শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:০১
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার এবারে দশহরাতে আরামবাগের মনসাডাঙ্গার মনসা মাতার পূজায় ছাগবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বরেন্দ্র ও গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাস, কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের সমন্বয়ে একটি পুনঃপাঠ : অত্রি ভট্টাচার্য ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘ছেঁড়া জামার ঈশ্বর’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অশুভ শক্তির বিনাশ ও ভক্তের সুরক্ষায় নৃসিংহ চতুর্দশী : রিঙ্কি সামন্ত বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

লোকসংস্কৃতির আবহমানতা ও নববর্ষ : সসীমকুমার বাড়ৈ

সসীমকুমার বাড়ৈ / ৪৮১ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

বসন্ত-বিহার-এ মৈথিলী গীতিকবি বিদ্যাপতি মধুঋতুর বন্দনা করলেন —

          আওল ঋতুপতিরাজ বসন্ত।

          ধাওল অলিকুলি মাধবী পান্থ।।

          দিনকর কিরণ ভেল পয়গণ্ড।

          কেশরকুসুম ধরল হেমদণ্ড।।

তখনই যেন ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়ায় জেগে উঠল বিশ্বচরাচর। পদকর্তা তাকে আবাহন করলেন ‘বসন্ত আওল রে/ মধুকর গুণ গুণ, অমুয়ামঞ্জরী কানন ছাওল রে।‘ চৈত্র সমাপনে সেই বসন্ত বিদায়ে বৈশাখ তখন আগত দ্বারে, ঋতুচক্রের প্রথম ঋতুতে বাঙালির নববর্ষ শুরু হল। স্বাভাবিক ভাবেই চৈত্র মাস ব্যাপী বর্ষ বিদায়ে বাঙালি মেতে ওঠে নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে। বস্তুত বাঙালির এই উদযাপনটি হয়ে দাঁড়ায় চোত-বোশাকের মিলনসেতু। বর্ষ আয়োজনে চৈত্রের পাল্লা অনেকটা ভারী। পহেলা বৈশাখের স্থায়িত্ব কিন্তু সেই অর্থে স্বল্পায়ু। বিষয়টি নিয়ে ভাববারও অবকাশ তৈরি হয়, কারণ বৈদিক পঞ্জিকা মতে নববর্ষের শুরু হয় চৈত্র মাসে। ফলে বিদ্যাপতি থেকে রবীন্দ্রনাথের ঋতু বন্দনায় বসন্ত অনেক বেশি প্রাণবন্ত। সে যে কৃষ্ণচূড়া, পলাশ বনের হিল্লোলে মুখরিত দোল বসন্তের মাস। ‘বাঙলার পয়লা বৈশাখে লৌকিক বা শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠানের অভাব দেখে মনে হয়, অতীত কালে বাংলার নববর্ষটা অন্য কোন সময় হত। যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি মশায় বলেছেন যে প্রাচীন কালে ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিতে নববর্ষ উৎসবের অনুষ্ঠান হত। দোল-যত্রা বা হোলি সেই উৎসবের ধারক।’

