Logo
এই মুহূর্তে ::
শ্রাবণের ঝিরঝিরে হাওয়ায় কাঁচের চুড়ির রিমিঝিম : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাখি বন্ধন ও রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতা ফিরিয়ে দিক তসলিমার দ্বিখন্ডিত বাসার একখণ্ড : অশোক মজুমদার তরুণের বিদ্রোহ : তখন এবং এখন : দিলীপ মজুমদার বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘বনলতা সেন ও অভিমানের অন্ধকার’ শিক্ষা ও সমাজ-সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ তসলিমা নাসরিন — সবিনয় নিবেদন : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি (দ্বিতীয় পর্ব) : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার গুরুপূর্ণিমার ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সংগ্রাম, মানবিকতা ও আত্মমর্যাদার জীবনকাব্য — সত্যজিৎ নাথের উপন্যাস “শেষের বেলা” : যশোবন্ত রায় যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের,… কিছুটা আরশোলারও… : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কৃষক আন্দোলনের ঐতিহ্য ও সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলন : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উম্মে মুসলিমা-র ছোটগল্প বারবনিতা সাহিত্যিক উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও বঙ্গসাহিত্য : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কবিতার আয়ুষ্কাল — নজরুলের বিদ্রোহী : রফিকুর রশীদ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫০ জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

নন্দকুমার ও নবাব মুহম্মদ রেজা খান তাঁদের প্রশাসনকালে প্রভূত ব্যক্তিগত সুবিধা লাভ করেছিলেন, এবং এই সুবিধাগুলো যে সরকারি রাজস্ব বন্দোবস্তের বাইরে ছিল, সেই বিষয়টা আমি অন্তত অস্বীকার করতে পারব না। বাংলায় প্রতিনিধি বা কর্মকর্তাদের (agency) লাভের ওপর সর্বদাই কর ধার্য করা হয়েছে; নজর ও নজরানা প্রথা জমিদারি শাসনব্যবস্থার মতোই প্রাচীন। কাজেই, এই হিসাবেও কিছু ছাড় দেওয়া যেতে পারে, যদিও তার পরিমাণ নির্ণয় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে তা রাষ্ট্রের রাজস্ব থেকে কর্তন হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। কিন্তু এই বিষয়ে যাই অনুমান করা হোক না কেন, মুহম্মদ রেজা খান ১৭৭৫ সাল থেকে যে প্রকৃত আর্থিক সংকটে ভুগেছেন এবং তারপরেও সেই সংকট তার জীবনে বারবার এসেছে — এবং সে সবগুলো এতটাই গুরুতর যে, তিনি যদি তাঁর ঋণদাতাদের দাবি ও বিরক্তিকর তাগিদ থামানোর সামর্থ্য রাখতেন, তাহলে তিনি কখনোই এগুলোর কাছে বিন্দুমাত্রও নতি স্বীকার করতেন না। আমি জানি, এই মুহূর্তেও তাঁর সর্বোচ্চ মূল্যবান সম্পত্তি বন্ধক রয়েছে, যা তিনি শোধ করতে পারছেন না — যদিও তিনি সরকারি ভাতা ও জাগির থেকে যথেষ্ট আয় পান; এবং আমি নিজেও একাধিকবার তাঁর অন্যান্য বন্ধুদের সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেছি যাতে সুপ্রিম কোর্টের আইনি এখতিয়ার তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োগ না হয়, যার অধীনে তিনি তাঁর দৈন্যতার কারণে জোরপূর্বক স্বীকৃতিপত্র (express bonds) দিয়ে নিজেকে বাধ্য করেছিলেন। আমি বলতে চাই এই পর্যবেক্ষণটি জেমস গ্র্যান্টের একটি মন্তব্য দ্বারা প্রভাবিত। (টিকা ১)

৮০. আমি এখন ১১৭২ বঙ্গাব্দের দেওয়ানি ভূমির বন্দোবস্তের সাথে ১১৯৩ বঙ্গাব্দের (যা ১৭৮৭ সালের এপ্রিলে সমাপ্ত হয়) বন্দোবস্তের একটা তুলনামূলক বিবরণ তুলে ধরব। পরবর্তী কোনো সময়ের পরিবর্তে এই সময়কালটি বেছে নেওয়ার কারণ হলো, এর হিসাবপত্র সম্পূর্ণ এবং গত দুই বছরে বন্দোবস্তের অর্থের পরিমাণে যে পরিবর্তন [১৭৭] হয়েছে তা অত্যন্ত সামান্য ও আলোচনার ক্ষেত্রে তা নগণ্য। এই তুলনামূলক বিবরণের সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

৮১. এই বিবরণের প্রথম সারি মিস্টার গ্রান্টের ‘অ্যানালিসিস’ (বিশ্লেষণ) থেকে এবং দ্বিতীয় সারিটি ‘রেভিনিউ অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল’-এর নথিপত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। এই তুলনামূলক বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য নিম্নলিখিত মন্তব্যগুলো প্রয়োজন হতে পারে:

৮২. ১১৭২ বঙ্গাব্দের রাজস্ব নির্ধারণের মোট অঙ্কের মধ্যে দেওয়ানি এলাকার জমি থেকে বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশ্যে দাবি করা সমস্ত অর্থ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে লবণ উৎপাদনের জমির খাজনা এবং সব ধরনের শুল্ক বা কর অন্তর্ভুক্ত; বাদ দেওয়া খরচগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মজকুরত’ (Muzcoorat) ও ‘সেবন্দি’ (Sebundy) — অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভাতা — এবং প্রশাসনিক বা স্থাপনা সংক্রান্ত ব্যয়; আর তৃতীয় কলামটিতে কোম্পানির জন্য আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ দেখানো হয়েছে।

৮৩. ১১৯৩ সালের রাজস্ব নির্ধারণের মোট অঙ্কটি পরবর্তী দুটি বিষয় বা খাত থেকে স্বতন্ত্র; যথা —

যদি এই দুটি সময়ের রাজস্ব নির্ধারণের মধ্যে তুলনা করা হয়, তবে পার্থক্যের পরিমাণ আরও বেশি হবে। পরিমাণ —

৮৪. যেহেতু কলকাতা ও চট্টগ্রামে সংগৃহীত শুল্ক মূলত ‘অর্পিত ভূখণ্ড’ (ceded lands)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং চৌসা ও পাটনায় সংগৃহীত শুল্ক বিহারের অন্তর্ভুক্ত, তাই আমি সেগুলোর পরিমাণ এখানে উল্লেখ করিনি; বরং শুধুমাত্র ঢাকা, হুগলি ও মুর্শিদাবাদে আদায় করা অর্থের পরিমাণই উল্লেখ করেছি, যেটা দেওয়ানি এলাকার রাজস্বের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।

৮৫. একইভাবে, যেহেতু ২৪ পরগনা ও চট্টগ্রামে উৎপাদিত লবণ মূলত ‘অর্পিত ভূখণ্ড’-এর আওতাভুক্ত, তাই আমি শুধুমাত্র হিজলি, তমলুক, রায়মঙ্গল ও বালুয়ার দেওয়ানি এলাকায় উৎপাদিত লবণের ওপর ধার্য ‘রওয়ান্না’ (Rowanna) শুল্কের হিসাব উল্লেখ করেছি — যার মধ্যে মেদিনীপুরে উৎপাদিত হিজলি লবণের অংশটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

৮৬. “এখানে লক্ষণীয় যে, ১১৯৩ বঙ্গাব্দের (১৭৮৬-৮৭ খ্রি.) সারসংক্ষেপে উল্লিখিত খরচগুলো কেবল সেগুলিই, যেগুলোকে স্থানান্তর বা বদলি হিসাব হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে — যথা জমিদারদের ভাতা, কানুনগোদের বেতন, দান-খয়রাত, পেনশন, কাছারির খরচ ইত্যাদি, যেগুলোর জন্য জমিদাররা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হিসাবে ছাড় পেতেন; এবং কোনো রকম আপত্তি এড়ানোর লক্ষ্যে আমি এমন কিছু খরচও অন্তর্ভুক্ত করেছি যা স্পষ্টতই বিতর্কিত এবং চাইলে সে সব বাতিল করা যেতে পারত। আমার উদ্দেশ্য হলো ১৭৮৬-৮৭ সালে দেওয়ানি এলাকার ভূমি থেকে আমরা যে রাজস্ব দাবি করেছিলাম, তার সাথে ১৭৬৫ সালে একই ভূমির ওপর ধার্যকরা অর্থের তুলনা করা। তাই মোট দাবিকরা অর্থ থেকে আমি ১১৯৩ (বা ১৭৮৬-৮৭) সালের সেই ব্যয়ের অংশটুকু বাদ দিয়েছি যা প্রকরাপক্ষে নগদ প্রাপ্তির মাধ্যমে পরিশোধিত হয় (বা হতে পারে); কারণ অন্যথায় একে কেবল ‘নামমাত্র জমা’ (nominal jumma) হিসেবে গণ্য করার আপত্তি উঠতে পারত — যেহেতু এর কিছু অংশ হয়তো বাস্তবে আদায় না হয়ে কেবল হিসাবের খাতায় সমন্বয় করা হতে পারে। অবশিষ্ট যে অর্থ পরিশোধযোগ্য, তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অঞ্চল থেকে প্রকরাপক্ষে আদায় করতে হবে।

৮৭. রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় — যেমন কালেক্টর ও তাঁদের সহকারীদের ভাতা, তাঁদের দাপ্তরিক বা প্রশাসনিক খরচ এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের ব্যয় ইত্যাদি — বর্তমান তুলনামূলক আলোচনার বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত নয়। প্রাপ্ত অর্থের বণ্টন বা ব্যবহার এবং সেই বণ্টনের যৌক্তিকতা একটা স্বতন্ত্র বিবেচ্য বিষয়।

৮৮. সুতরাং, তুলনার যে পদ্ধতিই অবলম্বন করা হোক না কেন, এটি নিঃসন্দেহে প্রতীয়মান হয় যে, ১৭৮৬-৮৭ সালে বাংলার দেওয়ানি এলাকা থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্ত রাজস্ব ১৭৬৫-৬৬ সালের তুলনায় প্রকরাপক্ষে বেশি ছিল; এবং যদি এই দুই বছরের আদায়করা অর্থের তুলনা করা হয়, তবে ফলাফলটি একইভাবে অনুকূল বলে মনে হবে।

৮৯. তবে, উল্লিখিত অতিরিক্ত রাজস্ব ছাড়াও আমাদের লবণের ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে; যদিও এই মুহূর্তে আমি সেই সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারছি না, তবে তা উপরে উল্লিখিত অতিরিক্ত অর্থের সাথে যুক্ত করতে হবে। [১৭৮]

কিস্তি ২৫ টীকা ১

শোরের ৭৯ নম্বর স্তবক অত্যন্ত সাঁটে অর্থাৎ সংক্ষেপে লিখেছেন, এবং তাৎপর্যপূর্ণও বটে। জন শোর নন্দকুমার ও মুহম্মদ রেজা খানের প্রশাসনিক লাভ, তাদের ঋণগ্রস্ততা এবং ব্রিটিশ প্রশাসনে তাদের অধীনতার একটা দুরন্ত জটিল চালচিত্র তুলে ধরেছেন। পাঠক, আসুন এই স্তবককে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা যাক, তাহলে বেশ কিছু বিষয় পরিষ্কার হলেও হতে পারে।

প্রথমত নন্দকুমার ও মুহম্মদ রেজা খানের ‘সুবিধা’ — শোর শুরুতেই স্বীকার করছেন নন্দকুমার ও মুহম্মদ রেজা খান তাঁদের প্রশাসন থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা লাভ করেছিলেন। তিনি বলছেন – “That Nundcomar and the nabob Mahomed Reza Khan derived advantages from their administrations, and that these advantages were independent of the public settlement, I shall not dispute.” অর্থাৎ, তাঁরা রাজস্ব বন্দোবস্তের বাইরেও ব্যক্তিগত লাভ করেছিলেন — যা ‘এজেন্সির মুনাফা’ (profits of agency) নামে পরিচিত। শোর এই বিষয়কে অস্বীকার করছেন না; তিনি স্বীকার করছেন বাংলায় এই ধরনের লাভ ঐতিহাসিকভাবে চালু ছিল — “The profits of agency have always been taxed in Bengal; nuzzahs and nuzzeranahs are as ancient as the government.”

আর ‘নুজ্জা’ (নজর) ও ‘নজরানা’ — এই প্রথা বাংলার শাসনব্যবস্থায় শতাব্দী প্রাচীন। জমিদার বা কর্মকর্তারা উপহার বা কর হিসেবে এই অর্থ গ্রহণ করতেন। শোর বলছেন, এই প্রথা এতটাই পুরনো যে এর জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়া যেতে পারে, যদিও তার পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।

দ্বিতীয়ত শোর মুহম্মদ রেজা খানের ঋণগ্রস্ততার কথা তুলে বলছেন — “…the actual distress which Mahomed Reza Khan suffered, as long ago as the year 1775, and the repetition of them since that period, are such as he would not have submitted to, if he had possessed the means of stopping the clamours and importunities of his creditors.” অর্থাৎ, ১৭৭৫ সাল থেকে মুহম্মদ রেজা খান বারবার ঋণের চাপে পড়েছেন। তিনি যদি সত্যিই এত ‘লাভ’ করতেন, তবে তিনি ঋণদাতাদের বিরক্তিকর দাবি এড়াতে পারতেন। কিন্তু তিনি পারেননি। এর থেকে প্রমাণ হয় তাঁর আয় যথেষ্ট ছিল না, অথবা তিনি ঋণের ফাঁদে পড়েছিলেন। শোর আরও বলছেন — “I know, that at this moment, his most valuable effects are mortgaged for debts which he cannot discharge, notwithstanding the liberal income which he derives from his public allowances and jaghire.” অর্থাৎ, রেজা খান তাঁর সর্বোচ্চ মূল্যবান সম্পত্তিও বন্ধক রাখতে বাধ্য হয়েছেন, যা তিনি শোধ করতে পারছেন না — যদিও তিনি সরকারি ভাতা ও জাগির থেকে যথেষ্ট আয় পান। এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ঔপনিবেশিক প্রশাসনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ঋণের ফাঁদে পড়তেন — কারণ তাদের আয় কোম্পানির চাপ ও বিলাসিতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

তৃতীয়ত শোর এখানে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন — “I have myself interposed, on more occasions than one, with his other friends, to avert the operation of the jurisdiction of the supreme court upon him, to which he had made himself amenable by express bonds extorted from his necessities.” অর্থাৎ, শোর নিজেও একাধিকবার রেজা খানের পক্ষে হস্তক্ষেপ করেছেন — যাতে সুপ্রিম কোর্টের আইনি প্রক্রিয়া তাঁর বিরুদ্ধে না চলে। রেজা খান তাঁর ঋণের চাপে সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার মেনে নিয়েছিলেন (express bonds), যা শোরের মতে তাঁর ‘অভাব’-এর কারণে বাধ্য হয়ে করা হয়েছিল। এখানে শোরের ভাষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ — “extorted from his necessities” (অভাবের কারণে জোর করে আদায় করা) — যা প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ আইনি ব্যবস্থা কীভাবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করত।

চতুর্থত গ্র্যান্টের মন্তব্যের প্রতি শোরের আপত্তি। শোর শেষে বলেছেন — “This observation is suggested by a remark of Mr. Grant.” অর্থাৎ, এই পর্যবেক্ষণটি জেমস গ্র্যান্টের একটি মন্তব্য দ্বারা প্রভাবিত। গ্র্যান্ট সম্ভবত রেজা খানের প্রশাসনিক ‘লাভ’ নিয়ে কিছু বলেছিলেন, যা শোর এখানে খণ্ডন করার চেষ্টা করেছেন। শোর প্রমাণ করতে চাইছেন যে রেজা খান যদিও ‘লাভ’ করেছিলেন, ঋণ ও দুর্দশা প্রমাণ করে যে সেই ‘লাভ’ যথেষ্ট ছিল না — অথবা তা তাঁর ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে কোম্পানির স্বার্থেই ব্যবহৃত হয়েছিল।

সেব শেষে স্তবকের সামগ্রিক অর্থ ও প্রাসঙ্গিকতা। শোর এই স্তবকে ঔপনিবেশিক প্রশাসনের একটি অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন —

১। একদিকে, নন্দকুমার ও রেজা খানের মতো কর্মকর্তারা ‘লাভ’ করতেন — যা ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত ছিল।

২। অন্যদিকে, তারা ঋণের ফাঁদে পড়তেন — কারণ তাদের আয় কোম্পানির চাপ ও আইনি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে টিকতে পারত না।

৩। শোর নিজেও তাদের পক্ষে হস্তক্ষেপ করেছেন — যা প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ প্রশাসন স্থানীয় কর্মকর্তাদের ওপর কতটা চাপ প্রয়োগ করত। শোরের এই পর্যবেক্ষণ জেমস গ্র্যান্টের যুক্তির বিরুদ্ধে — গ্র্যান্ট সম্ভবত রেজা খানের ‘লাভ’-কে রাজস্ব হ্রাসের কারণ হিসেবে দেখাতে চেয়েছিলেন, আর শোর প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে সেই ‘লাভ’ যথেষ্ট ছিল না, এবং রেজা খান প্রকৃতপক্ষে ঋণগ্রস্ত ও অসহায় ছিলেন।

অর্থাৎ এই স্তবকটা সাঁটে লিখে শোর, জেমস গ্র্যান্টের পরোক্ষ জবাব দিচ্ছেন। তিনি প্রমাণ করতে চান যে মুহম্মদ রেজা খানের প্রশাসনিক ‘লাভ’ সত্ত্বেও ঋণগ্রস্ত ছিলেন, এবং ব্রিটিশ আইনি ব্যবস্থা ও কোম্পানির চাপ তাকে আরও অসহায় করে তুলেছিল। এটি ঔপনিবেশিক প্রশাসনের জটিলতা, স্থানীয় কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব এবং ব্রিটিশ-আমলান্তরকালীন রাজস্ব কাঠামোর অন্তর্নিহিত শোষণ-প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

এই স্তবকে ব্যবহার করা ‘Agency’-র অর্থ ও প্রাসঙ্গিকতা। ‘Agency’ শব্দটি ইংরেজি ‘Agent’ থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রতিনিধি, দালাল বা কর্মকর্তা। বাংলায় একে প্রতিনিধিত্ব বা দালালি বলতে পারেন। ফিফথ রিপোর্টের প্রেক্ষিতে, ‘Agency’ বলতে বোঝায় :

১. কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা: নন্দকুমার বা মুহম্মদ রেজা খানের মতো কর্মকর্তারা কোম্পানির পক্ষ থেকে রাজস্ব আদায়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও স্থানীয় শাসন পরিচালনা করতেন। তারা কোম্পানির ‘এজেন্ট’ বা প্রতিনিধি ছিলেন।

২. ইজারাদারি (Farming) থেকে আলাদা: ইজারাদারি (Farming) বলতে বোঝায় কোনো অঞ্চলের রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ঠিকাদারের (তুকুদ্দার) কাছে হস্তান্তর করা। কিন্তু ‘Agency’ বলতে বোঝায় প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা — যা ইজারাদারির চেয়ে বেশি ব্যাপক।

৩. লাভের সুযোগ: ‘Agency’-এর মাধ্যমে কর্মকর্তারা নজরানা, উপহার বা অন্যান্য সুবিধা লাভ করতেন, যা শোর ‘profits of agency’ বলে উল্লেখ করেছেন।

আমাদের আরও একটা বিষয় বোঝা দরকার শোরের ব্যবহার করা ‘Agency’ শব্দ ব্যবহারের প্রেক্ষাপট। শোর ‘agency’ শব্দ ব্যবহার করেছেন নন্দকুমার আর মুহম্মদ রেজা খানের প্রশাসনিক ভূমিকা বোঝাতে। তিনি বলছেন – “The profits of agency have always been taxed in Bengal; nuzzahs and nuzzeranahs are as ancient as the government.” অর্থাৎ, বাংলায় প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব (agency) থেকে লাভ (নজরানা) পাওয়ার প্রথা শতাব্দী প্রাচীন। শোর এখানে স্বীকার করছেন যে এই লাভ ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত ছিল, তাই এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমরা এজেন্সির আর একটা প্রতিশব্দ জানি ইজারা। কিন্তু এটা যে ইজারা বয় সেটা নন্দকুমার আর রেজা খানের উল্লেখেই পরিষ্কার।

আমরা বুঝে নি ‘Agency’ ও ‘ইজারাদারি’-এর পার্থক্য

বিষয়   Agency (প্রতিনিধিত্ব)      ইজারাদারি (Farming)

অর্থ      প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ    রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব হস্তান্তর

ভূমিকা  কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে শাসন  ঠিকাদার হিসেবে রাজস্ব আদায়

লাভ     নজরানা, উপহার, বেতন    ঠিকাদারি মুনাফা

উদাহরণ         মুহম্মদ রেজা খান, নন্দকুমার        রামনাথ বুদ্ধি, আব্দুল আলী খান

এই স্তবকে শোর কেন ‘Agency’ শব্দ ব্যবহার করলেন? শোর ‘ইজারাদারি’ (Farming) বলতে পারেননি, কারণ নন্দকুমার বা রেজা খান ঠিকাদার ছিলেন না — তারা ছিলেন প্রশাসক। তারা রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব ঠিকাদারদের হাতে দিতেন, কিন্তু নিজেরা শাসন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্ব রাখতেন। তাই শোর তাদের ভূমিকাকে ‘agency’ (প্রতিনিধিত্ব) বলেছেন, যা প্রশাসনিক দালালি বা প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থাপনার সমার্থক। শোরের লক্ষ্য ছিল প্রমাণ করা যে রেজা খান ‘agency’-এর মাধ্যমে লাভ করলেও তিনি ঋণগ্রস্ত ছিলেন — যা জেমস গ্র্যান্টের যুক্তিকে খণ্ডন করে। গ্র্যান্ট হয়তো রেজা খানের ‘agency’ লাভকে রাজস্ব হ্রাসের কারণ হিসেবে দেখাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শোর প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে সেই লাভ যথেষ্ট ছিল না, এবং রেজা খান আসলে ঋণের ফাঁদে পড়েছিলেন।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন