশ গিয়েছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তর থেকে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণ রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে কমিশনের তরফে সমস্ত জেলার এসপি, কমিশনারেটের কমিশনার সহ শীর্ষ পুলিশকর্তাদের কাছে বারবার নির্দেশ গিয়েছে, জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জোর দিতে হবে। বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভোটপর্ব বানচাল করতে পারে দুষ্কৃতীরা। ভোটে একটিও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটুক, চায় না নির্বাচন কমিশন। যে কোনো ধরনের বিস্ফোরণ বা বোমা নিয়ে ভয় দেখানোর বিষয়টি কমিশন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখবে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোট নেওয়া হবে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রথম দফায় ২৪০৭ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন থাকবে।