তবু বৈশাখ মাসে নববর্ষের আয়োজন নয় নয় করেও বহু বছর পেরিয়ে এসেছে। সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা বারো মাস অনেক আগের থেকেই পালিত হতে শুরু হয়। সৌর পঞ্জিকার শুরু গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে। সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বঙ্গ, কেরল, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে উঠেছে সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের সূচনার নিমিত্তে পালিত একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, তেমনটি এক সময় ছিল না। তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুকালীন উৎসব হিসেবে পালিত হত। মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ। প্রাযুক্তির প্রয়োগের যুগ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কৃষকদের ঋতুর উপরই নির্ভর করতে হত। ঐতিহাসিকগণ বাংলা দিনপঞ্জি উদ্ভবের কৃতিত্ব আরোপ করেন ৭ম শতকের রাজা শশাঙ্কের উপর। পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট আকবর এটিকে রাজস্ব বা কর আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিবর্তিত করেন বলে ধরা হয়। পহেলা বৈশাখ উৎসবটি ঐতিহ্যগত হিন্দু নববর্ষ উৎসব সম্পর্কিত যা Vaisakhi (বৈশাখী) এবং অন্য নামেও পরিচিত। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একই দিনে বর্ষবরণ পালিত হয়। Vaisakhi-কে Baisakhi উচ্চারণও করে অনেকে। হিন্দু ও শিখগণ বৈশাখী উৎসব একই দিনে বর্ষবরণ করে। পূর্বাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নববর্ষের উৎসব সমুহ হিন্দুধর্মের বিক্রমী দিনপঞ্জির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দিনপঞ্জির নামকরণ করা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৫৭ অব্দে বিক্রমাদিত্যের নাম অনুসারে। ভারতের গ্রামীণ বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চল ও নেপালে বিক্রমাদিত্যকে বাংলা দিনপঞ্জির আবির্ভাবের স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু সেই অঞ্চলগুলোর মত বাংলায় বঙ্গাব্দের সূচনা ৫৭ খ্রিস্টপূর্বে হয়নি, বরং ৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়েছিল, যা নির্দেশ করছে বঙ্গাব্দের সূচনা প্রমাণ সময়কে কোন এক সময় পরিবর্তিত করা হয়েছে। মনে করা হয় শশাঙ্কের শাসনামলেই এই পরিবর্তন হয়।

চৈত্র মাস হল শিব-পার্বতীর বিয়ের মাস। বাংলার গ্রামীণ জীবনে শিব ঘরের নাদুসনুদুস জামাই ভোলাকান্ত, পার্বতী বরাবরই ঘরের মেয়ে। শিবের বিয়ে উপলক্ষে গ্রাম বাংলা আনন্দে মুখরিত থাকে গোটা চৈত্র মাস ধরে। ঢোলবাদ্য-সানাইয়ে যেন বিয়ের বাসর। বিয়েটাই রূপান্তরিত হয় শিব পূজায়। শিবকর্তার বিয়ের মাসে আর কোনো হিন্দু ঘরে বিয়ে থা হবে না, মেতে থাকবে তার পূজায়। তার পূজা হল নীলপূজা বা নীলষষ্ঠী। নদিয়া জেলার নবদ্বীপের গাজন উৎসবের একটি অংশ হিসাবে বাসন্তী পুজোর দশমীর ভোরে শিবের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। নীল সঙে পুরুষ বাঘের ছালের মতো ডোরাকাটা বসনে জটাধর সাজে, গলায় পরে রুদ্রাক্ষের মালা। হাতে ত্রিশূল, গায়ে নিল বা ছাই রঙ মেখে সঙ সেজে সদলবলে নীলসন্নাসীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হারমোনিয়াম, ঢোল, আড় বাঁশী, করতাল, কাঠখঞ্জনী ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্রের গীতিবাদ্য সহযোগে শিবের বিয়ের গান অষ্টক গান গায় —

          “শুন সবে মন দিয়ে হইবে শিবের বিয়ে

                   কৈলাসেতে হবে অধিবাসইয়ে

          (ও) তাতে নারদ করে আনাগোনা কৈলাসে বিয়ার ঘটনা

                   বাজে কাঁসী বাঁশী, মোহন বাঁশরী।”

অষ্টক গানের উৎপত্তির ইতিহাস বিশেষ একটা জানা যায় না, বলা হয় নীলকণ্ঠ বা শিব যহেতু নিম্নবর্গের দেবতা বা ঘরের ছেলে তাই ভদ্রলোক বাঙালিদের থেকে খানিকটা বিচ্যুত। লোকসংস্কৃতি, আচার, পূজা পদ্ধতিও ব্রাহ্মণ্য প্রথা থেকে খানিকটা দূরে অবস্থান। পূর্ববঙ্গের চৈত্র সংক্রান্তির গাজন উৎসবে সন্ন্যাসীরা ‘পাটবান’ বা ‘দেল’ মাথায় নিয়ে ঘোরে। এটি মূলত নমো সমাজের মধ্যে প্রচলিত আচার। সন্ন্যাসীরা চারদিক ঘুরে ঘুরে অষ্টক গান গায়। তবে শুধু শিবের গানই হয় না, রাধা-কৃষ্ণের পালাও হয়। এই সব গানকে পাট গানও বলা হয়। পাটগান আবার তিনটি ধারায় বিভক্ত : ক) বালাকি খ) শোলক গ) অষ্টক।

কোথাও নিম বা বেলকাঠ থেকে নীলের মূর্তি তৈরি করা হয়। চৈত্র সংক্রান্তির বেশ আগেই নীলকে মণ্ডপ থেকে নামানো হয়। নীলপূজার আগের দিন অধিবাস; অধিক রাত্রে হয় হাজরা পূজা অর্থাৎ শিবের বিয়ে উপলক্ষ্যে সকল দেবতাকে আমন্ত্রণ করা। হাজরা পূজায় শিবের চেলা বা ভূত-প্রেত দেবতাকে পোড়া শোল মাছের ভোগ দেওয়ার রিতি চালু। পরদিন নীলপূজায় নীলকে গঙ্গাজলে স্নান করিয়ে নতুন লালশালু কাপড় পরিয়ে অন্ততপক্ষে সাতটি বাড়িতে ঘোরানো হয়। নীলসন্ন্যাসীরা লাল কাপড় পরে, পাগড়ি মাথায়, গলায় রুদ্রাক্ষমালা ও হাতে ত্রিশূল নিয়ে নীলকে সঙ্গে করে নীলযাত্রা করে। এদের দলপতিকে হল বালা। সঙ্গে থাকে ঢাক-ঢোল, বাঁশী-সহ বাজনদারের দল এবং শিব-দুর্গার মতো সাজে সঙেরা। গৃহস্থ মহিলারা উঠানে আল্পনা দিয়ে নীলকে আহ্বান করে আর বরাসনে বসিয়ে তার মাথায় তেল-সিঁদুর দেয়।

বিয়ের পর নীলের গানে থাকে সংসারী হর-পার্বতীর কথা, শিবের কৃষিকাজ, গৌরীর শাঁখা পরা প্রভৃতি এবং ভিখারি শিবের সঙ্গে অন্নপূর্ণা শিবানীর দ্বান্দ্বিক সহাবস্থানের কাহিনি। গানের প্রথম অংশ দলপতি বালা এবং পরবর্তী অংশ অন্য নীলসন্ন্যাসীরা গেয়ে থাকেন। গানের শেষে গৃহস্থরা সন্ন্যাসীদের চাল-পয়সা, ফল প্রভৃতি ভিক্ষাস্বরূপ দেয়। বৃহত্তর ঢাকা জেলায় কোনো অঞ্চলে ভিক্ষার চাল-ডালকে ‘সিধা’ দেওয়া বলে। ‘সিধা’র চাল-ডালে চৈত সংক্রান্তি মেলায় খিচুড়ির আয়োজন হয়। ধামরাইলের মেলা খিচুড়ির জন্য বিখ্যাত। নৌকার খোল ভরে রাখা হয় খিচুড়ি তীর্থযাত্রীদের জন্য। সন্তানবতী নারীরা সারাদিন উপবাসে থাকে সন্তানের আয়ু বৃদ্ধির কামনায় এবং ‘নীল ষষ্ঠী’র ব্রত পালন করে। নীলপূজার পর সন্ধ্যাবেলায় শিবমন্দিরে বাতি দিয়ে অন্ন-জল গ্রহণ করে।

বৃহত্তর ঢাকা জেলার রামনগর গ্রামে ‘পাটবান’ বা ‘দেল’-এর সমপর্যায় ছোট আকারে দুটি কাঠের ঢেঁকিতে তেল সিঁদুর মাখিয়ে মাথায় করে ঘোরা হয় নীলপূজায়। কাঠের ঢেঁকিদ্বয় নাকি স্থানীয় জমিদারের স্বপ্নাদেশে প্রাপ্ত, স্থানীয় মরা ইছামতিতে ভেসে আসা কাঠ। কালাচাঁদ আর গোরাচাঁদ। চৈত্র সংক্রান্তিতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নীলের গান করা হয়। বাকি সব আচার প্রায় ‘পাটবান’ বা ‘দেল’-র মতন। এখনও চৈত সংক্রান্তিতে ঢাকার মানুষ ঘুড়ি উড়ায়। ঝাঁপ-সাপ-প্রজাপতি ঘুড়ি বা বেনা ঘুড়িতে শোঁ শোঁ শব্দ ওঠে মাঠে-ঘাটে। পুরানো ঢাকার আকাশে ঘুড়ি ওড়ে চৈত্র সংক্রান্তির সাকরাইন উৎসবে। পহেলা বৈশাখ বাংলাদেশে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। দুই বঙ্গ মিলে বাঙালিদের এটিই সর্বজনীন লোকোৎসব। কেউ কেউ দাবী করে, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের শুরু হয়েছিল পুরান ঢাকার মুসলিম মাহিফরাস সম্প্রদায়ের হাতে। সাকরাইন মূলত মুসলিমদের প্রবর্তিত নববর্ষের উৎসব। সংক্রান্তির অপভ্রংশ ঢাকাইয়া ‘সাকরাইন’ হল ঘুড়ির উৎসব। আকাশ চলে যায় ঝাঁপ, বেনা, ডাক, কাইটা, পেটকাটি, চাঁদিয়াল, ময়ূরপঙ্খী, বগ্‌গা বা মুখপোড়া-র মতো ঘুড়ির দখলে।

চৈত সংক্রান্তিতে বারুণীর মেলা ছিল পূর্ববঙ্গে খুব জমজমাট উৎসব। সংক্রান্তিতে মূলত মানুষ যায় স্বচ্ছ জলের কাছে। পূজা-পার্বণের আগে পবিত্র জলে স্নান। হাজার হাজার পূন্যার্থী জড়ো হয় নদী, খাল, বিল, দীঘিতে স্নানের জন্য। জল পবিত্র অর্থাৎ জীবন। জলের বিশুদ্ধতাই পবিত্রতা, এটা ছিল প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস। গঙ্গার জলে স্বচ্ছতা, বিশুদ্ধতা, গতিশীলতা নিয়েই ছিল তার পবিত্রতা। দূষণে প্রায় সবগুলি হারিয়েছে। চৈত্রের তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষার উপায় হল স্বচ্ছ জলে পুণ্যস্নান। সারা পৃথিবীতে মানুষের জল কেন্দ্রিক হাজার লোকাচার। কুম্ভমেলা, গঙ্গাসাগরমেলা মূলত বিশুদ্ধ জলে চানের উৎসব। মুসলিম হাজি-রা মক্কা-মদিনা থেকে সংগ্রহ করে পবিত্র ‘জমজমের পানি’। পূর্ববঙ্গে চৈত সংক্রান্তির চানই বারুণী উৎসব। পরে মতুয়া সম্প্রদায়ও তাদের লোকাচারে বারুণীর স্নান গ্রহণ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে শিবের পুজা, শিব-পার্বতীর বিয়ে নিয়ে জমে ওঠে চৈত্র সংক্রান্তি, বর্ষ বিদায় এবং নবসাজে নববর্ষের আয়োজন। রাঢ় বঙ্গে শৈব সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। বর্গি আক্রমণ থেকে রক্ষায় শিব মন্দিরের অধিক নির্মাণ হয়েছিল গ্রামবাংলায়। চৈত্র মাসের যাবতীয় অনুষ্ঠানের বা পূজা পার্বণের কেন্দ্রে থাকে শিব। শিবের পূজা বা গাজনে মেতে ওঠে গ্রামবাংলা। শিব নিম্নবর্গের অনার্য দেবতা, তার লোকাচারে নিযুক্ত থাকে প্রান্তিক সমাজের মানুষজন। এই চোত-বোশেখে প্রান্তজীবীরা সঙ সেজে বেরিয়ে পড়ে গাঁয়ের পথে পথে। নীলসন্ন্যাস নেয় অনেকে, জড়ো হয় তারকেশ্বরে। পেশাজীবি সঙরা শিবের মতন ত্রিশূল-ঝুলি-ডমরু নিয়ে, বাঘছাল পরে (ডোরাকাটা কাপড়), গায়ে ছাই মেখে ঘুরে বেড়ায়। যেন ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলের ভিক্ষার্থী শিব —

দূর হতে শোনা যায় মহেশের শিঙ্গা।

শিব এল বলে ধায় যত রঙ্গচিঙ্গা।।

কেহ বলে এই এল শিববুড়া কাপ

কেহ বলে বুড়াটি খেলাও দেখি সাপ।।

কেহ বলে জটা হৈতে বাহির কর জল

কেহ বলে জ্বাল দেখি কপালে অনল।।

কেহ বলে ভাল করে শিঙ্গাটি বাজাও

কেহ বলে ডমরু বাজায়ে গীত গাও।।

কেহ বলে নাচ দেখি গাল বাজাইয়া

ছাই মাটি কেহ গায় দেয় ফেলাইয়া।।

আলকাপের সংদের ক্ষেত্রেও সংক্রান্তির অনুষ্ঠানে এসব পালা পরিবেশন করে মুর্শিদাবাদের শিল্পীরা। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যেও আলকাপ (কাপ)-র প্রভাব দেখা যায়।

চড়ক পূজা কায়িক কষ্ট ক্লেশের পার্বণ। চড়ক শব্দটির উৎস জানা না গেলেও তবে অনুমান করা হয় চক্র শব্দের অপভ্রংশ চড়ক। সূর্যের চক্র, জীবন চক্র, ঋতুচক্রের মতো আবর্তিত হয় চড়ক। গাজনের গাছ পোঁতায় সঙ্গে যৌন জীবন রীতিরও সম্পর্ক আছে। ঊর্বরতার সাধনা চড়ক পূজায় নিমজ্জিত। একটি শাল বা গর্জন খুঁটিকে সারা বছর জলের মধ্যে ডুবিয়ে রাখা হয়। সেটি তুলে সংক্রান্তির দিন মাটিতে পোতা হয়। সূচিত হয় গাজন। মাটি হল গৌরি, আর খুঁটিটি শিব। আদিবাসী মহিলারা চড়ক ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে খুঁটির চারদিকে আড়াই পাঁক ঘোরে সন্তান কামনায়। বা সংসারের মঙ্গল কামনায়। অর্থাৎ গাজন, চড়ক পূজা রূপান্তরিত হ্য কৃষি উৎসবের অংশ। পশ্চিমবঙ্গে গোটা চৈত্রমাস ধরেই চলে গাজনের গান, সন্ন্যাসযাত্রা। সংক্রান্তি ঘিরে মেলা এবং পার্বণের অনুষ্ঠান চলে। বাংলায় আবহমান কাল থেকে মালদা, মুর্শিদাবাস, দিনাজপুর, রাজশাহী জেলা সমূহে গম্ভীরা, আলকাপে জমে ওঠে চৈত্র সংক্রান্তি।  রাঢ় অঞ্চল সাঁওতাল আদিবাসীদের সারহুল পরবে চৈত্র-বৈশাখ মুখরিত থাকে। ওলাই চণ্ডী পূজা, শীতলা পূজা, গাজন/চড়ক পূজা ঘিরেই চৈতি উৎসবের অস্তিত্ব। আদিবাসী অধ্যুষিত মানভূমে গ্রামদেবতা চণ্ডীর আবার নানা নাম, নানা রূপ — আটবাইচণ্ডী, খুদাইচণ্ডী, ঝগড়াইচণ্ডী, নাচনচণ্ডী, পুনেচণ্ডী, বিষইচণ্ডী, রাখালচণ্ডী। মিহির চৌধুরি কামিল্যা মনে করেন দুর্গাপূজার অনেক আগে থেকেই বাঁকুড়ার চণ্ডীদের অধিষ্ঠান। এই সব চণ্ডীর পূজাও চৈত্র সংক্রান্তিতে হয় অনার্য পূজা পদ্ধিতে। কোথাও মাংস, হাড়িয়ায় তার পূজা। লোকসংস্কৃতির সবগুলো ধারা পুষ্ট করে চলছে প্রান্তজীবী মানুষেরা। ইংরেজি নববর্ষের দাপটে বাংলা নববর্ষ অনেকটা ঝিমিয়ে, কিন্তু নববর্ষের লোকসংস্কৃতিতে যতটুকু অস্তিত্ব তা এই প্রান্তজীবীদের কল্যাণেই। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, চৈত্র মাস বা বাসন্তি উৎসবই নববর্ষবরণ উৎসব।

মানভূমে এক সময় ধর্মঠাকুরের খুব প্রভাব ছিল। এখনও ধর্মঠাকুরই নিম্নবর্গের প্রিয়তম দেবতা। ধর্মঠাকুরকে আদিবুদ্ধ হিসেবে দেখেন কোনো কোনো গবেষক। দীনেশচন্দ্র সেন লিখেছেন, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নগেন্দ্রনাথ বসু বিস্তারিত প্রতিপন্ন করেছেন যে রামাই ঠাকুরের শূন্যপুরাণে বিকৃত বৌদ্ধধর্ম্মের অনেক কথা লুক্কায়িত আছে। কিন্তু নীহাররঞ্জন রায় মনে করেন, ধর্মঠাকুরকে আগে বৌদ্ধধর্মের ধর্ম বলে মানা হলেও আসলে ধর্মঠাকুর প্রাক-আর্য কোমের দেবতা। ধর্মঠাকুরের আসল প্রতীক পাদুকা চিহ্ন। ধর্ম-পূজার পুরোহিতেরা তাদের গলায় ঝুলিয়ে রাখে একখণ্ড পাদুকা বা পাদুকার মালা। আজও ধর্মপূজার প্রধান অধিকারী ডোমরা। তবে নিম্নবর্গীয় হিন্দু কৈবর্ত, শুঁড়ি, বাগদী, ধোপা প্রভৃতি সম্প্রদায়ের ধর্মপণ্ডিত বা ধর্মপূজার পুরোহিত বিরল নয়। এই পূজায় গাজন হয়, সন্ন্যাসী ভক্তা হওয়ারও চল আছে। চড়ক পূজায় শিবের গাজন বসে ধর্মঠাকুরকে কেন্দ্র করে। যদিও শিব ঠাকুর আর ধর্মঠাকুর এক নয়। শূন্যপুরাণ অনুসারে ধর্মঠাকুরের অধিষ্ঠান শিবের উপরে। কিন্তু চৈত্রের সংক্রান্তি উৎসবে সব মিলেমিশে একাকার। ধর্মঠাকুর আদিম সমাজের সূর্যদেবতা। সাদা রঙের পশু বলি দিয়ে তার পূজা করা হত। সাদা তার বাহন। চৈত্র মাসেই বাৎসরিক পূজা হয়। এমনকি পুরানো কলকাতার অলিতে গলিতে গ্রামদেবতা ধর্মঠাকুরের বাস ছিল। ধর্মতলা স্ট্রিটকে বলা হত ধর্মঠাকুরের রাস্তা। আজও কলকাতায় ধর্মঠাকুরের মন্দির আছে, ৪৫ নং সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী রোডে। তখনও লেনিন সরণি হয়নি, সেখানে ছিল ধর্মঠাকুরের মন্দির। কালের বিবর্তনে গ্রামদেবতারা পিছু হটেছে।

পূর্বেই বলা হয়েছে, বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে চৈত্র মাসই নববর্ষের সূচনা। সাঁওতাল, হো এবং কোল গোষ্ঠীর উপজাতি ছাড়া ছোটোনাগপুরের বিভিন্ন আদিবাসীরা সারহুল পরব পালন করে। শীতের শেষে গাছে যখন নতুন পাতা দেখা যায় তখনই বেরিয়ে আসে ফুলের কুড়ি। আর সেই ফুলকে অভিনন্দন জানানোর জন্যই বাহা পরব। বাহা মানে ফুল। বাহা সেরেঞ্‌ বা বসন্তকাকালীন সঙ্গীত বসন্তোৎসবের গান। চৈত্র মাস ও তারপর কিছু সময়কে ধরে নেওয়া হয় বাহা পরবের শ্রেষ্ঠ সময়। প্রাচীনকাল থেকেই চৈত্র মাসেই তো নববর্ষের আগমন। আদিবাসী সাঁওতালরা চৈত্র মাসকেই বছরের প্রথম মাস ধরে বাহা পরবের সূচনা করে। যদিও বাংলায় বৌদ্ধ প্লাবনে বুদ্ধ পূর্ণিমার মাস বৈশাখে বৎসর গণনা শুরু হয়েছিল। তখন থেকে চৈত্র মাস চলে যায় বাংলা বছর শেষে।১০ তাতে আদিবাসী সমাজের আনন্দ উৎসব সঙ্গীতে অর্থাৎ বাহা সেরেঞ্‌-এ কোন ভাটা পড়েনি, তারা মেতে ওঠে নাচ-গানে-

লুগু মা বুরুরে সেরেঞ্‌ সাডেকান দোরং দোরং

ঘান্‌টামা বাড়িরে ঘান্‌টি সাডেকান রাতাং রাতাং

চেতে লাগিৎ গে দ হালে সেরেঞ্‌ সাডেকান্‌

চেতে লাগিং গেদ হালে ঘান্‌টি সাডেকান।

রবীন্দ্রনাথের বসন্ত ঋতু গানেও যেন বাহা পরবের সুর-একি নাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ, প্রাণেশ হে,/ আনন্দ বসন্ত সমাগমে।।/ বিকশিত প্রীতিকুসুম হে/পুলকিত চিতকাননে।।/ জীবনলতা অবণলতা তব চরণে/হরষগীত উচ্ছ্বসিত হে/ কিরণমগন গগনে।।/

পহেলা বৈশাখ মূলত হালখাতা খোলার দিন। নতুন করে অর্থনৈতিক কাজকর্মের খতিয়ান খোলা বলা যেতে পারে। তবে কবে থেকে হালখাতার প্রবর্তন তা নির্ণয় করা কঠিন। বলা হয়, আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেকে বাংলা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য থাকত। পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করত। এ উপলক্ষে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় কালক্রমে, যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি লাল রঙের হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। লক্ষ্মী-গণেশের পূজা হত। পাতা হত মঙ্গলঘট। বর্তমানেও পবিত্র জলের ঘটে অম্রপল্লব দেওয়া হয়, এবং ঘটের গায়ে সিঁদুরে আঁকা হয় স্বস্তিকা চিহ্ন। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাবের আনুষ্ঠানিক হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই হালখাতা খোলা হয়।

নাগরিক সমাজের কাছে চৈত্র সংক্রান্তির চেয়ে পহেলা বৈশাখ আনন্দঘন বর্ষবরণে বেশি আকর্ষণীয়। তারা আবহমান লোকসংস্কৃতির স্রষ্টাকুল নয়, বাহকও নয়। তারা খানিকটা ধ্রুপদীতেই বন্দি এবং লোকসংস্কৃতিতে উন্নাসিক। পুরানো কলকাতাও নেই আর কলকাতার সঙরাও নেই। বরঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও বসে পুরাতনী, বৈঠকি টপ্পা থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতের আড্ডা। বাংলাদেশের ঢাকায় রমনায় (রমনা বটমূল) বটগাছের নিচে ছায়ানট কর্তৃক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এসো সে বৈশাখ’ গানের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বৈশাখী উৎসব উদযাপন শুরু হয়। উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল মঙ্গল শোভাযাত্রা, ঐতিহ্যবাহী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। জাতিসংঘের ইউনেস্কো বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশের ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’কে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা অন্তর্ভুক্ত করেছে। কলকাতায় তেমনই কিছু সুসজ্জিত শোভাযাত্রা আয়োজিত হচ্ছে আজকাল। মহিলারা লালপাড় সাদা শাড়ি পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। মাঙ্গলিক শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয় বৈশাখী সকাল। রবীন্দ্র সঙ্গীতে আবহন করা হয় বৈশাখকে —

এসো হে বৈশাখ, এসো, এসো

তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,

বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৪-এ প্রকাশিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন