| | |
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্বাধীনতা — অর্জন নয়, দায়িত্বও : যশোবন্ত রায় চোখের বালি যখন চোখের বালিশ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বাগ্মী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে কি বাঙালি ভুলে গেল : অসিত দাস পূর্বিতা পুরকায়স্থ-র ছোটগল্প ‘প্রান্তিক’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ উই দ্য পিপল অব ইণ্ডিয়া : দিলীপ মজুমদার সিনে সেন্ট্রালের লুসোফন চলচ্চিত্র উৎসবে পর্তুগিজ ছবি — ফ্লাইট অফ ক্রোকোডাইল : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মুখার্জিবাড়ি — জিরাট ও রসা রোড : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার বাংলাদেশেকে লুক ইস্ট পলিসি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস — ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই : নিকোলাস বিশ্বাস নিকোলাসের ছবি বাস্তবকে তুলে ধরে কবিতার মতো : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বঙ্গবাণী-র রমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জীবনানন্দের আবিষ্কর্তা : অসিত দাস দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ : দিলীপ মজুমদার প্রতিদিনের রবীন্দ্রনাথ : যশোবন্ত রায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অথ তসলিমা কথা…. : অশোক মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বেগম রোকেয়ার সমাধি আবিষ্কার যেন প্রেমেন্দ্র মিত্র-র তেলেনাপোতা আবিষ্কার : অসিত দাস মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকার রোহিঙ্গা সংকটে কোন নির্দেশনা নেই : হাসান মোঃ শামসুদ্দীন ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ দ্বিখণ্ডিত নির্বাসন : অশোক মজুমদার
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

প্রশ্রয় দেবেন না অযৌক্তিক সন্দেহকে : সৌম্য সিংহ

Reporter
সৌম্য সিংহ / ৪৭৩ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০

গল্প নয়, সত্যি। বাংলা টিভি সিরিয়ালের এক নায়িকার সঙ্গে গাঢ় বন্ধুত্ব ছিল এক সাংবাদিকের, যে সম্পর্কের গভীরতা বোধহয় হার মানিয়েছিল মহাসাগরকেও। বন্ধুত্বের এই বন্ধন একদিন হয়তো অনায়াসেই হতে পারতো মনস্তত্ত্বের একটা দীর্ঘ গবেষণার বিষয়। কিন্তু আচমকাই পথ আগলে দাঁড়ালো যে সমস্যাটা তা হলো সন্দেহ। হ্যাঁ, খোলামেলা, সাধাসিধে আর হাসিখুশি ঐ সাংবাদিককে ঘিরে কেমন যেন একটা সন্দেহের উদয় হলো নায়িকার মনে। কেন জানিনা, বান্ধবীর মনে হতে লাগলো যে তাঁর প্রিয় বন্ধুটি আর আগের মতো তাঁর প্রতি অনুরক্ত নয়। এই চিন্তা থেকেই অভিমান, রাগ, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং আরও ভুল বোঝাবুঝি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুর প্রতি আরও বেশি অধিকারবোধ জেগে উঠলো বান্ধবীর মনে। ক্রমশই জটিল হতে লাগলো বন্ধুত্বের সহজ-সরল সমীকরণটা। শেষে কিন্তু পথ হারালেন দু-জনেই।

বিবাহিত জীবনেও এমন করে সন্দেহের মরুতে হারিয়ে যায় কতো প্রেমের নদী। হ্যাঁ, একেবারেই অমূলক সন্দেহ, যাকে উস্কে দেয় অযৌক্তিক অহঙ্কারবোধ। পরিণতিতে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায় তিল তিল করে গড়ে ওঠা কতো বিশ্বাসের সম্পর্ক। অনেক সম্পর্ক আবার টিকে থাকে বদ্ধ জলাশয়ের মতো। অতিরিক্ত ভালোবাসা থেকে জন্ম নেওয়া সন্দেহ আর প্যাথোলজিক্যাল জেলাসি বা ওথেলোর অসুখও ডেকে আনতে পারে বিপর্যয়। ভেঙে দিতে পারে সাজানো সংসার।

এই সন্দেহ প্রবণতা রাজনীতির জগতেও একটা অতি পরিচিত সমস্যা। কোথাও গোপনে,কোথাও বা আবার প্রকাশ্যেই। আশঙ্কা আর সন্দেহ থেকেই বিশ্বাস-আনুগত্যে চিড় এবং সম্পর্কে ভাঙন। এমনি করেই হয়তো ঘনিয়ে আসে বিপর্যয়। জন্ম নেয় নিত্যনতুন রাজনৈতিক সমীকরণের।

আর অফিসে বা কর্মস্থলে তো এমন ঘটনা আকছার। এমন অনেক উদাহরণ আছে যে ইমিডিয়েট বস প্রতিটা কাজে তাঁর নিকটতম পদস্থ অধস্তনের ওপরে একান্তভাবে নির্ভরশীল হলেও সব সময়ই বসের মনে অস্বস্তি,আশঙ্কা আর সন্দেহ তাঁর ঐ সহকর্মীটিকে ঘিরে। শিক্ষাগত যোগ্যতা,কাজে দক্ষতা, সততা, নেতৃত্বের গুণ কিংবা সমৃদ্ধশালী পেশাগত অতীতের জোরে এই বুঝি সেই পদস্থ সহকর্মীটি টপকে গেলেন তাঁকে। মন জুড়ে শুধুই আশঙ্কা, এবারে বোধ হয় কর্তৃপক্ষের সুনজরে এসে গেছেন ঐ সহকর্মী। ভবিষ্যতে তাই তাঁর ওপরেই বেশি ভরসা করতে চাইছে ম্যানেজমেন্ট। অর্থাৎ, নিজেরই নিকটতম দক্ষ, বিশ্বস্ত এবং অবশ্যই ভরসাযোগ্য সহকর্মীটিকে ঘিরে বসের মনে সব সময়ই কেমন যেন একটা ভয়,নিরাপত্তাহীনতা আর নিদ্রাহীনতা। নিজের জায়গা হারানোর আশঙ্কা। এবং সেই থেকেই সন্দেহ,অবিশ্বাস। অথচ সেই সহকর্মীটি হয়তো নিজের কাজের মধ্যেই খুঁজে নিতে ব্যস্ত মনের আনন্দকে। কাউকে টপকে যাওয়ার কোনও বাসনাই হয়তো নেই তাঁর মধ্যে। তবুও দাবানলের মতো ছড়িয়ে যাওয়া অফিস পলিটিক্সের শিকার হতে হলো দায়িত্বপূর্ণ পদে কাজ করা ঐ দক্ষ মানুষটিকে। বিনা অপরাধেই। ফলে বিচ্ছেদ এবং পরিণামে ক্ষতিগ্রস্ত হলো সংস্থাই। নেপথ্যে শুধুই সন্দেহ প্রবণতা আর পেশাগত ঈর্ষা। হ্যাঁ, মিডিয়াতেও ঘটে থাকে এমন ঘটনা।

নিরন্তর গবেষণা চলছে এই সন্দেহকে ঘিরে, সন্দেহ প্রবণতাকে ঘিরে। কিন্তু উপসংহা্র বলতে যা বোঝায় তা বোধহয় এখনও অনেকটাই দূরে। সন্দেহের নেপথ্যে আসল কারণগুলো ঠিক কী কী–সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অনেকটাই অধরা কিংবা অস্পষ্ট। বলা যেতে পারে রহস্যের মেঘে ঢাকা। তবুও বায়োসাইকোলজি থেকে এই নিয়ে কিছুটা ধারণা অন্তত করতে পারি আমরা।

মস্তিষ্কের অন্তঃপুরে

শরীরবিজ্ঞান বলছে, সন্দেহ বা অবিশ্বাসের মূলে থাকতে পারে শারীরিক অসম্পূর্ণতা, যা লুকিয়ে আছে মস্তিষ্কের গভীরে। নিউরোট্রান্সমিটার সেরোটোনিনের নিস্ক্রিয়তা বা কাজের অপ্রতুলতা উস্কে দিতে পারে এই সন্দেহ প্রবণতাকে। অনেকে আবার মনে করছেন নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিনের অতি সক্রিয়তাই এই ধরণের অস্বাভাবিক চিন্তাভাবনার জন্ম দিতে পারে। মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্সের মধ্যেও কেউ কেউ সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন অস্বাভাবিক চিন্তার উৎসস্থলের। গবেষকরা দেখেছেন, এই অংশের সক্রিয়তা থ্যালামাসকে উত্তেজিত করে এবং পরিণতিতে মাথায় ঘুরপাক খায় সন্দেহ আর অবিশ্বাস।

গবেষণা বলছে, সন্দেহপ্রবণতা যাদের ক্ষেত্রে মানসিক রোগের আকার নেয় তাদের মস্তিষ্কের গঠনেও নাকি কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। যেমন, ভেন্ট্রিকল বা গহ্বরের আয়তন নাকি বৃদ্ধি পায়। সেরিব্রাম তথা ফ্রন্টাল লোবের আকার-আয়তন কিছুটা ছোট হওয়ায় সেখানে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা কম হয় স্বাভাবিকের তুলনায়। তবে কোনও গবেষণাই কিন্তু শেষ কথা বলতে পারছে না।

কেউ কেউ আবার আসল রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন ক্রোমজোমের মধ্যে। বিশেষ করে ডিলিউশনাল ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে। এই ধরণের রোগীদের পাঁচ নম্বর ক্রোমজোমে নাকি অস্বভাবিকত্ব ধরা পড়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। ৯,১০,১১ এবং ১৮ নম্বর ক্রোমজোমও নাকি অস্বাভাবিক ঠেকছে গবেষকদের কাছে। সব মিলিয়ে সন্দেহ প্রবণতায় বংশগতির ধারা মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের পরিবর্তন কিংবা সাধারণ ক্ষেত্রে নেশার প্রভাবও উস্কে দিতে পারে সন্দেহ ব্যাপারটাকে। বয়সকালে কানে কম শুনলে বা চোখে কম দেখলে কিংবা অন্য কোনও অসুস্থতার কারণে পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা কমে গেলেও অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে মানুষ।

রহস্যের ইতি অবশ্য এখানেই নয়। সন্দেহ রোগের নেপথ্যে থাকতে পারে জন্মের সময় কোনও আঘাত কিংবা ত্রুটিও। থাকতে পারে কোনও ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব কিংবা প্রতিষেধক ব্যবস্থার ত্রুটি। ক্ষতিকারক ভূমিকা নিতে পারে ভাইরাসও। তবে আবার বলছি, এ সবই কিন্তু গবেষণায় উঠে আসা সম্ভাবনা মাত্র। সন্দেহ প্রবণতার আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার মতো সময় এখনও ঠিক কতটা দূরে তা বলা মুশকিল।

তবে মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো কিন্তু বাস্তবের অনেকটাই কাছাকাছি। বিভ্রান্তির অবকাশ নেই বললেই চলে। একটু গভীরে ডুব দিলেই ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় তা।

ইতিবাচক ভাবনা

সন্দেহ ব্যাপারটা যে সব সময়ই অমূলক বা ভিত্তিহীন তা কিন্তু নয়। যে মানুষ এক বা একাধিকবার দৈহিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বা বিশ্বাসঘাতকতার স্বীকার হয়েছেন, তিনি অতীতের তিক্ত অভিঞ্জতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সন্দেহ প্রবণ হয়ে উঠতেই পারেন। ভাবতেই পারেন যে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু নেই। আবার কোনও দেশের সরকার যদি সেদেশে অস্থিরতা তৈরি বা জিইয়ে  রাখার জন্য পড়শি দেশকে সন্দেহ করে তবে তার মধ্যেও অস্বাভাবিক কিছু নেই। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থেও কাউকেই সন্দেহের ঊর্দ্ধে রাখতে  পারেন না নিরাপত্তা কর্মীরাও। এটাই স্বাভাবিক। সত্যি কথা বলতে কী, অনেক ক্ষেত্রেই সন্দেহ ব্যাপারটা অত্যন্ত জরুরি এবং তার অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক আছে। যেমন ধরা যাক চুরির কিনারা বা খুনের তদন্তের ক্ষেত্রে, কিংবা কোনও দুর্ঘটনার পেছনে আদৌ কোনও অন্তর্ঘাত আছে কি না তা খুঁজে বের করতে হলে পুলিশকে তো সন্দেহের ভিত্তিতেই এগোতে হয়। কোনও বড় রহস্য খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদেরও তো এগোতে হয় সন্দেহের পথ ধরেই। এটা কিন্তু আদৌ কোনও মানসিক বিকারের লক্ষণ নয়।

আশঙ্কার বিষয় তখনই যখন এই সন্দেহ Paranoid Personality Disorder, Delusional Disorder, Paranoid Schizophrenia বা Paranoia–র রূপ নেয়। জেনে নেওয়া যাক, এই সমস্যাগুলো আসলে কী।

সন্দেহ বিলাস?

Paranoid Personality Disorder আসলে এক ধরণের ব্যক্তিত্বের বিকার। এক্ষেত্রে সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত হয়ে পড়ে মানুষ। তাঁর আশঙ্কা, অন্য লোকেরা হয় তাকে ঠকাবেন, না হলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন। যে কোনও পরিস্থিতিতেই তাঁর মনে হতে পারে যে তাঁকে অপমান করা হচ্ছে এবং এই ধারণা থেকেই তিনি ঘন ঘন মেজাজ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তিনি লক্ষ্য রাখতে চান, কেউ তাঁর সঙ্গে চালাকি বা প্রতারণা করছেন কি না কিংবা তাঁকে কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন কি না। মানে, অতিমাত্রায় সাবধানী হয়েন ওঠে তিনি। বজায় রাখতে চান গোপনীয়তা। এ ছাড়া, নিজের ভুল অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ারও একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন অন্যের সততা, বিশ্বস্ততা, এমনকী চরিত্র নিয়েও।

ভ্রান্ত বিশ্বাস

অন্যদিকে Paranoia বা Delusional Disorder এর বিশেষত্বটা হচ্ছে, এই রোগ সাধারণত মধ্য বয়সে দেখা যায়। তবে বার্ধক্যেও এর প্রকোপ ফিরে আসতে পারে। প্রধান লক্ষণটা হচ্ছে ভ্রান্ত বিশ্বাস। কখনও কখনও বিরাটত্বের ভ্রান্তিও। রোগী নিজেকে ঈশ্বরপ্রেরিত বলেও ভাবতে পারে। আবার নিজেকে উৎপীড়নের শিকার বলেও ভাবতে পারে। তবে সন্দেহের ধারাটা প্রায় সেই একই রকম। সবেতেই যেন ষড়যন্ত্রের গন্ধ। কর্মজীবনের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়লেও হার মানতে নারাজ এই প্রকৃতির মানুষ। বরং এখানেও তিনি খাড়া করতে চান ষড়যন্ত্রের অজুহাত। তবুও আশ্চর্যের বিষয়, এই ধরনের রোগীদের মধ্যে কিন্তু অভাব নেই আত্মসচেতনতা কিংবা আত্মকেন্দ্রীকতার। লক্ষ্যণীয়, এই ধরণের রোগীরা প্রথম দিকে স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করতে পারলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা যেন বাস্তব থেকে দূরে সরে যান তাঁরা। একটা অদ্ভুত অস্থিরতা জেগে ওঠে তাঁদের মধ্যে, যা অন্তরায় হয়ে ওঠে স্বাভাবিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে।

কী হবে উপায়?

তা হলে উপায়? এখন কেমন করে মুক্তি পাওয়া যাবে এই সন্দেহরোগ বা সন্দেহ বাতিকের হাত থেকে? শরীর-সম্পর্কিত কারণগুলো দূর করার ক্ষেত্রে অবশ্যই একটা গুরুত্ব আছে ওষুধের। যেমন, নিউরোট্রান্সমিটার সেরোটোনিনের সক্রিয়তা বাড়াতে চাই ওষুধের সহায়তা। প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ার ক্ষেত্রে ওষুধ তো বটেই, পাঠাতে হতে পারে মানসিক হাসপাতালেও। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই যেতে হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে সব থেকে আগে যেটা দরকার তা হলো মনের ওপরে নিয়ন্ত্রণ।

চাই আত্মবিশ্বাস, কঠোর ব্যক্তিত্ব

সন্দেহ প্রবণতা থেকে নিজেকে মুক্তি দিতে হলে বাড়াতে হবে আত্মবিশ্বাস। বাড়াতে হবে নিজের ব্যক্তিত্বও। সচেতন হতে হবে আত্মমর্যাদার ব্যাপারে। কোনও বিষয়কে বা কারও আচরণকে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে তাকে অবজ্ঞা করার মতো মানসিক শক্তি অর্জন করতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ মানুষকেও। যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি বিচার ও বিশ্লেষণের ক্ষমতা যতো বাড়বে, ততোই কেটে যাবে সন্দেহের ইচ্ছেটা। কাজকর্মে,আচার-আচরণে স্বচ্ছতা বজায় রেখে মেলামেশা বাড়াতে হবে। অর্জন করতে হবে মানিয়ে চলার মানসিকতা। সমানুভূতি আর খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে সমস্যার। সন্দেহ করার আগে নিজের মনকে, বিবেককে প্রশ্ন করে নিশ্চিত হতে হবে এর যৌক্তিকতা নিয়ে। গভীরে গিয়ে খুঁজতে হবে আসল কারণটা। মনে রাখা দরকার, কাউকে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাস না করতে পারলে কিন্তু তার বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয় কখনওই। তার পরে তো অবিশ্বাস বা সন্দেহের প্রশ্ন। তাই না?

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

আর হ্যাঁ, ভুলে গেলে চলবে না যে, মনের উদ্বেগ আর অবসাদের পথ ধরেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে সন্দেহ। কোনও একটা স্বপ্নভঙ্গ মানেই কিন্তু জীবন থেকে সব স্বপ্ন মুছে যাওয়া নয়। তাই ইতিবাচক চিন্তার হাত ধরে স্ট্রেস-ম্যানেজমেন্টটাও খুব জরুরি। এর জন্য পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে সাইকোলজিকাল কাউন্সেলরের। সঙ্গে ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম, প্রাণায়াম, ধ্যান আর যোগাভ্যাস। একদম নিয়ম মেনে, নিয়মিতভাবে। সাবধানতা নেওয়া ভালো। তবে তার মানে কিন্তু লাগামছাড়া অবিশ্বাস আর সন্দেহকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। আর এই সত্যটা এখনই উপলব্ধি করতে না পারলে ভবিষ্যতের জন্য কিন্তু অপেক্ষা করছে শুধুই দীর্ঘশ্বাস। সেই সঙ্গে তীব্র অনুশোচনাও। গ্রাস করতে পারে একাকিত্বের অভিশাপও।

আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন


Currently Maintained by the2.dev