সদ্য সমাপ্ত হয়েছে দশম টি২০ বিশ্বকাপ। তরুণ ভারতীয় দল শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও টুর্নামেন্টের শেষে এসে নিজের জাত চিনিয়েছে। প্রথম দেশ হিসেবে ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের তৃতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। আমি নিশ্চিত আপামর ভারতবাসীর এখনও এই জয়ের ঘোর কাটেনি। কিন্তু এইখানেই হয়েছে সমস্যা। আপনি যতই এই স্মরণীয় জয়ের আহ্লাদে মেতে থাকতে চান, বর্তমান গণমাধ্যম বা Mass Media আপনাকে কিছুতেই থাকতে দেবে না — কারণ এর পরেই আসছে বুদ্ধিহীন বিনোদন এবং যৎসামান্য ক্রিকেটের সংমিশ্রণ IPL। আপনি চেষ্টা করেও ২৮ তারিখ থেকে এই মোচ্ছব এড়াতে পারবেন না — তা সে আপনি টিভি বা মোবাইল না দেখার প্রতিজ্ঞা করলেও। কারণ ট্রেনে বা বাসে উপযাচক হয়ে আপনার সহযাত্রীরা আপনার কাছে খেলার খবর পৌঁছে দেবে। অগত্যা এই স্মরণীয় জয় বিস্মরণ হতে বিশেষ সময় লাগবে না। ভুল ভাববেন না যে ভারতের জয়ে আমি খুশি নই বা মাঝেসাঝে একটা দু’টো IPL ম্যাচের দিকে আমি নজর রাখি না। এই ক্লাব প্রতিযোগিতার দৌলতে ভারতীয় টি২০ দলের যে অনেক উন্নতি হয়েছে সেই কথাও অনস্বীকার্য। প্রশ্নটা আসলে ভালো লাগা বা না লাগার নয়, প্রশ্নটা হল আজ থেকে দুই দশক আগেও ক্রিকেটের চেহারাটা কিন্তু ঠিক এইরকম ছিল না — হঠাৎ করে তাহলে কি এমন ঘটল যে ক্রিকেট তো বটেই, তার সম্প্রচার থেকে শুরু করে সব কিছুর খোলনলচে পাল্টে গেল? চলুন, আজ এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক। যাঁরা আমার আগের কিছু লেখা পড়েছেন তাঁরা জানেন যে আমি মূলতঃ সিনেমা বিষয়ক লেখা লিখে থাকি। আজকের লেখাটি সিনেমা নিয়ে না হলেও মিডিয়া এবং বিনোদনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং একজন ফরাসী মিডিয়া থিওরিস্টের তত্ত্বের উপর নির্ভর করেই আজকের এই আলোচনা।

ফরাসী বামপন্থী তাত্ত্বিক এবং দার্শনিক গি দিবোর
গি দিবোরের স্পেক্ট্যাকুলার সমাজতত্ত্ব
ফরাসী বামপন্থী তাত্ত্বিক এবং দার্শনিক গি দিবোর (Guy Debord) ১৯৩১ সালে প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাষট্টি বছরের ছোট জীবনে তিনি মার্ক্সবাদী রাজনৈতিক তত্ত্ব (Marxist Political Theory) এবং সমাজতত্ত্বে (Social Theory) প্রভূত অবদান রেখেছেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা হলো ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হওয়া একটি বই যার নাম The Society of the Spectacle। এই বইতে দিবোর Spectacle শব্দটিকে, যার বাংলা করা যেতে পারে “চমকপ্রদ দৃশ্য”, একটু অন্যরকমভাবে ব্যাখ্যা করেন। দিবোরের মতে আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি যেখানে ছবি বা Image, যা এই Spectacle-এর প্রধানতম হাতিয়ার এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে তা মানুষকে বাস্তব জগৎ বা Reality থেকে পরিপূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন (Separate) করে দিতে পারে। দিবোর তাই এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে একে বলছেন Separation Perfected বা নিখুঁত বিচ্ছিন্নতা। বর্তমানের পুঁজিবাদী সমাজে Spectacle-এর হাত ধরেই বড় বড় বাণিজ্যিক সংস্থা সাধারণ মানুষের উপর তাদের আধিপত্য বজায় রাখে এবং এর বিস্তার সিনেমা, টিভি, খবরের চ্যানেল থেকে শুরু করে খেলার দুনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। Spectacle-এর আর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল যে কোনও বস্তুর আবরণ বা Surface-কে এতটাই আকর্ষণীয় ও চাকচিক্যময় করে তোলা যে সেই আবরণটি বস্তুটির সার্বিক অস্তিত্ব (Existence) হয়ে দাঁড়ায়। বলা বাহুল্য, এই চাকচিক্যের স্থায়িত্ব কিন্তু বেশীক্ষণের নয়, কারণ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পুরনো চাকচিক্যকে স্থানচ্যুত করে নতুন এক আবরণ বা Gimmick। এইভাবেই বর্তমান Mass Media থেকে শুরু করে আপনার নতুন কেনা স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ সব কিছুই কাজ করে। ক্রিকেটও এই সর্বগ্রাসী Spectacle-এর কবল থেকে বেরোতে পারেনি। এর পরের অংশে ভারতে ক্রিকেট সম্প্রচারের ইতিহাস, ধরণ, এবং সর্বোপরি ক্রিকেট খেলার ধরণ কীভাবে দিবোরের Spectacle Theory-এর উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়েছে তাই দেখানোর চেষ্টা করব।

ক্রিকেট খেলার পদ্ধতি ও সম্প্রচারের বিবর্তনঃ
১৯৭১ সালের ৫ ই জানুয়ারির আগে পর্যন্ত ক্রিকেট বলতে শুধু সাদা পোশাকের টেস্ট ক্রিকেটকেই ধরা হত কারণ আর কোনও ফরম্যাটের অস্তিত্ব সেই সময় ছিল না। আপনি যদি আর পাঁচটি খেলার সঙ্গে একে তুলনা করে দেখেন তাহলে দেখবেন যে ফুটবল বা হকিকে যদি অ্যাকশানে ভরপুর ব্লকবাস্টার ছবির সঙ্গে তুলনা করা যায় তাহলে ক্রিকেটকে বার্গম্যান বা গোদারের আর্ট সিনেমার মতো মনে হবে। প্রথমতঃ এর নিয়মকানুন বেশ জটিল; এতটাই জটিল যে একে একপ্রকার Outdoor Chess-ও বলা যায়। তারপর খেলাটি হয় পাঁচ দিন ধরে যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনও মীমাংসা হয় না। মাঝে মাঝে এমন কিছু Phase যায় যেখানে না হয় রান, না পড়ে উইকেট। এতৎসত্ত্বেও এক বিশেষ শ্রেণীর Niche দর্শক এই ব্যাট বলের দ্বৈরথ উপভোগ করে এসেছেন। তাঁরা অত্যাশ্চর্য হয়েছেন মহারাষ্ট্রের এক তরুণ ব্যাটসম্যানের ধৈর্য ও দক্ষতায় যখন তিনি অভিষেক Series-এ ক্যারিবিয়ান বোলারদের শাসন করে অবলীলায় করেছেন ৭৭৪ রান। এই খেলাটি তখনো Spectacle-এর কবলে সেভাবে পড়েনি। উপরোক্ত তারিখটি থেকে এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে।
১৯৭১ সালে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে Ashes Series বাতিল হয়ে যায়। ফলতঃ দর্শকদের মন রক্ষার জন্য ৪০ ওভারের একটি বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করা হয় অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত Melbourne Cricket Ground-এ। সেই ছিল বিশ্বের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ যা দেখতে চল্লিশ হাজার দর্শকের ভীড় জমেছিল। ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়া অতি সহজে পাঁচ উইকেটে জেতে এবং রান করার গতি বৃদ্ধিতে দর্শকের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনার সৃষ্টি করে। এরপর ১৯৭৫ সালে ODI বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্যের পর এই ফরম্যাটের অবস্থান পাকা হয়। তবে এতেও ক্রিকেট সম্প্রচারের বা খেলার সার্বিক ধরণের খুব বেশী পরিবর্তন হয় না। একদিনের ক্রিকেটও সাদা পোশাকেই খেলা হতে থাকে এবং এর জনপ্রিয়তা বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ১৯৮১ সালের অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত World Series Cup-এ প্রথমবার রঙিন জার্সি ও সাদা বলের ব্যবহার করা হয় দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। ১৯৭১ সালের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিকটি যদি নেহাতই সমাপতন হয়ে থাকে, দশ বছর পরে এই রঙিন জার্সির ব্যবহার কিন্তু ছিল সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত এবং শুধুমাত্র দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে। প্রাথমিকভাবে এই গবেষণা সেভাবে সফল না হলেও দু’বছর বাদে ভারত বিশ্বকাপ জেতার পর ক্রিকেটের সার্বিক চিত্রটি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। ভারতীয় দর্শকের Untapped Market, ICC-তে ভারতের আধিপত্য বিস্তার, এবং ১৯৮৫ সালে রঙিন জার্সি ও সাদা বলের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট Benson and Hedges Cup-এ ভারতের জয়ের পর Spectacle এই খেলার উপর তার পূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। একদিনের ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে। সাথেসাথে পরিবর্তিত হয় ক্রিকেট সম্প্রচারের ধরণ। মাঠে অসংখ্য ক্যামেরার উপস্থিতি, বিভিন্ন কোণ থেকে একই ঘটনার রিপ্লে, স্টাম্প উপড়ে যাওয়ার Close-up ইত্যাদি খেলাটিকে একটি নিখাদ বিনোদনের প্যাকেজে পরিণত করে। ১৯৮০ বা ৯০-এর দশকে যাঁরা খেলা দেখে বড় হয়েছেন তাঁরা এই ধরণের ক্রিকেটের সাথেই বেশী পরিচিত। পাশাপাশি এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে এই Spectacular নতুন ফরম্যাটের আবির্ভাবেও টেস্ট ক্রিকেটের চিরাচরিত শৈলীতে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি।

আগেই বলেছি Spectacle এমনই এক জিনিস যা সময়ের সাথে সাথে নিজেকেই অব্যবহার্য বা Obsolete প্রতিপন্ন করে যাতে নতুন চাকচিক্যের জন্ম দিতে পারে। বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে একদিনের ক্রিকেট রাজত্ব করলেও একবিংশ শতাব্দীতে তার অবশ্যম্ভাবী স্থানচ্যুতি ঘটে। ২০০৫ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারী অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ। বলা যেতে পারে এই শেষের শুরু। এরপর ২০০৭ এ ভারতের টি২০ বিশ্বকাপ জয় এবং ২০০৮ এ IPL শুরু হওয়ার পর, সাদা পোশাকের ধৈর্যশীল খেলা পরিণত হয় পুরোদস্তুর একটি বাণিজ্যিক পণ্যে যেখানে খেলোয়াড়দের থেকে তৈলাক্ত চেহারার পুঁজিপতিদের ইচ্ছাই শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় আমি আমার কয়েকটি ব্যক্তিগত Observation-এর কথা এখানে লিখব যা হয়তো আপনারাও কেউ কেউ লক্ষ্য করেছেন —
১) ১৯৮১ সালে রঙিন জার্সি এবং সাদা বলের ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল শুধুমাত্র দেখনদারীর জন্য, প্রকৃত খেলার সাথে তার কোনও সম্পর্ক ছিল না। ২০১২ সালে সেইভাবেই এল LED Zing Bails যা পুরনো কাঠের বেলকে স্থানচ্যুত করল। আপনারা অনেকেই জানেন যে Ashes খেলা যখন প্রথম শুরু হয়েছিল তখন এই বেলের ছাইকেই পদক হিসেবে দেওয়া হত। LED বেল, যা উইকেটে বল লাগলেই লাল জোনাকির মতো প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে, কার্যত যেন সেই ইতিহাসকেই মুছে দিল। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার Big Bash League-এ এর ব্যবহারের দু’বছরের মধ্যে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল এই প্রযুক্তি। জানলে আঁতকে উঠতে পারেন যে এই এক একটি বেলের দাম প্রায় একটি Apple Iphone-এর সমান। অনেকে হয়তো বলবেন যে এর ফলে কঠিন Run-Out বা Stumping ভালো বোঝা যায় কিন্তু একটু তলিয়ে ভাবলে দেখবেন, শুধুমাত্র দেখনদারি ছাড়া এর আর কোনও উপযোগিতা নেই।
২) আমরা যারা রিচি বেনো, বিল লরি, বা টোনি গ্রেগের ধারাভাষ্য শুনতে ভালবাসতাম তাদের এখন অধিকাংশ সময়েই Mute করে খেলা দেখতে হয় — তার কারণ আর কিছুই নয়, “সিধু-এফেক্ট”। এখনকার অধিকাংশ ধারাভাষ্যকার, বিশেষতঃ IPL বা এই ধরণের লিগে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা বিশ্লেষণের পরিবর্তে চিৎকারটা বেশী করেন, বা বিশ্লেষণ করলেও সেটা চিৎকার করতে করতেই করেন কারণ এটাও Spectacle-এর একটা অঙ্গ। ঠিক যে কারণে অপরিণত মস্তিষ্কের শিশুরা Classical Music-এর পরিবর্তে লারেলাপ্পা গান শুনতে বেশী পছন্দ করে, এই ধরণের Commentary বা মাঠে DJ-এর জগঝম্প সঙ্গীত সেই একইরকম অপিরণত মস্তিষ্ক ক্রিকেটপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। কারণ এখানে খেলাটা মুখ্য নয়, বরং তার Presentation-টাই আসল।

৩) সম্প্রচার বা দেখনদারী নিয়ে এত কথা বললাম যখন, তখন খেলার ধরণের পরিবর্তনগুলির কথাও খানিকটা বলতেই হয়। খেয়াল করে দেখুন টি২০ ক্রিকেটের রমরমার চোটে এখনকার অধিকাংশ খেলোয়াড় Soft hands-এ খেলতে পটু নয়। রাহুল দ্রাবিড় যখন বুলেট গতির Bouncer কে Defend করতেন, বল পোষা কুকুরের মতো তাঁর পায়ের কাছে পড়ে যেত, ক্যাচ ওঠার কোনও সুযোগই দিতেন না। লক্ষণ এত Late-এ অফ স্পিনারকে কাট করতেন যে মনে হত উইকেটরক্ষকের হাত থেকে বলটি ছিনিয়ে নিয়ে সীমানা পার করলেন। কিন্তু এখন পাশবিক শক্তিই হল সাফল্যের মাপকাঠি — যিনি যত জোরে গাঁতিয়ে বল মারতে পারবেন, তত তাঁর আদর। ফলস্বরূপ পরিবর্তিত হয়েছে স্পিন বোলিং-এর শৈলীতেও — এখন র্যাঙ্ক টার্নার পিচে বল করে তাঁরা এতটাই অভ্যস্ত যে ফ্লাইট দিয়ে ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করার পদ্ধতিটি এখন বিলুপ্তপ্রায়। এই সবকিছুর চূড়ান্ত ফল হল ইংল্যান্ডের অত্যাধুনিক Bazz-Ball Cricket যেখানে Harry Brook-এর মতো ব্যাটসম্যানরা বলের মান বিচার না করে শুধু তাঁর Hitting Arc-এর মধ্যে বল পড়েছে কিনা দেখে ব্যাট ঘোরান। তাতে কখনও কাজ হয়, বেশীর ভাগ সময়েই হয় না। কিন্তু তাতে তাঁদের বিশেষ হেলদোল নেই, কারণ বিনোদনটাই আসল, অন্য সব কিছু গৌণ। একদিনের ক্রিকেটের আবির্ভাব টেস্ট ক্রিকেটের কোনও ক্ষতিসাধন করেনি। কিন্তু টি২০ ক্রিকেট, বিশেষতঃ Franchise Cricket এসে সেই কাজও সহজেই সম্পূর্ণ করেছে।
শেষ কথা
২০০৮ সালে IPL-এর গোড়াপত্তনের পর প্রকৃত ক্রিকেটপ্রেমীদের অনেক যন্ত্রণাদায়ক ছবি দেখতে হয়েছে। সহ্য করতে হয়েছে বিজয় মাল্যের মতো অযোগ্য পুঁজিবাদীর হাতে রাহুল দ্রাবিড় বা জ্যাক ক্যালিসের মতো কিংবদন্তীর অপমান — কারণ এঁদের খেলার ধরণ যথেষ্ট পরিমাণে Spectacular নয়। আমাদের বর্তমান সমাজ এই Spectacle-এর পিছনেই অহরহ ছুটে চলেছে — তা সে IPL-ই হোক অথবা কোনও ব্লকবাস্টার ছবি। এই কারণেই এখন আপনি বিশ্বকাপ জয়কেও তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার সময়ই পাবেন না, কারণ এক Spectacle শেষ হতে না হতে আবির্ভাব ঘটবে আর একটির — বিশ্বকাপ শেষ হলে আইপিএল এবং তার শেষে আবার একদিনের বিশ্বকাপ। আর সাথে সাথে পকেট ভরবে এক প্রমিত শক্তিধর পুঁজিপতি গোষ্ঠীর। তবে একেবারে আশাহত হবারও কারণ নেই, কারণ সচেতনতা থেকেই পরিবর্তন আসে এবং প্রকৃত ক্রিকেটপ্রেমীরা তাঁদের পছন্দের খেলাটিকে রক্ষা করার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেন যা টেস্ট ক্রিকেটের হারানো গরিমা আবার ফিরিয়ে আনতে পারে।
তথ্য সমৃদ্ধ সুন্দর লেখা।
লেখাটি একটি গবেষণা। সংগ্রহ করে রাখার মত
তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। খুব সুন্দর বিশ্লেষণ। ভালো লাগলো।
Sundar pranjal lekha.anek ajana bishay jana gelo.
গতানুগতিক লেখার বাইরে এসে সুন্দর বিশ্লেষণ। ভালো লাগলো।