শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:০০
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার এবারে দশহরাতে আরামবাগের মনসাডাঙ্গার মনসা মাতার পূজায় ছাগবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বরেন্দ্র ও গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাস, কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের সমন্বয়ে একটি পুনঃপাঠ : অত্রি ভট্টাচার্য ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘ছেঁড়া জামার ঈশ্বর’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অশুভ শক্তির বিনাশ ও ভক্তের সুরক্ষায় নৃসিংহ চতুর্দশী : রিঙ্কি সামন্ত বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

বাংলার লোকবাদ্য : রঞ্জন সেন

রঞ্জন সেন / ৪৩৭ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

ঢাকের শব্দ বেয়ে আসে দুর্গা পুজো, খোল-করতাল মানেই কীর্তন আবার দূর থেকে ভেসে আসা ধামসা-মাদলের আওয়াজ শুনে পৌঁছে যাওয়া যায় ছৌ নাচের আসরে। এভারেই বাংলার লোকবাদ্যগুলি হয়ে উঠেছে বঙ্গ জীবনের অঙ্গ। এই জড়িয়ে যাওয়াটা এতটাই অনিবার্য, এতটাই গভীর যে চেষ্টা করলেই এটাকে কেউ আলাদা করতে পারবেন না। বজ্র-বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি দেখে আমরা গেয়ে উঠি, ‘বাদলের মাদল বাজে গুরু গুরু’, ভূমিকম্পের সতর্কতায় বেজে ওঠে শাঁখ। গান থাকলেই বাজনা থাকবে। গায়ক এবং বাজনদারদের নিয়ে কথা থাকবে, তা আছেও কিন্তু বাজনাগুলিকে নিয়ে তেমন কোন কথা বা আলোচনা বিস্ময়জনকভাবে কম। বিশেষ করে বাংলার লোকগানের বাদ্যযন্ত্রগুলিকে নিয়ে।

নিজের ঢাক নিজে পেটানোর একটা চল আছে, কিন্তু বাংলার ঢাকঢোল, বাঁশি ইত্যাদি লোকবাদ্য নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই! অথচ এই বাদ্যযন্ত্রগুলি ছাড়া লোকগান তো বটেই বাংলা গানই অসম্পূর্ণ। বাংলার নিজস্ব বাদ্যযন্ত্রগুলির কথা লোকে প্রায় ভুলতে বসেছেন। সারিন্দা কি, খমকই বা কাকে বলে, আনন্দ লহরী কীভাবে বাজায় জিজ্ঞেস করলে লোকে হাঁ করে চেয়ে থাকেন! অথচ এগুলি ছাড়া একসময় বাংলা গান হতো না। এখন এগুলি সহযোগে তৈরি বাংলার লোকগানের একটা আন্তর্জাতিক শ্রোতাও তৈরি হয়েছে। একালের বহু জনপ্রিয় বাংলা গান তৈরি হচ্ছে আঞ্চলিক ভাষার গান ও সুর থেকে। কোন ভূখণ্ডের গানই তার নিজস্ব বাজনা ছাড়া সম্পূর্ণ হয়না। স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ইদানিং মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এই বেড়ে চলা আগ্রহই এনিয়ে কিছু লেখার ভরসা।

ভাটিয়ালি গান, ছৌ, রায়বেঁশে, ঝুমুর নাচ, পট ও পুতুলনাচের মত গল্প বলার ঐতিহ্য এবং গম্ভীরা, ডোমনীর মত লোকনাটকে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলার সংস্কৃতি। দার্জিলিং ও কালিম্পঙের পাহাড়ি মানুষদেরও রয়েছে ভাষা, পোশাক, রীতিনীতি, হস্ত ও লোকশিল্প সবমিলিয়ে এক নিজস্ব সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়। এর সঙ্গে উপযুক্ত সঙ্গত করেছে বাংলার লোকবাদ্য ঢাক, ঢোল, বাঁশি, মাদল, ঘুঙরু, করতাল, কাঁসি’র মত বাংলার একান্ত নিজস্ব লোকবাদ্য। বাংলা গান এবং সংস্কৃতিকে এই বাদ্যযন্ত্রগুলির অনুষঙ্গে আরও স্পষ্ট করে বুঝতে পারি আমরা। এভাবেই বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে লোকবাদ্যগুলিও জড়িয়ে গেছে।

শিরা উপশিরার মত ছড়ানো সুন্দর নদনদী, তার প্রান্তে ছড়ানো পাহাড় আর সবুজ জঙ্গল সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সত্যিই শিল্প ও সৌন্দর্যের এক রত্নভাণ্ডার। বাংলার পরম্পরাগত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলি তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এখানে বাঁশের ছিলা দিয়ে তৈরি কুলো; তালপাতা ও সাবাই ঘাস দিয়ে তৈরি ঝাঁপি, ঝুড়ি; হাতে পাকানো ও বোনা পাটের কম্বল (ধোকরা); বেত বা মাদুরকাঠি দিয়ে তৈরি শীতলপাটি ও মাদুর; মৃৎপাত্র, কাঁথা-কম্বলের মত রোজকার ব্যবহারের জিনিসেও মিশে থাকে শিল্প। বাংলার লোকবাদ্যগুলিতেও এই ধারাবাহিকতার কোন ব্যতিক্রম হয়নি। এখানেও মিশেছে বাংলার নিজস্বতা।

বাংলার শিল্প ও হস্তশিল্প, নাচ, গানে ফুটে ওঠে তার সংস্কৃতি, ইতিহাস, জাতিগত উৎস আর এসব কিছুর সঙ্গে মিশে থাকা প্রকৃতি। বাউল, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি গান; ছৌ, রায়বেঁশে, ঝুমুর নাচ, পট ও পুতুলনাচের মত গল্প বলার ঐতিহ্য এবং গম্ভীরা, ডোমনীর মত লোকনাটক সবকিছুর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেছে ঢাক, ঢোল, ধামসা, মাদল, ঘন্টা, কাঁসি, বাঁশির মত বাংলার নিজস্ব লোকবাদ্য। তা বাংলার সংস্কৃতিকে একটা বিশিষ্টতা দিয়েছে। বাংলার লোকবাদ্যগুলি এই ভূখণ্ডের প্রায় প্রতিটি নিজস্ব প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পশ্চিমবঙ্গের লোকগানের বাদ্যযন্ত্র

লোকগানের এক রত্নভান্ডার পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে আছে লোকসঙ্গীতের বহু ধারা এবং লোকনাচ ও গানের সঙ্গে ব্যবহৃত নানা ধরণের স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র। এখানে বিভিন্ন ধরণের বাদ্যের ব্যবহার দেখি আমরা। যেমন, কর্ডোফোন বা তারবাদ্য, ফুঁ বা বাতাস দিয়ে বাজানো হয় এমন বাদ্যযন্ত্র বা এয়ারোফোন, চামড়া দিয়ে তৈরি তালবাদ্য বা মেমব্রানোফোন এবং ঘন্টাজাতীয় ধাতব বাদ্য বা অটোফোন। প্রতিটি যন্ত্রের আওয়াজ আলাদা এবং তারা সব মিলিয়ে নিজস্ব একটি জৈবিক ধ্বনিবৈচিত্র তৈরি করে।

তারবাদ্য (কর্ডোফোন) : বাউল, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, বাংলা কাওয়ালির মত বাংলার লোকগানের নানা ধারার গানের সঙ্গে সাধারণত একতারা, দোতারা এবং খমক জাতীয় বাদ্যযন্ত্রগুলি ব্যবহৃত হয়। আঙুল বা মেজরাব দিয়ে বাজানো তারবাদ্যগুলির পাশাপাশি রয়েছে কেঁদরি এবং সারিন্দার মত ছড় টেনে বাজানো বাদ্যযন্ত্রগুলি।

একতারা : একটা তার দেওয়া মৃদু গুঞ্জন ধ্বনি তোলা একতারা নামে বাদ্যযন্ত্রটি গ্রামবাংলার বাউলদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। লাউ বা কুমড়োর খোলের দুপাশে বাঁশের কঞ্চি গেঁথে তৈরি এই বাদ্যযন্ত্রটি থেকে তৈরি হয় সুরের অনুরণন। তলা থেকে বাঁধা একটা তার নিচের খোলে লাগানো চামড়ার ফিতের সঙ্গে বাঁধা থাকে। তারটি খোল ফুঁড়ে উপরে উঠে গিয়ে বাঁশের কঞ্চির দুটির শীর্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়। বাউলরা এই বাদ্যযন্ত্রটিকে তুলনা করেন মানবদেহের সঙ্গে। এটা সবসময় একটা বিশেষ সুর বা নির্দিষ্ট স্কেলে বাঁধা থাকে। এই বাদ্যযন্ত্রগুলির নির্মাতারাও বাংলার বিভিন্ন জেলায় দার্জিলিং থেকে বীরভূম, বর্ধমান থেকে নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ছড়িয়ে রয়েছেন।

দোতারা : বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রটি বাউল-ফকিরি, ভাওয়াইয়া এবং ভাটিয়ালি গানের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নিম, কাঁঠাল এবং সেগুন কাঠ বেঁকিয়ে তৈরি হয় এই বাদ্যযন্ত্রটির খোল। যন্ত্রটির উপরিভাগ ঢাকা থাকে ছাগলের চামড়া দিয়ে। সাধারণভাবে দোতারা ১৮ – ২২ ইঞ্চি লম্বা হয়। এটা নির্ভর করে ফিঙ্গার বোর্ডে ব্যবহৃত স্টিল ও ব্রাস প্লেটের ওপর। তারগুলি তৈরি হয় স্টিল ও নাইলন দিয়ে। উত্তরবঙ্গে ঐতিহ্য অনুযায়ী ব্যবহৃত হয় সূক্ষ্ম মুগা সিল্কের সুতো। আগে দোতারা বাজানোর জন্য ব্যবহৃত হত কাঠ অথবা শিং এর প্লেকটার্ম বা কাঠি। এখন শুধু কাঠের প্লেকটার্মই ব্যবহৃত হয়।

খমক : খমকের আরেকটা নাম গাবগুবি বা আনন্দলহরী। এটা আঙুল দিয়ে বাজানো হয় এমন একটা বাদ্যযন্ত্র। বাংলার বাউলরা এটা বাজান। কাঁচা চামড়া বা নাইলনের দুটি তার একটা ওলটানো ড্রামের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরের প্রান্তটা একটা কাঠি অথবা কাঁচা চামড়া দিয়ে আটকে রাখা হয়। তারের অন্য প্রান্ত টানটান করে বাঁধা থাকে অন্য প্রান্তের একটা ছোট ওলটানো পিতলের ড্রামের সঙ্গে।। ছোট ড্রামটি নানাভাবে টেনে বা ছেড়ে নানা ধরণের সুর ও তাল তৈরি করা যায়। ৬ থেকে ৮ ইঞ্চির ডায়ামিটারের ড্রামটি তৈরি হয় আম কিংবা নিম কাঠ দিয়ে।

সারিন্দা : উত্তরবঙ্গের তিন তারের একটা বাঁকানো তারবাদ্যের নাম সারিন্দা। এক টুকরো কাঠ খোদাই করে এটা তৈরি হয়। নিচের ধ্বনি ওঠার জায়গাটি ঢাকা থাকে একটা পাতলা ছাগলের চামড়া দিয়ে। বেশিরভাগ ভাওয়াইয়া গানে সঙ্গত করার জন্য সারিন্দা ব্যবহৃত হয়। এটা বাজানো হয় ঘোড়ার চুল দিয়ে বাঁধা একটা ছড় দিয়ে। এই তারবাদ্যে থাকে তিনটি স্ট্রিং। দুটি ধাতুর এবং একটি নাইলন অথবা সুতোর। তিনটি স্ট্রিং ফিফথ্-রুট-ফোর্থ (V-1- IV) একটা বিশেষ স্কেলে বাঁধা থাকে।

কেঁদরি : কেঁদরি পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের ব্যবহৃত একটি দেশি বাদ্যযন্ত্র। এটা মূলত আদিবাসী ও ঝুমুর গানে ব্যবহৃত হয়। এটা তৈরি হয় ছাগলের চামড়া মোড়া একটা নারকেলের খোলার মধ্যে ছাতার একটা কাঠের হাতল ঢুকিয়ে। বাজানো হয় একটা ছড় দিয়ে। স্ট্রিংগুলি একটা বিশেষ স্কেলে বাঁধা থাকে এবং বাঁ হাতের আঙুল দিয়ে স্কেল ও টোনগুলি বদলানো যায়।

বানাম : বানাম একটি আদিবাসী বাদ্যযন্ত্র যা পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এং ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীরা ব্যবহার করেন। এটা মূলত চদর বদর (আদিবাসী পুতুল নাচ) এবং ঝুমুর গানে ব্যবহৃত হয়। কাঠের তৈরি বাদ্যটির ধ্বনি ওঠার জায়গাটা পশুর চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে। এক বা দুটি তারের এই বাদ্যযন্ত্রটির দৈর্ঘ্য ১.৫ ফুট। বাজানো হয় ছড় দিয়ে।

বাতাসবাদ্য (এয়ারোফোন)

কিছু বাদ্যযন্ত্র একটা সুরেলা ধ্বনি তৈরি করে। এই ধরণের বাদ্যযন্ত্রগুলির মধ্যে আছে বাঁশি, সানাই ইত্যাদি।

বাঁশের বাঁশি : বাঁশি বাংলার একেবারে নিজস্ব বাতাসবাদ্য। এটা সাধারণত বাঁশ দিয়ে তৈরি হয়। বাংলার লোকগান এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীত দুয়েতেই বাঁশির ব্যবহার রয়েছে। বাঁশি বাউল, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি এবং ঝুমুর গানের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বাঁশের তৈরি বাঁশিগুলি সাধারণত ১০ – ৩৬ ইঞ্চি লম্বা হয়, চওড়ায় ০.৫ – ২ ইঞ্চি। বাঁশির একদিক বন্ধ থাকে এবং তার কয়েক সেন্টিমিটার দূরত্বে থাকে ফুঁ দেওয়ার ছিদ্রগুলি। লম্বা বাঁশিগুলির আওয়াজ হয় গভীর এবং শব্দগুলি নিচু স্কেলে বাঁধা থাকে। ছিদ্রগুলি আঙুল দিয়ে বন্ধ করে বা খুলে বাঁশীবাদক তৈরি করেন নানারকম সুর।

সানাই : সানাই একটা বাতাসবাদ্য যা বাজানো হয় ফুঁ দিয়ে। ভারতের লোকগান ও মার্গ সঙ্গীত দুয়েতেই এর ব্যবহার আছে। পশ্চিমবঙ্গের ছৌ নাচে প্রায়শই সানাই ব্যবহৃত হয়। সানাই তৈরি হয় কাঠ দিয়ে, তার একদিকে থাকে দুটি রিড এবং অন্যদিকে থাকে একটি কাঠ অথবা ধাতুর উদ্দীপক ঘন্টা। সানাইয়ের ধ্বনিকে পবিত্র বলে মনে করা হয় এই জন্য তা এখনও মন্দিরে বাজে এবং এটা ভারতীয় বিবাহের এক অপরিহার্য অঙ্গ।

খাল : উত্তরবঙ্গের রাভা সম্প্রদায়ের এক আদিবাসী বাঁশির নাম খাল। এই বাঁশিতে ফুটে ওঠে জীবনের যন্ত্রণা ও আনন্দ। বিয়ে, উৎসব এবং পারলৌকিক অনুষ্ঠানে এই বাঁশি বাজানোর ঐতিহ্য রয়েছে। রাভা সম্প্রদায়ের মানুষ এই বাঁশির সুর ভালোবাসেন। তাদের প্রায় সব অনুষ্ঠানেই থাকে নাচগান। খালের সুরে শুধু আনন্দই ফুটে ওঠে না, তাতে ধরা পড়ে যন্ত্রণাও। খালের বিষণ্ণ সুর মেশে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের বিষণ্ণতার সঙ্গে। শোকে ভেঙে পরা মানুষজন বিশ্বাস করেন, মৃতদেহ ফেলে রাখলে তাতে অশুভ আত্মা প্রবেশ করতে পারে। তাই খাল বাজানো হয়। খাল বানানো হয় জঙ্গলে পাওয়া যায় এমন এক বিশেষ ধরণের বাঁশ দিয়ে। এটা আবার হাতিদের প্রিয় খাদ্য।

চর্মবাদ্য (মেমব্রানোফোন)

বাংলার বেশিরভাগ তালবাদ্যই ড্রামের ওপরে লাগানো চামড়া দিয়ে তৈরি। একেক ধরণের চর্মবাদ্যের আওয়াজ একেকরকম।

ঢোল : ঢোল বাংলার সবচাইতে জনপ্রিয় চর্মবাদ্য। একটি কাঠের ব্যারেল জাতীয় খোলা দুপাশে চামড়া দিয়ে ঢেকে এই বাজনা বানানো হয়। ব্যারেলটি আম কাঠের তৈরি, চামড়াটি ছাগলের। ব্যারেলের গায়ে সমান্তরালভাবে বাঁধা থাকে চামড়ার ফিতে। তার মধ্যে ঢোকানো থাকে ধাতব রিং। এই রিংগুলি টানটান বা আলগা করে আওয়াজের পরিবর্তন করা যায়। ঢোলের একদিকে তৈরি হয় খাদের আওয়াজ বা বাস সাউন্ড আর অন্যদিকে তৈরি হয় মাঝারি থেকে উঁচু পর্দার আওয়াজ। ঢোলের ডানদিক বাজানো হয় হাতের তালু ও আঙুল দিয়ে বাঁদিক বাজানো হয় ছোট কাঠি এবং হাতের তালু দিয়ে। ঢোল আচারঅনুষ্ঠান, উৎসব এবং বিয়ে ইত্যাদির মত সামাজিক অনুষ্ঠানের অবিছেদ্দ্য অঙ্গ।

খোল : খোল বাংলার প্রাচীনতম তালবাদ্য। এটা ব্যারেলের মত দেখতে অসম আকৃতির একটা ড্রাম, যার দুপাশের আকার আলাদা। খোলের কাঠামো তৈরি হয় মূলত মাটি দিয়ে। দুপাশ ঢাকা থাকে পাতলা চামড়ায়। কেন্দ্রটি টিউনিং পেস্ট সহ চামড়ার দুটি স্তর দিয়ে আবৃত থাকে। স্থানীয়ভাবে একে বলে গাব। চামড়ার আচ্ছাদনগুলি বিনুনির মত ৩২টি জায়গায় সমানভাবে বাঁধা থাকে। খোলের বড় দিকটিতে তৈরি হয় বাস সাউন্ড বা নিচু অথচ গভীর ধ্বনি, অন্যদিকে ছোট দিকটিতে তৈরি হয় ট্রেবল সাউন্ড বা বেশি আওয়াজ। খোল বাংলা কীর্তনের এক অপরিহার্য অঙ্গ। কীর্তনাঙ্গ সুরের বাউল গানে প্রায়শই খোল বাজে। খোল ব্যবহৃত হয় ভাওয়াইয়া গানেও।

ঢাক : ঢাক বাংলার এক প্রবাদপ্রতিম বাদ্যযন্ত্র, যা ব্যবহৃত হয় নানা উৎসব ও আচার অনুষ্ঠানে, বিশেষত দুর্গাপুজোয়। এছাড়াও ঢাক বাজে ছৌ, রায়বেঁশে এবং নাটুয়া নাচে। এটা তৈরি হয় একটা ব্যারেল জাতীয় কাঠের খোলার দুদিকে ছাগলের চামড়া মুড়ে। খোলের গায়ে চামড়ার ফিতেতে আটকানো ধাতুর রিংগুলির সাহায্যে চামড়াগুলি টানটান অথবা আলগা করা যায়। ঢাক বাজানো হয় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি একজোড়া কাঠি দিয়ে। এর আওয়াজ খুব চড়া।

ডুবকি : ডুবকি বাংলার বাউলদের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি তালবাদ্য। একটা গোলাকার কাঠের ফ্রেমের একদিক চামড়া দিয়ে ঢাকা এই তালবাদ্যটির চামড়াটি ভিজিয়ে এর থেকে নানা আওয়াজ তৈরি করা যায়। যন্ত্রের তলাটি বাঁ হাত দিয়ে ধরে বাজাতে হয়। ডান হাতের আঙুল দিয়ে বাজালে এবং চামড়ার টান অনুযায়ী আওয়াজের তফাৎ তৈরি হয়। চামড়ার টানে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে ডুবকিতে কলসিতে জল ভরার মত একটা আওয়াজ তৈরি করা যায়। নিম অথবা আম কাঠের তৈরি এই বাদ্যযন্ত্রটির ডায়ামিটার ৫/৬ ইঞ্চি।

মাদল : মাদল পোড়ামাটি দিয়ে তৈরি এক ধরণের ছোট ঢাক। যার কেন্দ্রটি টিউনিং পেস্ট সহ চামড়ার দুটি স্তর দিয়ে ঢাকা। এটা দু-হাত দিয়ে বাজানো হয়। মাদল বাজে ঝুমুর গানের সঙ্গে। এছাড়াও এই বাদ্যযন্ত্রটি পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির আদিবাসী সম্প্রদায়ের উৎসবের অঙ্গ। মাদলের বড় দিকটি থেকে ওঠে নিচু অথচ গভীর আওয়াজ অন্যদিকে ছোট দিকটি থেকে ওঠে মাঝারি থেকে বড় আওয়াজ।

ধামসা : ধামসা একধরণের ভারতীয় নাগরা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। যার খোলটা কাঠ অথবা লোহার তৈরি। এই তালবাদ্যটি তৈরি হয় পুরুলিয়া জেলার বলরামপুর ব্লকের পারদ্দা গ্রামে। ধামসা নানা আকারের হয়, গানের সঙ্গে একটা বা দুটো বাজে। বাজাতে লাগে দুটি লাঠি। ধামসার আচ্ছাদনটি তৈরি হয় গরু অথবা মহিষের চামড়া দিয়ে। এটা নিচু অথচ গভীর একটা আওয়াজ তৈরি করে। এটা প্রায়শই অন্য ড্রামগুলির সঙ্গে বাজে। ধামসা ছৌ নাচ ও ঝুমুর গানের এক অপরিহার্য বাদ্যযন্ত্র।

ধাতুবাদ্য (অটোফোন)

বাংলার লোকগান ও নাচে মন্দিরা, করতাল, ঘুঙুর জাতীয় যেসব ধাতব বাদ্যযন্ত্রগুলি ব্যবহৃত হয় সেগুলি মূলত অটোফোন জাতীয় বাদ্যযন্ত্র। দুটি ধাতুর সংঘর্ষে এর থেকে আওয়াজ তৈরি হয়।

মন্দিরা : মন্দিরা ঘন্টার মত দেখতে একজোড়া বাদ্যযন্ত্র। বাংলার বাউল ও কীর্তনে চড়া আওয়াজের কাঁসা ও পিতলের তৈরি এই বাদ্যযন্ত্রগুলি ব্যবহৃত হয়। আওয়াজ নির্ভর করে বাদ্যযন্ত্রগুলির আকার এবং ওজনের ওপর।

ঘুঙুর : ঘুঙুর কিংবা ঘুঙরু হচ্ছে একগুচ্ছ ছোট ধাতব ঘন্টা জাতীয় বাদ্য। বাংলার বাউল বা ছৌ নৃত্যশিল্পীরা এগুলি পায়ের গোড়ালিতে বেঁধে গান করেন এবং নাচেন। এগুলি তৈরি হয় পিতল বা মিশ্র ধাতু দিয়ে। একটা ঘুঙুরে থাকে ৫০ থেকে ২০০টি ঘন্টা।

করতাল : করতাল হল পিতলের তৈরি একধরণের প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র যা বাংলার ভক্তিগীতি ও লোকগানের সঙ্গে বাজানো হয়। এটা দেখতে অনেকটা থালার মত। হাতের চাপ ও ছাড়ের ওপরই করতালের আওয়াজ নির্ভর করে। ইদানিং কাঠ ও পিতলের তৈরি একধরণের করতালেরও চল হয়েছে।

পাহাড়ের বাদ্যযন্ত্র

তুম্বক/ তুংবক : তুম্বক বা তুংবক লেপচা সম্প্রদায়ের এক ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র। এটা তৈরি হয় ২ ফুট লম্বা এক টুকরো নরম কাঠ খোদাই করে। একটা ফাঁপা বাক্স ছাগলের চামড়া দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পর সেই চামড়ার গায়ের তিনটি ছিদ্র করা হয়। তার মধ্যে দিয়ে ব্রিজের মত তিনটি স্ট্রিং দুদিকে সংযুক্ত করা হয়। এখন স্ট্রিংগুলি নাইলনের হয় কিন্তু আগে তা তৈরি হত বিচুটি পাতার দড়ি দিয়ে। এটা সাধারণত একটা বাঁশের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বাজনাটির সঙ্গে অনেক সময় একটা কাপড়ের ব্যান্ড বাঁধা থাকে। বাজানোর সময় বাজনদার তা গলায় ঝুলিয়ে নেন।

নিমব্রয়েক প্লিথ : লেপচা সম্প্রদায়ের মানুষদের এক ঐতিহ্যবাহী বাঁশি। এটা তৈরি হয় দুটি বাঁশের বাঁশি পাশাপাশি একসঙ্গে যুক্ত করে, যা একটাই সুর তৈরি করে। প্রতিটি বাঁশি ১ফুট লম্বা এবং এতে রয়েছে ৬টি গর্ত। আঙুল দিয়ে বিভিন্ন গর্তগুলি ঢেকে এটা বাজাতে হয়।

বম্ফাটায়ুট : একধরণের একছিদ্রয়ালা লেপচা বাঁশি যা বাজান হয় পাখির আওয়াজ তৈরি করার জন্য। এই ছোট বাঁশের পাইপগুলি নানা আকারের হয়। গানে পাখির ডাক অথবা নানাধরণের সাউন্ড এফেক্ট আনার জন্য ব্যবহৃত হয়। বম্ফাটায়ুট প্রাথমিকভাবে জঙ্গলে সিগন্যাল দেওয়া ও স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগের জন্য উদ্ভাবিত হয়েছিল।

পোপাটেক : একধরণের টিউব জাতীয় পারকাসান। এটা সাধারণত লেপচারা মাঠ থেকে পাখি ও জীবজন্তু তাড়াতে ব্যবহার করেন। এখন এটা বহু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সহযোগী বাদ্যযন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটা এক হাতে ধরে অন্য হাতের তালু দিয়ে নির্দিষ্ট ছন্দে তাল দিয়ে বাজাতে হয়। গানের ছন্দ বজায় রাখার জন্যও পোপাটেক ব্যবহৃত হয়।

দাম্ফু : তামাং সম্প্রদায়ের প্রধান বাদ্যযন্ত্র দাম্ফু। এটা চাকতির আকারের দুদিকে বাজানো যায় এমন একটা ড্রাম, দেখতে অনেকটা তাম্বুরিনের মত। দাম্ফুর শীর্ষে অনেক সময় একটা কাঠের পাখি আটকানো থাকে। বাজানোর সময় মনে হয় এটা দাম্ফুর তালে তালে নাচছে। এই বাদ্যযন্ত্রটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ধরণের কাহিনী। কথিত আছে পেং দোরজি নামে তামাং সম্প্রদায়ের এক পূর্বপুরুষ একদা একটা সুন্দর হরিণ মেরে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। সেই প্রাণীটিকে দেখে তার স্ত্রী দুঃখে ভেঙে পড়েন। পেং নানাভাবে তার মন ভোলাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একদিন তিনি বাড়িতে এক টুকরো কাঠ নিয়ে এলেন। সেটা লম্বায় ৪ফুট, গোলাকৃতি ও চওড়ায় ৪ ইঞ্চি। তার ফ্রেমে একটা ছাগলের চামড়া ৩২টা গজাল দিয়ে আটকে তিনি একটা বাদ্যযন্ত্র বানালেন। গান গেয়ে ঈশ্বর বন্দনা শুরু করলেন পেং। তার পূর্বপুরুষ ও বনের সব পশুপাখিরা সেই গানের সুরে নাচতে শুরু করলো। দুঃখ ভুলে তার স্ত্রীও যোগ দিলেন তাতে। দানফা নামে একটি পাখি এত সুন্দর নাচ করলো যে দোরজি তার নামে বাদ্যযন্ত্রটির নাম দিলেন দাম্ফু। খুব তাড়াতাড়ি তা হয়ে উঠলো তামাংদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

তুংনা : দাম্ফুর সঙ্গে তামাংদের নববর্ষ বা ফসল কাটার মত সব শুভ অনুষ্ঠান ও উৎসবে বাজা আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বাদ্যযন্ত্র হল তুংনা। এই বাদ্যযন্ত্রটির রয়েছে ৪টি তার। সেগুলি একটা ফাঁপা বাক্সের ওপর দুপ্রান্তে ব্রিজের মত আটকানো থাকে। ফাঁপা বাক্সটি ঢাকা থাকে ছাগলের চামড়া দিয়ে।

বোঝাই যাচ্ছে বাংলার গান, সুর, কথার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রের বৈচিত্র্যও কম নয়। বিভিন্ন জেলার লোকবাদ্যগুলি বাংলা গানের সুরে নিজস্বতা বজায় রাখার পাশাপাশি আরও বৈচিত্র্য এনেছে। গায়ক, সুরকার, গীতিকারের পাশাপাশি বাংলা গানে এই লোকবাদ্যগুলির অখ্যাত, অজানা উদ্ভাবক ও নির্মাতাদের অবদানও কম নয়। একেবারে স্থানীয় কিছু মানুষ ও মুষ্টিমেয় কিছু গবেষক ছাড়া এই মানুষগুলিকে চেনা, জানা ও বোঝার উদ্যোগ ভীষণ কম।

পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৪-এ প্রকাশিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন