Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি ডালিয়া — ডায়েট ফ্রেন্ডলি রেসিপি : রিঙ্কি সামন্ত ছানি অপারেশন কোথায় ও কখন করা উচিত : ডা. তনুশ্রী চক্রবর্তী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অপারেশন লোটাসের ইতিবৃত্ত : দিলীপ মজুমদার ওড়িশার পঞ্চদশ শতকের মহাকবি সরলা দাসের কোটিপূজাই আজ খুঁটিপূজা : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ঢেউ-এর দোলায় তসলিমা নাসরিন : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রথ নিয়ে বাংলা প্রবাদ ও তার সামাজিক তাৎপর্য : অসিত দাস মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘গোধূলির চিতায়’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ এনকাউন্টার : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিশ্বজিৎ মণ্ডল-এর ছোটগল্প ‘ফুলমনির মাঠ’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ শুনুন নেতাজি সুভাষ, শুনছেন — : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলতলার ঝগড়ার ‘কলতলা’ ছিল জলের কল আসার অনেক আগেই : অসিত দাস মাড়ির অসুখ থেকে সাবধান সুগার ও প্রেগন্যান্সিরা! হতে পারে ক্যান্সার : ডাঃ পিয়ালী চট্টোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘সাড়ে তিন হাত বারান্দা’ গুণ্ডা দমন, মন উচাটন, আসছে শমন, বাপ রে বাপ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ‘একা এক নারী’র জয়, পরাজয় এবং… : দিলীপ মজুমদার ভরতমুনির নাটকের ডিম ও ঘোড়ার ডিম : অসিত দাস পাণিহাটির মহোৎসব : স্বামী সারদানন্দ শিবশঙ্করের জীবনানন্দ দর্শন : জ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (১১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৪৯ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

শোরের মতো গ্র্যান্ট স্বচ্ছ, প্রাঞ্জল লিখনশৈলীর মালিক হলে, নিঃসন্দেহে তিনি মহান লেখকদের কাতারে গণ্য হতেন; কিন্তু নিজের বক্তব্যকে বোধগম্যভাবে প্রকাশ করতে না পারা এবং তথ্যের অসংগতি এড়াতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাঁর রচনাগুলো প্রায় দুর্বোধ্য। মাথায় রাখতে হবে, শোর — সাধারণভাবে নির্দিষ্ট একটামাত্র তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ‘আইন-ই-আকবরী’র অন্তত পাঁচটা ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণের সহায়তা নিয়েছেন — তাঁকেও গ্র্যান্টের রচনার জটিলতা আর অসংগতি পর্যালোচনার করতে ধৈর্যের চরম পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। তবে এ কথাও সত্য যে, এই অসংগতিগুলোই গ্র্যান্টের লেখাপত্রে ব্যবহৃত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার এক ধরনের পরোক্ষ প্রমাণ বহন করে; কারণ লেখক যখন তথ্য সুবিন্যস্ত বা মসৃণ না করে সেগুলোকে তার আদি ও অমার্জিত আকারেই তুলে ধরার সিদ্ধান নেন, তখন সেই প্রচেষ্টা এক রকমের অন্যধরণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে — বিশেষ করে এ ধরনের বিষয় নিয়ে লেখাপত্রের ক্ষেত্রে অসংগতি থাকাটাই যে স্বাভাবিক, সেটা আমরা সকলে সাধারণ অভিজ্ঞতার আলোকে যেন বুঝতে পারি। অবশ্য একথা স্বীকার করতেই হয় যে, গ্র্যান্টের দীর্ঘ আর জটিল বাক্যের গোলকধাঁধাময় উদ্দেশ্য (subject) আর বিধেয় (object) খুঁজে বেড়ানোর পর যখন দেখা যায় লেখক আসলে বিশাল আর ভারী ব্যঙ্গ নির্ভর করে তার লেখার স্টাইল বানানোয় মগ্ন, তখন পাঠকের কাছে সেই উচ্চকিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত বিরক্তিকর ঠেকে।

গ্রান্ট আমাদের পরিষ্কারভাবে জানান তার ব্যবহৃত পরিসংখ্যান procured through the influence of a light and private purse অর্থাৎ অল্প পরিমাণ ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে জোগাড় করা বিশটি ফার্সি নথিপত্রের খণ্ড থেকে নেওয়া। যে সরকার এত গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড নিজে খরচ না করে ব্যক্তিগত এক কর্মচারীর হাতে তুলে দেওয়ার অনুমতি দিতে পারে সেই সরকারকে অবশ্যই এমন এক সরকার যে একটা মোমবাতির দু’পাশ জ্বালিয়ে নিজের কাজ উদ্ধারের চেষ্টা করেচলেছে। ভারত সরকার যেহেতু মূলত নথিপত্র-ভিত্তিক একটি প্রশাসন, তাই নথিপত্র হত ছাড়া হয়ে যাওয়া তাদের জন্য নিঃসন্দেহে বিশেষ বিপর্যয়ের ঘটনা। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রস্তুতির সময়ের মতো এমন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যে কেবল সাময়িকভাবে “অল্প খরচে আর ব্যক্তিগত উদ্যোগে” উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল — বিষয়টি আমাদের অত্যন্ত দক্ষ রাষ্ট্রনায়কদের ভেবে দেখার মতো। [কেন ফার্মিঙ্গার এই কটু কথা লিখলেন, সেটি নিয়ে কিস্তি শেষে টিকা-১ লিখব]

১৭৮৬ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর লর্ড কর্নওয়ালিস কলকাতায় এসে পৌঁছান; তাঁর সঙ্গে এলেন জন শোর; শোরের তখন কোম্পানির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার কথা [ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সুপ্রিম কাউন্সিল বা সুপ্রিম কাউন্সিল অফ বেঙ্গল ছিল ১৭৭৪ থেকে ১৮৩৩ পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতে নির্বাহী সরকারের সর্বোচ্চ স্তর। ১৭৭৩-এর রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী তৈরি এই কাউন্সিলের নেতৃত্ব দিতেন গভর্নর-জেনারেল এবং এর সদস্য সংখ্যা ছিল চার। এই কমিটি লন্ডনের কর্তাদের সংগঠন বোর্ড অব ডিরেক্টরস আর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট — দুয়েরই অধীন ছিল]। শোনা যায় যে, ভারতের জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা এবং সেই সঙ্গে স্নেহময়ী আর অতি-উদ্বিগ্ন মায়ের প্রবল অনুরোধে শোরের স্ত্রীকে ইংল্যান্ডেই রেখে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। ১৭৮৬-র ১২ই এপ্রিল বিশিষ্ট যাত্রীদের নিয়ে ‘সোয়ালো প্যাকেট’ জাহাজ পোর্টসমাউথ বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। যাত্রার প্রাক্কালে শোর ‘জন দ্য পেইন্টার’-এর শিকল-বাঁধা ঝুলন্ত মৃতদেহটি দেখে তাঁর মনে ঈর্ষার উদ্রেক করেছিল — এবং তাঁর মনকে আচ্ছন্ন করে রাখা বিষাদময় দৃশ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ক্লিভল্যান্ডের সমাধি [শিকল-বাঁধা ঝুলন্ত মৃতদেহ আর ক্লিভল্যান্ডের সমাধি নিয়ে টিকা ২]; সেই অন্ধকার ও বিষণ্ণ সমাধি যেন তাঁর নিজেরও এক সম্ভাব্য করুণ পরিণতির অশুভ ইঙ্গিত বহন করছিল। তবে সৌভাগ্যবশত, কোম্পানির নথিপত্র অধ্যয়ন সেই বিষাদময় আবহের মাঝেও আশার আলোর রেখা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল; পাশাপাশি, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগের মানুষের স্বভাবসুলভ সেই বিষাদ থেকে মুক্তি পেতে শোর আশ্রয় নিয়েছিলেন কাব্যিক ভাবাবেগের — যেখানে উঠে এসেছিল সেই ঘুঘুর কথা, যার নিয়তি হলো…

‘বিলাপ করা আর শোক করা;

আর আমি গভীরতর যন্ত্রণায় দীর্ঘশ্বাস ফেলি,

নীরবে কাঁদি, আর কাঁদতে কাঁদতে মৃত্যুবরণ করি।’

১১তম কিস্তির টিকা

টিকা-১

কেন ফার্মিঙ্গার এই কটু কথা লিখলেন

এই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে আমাদের জেমস গ্র্যান্টের সেই বিখ্যাত লেখার দিকে ফিরে তাকাতে হয়; যে কাজ আদতে ফিফথ রিপোর্টের ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। গ্র্যান্টের কাগজপত্র আর ‘ব্যক্তিগতভাবে হালকা খরচের’ ইঙ্গিতই ফার্মিঙ্গারের রোষের কারন, বলা ভাল এই মন্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে জেমস গ্র্যান্টের সমস্যাজনকভাবে ফার্সি দলিল সংগ্রহের পদ্ধতি।

গ্র্যান্ট ১৭৮৪-তে বাংলায় আসেন এবং আর্থিক লাভের আশায় এখানে বসবাস শুরু করেন। তিনি পারসিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করে মুঘল রাজস্ব ব্যবস্থার হিসাব-নিকাশ পদ্ধতিও আয়ত্তে আনেন। তার ভাষা দক্ষতা অর্জনের সাফল্যের দিকে নজর ছিল কোম্পানি কর্তাদের। ১৭৮৬-এ বোর্ড অফ রেভিনিউ-এর চিফ শেরিস্তাদার (Chief Seristadar) বা প্রধান রাজস্ব হিসাবরক্ষক নিযুক্ত হন। এই সময়েই কোম্পানি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রস্তুতির জন্য দেশের রাজস্ব সম্পদ সম্পর্কে বিস্তৃত অনুসন্ধান শুরু করছিল। এই বিশাল কাজের জন্য প্রয়োজন ছিল মুঘল আমলের নির্ভরযোগ্য রাজস্ব নথি। গ্র্যান্ট তাঁর গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন, ফার্মিঙ্গারের মতে, এমন এই গুরুত্বপূর্ণকালে খুব কম মূল্যে এই গুরুত্বপূর্ণ নথি গ্রান্টের ব্যক্তিগত কব্জায় চলে গিয়েছিল। এই ঘটনায় ফার্মিঙ্গার ক্ষুব্ধ হন, কারন বাংলার রেকর্ড-নির্ভর সরকার এত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে মন দেয় না; সেই তথ্য ব্যক্তিগত হাতে চলে যেতে দেয়; একসময় আবার সে সব তথ্য ‘কম’ অর্থের বিনিময়ে ফিরিয়ে আনার উদ্যম নেয়।

ফার্মিঙ্গারের এই তিক্ত মন্তব্যের পেছনে মূলত তিনটে কারণ কাজ করছিল বলেই মনে হয় —

প্রথমত, রেকর্ডের অনিশ্চয়তা ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের দুর্বল ভিত্তি। ফিফথ রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ডে গ্র্যান্টের ‘হিস্টোরিক্যাল অ্যান্ড কম্প্যারেটিভ অ্যানালাইসিস অফ দ্য ফাইন্যান্সেস অফ বেঙ্গল’-এর মতো মূল্যবান ঐতিহাসিক নথি সংরক্ষিত আছে। কিন্তু ফার্মিঙ্গার অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন, গ্র্যান্টের এই ‘অ্যানালাইসিস’-এর ভিত্তি ছিল সন্দেহজনক উৎস থেকে পাওয়া ফার্সি হিসাব। কারন গ্রান্ট কোথাও লিখে যান নি, তিনি কোন সূত্রে সেই তথ্যগুলো পেয়েছেন। ফার্মিঙ্গারের কাছে গ্র্যান্টের তথ্যের এই অনিশ্চিত ভিত্তি ছিল অত্যন্ত বিরক্তিকর, কারণ তিনি মনে করেন না, বাংলার রেকর্ড-নির্ভর সরকারের পক্ষে এই ধরনের অনিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে এবং সেটা হয়ে যায় চরম ঝুঁকির কাজ।

বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়েও গ্র্যান্টের বক্তব্য সমস্যাজনক বলে ফার্মিঙ্গার মনে করেন। গ্রান্ট মনে করতেন, মুঘল আমলের রাজস্ব হিসাব থেকে বোঝা যায়, বাংলার জমি থেকে আরও বেশি রাজস্ব আদায় করার সুযোগ ছিল। ফার্মিঙ্গার বলছেন, জন শোর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। শোরের মতে, প্রজারা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত করের বোঝায় নিপীড়িত এবং রাজস্ব বাড়ালে এ দেশে বিপর্যয় ঘটবে — এক দশক আগে, দেওয়ানি পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া সেই বিপুল বিপর্যয়ের ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের স্মৃতি নিশ্চই মুছে যায় নি — কিভাবে বর্ধিত রাজস্বের লোভে ১ কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রশাসন।

দ্বিতীয়ত, ‘রেকর্ডের অন্তর্ধানে দুশ্চিন্তা। ফার্মিঙ্গার ‘রেকর্ডের অন্তর্ধান’কে বিশেষ ধরনের বিপর্যয় হিসেবেই দেখতে চাইছিলেন। ইংরেজ শাসন ছিল ‘রেকর্ড-নির্ভর’ বা ‘গভর্নমেন্ট বাই রেকর্ড’। আইন, রাজস্ব আদায়, জমিদারি অধিকার — সবকিছুই নির্ভর করত কাগজপত্রের ওপর। যখন এই রেকর্ডগুলো ব্যক্তিগত হাতে চলে যায় এবং তা টাকার বিনিময়ে ফিরিয়ে আনতে হয়, তখন সরকারের কাছে প্রমাণের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। ফার্মিঙ্গারের মতে, এটি ছিল শাসনব্যবস্থার এক বিরাট ব্যর্থতার পরিচয়। এখানেই ফার্মিঙ্গারের ‘দু’প্রান্তে মোমবাতি জ্বালানো’ (burning the candle at both ends) রূপক অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে — একদিকে যেমন সরকার তথ্যের অভাবে দিশেহারা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত লোভে সেই তথ্যই হয়ে ওঠে বাণিজ্যের পণ্য।

তৃতীয়ত, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রস্তুতির ভয়াবহতা। ফার্মিঙ্গারের মতে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রস্তুতির সময় মূল্যবান রেকর্ড ব্যক্তিগত হাতে চলে যাওয়া এবং আবারও কম খরচে ফিরে আসা ছিল অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। এই ঘটনা স্পষ্ট বুঝতে সাহায্য করে, উপনিবেশের প্রথম যুগে শাসনব্যবস্থা কতটা অনিশ্চিত আর অব্যবস্থাপনার ছিল। এই পরিস্থিতিতে ফার্মিঙ্গার মনে করেন যে ‘আমাদের সবচেয়ে দক্ষ রাষ্ট্রনায়কদেরও এই ঘটনা যাতে দু’বার না ঘটে সে বিষয়ে ভাবতে হবে’।

কেন ফার্মিঙ্গার এই অবস্থান নিচ্ছেন? এটা আদতে ঐতিহাসিকের দ্বন্দ্ব — ফার্মিঙ্গার ফিফথ রিপোর্টের সম্পাদক, পত্রিকা সম্পাদকও বটে। তিনি চেয়েছিলেন ফিফথ রিপোর্টের ঐতিহাসিক দলিলগুলো যেন অবিকৃত থাকে। গ্র্যান্টের মতো গবেষকের সন্দেহজনক উৎস থেকে পাওয়া তথ্যে নির্ভর করা এবং সেই তথ্যকে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা — ফার্মিঙ্গারের কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তিনি চাইতেন ফিফথ রিপোর্ট যেন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল হয়। কিন্তু গ্র্যান্টের খুব কম ব্যক্তিগত খরচে পাওয়া নথিগুলো রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছিল। অন্যদিকে, ব্রিটিশ কর্মকর্তা হিসেবে উপনিবেশিক শাসনের সমালোচনা করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। এই দ্বন্দ্ব থেকেই তাঁর তিক্ত মন্তব্য — তিনি গ্র্যান্টের তথ্যের ভিত্তিকে সমালোচনা করতে পারছেন, কিন্তু সরাসরি কোম্পানির নীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছেন না।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট — গ্র্যান্ট বনাম শোর — গ্র্যান্ট ও শোরের মধ্যে এই বিতর্ক চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লর্ড কর্নওয়ালিস গ্র্যান্টের যুক্তি (অর্থাৎ রাজস্ব বাড়ানোর সম্ভাবনা) কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন, অন্যদিকে জন শোর সতর্ক করছিলেন যে রাজস্ব বাড়ালে প্রজাদের ওপর অত্যাচার বাড়বে। শেষ পর্যন্ত কর্নওয়ালিসের মতই জয়লাভ করে এবং ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ঘোষিত হয়। ফার্মিঙ্গার বুঝতে পেরেছিলেন যে এই বন্দোবস্তের পেছনে গ্র্যান্টের মতো একজন গবেষকের অনিশ্চিত তথ্যই কাজ করেছে, আর তার ফলেই বাংলায় বিপর্যয় নেমে আসে।

আদতে ফার্মিঙ্গার এই মন্তব্য করেছেন কারণ তিনি ফিফথ রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ডে গ্র্যান্টের ‘অ্যানালাইসিস’-এর ঐতিহাসিক দুর্বলতা ও সন্দেহজনক উৎস নির্দেশ করতে চেয়েছেন। তাঁর কাছে গ্র্যান্টের ব্যক্তিগত উদ্যমে পাওয়া ফার্সি নথিগুলো ছিল উপনিবেশিক শাসনের অব্যবস্থা ও অনিশ্চয়তার প্রতীক, যা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতো বিপর্যয়কর সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছিল। ফার্মিঙ্গারের এই তিক্ততা একটি ঐতিহাসিকের দ্বন্দ্বকে প্রতিফলিত করে — যিনি ঐতিহাসিক নির্ভুলতা চান, কিন্তু উপনিবেশিক শাসনের অসঙ্গতির সামনে অসহায়।

১১তম কিস্তির টিকা

টিকা-২

‘শেকলে ঝোলা মানুষ’টির প্রতি ঈর্ষা (envied) আর ক্লিভল্যান্ডের সমাধিক্ষেত্র তাঁর মনের অন্ধকার, একাকীত্ব ও মৃত্যুচিন্তার এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

শেকলে ঝোলা মানুষ — শোর যখন ১৭৮৬-এর ১২ এপ্রিল পোর্টসমাউথের ডকইয়ার্ড থেকে ‘সোয়ালো’ প্যাকেট জাহাজে বাহিত হয়ে বাংলার উদ্দেশে যাত্রা করছেন, তখন তিনি জন দ্য পেইন্টারের শেকলে ঝোলা মৃতদেহ দেখতে পান। প্রথমত প্রশ্ন হল মানুষটার পরিচয় কি?

জন দ্য পেইন্টার: একা এক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবী

জন দ্য পেইন্টার (John the Painter) নামে পরিচিত জেমস আইটকেন হিল (James Aitken Hill) ছিলেন স্কটিশ চিত্রকার আর আগুন লাগানোর দায়ে অপরাধী। ১৭৭৬-৭৭-এ আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ নৌঘাঁটিতে নাশকতা চালানোর অপরাধে গ্রেপ্তার হন। ১৭৭৭-এর ১০ মার্চ তাকে পোর্টসমাউথের ডকইয়ার্ডে ফাঁসি দিয়ে মৃতদেহকে শেকলে বেঁধে ঝোলানো হয় (hanging in chains) — এটি ছিল তখনকার ইংল্যান্ডে রাষ্ট্রদ্রোহিতার জন্য প্রচলিত ভয়ঙ্কর শাস্তি, যাতে অপরাধীর মৃতদেহ পচে-গলে উড়ে যাওয়া পর্যন্ত জনসমক্ষে ঝুলিয়ে রাখা হতো, অন্যদের জন্য সাবধানবাণী হিসেবে।

মাথায় রাখতে হবে জন দ্য পেইন্টার সেনাপতি বা বিপ্লবী নেতা নন; তিনি এডিনবার্গের দরিদ্র চিত্রশিল্পী। ১৭৭৬-৭৭-এর দিকে, যখন আমেরিকার উপনিবেশগুলো ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে লিপ্ত, এইটকেন নিজের দারিদ্র্য আর অনিশ্চিত জীবন দূরে ছুড়ে এক নতুন লক্ষ্য খুঁজে পান। গরিব, অচেনা এই যুবক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন এমন এক আঘাত হানতে, যা ব্রিটিশ রাজশক্তির মর্মে গিয়ে পৌঁছাবে। তিনি পোর্টসমাউথ ডকইয়ার্ড নৌশক্তির প্রাণকেন্দ্রে চরম আঘাতের ঘটনা ঘটালেন। আমেরিকান বিপ্লবীদের সাহায্য করার এক অদ্ভুত ও নিঃসঙ্গ সংকল্প নিয়ে, তিনি ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি — পোর্টসমাউথ ডকইয়ার্ডকে লক্ষ্য করেছিলেন। ওই সময় ব্রিটিশ নৌশক্তি ছিল তাদের সাম্রাজ্যের মেরুদণ্ড, এবং এইটকেন বুঝতে পেরেছিলেন এই মেরুদণ্ডে আঘাত হানলেই কেঁপে উঠবে গোটা সাম্রাজ্য। ১৭৭৬ ডিসেম্বরে, তিনি নিজের হাতে তৈরি মোমবাতি দিয়ে তৈরি ফিউজ দিয়ে ডকইয়ার্ডের রোপ হাউসে আগুন ধরিয়ে দেন। এই ঘটনায় ব্রিটেনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে; রাজা তৃতীয় জর্জ পর্যন্ত প্রতিদিন এই ঘটনার খবর নিচ্ছিলেন।

একা একা লড়াই করা এক প্রতিরোধী যোদ্ধার মর্মান্তিক পরিণতি — ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তার বিরুদ্ধে পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামে। বাউ স্ট্রিট রানার্সের মতো গোয়েন্দা বাহিনী তাকে খুঁজতে থাকে। তার ছবিসহ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকেরা তাকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার পর ১৭৭৭-এর ১০ মার্চ পোর্টসমাউথে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। এইটকেনের লড়াই মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল; কিন্তু তিনি দেখিয়ে গেলেন যে একজনই মাত্র মানুষও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিপুল প্রতিরোধের মহাকাব্য রচনা করতে পারেন। জন দ্য পেইন্টারের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উপনিবেশ-বিরোধী সংগ্রাম শুধু বড় আর বিখ্যাত নেতারাই চালাননি; সাধারণ মানুষ, কখনও কখনও একা, নিজের জীবন উৎসর্গ করে প্রতিরোধের আগুন জ্বালিয়েছেন। এইটকেনের এই একক আত্মত্যাগ আমাদের চলমান সংগ্রামে নতুন শক্তি যোগায়।

শোর কেন সেই শেকলে ঝোলা মানুষটিকে ঈর্ষা করলেন — প্রথমত’শেকলে ঝোলা মৃতদেহ’ — ঔপনিবেশিক শাস্তির প্রতীক — শোর যখন জন দ্য পেইন্টারের মৃতদেহ দেখেন, তখন এটা তাকে ঔপনিবেশিক শাস্তির নৃশংসতা-ও স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু তিনি সেই নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেননি; বরং তিনি ঈর্ষা করেছেন — কারণ সেই নৃশংসতা অন্তত শেষ হয়েছে। এই অনুভূতি থেকেও বোঝা যায়, তিনি কী গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন।

দ্বিতীয়ত শোর যখন ১৭৮৬-এর ১২ এপ্রিল পোর্টসমাউথের ডকইয়ার্ড থেকে ‘সোয়ালো’ প্যাকেট জাহাজে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করছেন, জন দ্য পেইন্টারের শেকলে ঝোলা মৃতদেহ তাঁর মনে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল, তার কারণ হয়ত ভারতের প্রতি অনীহা ও প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা। শোর আসলে ভারতে যেতে চাননি। তিনি সদ্য বিবাহিত, স্ত্রী শার্লটকে রেখে যাচ্ছেন — যাকে তিনি “Cleopatra for whom he was content to lose the world” বলতেন। ভারতীয় জলবায়ুর ‘ক্ষতিকর প্রভাব’ ও মায়ের কথায় তিনি স্ত্রীকে ইংল্যান্ডে রেখে যেতে বাধ্য হন। এই বিচ্ছেদের যন্ত্রণা তাঁকে এতটাই গ্রাস করেছিল যে তিনি বারবার মনে করতেন — ভারতে গিয়ে হয়তো আর ফিরে আসতে পারবেন না।

‘মৃত্যুর অনিবার্যতা’ বনাম ‘জীবনের ক্লান্তি’ — শোর যখন জন দ্য পেইন্টারের শেকলে ঝোলা মৃতদেহ দেখেন, তখন তাঁর মনে হয় — এই মানুষটির যন্ত্রণা অন্তত শেষ হয়েছে। তাঁর কষ্টের অবসান ঘটেছে। অন্যদিকে, শোর নিজে যাচ্ছেন এক অনিশ্চিত, রোগ-ব্যাধি ও মৃত্যুতে পরিপূর্ণ যাত্রায়। তিনি জানতেন, ভারতীয় জলবায়ু ইউরোপীয়দের জন্য মারাত্মক; বহু ইংরেজ কর্মকর্তা সেখানে মারা গেছেন। তাই তাঁর মনে হয় — জন দ্য পেইন্টার যে শাস্তি পেয়েছে, সেটা হয়তো তাঁর নিজের আগামী দিনের যাতনার চেয়েও কম কষ্টকর। এই অনুভূতিই তাঁকে ঈর্ষান্বিত করে তোলে — “সে তো শেষ হয়ে গেছে, আর আমি যাচ্ছি এক অজানা, সম্ভবত আরও ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে।”

‘ক্লেভল্যান্ডের সমাধি’ — বন্ধুর মৃত্যুর স্মৃতি – শোরের মনের মধ্যে আরও একটি ভয়ঙ্কর ছবি ঘুরপাক খাচ্ছিল — অগাস্টাস ক্লেভল্যান্ডের সমাধি (Cleveland’s tomb)। যাকে তিনি “অন্ধকার ও বিষণ্ণ” (dark and dismal) বলে উল্লেখ করেছেন। ক্লেভল্যান্ড ছিলেন শোরের অত্যন্ত প্রিয় আত্মীয়, ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি ১৭৮৪ সালে বাংলার ভাগলপুরে মাত্র ২৯ বছর বয়সে মারা যান। তিনি সেখানে জঙ্গলমহলের বিদ্রোহী সমাজকে শান্ত করার জন্য কাজ করেছিলেন এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু শোরকে এতটাই বিচলিত করেছিল যে তিনি তাঁর স্মৃতিতে একটি স্মারকগ্রন্থ (Monody) রচনা করেছিলেন। শোর যখন ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করছেন, তখন তাঁর মনে বারবার ভেসে উঠছে ক্লেভল্যান্ডের সেই অন্ধকার সমাধি — যেন সেটি তাঁর নিজের সম্ভাব্য পরিণতিরই পূর্বাভাস। তিনি মনে করছেন, হয়তো সেও ক্লেভল্যান্ডের মতো ভারতের মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন।

শোর ছিলেন অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধের সেই ‘বিষণ্ণ’ (melancholic) মননের অধিকারী, যা সেন্টিমেন্টালিজম ও প্রি-রোমান্টিসিজম-এর যুগের প্রতিনিধি। সেই যুগের চিন্তাবিদ ও লেখকরা মৃত্যু, বিচ্ছেদ ও অনিশ্চয়তা-কে অত্যন্ত আবেগপ্রবণভাবে উপলব্ধি করতেন। শোরের এই ঈর্ষা, বিষণ্ণতা ও মৃত্যুচিন্তা সেই যুগেরই একটি বৈশিষ্ট্য। তিনি কবিতা লিখে, নিজের আবেগকে প্রকাশ করতেন — যেমন তিনি তখন একটি কবিতা রচনা করেছিলেন, যেখানে “ঘুঘুর” (dove) করুণ আর্তনাদের সঙ্গে নিজের যন্ত্রণার তুলনা করেছেন।

শোরের এই মানসিক অবস্থা আমাদের দেখায় যে উপনিবেশিক শাসন কেবল লুণ্ঠন ও অত্যাচারই তৈরি করেনি, বরং সেই শাসনের সহায়ক কর্মচারীদের মনেও গভীর অন্ধকার, অনিশ্চয়তা ও মানবিক যন্ত্রণা তৈরি করেছিল। শোরের ‘ঈর্ষা’ তাই একটি মানবিক দলিল — যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উপনিবেশবাদ কাউকেই মুক্তি দেয়নি, তার শিকার সবাই।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভলিউম-২, ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড বেঙ্গল এপেন্ডিক্স।

বিশ্বেন্দু নন্দ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন