শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:৫৯
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার এবারে দশহরাতে আরামবাগের মনসাডাঙ্গার মনসা মাতার পূজায় ছাগবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বরেন্দ্র ও গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাস, কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের সমন্বয়ে একটি পুনঃপাঠ : অত্রি ভট্টাচার্য ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘ছেঁড়া জামার ঈশ্বর’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অশুভ শক্তির বিনাশ ও ভক্তের সুরক্ষায় নৃসিংহ চতুর্দশী : রিঙ্কি সামন্ত বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কার্শিয়াং ও আশেপাশের গ্রাম — মেঘ-পাহাড়ের গল্প লেখে : অমৃতাভ দে

অমৃতাভ দে / ৮৯০ জন পড়েছেন
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫

পাহাড়ি নির্জনতায় একা একা কাটিয়ে দেবো আগামী জীবন।

প্রকৃতি আমার প্রেম,অরণ্য আমার বর্ণমালা,

নদী আমার কথাকলি।মেঘ আমার রূপকথা।

 ***

একা একা বহু পথ হেঁটে যাব।

পাইনের বন, ঝাউয়ের বনের ভিতর থেকে শব্দ কুড়িয়ে নেব আমি।

 ***

হোমস্টের বারান্দায় ভোর এসে দাঁড়াবে…

তার হাতে কত না অক্ষর।

অক্ষর জুড়ে জুড়ে পাণ্ডুলিপি লিখে নেবে আমার হৃদয়।

***

 একা, সম্পূর্ণভাবে একা আমি রোপণ করব লক্ষ লক্ষ কবিতার বীজ নক্ষত্রপুঞ্জের গায়ে…

 নির্জনতাকে পাশে নিয়ে এভাবেই কেটে যাবে কবির জীবন…

গরমের ছুটিতে পাহাড়ে বেড়াতে যাবার ইচ্ছে বোধহয় সবার মনেই জাগে। পাহাড়ি গ্রামে নির্জনে, নিরিবিলিতে ঠান্ডায় কয়েকটা দিন কাটাতে পারলে ভালোই লাগে। আমরাও বেরিয়ে পড়লাম পাহাড়ের টানে। কার্শিয়াং-এ আমরা এবার দুরাত্রি থাকব ঠিক করলাম। কার্শিয়াং-এর উপর দিয়ে আগেও গিয়েছি বেশ কয়েকবার কিন্তু কার্শিয়াং-এর অজানা ইতিহাস কিংবা সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করব বলেই এবার দু’রাত সেখানে কাটাতে চেয়েছি।কামরূপ এক্সপ্রেস নির্দিষ্ট সময়ে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছালো, সকাল ছটায়। গাড়ি প্রস্তুত ছিল। চা বাগানের ভিতর দিয়ে চলা শুরু হলো আমাদের। শিলিগুড়ি শহরটা ছাড়ালেই মন কেমন বদলে যায়, কেননা চেনা পথ বদলে যায়,প্রকৃতিও বদলে যায়। খুব বেশি সময় লাগে না কার্শিয়াং পৌঁছাতে। কার্শিয়াং শহরে ঢোকার আগেই একটা জায়গায় পর্যটকদের মন কাড়ে, কার্শিয়াং ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে নিচের চা-বাগান, চা-বাগানের ভিতর দিয়ে চলে-যাওয়া আঁকাবাঁকা পথ সবুজ ক্যানভাস তৈরি করে রেখেছে। এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ভুলবেন না। বিশেষ অনুমতি নিয়ে ডান দিকের রাস্তা ধরে হেঁটে গেলাম, চা বাগানের ভিতর দিয়ে চলে-যাওয়া মনোরম পথে কিছুটা সময় কাটল কুয়াশা আর মেঘেদের সঙ্গে।

অসাধারণ একটা হোটেল বুক করা ছিল আমাদের। জানলা দিয়ে পাহাড়, মেঘ, নদী, সবুজ চা বাগানের দৃশ্য দেখতে দেখতেই সময় কেটে যাবে। বৃষ্টি ছিল টিপটিপ। মেঘ-রোদ্দুরের খেলা ছিল, তাই বেরিয়ে পড়লাম কুয়াশামাখা। পথে জানি বৃষ্টি আসবে। পাহাড়ে বৃষ্টি অবশ্য আমার বেশ লাগে। হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে যাওয়া মেঘ-পরীদের দেশে।কিছুটা এগোতেই বৈষ্ণদেবী মাতার একটা মন্দির চোখে পড়ল। ঢুকে পড়লাম মন্দিরে, প্রণাম করলাম, প্রসাদও পেলাম। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলো পাহাড়ে। বৃষ্টি ভিজে হেঁটে যাওয়া হোটেলে। বিকেলে চললাম গিদ্দা পাহাড়ে।কার্শিয়াং-এর গিদ্দা পাহাড় রানীর মতোই সুন্দর। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সে রূপময়ী।গিদ্দা পাহাড় ভিউ পয়েন্ট থেকে চারপাশের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতেই হবে।হেঁটে হেঁটে গিদ্দা পাহাড়ের নানা প্রান্ত ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা। এখান থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই বাঁদিকে অনেকটা উঁচুতে নেতাজি মিউজিয়াম। মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখতে ভুলবেন না। মিউজিয়ামের চারপাশের নৈসর্গিক দৃশ্য মন ছুঁয়ে যাবে। প্রচুর গাছপালা ঘেরা এই মিউজিয়ামটি সম্পর্কে যা জেনেছি —

যে বাড়িটিতে এই মিউজিয়াম গড়ে উঠেছে সেই বাড়িটি ১৯২২ সালে শরৎচন্দ্র বসু ক্রয় করেন। ১৯২৫ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং তাঁর স্ত্রী বাসন্তী দেবী একদিন কাটান এই বাড়িতে।শরৎচন্দ্র বসু এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িটিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রায় সাত মাস অন্তরীণ ছিলেন ১৯৩৬ সালে। শরৎচন্দ্র বসুর অনেকটা সময় কেটেছে এখানে। দীর্ঘ সময় এই বাড়িটি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। তারপর ১৯৯৬ সালে উচ্চশিক্ষা দপ্তর উদ্যোগী হয়ে এই বাড়িটি গ্রহণ করেন। বর্তমানে এই বাড়িটি ‘নেতাজি মিউজিয়াম অ্যান্ড সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন হিমালয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস এন্ড কালচার’ হিসাবে স্বীকৃত। মিউজিয়ামে রয়েছে তাঁদের ব্যবহৃত নানান জিনিসপত্র এবং মিউজিয়ামের ফটোগ্যালারিটি বিশেষভাবে আকর্ষণ করে পর্যটকদের।

ফিরে এলাম যখন, তখন সন্ধ্যা নামছে। প্রকৃতি তার রূপ বদলেছে। পাহাড়ে সন্ধে নামে গল্পের মতোই। ব্যালকনি থেকে তখন দূরের পাহাড় কিংবা সমতল আলোর মালায় সেজেছে।মধ্যরাত পর্যন্ত সেই দৃশ্য দেখেই কেটে গেল। পরদিন ভোরে আমরা উপহার পেলাম অপূর্ব দৃশ্যকোলাজ। সবুজ পাহাড় আর পাখির কলতান মনে এনে দিল অশেষ স্ফূর্তি। আজ আমরা ঘুরে দেখব এখানকার অনেকগুলি জায়গা। প্রথমে চললাম হনুমান টপে। অনেকটা উঁচুতে বিস্তৃত চা বাগানের মধ্যে বিরাট হনুমান মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এখান থেকে গোটা কার্শিয়াং শহরকে ছবির মতো লাগে। এরপর আমাদের গন্তব্য চিমনি হেরিটেজ পার্ক। চিমনি গ্রামটি বড় শান্ত এবং নির্জন। পাহাড়প্রেমীরা সামার ক্যাম্প করেন এখানে। জানা যায় এখানে একটি ডাকবাংলো ছিল। ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশরা তৈরি করেন বাংলো। ডাকবাংলোর চিমনিটি শুধু রয়ে গেছে।বাংলোর স্মৃতি ধরে রেখেছে এই চিমনি। এই চিমনির নাম অনুসারেই পার্শ্ববর্তী এলাকা চিমনি গ্রাম হিসেবে পরিচিত হয়।জে.ডি. হুকার ছিলেন একজন ব্রিটিশ প্রকৃতিপ্রেমিক।তাঁর লেখা থেকেই জায়গাটির কথা জানা যায়। চিমনি গ্রামের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তাটি আসলে ওল্ড মিলিটারি রোড। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাবার জন্য এই রাস্তাটি আগে ব্যবহার করা হতো। এই গ্রামটি নানা ধরনের ফুল এবং অর্কিডের জন্য বিখ্যাত। বিভিন্ন ধরনের গাছও এখানে দেখতে পাওয়া যায়। এখান থেকে আমরা চললাম ডাউহিলের পথে। এ পথ যেন রহস্যময়। পাইনবনের ভিতর দিয়ে এগিয়ে চলি। সারাটা জীবন এখানে থাকলে ভালোই হতো। উষ্ণতা বাড়ছে পৃথিবীর।যখন সবুজের বড্ড অভাব চারিদিকে,তখন ডাউহিলের অরণ্য আমাদের শীতল করে।প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিই।ডাউহিল পার্ক ছোটদের আকর্ষণ করবে। সবুজ গাছেদের ভিড়ে ওরাও যেন সবুজ হয়ে ওঠে । হাঁটি হাঁটি পা পা করে চলে যান ডাউহিল ফরেস্ট রেঞ্জের ভিতর।কয়েকটা ঘন্টা কাটান পাইনবনের জঙ্গলে। আরো কত নাম না জানা গাছের সাথে কথা বলতে বলতে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন সবুজ বনের ভিতরে। হাজার পাখির কলতান আপনার মনের ভেতরে সুর এনে দেবে। এই ডাউহিলেই আছে ডাউহিল স্কুল,যার স্থাপত্য নজরকাড়া। কিছুটা এগোলেই পাহাড়ের উপরে ভিক্টোরিয়া স্কুল। স্কুলচত্বরের চার্চটি বহু প্রাচীন,রহস্যে মোড়া। পিছনের গ্রামটি ভিক্টোরিয়া গ্রাম নামে পরিচিত। এ পথেই তৈরি হচ্ছে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস। কিছুটা এগোলেই ফরেস্ট গার্ডের প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং মিউজিয়াম। ক্লান্ত না হলে ঘুরে দেখতে পারেন সবই।

বিকেলে চললাম কার্শিয়াং শহর পেরিয়ে উঁচু পাহাড়চূড়োয় ঈগল ক্র্যাগ দেখতে।এখানে একটি পার্ক তৈরি করা হয়েছে, বিশেষ আকর্ষণ ওয়াচ টাওয়ার। ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ চোখে প্রশান্তি দেয়।পাহাড়ের আসলে বহু রং। আকাশ পরিষ্কার তাই চারপাশ বড় মায়াময়। মেঘ জমে আছে কোথাও কোথাও।পার্কটির মাঝখানে একটি শহীদ-স্মারক রয়েছে, গোর্খা যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন যাঁরা তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

কার্শিয়াং স্টেশনটি হেরিটেজ স্টেশন হিসেবে স্বীকৃত। তাই স্টেশনের সময় কাটল অনেকটা। মেয়ে বেশ খুশি।কার্শিয়াং-এর মার্কেটে কিছু কেনাকাটা সেরে ফিরে এলাম হোটেলে। পরদিন পাহাড়ীগ্রাম সিটং-এর উদ্দেশ্যে বেরোতে হবে আমাদের।

বৃষ্টিস্নাত কার্শিয়াং শহরকে পাশে রেখে আমরা এগিয়ে চললাম পাহাড়ি গ্রাম সিটং-এর উদ্দেশ্যে। দুদিন ধরে কার্শিয়াং-এর অপরূপ রূপে মুগ্ধ হয়েছি আমরা। চা-বাগানের মধ্যে দিয়ে চলা শুরু হল। যাওয়ার পথে আমরা দেখে নেব মহলদিরাম টি-গার্ডেন। এই জায়গাটিতে এখনো পর্যটকের ভিড় তেমন চোখে পড়ে না। দু-একটি হোমস্টে আছে চা-বাগানের মাঝে।শান্ত নির্জন পথে হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়ালেই মন ভালো হয়ে যায়।সবুজ গালিচায় মেঘের লুকোচুরি খেলা চলল সবসময়।এখান থেকে আমরা চললাম সিটং-এ অবস্থিত বহু প্রাচীন একটি মনেস্ট্রি দেখতে। লেপচা মনেস্ট্রি দুশো বছর আগে নির্মিত হয়েছে। ছোট গুম্বা নামেও পরিচিত। মাটি ও পাথর দিয়ে তৈরি এই মনেস্ট্রিতে ১৩ টি পবিত্র গ্রন্থ আছে, যা স্থানীয় ঘাস ও প্রাকৃতিক রং দিয়ে লেখা। বুদ্ধপূর্ণিমায় তিন দিন ধরে পুজো হয়।দেওয়াল জুড়ে ছবি আঁকা বৌদ্ধ তন্ত্রসাধনার। বুদ্ধমূর্তির সামনে দাঁড়ালে প্রশান্তি আসে মনে। এবার পৌঁছে যাব প্রকৃতির আরো কাছে, অহলদাড়া অপার সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষায়। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় অহলদাড়ার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ৩৬০ ডিগ্রি উন্মুক্ত এই জায়গা। পাহাড়ি উপত্যকা, নদী, চা-বাগান, নীল আকাশ আর সবুজ পাহাড়ের সংমিশ্রণে অহলদাড়া প্রকৃতির বিস্ময়। এরই মাঝে প্রকৃতি নিজস্ব খেয়ালে তৈরি করেছে রবীন্দ্রনাথের মুখাবয়ব। একটা গোটা দিন অহলদাড়ায় কাটিয়ে দিতে মন্দ লাগবে না। সিটং-এ যখন পৌঁছালাম তখন সূর্য অস্তাচলগামী, সবুজ এই গ্রামের গায়ে ঢলে-পড়া হলুদ রোদ্দুর তখন প্রেমের কবিতার মতোই। পাহাড়ি গানের সুর কণ্ঠে নিয়ে আঁকাবাঁকা পথের ধারেই নাচের ছন্দে তখন আমার ছোট্ট মেয়ে। তারপর গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখা। সন্ধেবেলায় ক্যাম্পফায়ার হলো। নির্জন গ্রামে রাত নামে। হোমস্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্তব্ধতাকেই শুধু অনুভব করি।

পরদিন যোগীঘাটে কিছুটা সময় কাটিয়ে মংপু হয়ে যাব আমরা তাকদা। রিয়াং নদীর তীরে তখন শীতল হাওয়া বইছে। সবুজ পাহাড়ের মধ্যিখানে ঝুলন্ত এক সেতু, বয়স বেড়েছে ওর, শ্যাওলা জমেছে বুকে, অরণ্যের নাম না-জানা ছোট্ট ছোট্ট ফুল ওর গায়ে। নতুন সাঁকো তৈরি হয়েছে নদীর উপর। রংবেরঙের কতনা কাপড়ের টুকরো উড়ছে হাওয়ায়। সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে গেলাম আমরা, নেমে গেলাম নদীর কাছে, রংবেরঙের কত না পাথর নদীর জলে। নদীর শীতল জলে ডুবিয়ে দিলাম হাত। প্রকৃতিই আসলে ঈশ্বর। সুন্দর প্রকৃতিকে প্রণাম করে এগিয়ে চললাম মংপুর দিকে।

মংপু মানেই মৈত্রেয়ী দেবী, মংপু মানেই রবীন্দ্রনাথ। মৈত্রেয়ী দেবীর স্বামী ডা. মনমোহন সেন ছিলেন কুইনাইন বিশেষজ্ঞ। মংপুতে যে বাংলোতে চাকুরিসূত্রে মনমোহন সেন থাকতেন সেই বাংলোতে রবীন্দ্রনাথ মৈত্রেয়ী দেবীর আমন্ত্রণে অনেকবারই এসেছেন। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন —”মনে পড়ে শৈলতটে তোমাদের নিভৃত কুটীর/হিমাদ্রি যেখানে তার সমুচ্চ শান্তির/আসনে নিস্তব্ধ নিত্য, তুঙ্গ তার শিখরের সীমা/লঙ্ঘন করিতে চায় দূরতম শূন্যের মহিমা/অরণ্য যেতেছে নেমে উপত্যকা বেয়ে।” সেই বাংলো আজ অসাধারণ একটি মিউজিয়াম। রবীন্দ্রনাথের ছবির সামনে বসে মেয়ে গেয়ে উঠল — ‘মাধবী হঠাৎ কোথা হতে এলো…”। এই বাড়িতে এলে মন অন্য এক আবেশে ভরে যায়।তাকদা যাবার পথে লামাহাট্টা ইকোপার্ক ঘুরে দেখব আমরা। পাইনবনের এই অরণ্য বারবার হাতছানি দেয়। নির্দিষ্ট পথ ধরে অনেকটা উপরে গিয়ে পবিত্র পোখরির কাছে পৌঁছলে ভালোই লাগবে। এত সবুজ দেখলে চোখ তো শান্তি পাবেই। লুপচু হয়ে তিনচুলে যাবার পথে গুম্বাদাড়া ভিউ পয়েন্টে থামলাম কিছু সময়। চা-বাগানের ভিতর দিয়ে চলে-যাওয়া এই পথে দাঁড়ালেই কাঞ্চনজঙ্ঘা-সহ তুষারাবৃত বহু পর্বতশৃঙ্গ দেখতে পাবেন।

এই ভ্রমণের শেষের রাত কেটেছে আমাদের তাকদার অমৃত হোমস্টেতে। বেশ অন্যরকমের পরিবেশ এখানে। নির্জনতা যাঁরা ভালোবাসেন, পাহাড়ি গ্রামের পথ যাঁদের ভালো লাগে, সবুজ পাহাড় যাঁদের বারবার হাতছানি দেয় তাঁরা ছুটে ছুটে আসেন তিনচুলে, লামাহাট্টা,তাকদা। তিনচুলের পাশেই এই পাহাড়ি গ্রাম তাকদা। পাহাড়ঘেরা এই গ্রামের বিশেষ আকর্ষণ পাইনবনের অরণ্য, অর্কিড গার্ডেন। রাতের নিস্তব্ধতায় দূরের পাহাড় আলোকমালায় সেজেছে। অরণ্যপথে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করবে। সকালবেলায় গ্রামের চারপাশ ঘুরে ঘুরে দেখলাম। ফিরতে হবে। তিস্তা ত্রিবেণী সঙ্গমে কিছু সময় কাটিয়ে ট্রেন ধরব আমরা। তিস্তা রিভারসাইড ক্যাম্প পর্যটকদের কাছে এখন খুব জনপ্রিয়। তিস্তা আর রঙ্গিত নদীর এই সঙ্গমে দাঁড়িয়ে নদীর সঙ্গে কথা হল অনেক। নদীর গল্প মনের মধ্যে নিয়ে চললাম নিউ জলপাইগুড়ি।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া অথবা শিয়ালদা থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। সেখান থেকে ছোট গাড়িতে অথবা বাসে কার্শিয়াং। কলকাতা থেকে সরাসরি শিলিগুড়ি বাসেও চলে যেতে পারেন। কার্শিয়াং হয়ে সিটং কিংবা তাকদা ঘুরতে পারেন অথবা সরাসরি চলে যেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন : কার্শিয়াং-এ সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য হোটেল আছে। সিটং কিংবা তাকদাতে হোমস্টে আছে।

কখন যাবেন : সব সময় ভালো লাগবে।

পেজফোরনিউজ ২০২৪ পুজা সংখ্যায় প্রকাশিত


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন