চতুর্দশ অধ্যায়
স্যার এলিজা ইম্পে এবং সদর দেওয়ানি আদালত
‘পাটনা কজ’ (Patna Cause) সংক্রান্ত একটি চিঠিতে সে সময় ‘কমিশনার অফ ল-স্যুটস’ (মামলা-মোকদ্দমা বিষয়ক কমিশনার)-এর পদে আসীন আমলা জর্জ বোগল, বিচার-ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্ব কেন অপরিহার্যভাবে দেশীয় কর্মকর্তাদের হাতে ন্যস্ত, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন (১৭৭৮-এর ২৩শে ডিসেম্বর তারিখে বাংলায় পাঠানো এক সাধারণ চিঠিতে, কোর্ট অফ ডিরেক্টরস ‘কমিশনার অফ ল স্যুটস’ পদ তৈরি বিষয়ে অসম্মতি প্রকাশ করে এবং এটি বিলুপ্ত করার আদেশ দেয়)। বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশগুলোতে সম্ভবত প্রায় এক কোটি (দশ মিলিয়ন) অধিবাসীর বাস রয়েছে — এই অনুমান ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন: “এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপর বেসামরিক শাসনকাজ পরিচালনার কাজে বর্তমানে যতজন ইংরেজ নিযুক্ত রয়েছেন, তাঁদের সংখ্যা সম্ভবত ২০০ বা ৩০০-এর বেশি নয়; এঁদের বিশাল অংশ প্রেসিডেন্সির বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত আছেন — এবং স্বাভাবিকভাবে এই কাজ করতে তাদের থাকতেই হবে — আর অবশিষ্ট কর্মকর্তা সিংহভাগই ব্যস্ত রয়েছেন তিন মিলিয়ন অর্থের রাজস্ব সংগ্রহে এবং উদ্বৃত্ত রাজস্ব ইংল্যান্ডে প্রেরণের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ইনভেস্টমেন্ট’ বা বাণিজ্যিক পণ্যসামগ্রী সংগ্রহে; এই ব্যবস্থা না থাকলে এই প্রদেশগুলো নিজেদের দখলে রাখার সার্থকতা বা উপযোগিতাই থাকত না। সুতরাং, বিচার প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে যোগ্য এবং এই কাজের জন্য নিযুক্ত হতে পারেন — এমন ইংরেজ কর্মকর্তার সংখ্যা বিশ বা ত্রিশের বেশি নয়। যদি এত কোটি মানুষের মধ্যে উদ্ভূত অসংখ্য বিবাদ-বিসংবাদ কেবল এই বিশ বা ত্রিশজন ইংরেজ কর্মকর্তাই বিচার ও নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেন, তবে দেশের শাসনকার্য পরিচালনা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে।” (পাটনা, টুশে-র আবেদনের [Touchet’s Petition, 1781] উপর হাউস অফ কমন্স কমিটির প্রতিবেদনের পরিশিষ্ট, ১৭৮১। [ইন্ডিয়া অফিস, রেকর্ড বিভাগ, সংসদীয় শাখা, সংগ্রহ নং ৯]।)
কোম্পানির বেসামরিক সেবার (Civil Service) ক্যাডারে কর্মকর্তার তীব্র অভাব নিঃসন্দেহে হেস্টিংসের বাস্তবমুখী সংস্কার কার্যক্রমের পথে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল; কিন্তু ১৭৭৯-তে নির্বাহী আর বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যকার সংঘাত চরম আকার ধারণ করলে গভর্নর-জেনারেল এমন এক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রবর্তনে বাধ্য হয়েছিলেন, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিচার ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা ন্যূনতম সংঘাত বা দ্বন্দ্ব ছাড়াই নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন। সেই সূত্রেই, ১৭৮০-র ১১ই এপ্রিল, গভর্নর-জেনারেল ও তাঁর পরিষদ বিচার প্রশাসন পরিচালনার লক্ষ্যে একগুচ্ছ বিধিমালা বা প্রবিধান অনুমোদন করেন। (এই প্রবিধানমালা, যা ১৭৮০-র ২৮শে মার্চ তারিখে সরকারের রাজস্ব কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, কোলব্রুকের ‘সাপ্লিমেন্ট টু দ্য ডাইজেস্ট’-এর ১৪-২২ পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে) এই প্রবিধানমালার মাধ্যমে প্রাদেশিক রাজস্ব পরিষদসমূহের এখতিয়ার — “জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট রাজস্বের সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্কযুক্ত সকল মোকদ্দমার ক্ষেত্রে” — Such as (1) “demands of Government on all Zemindars, talookdars, chowdries, farmers, muthoraheds, waadadars, securities, aumils, tasseeldars, etmaumdars, shaikdars, or others employed in the collections, or anyways responsible for the revenues immediately under the Provincial Councils: (2) demands of zemindars, talookdars, chowdries, farmers, mutthaaheds, waadadars, securities, aumils, tasseeldars, etmaumdars, shaikdars, etc., on their under-farmers, Malzamins, inferior land-holders and collectors, or others, from whom rents or revenues are immediately due to them; and, in short, all demands for rents and revenues, of persons employed in the collection of them, either officially or hereditary, in the different gradations downward, from Government to the ryots, or immediate occupants of the soil; and again, in the same manner, all complaints of ryots, and persons of any of the other above mentioned denominations, against the persons to whom they pay revenue, in the different gradations upwards, for irregular or undue exactions; (3) and in general, for all oppressions, which do not fall under the cognizance of the Fouzdary Courts.” The Provincial Councils, moreover, were to try and decide all disputes relative to boundaries, all claims for money lent to zamindars, talukdars, and chaudhris, for the payment of the revenue, but in the case of the Town of Calcutta within the limits of “Panchawan Ganj” (55 villages), disputes as to boundaries were to be decided by the Superintendant of the Calcutta Adalat (যেমন (১) “প্রাদেশিক পরিষদের সরাসরি অধীনস্থ সব জমিদার, তালুকদার, চৌধুরী, কৃষক, মুথাহেদ, ওয়াদাদার, সেক্যুইটার, আমিল, তহসীলদার, ইতমামদার, শেখদার বা রাজস্ব আদায়ে নিযুক্ত অথবা অন্য কোনোভাবে রাজস্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উপর সরকারের দাবি: (২) জমিদার, তালুকদার, চৌধুরী, কৃষক, মুথাহেদ, ওয়াদাদার, সেক্যুইটার, আওমিল, তসীলদার, ইতমামদার, শেখদার ইত্যাদির তাদের অধস্তন কৃষক, মালজমিন, অধস্তন ভূমিমালিক এবং কালেক্টর বা অন্য যাদের কাছ থেকে খাজনা বা রাজস্ব সরাসরি প্রাপ্য, তাদের উপর দাবি; এবং, সংক্ষেপে, সরকার থেকে রায়ত বা নিকটবর্তী ব্যক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন নিম্নস্তরে, সরকারিভাবে বা বংশানুক্রমিকভাবে, খাজনা ও রাজস্ব আদায়ে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সকল দাবি।” ভূমির দখলদার; এবং আবার, একইভাবে, রায়ত এবং উপরে উল্লিখিত অন্য কোনো সম্প্রদায়ের ব্যক্তি, কয়েকটা স্তরের ওপরে রাজস্বদায়ি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিয়মিত বা অন্যায্য আদায়ের জন্য সমস্ত অভিযোগ; (৩) এবং সাধারণভাবে, সমস্ত নিপীড়নের জন্য, যা ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়।” এছাড়াও, প্রাদেশিক পরিষদগুলিকে সীমানা সংক্রান্ত সমস্ত বিরোধ, জমিদার, তালুকদার এবং চৌধুরীদের অর্থ ঋণের সমস্ত দাবি, রাজস্ব প্রদানের জন্য বিচার ও নিষ্পত্তি করতে হতো, কিন্তু “পঞ্চান্নগঞ্জ” (৫৫ গ্রাম) এর সীমার মধ্যে কলকাতা শহরের ক্ষেত্রে, সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ কলকাতা আদালতের সুপারিনটেনডেন্ট দ্বারা নিষ্পত্তি করার কথা ছিল।) নিশ্চিত ও বহাল করা হলো; তবে, বিগত বছরগুলোতে প্রাদেশিক পরিষদসমূহের সদস্যরা পালাক্রমে বিভিন্ন জেলা আদালত বা ‘আদালত’-এ বসে দেওয়ানি মোকদ্দমাগুলোর বিচারকার্য সম্পাদন করতেন — এর বিপরীতে এখন প্রথম ও দ্বিতীয় প্রবিধানের মাধ্যমে নিম্নরূপ সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো –
“১। যে, কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, ঢাকা, পূর্ণিয়া এবং পাটনা — এই প্রধান বিভাগগুলোর প্রতিটিতেই দেওয়ানি বিচারালয় বা আদালত তৈরি হবে; এবং এই আদালতগুলোর প্রতিটিরই সভাপতিত্ব করবেন কোম্পানির একজন ‘চুক্তিভুক্ত কর্মচারী’ (covenanted servant), তিনি অভিহিত হবেন ‘দেওয়ানি আদালতের তত্ত্বাবধায়ক’ উপাধিতে।
“২। যে, প্রতিটি দেওয়ানি আদালতের তত্ত্বাবধায়ককে গভর্নর-জেনারেল ও তাঁর পরিষদ নিয়োগ প্রদান করবে; এবং তাঁর বিচার এখতিয়ার প্রাদেশিক পরিষদসমূহ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন হবে।”
প্রেসিডেন্সি এলাকায় নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ধরনের বিরোধ ও মতবিরোধের ফলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা আর উত্তেজনার তৈরি হয়েছিল, জেলা পর্যায়েও যাতে অনুরূপ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে — সেই সমস্যা প্রতিরোধের জন্য প্রবিধানমালার ১৩তম ও ১৪তম ধারায় যে বিধান রাখা হলো, সেগুলো উল্লেখ করা গেল –
১৩. “আদালতের সুপারিনটেনডেন্ট তাঁর সমন সরকারি সীলমোহরযুক্ত করে জারি করবেন। তিনি মফস্বল থেকে ইজারাদার বা জমিদারদের, কিংবা প্রাদেশিক পরিষদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাজস্ব আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের তলব করতে পারবেন না; তবে তিনি তাঁদের উকিলদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। যদি তাঁরা যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো উকিল না পাঠান, তবে ১৪তম অনুচ্ছেদে নির্দেশিত বিধান অনুযায়ী, তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষদের স্বয়ং তলব করার জন্য প্রধান ও প্রাদেশিক পরিষদের নিকট আবেদন করবেন। তিনি মফস্বল থেকে নিম্নবর্গের ব্যক্তিদের তলব করতে পারেন, তবে তা নিম্নলিখিত শর্তসাপেক্ষে: যথা — তিনি জমিদার ও ইজারাদারদের মালিকানাধীন এলাকায় কোনো পেয়াদা বা অন্য কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঠাবেন না; কেবল সেইসব ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ছাড়া, যখন ন্যায়বিচার অবিলম্বে কার্যকর করার স্বার্থে তা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। উক্তরূপ ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, সরকারি সীলমোহরযুক্ত এবং সুপারিনটেনডেন্টের স্বাক্ষরিত পরোয়ানা, লিখিত আকারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাঠাতে হবে এবং পরোয়ানা জারির কারণসহ বিচার বিভাগীয় নথিপত্রে লিপিবদ্ধ রাখতে হবে। তবে সাধারণ ক্ষেত্রে কাউকে তলব করা যাবে না, যদি না ইজারাদারের উদ্দেশ্যে কোনো ‘তলব চিঠি’ (সমন) পাঠানো হয়, কিংবা এমন কোনো নির্দেশ জারি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তলবকরা ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ থাকে। এছাড়া, সুপারিনটেনডেন্ট যথাসম্ভব সতর্ক হয়ে মফস্বল থেকে এমন কোনো ব্যক্তিকে তলব করা থেকে বিরত থাকবেন, যিনি কোনো না কোনোভাবে রাজস্ব প্রশাসনের সাথে যুক্ত — বিশেষ করে ভাদ্র, আশ্বিন, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে; অবশ্য যদি না এমন কোনো পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়, যার জন্য অবিলম্বে তদন্ত বা জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন পড়ে।”
১৪. “যদি সুপারিনটেনডেন্টের নিকট ইজারাদার, জমিদার বা রাজস্ব সংগ্রাহকের ব্যক্তিগত উপস্থিতি অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়, তবে তাঁকে প্রধান ও পরিষদের (Chief and Council) নিকট আবেদন করতে হবে। প্রধান ও পরিষদ যদি বিষয়টি যথাযথ বলে মনে করেন, তবে তাঁরা প্রাদেশিক সীলমোহর এবং প্রধান ও দেওয়ানের স্বাক্ষরযুক্ত একটি সমন সংশ্লিষ্ট ইজারাদার, জমিদার বা সংগ্রাহকের উদ্দেশ্যে জারি করবেন। তবে যেসব ক্ষেত্রে তাঁরা সুপারিনটেনডেন্টের অনুরোধ সত্ত্বেও উক্তরূপ সমন জারি করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয় মনে করবেন, সেসব ক্ষেত্রে তাঁরা গভর্নর-জেনারেল ও পরিষদের নিকট লিখিত পত্রের মাধ্যমে তাঁদের এই অস্বীকৃতির বা সিদ্ধান্তের যৌক্তিক কারণ ব্যাখ্যা করবেন।”
১,০০০ সিক্কা টাকার অনধিক অঙ্কের সকল মামলা, বার্ষিক ১০০ টাকার অনধিক আয়যুক্ত হস্তান্তরিত বা মুক্ত জমি এবং ১,০০০ টাকার কম বার্ষিক রাজস্বযুক্ত মালগুজারি জমির ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে; কিন্তু যে সকল মামলায় এই পরিমাণ অতিক্রম করা হবে, সেগুলিতে “সদর দেওয়ানি আদালত বিভাগের গভর্নর-জেনারেল ও কাউন্সিলের” কাছে আপিল করা যাবে। হয়রানির উদ্দেশ্যে করা ও ভিত্তিহীন আপিল শাস্তিযোগ্য হবে; এবং, “আপিলকারীকে নিরুৎসাহিত করার জন্য, যাতে তিনি প্রথমবার যার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলেন, সেই একই ব্যক্তির কাছে আপিলের আবেদনপত্র পেশ না করেন,” এই বিধান করা হয়েছিল, আদালতের সুপারিনটেনডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সব আপিলের আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট জেলার প্রাদেশিক পরিষদের প্রধানের কাছে পেশ করতে হবে এবং তিনি তা গভর্নর-জেনারেল ও কাউন্সিলের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
প্রবিধানের ২৪ নং ধারা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করার জন্য প্রণীত হয়েছিল: যেহেতু এই দেশে ব্যক্তিবিশেষের জন্য তাদের দেনাদারদের উপর বিচার কর্তৃত্ব প্রয়োগ করার একটি প্রচলিত প্রথা রয়েছে — যে প্রথা কেবল নিজেই বেআইনি ও নিপীড়নমূলক নয়, কারণ এর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের মামলার বিচারক হয়ে ওঠে, বরং এটা নিয়মিত সরকারের বিশেষাধিকার ও ক্ষমতারও একটি সরাসরি লঙ্ঘনও বটে; তাই এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে, যাতে এই ধরনের সমস্ত কর্তৃত্ব প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয় এবং সকল ব্যক্তিকে তাদের মামলা প্রতিষ্ঠিত আদালতে দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়; এবং সুপারিনটেনডেন্ট এই প্রবিধানে বিশেষভাবে মনোযোগ দেবেন — এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে অসহায় রায়ত তার নির্দয় ঋণদাতা মহাজনের হাত থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে প্রমাণিত হবে। (এ পর্যন্ত ১৭৮০ সালের ১১ই এপ্রিলের ২৪ নং প্রবিধান ১৭৭২-এর ১৫ই আগস্টের ২০ নং প্রবিধানের প্রায় হুবহু পুনরাবৃত্তি। পূর্ববর্তী প্রবিধানের ২৬ এবং ২৭ নং ধারাগুলো এই ধারাগুলোর সাথে হুবহু মিলে যায়।) পরবর্তী প্রবিধানের ২২ এবং ২৩ নং ধারা, এবং পূর্ববর্তী প্রবিধানের ২৫ নং ধারা ২১ নং ধারা থেকে শুধুমাত্র ‘কালেক্টর’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপারিনটেনডেন্ট’ শব্দটি পরিবর্তনের কারণে ভিন্ন। (১৭৭২-এর ১৫ নং ধারা ১৭৮০-র ১৯ নং ধারায় পরিণত হয়) কিন্তু সুপারিনটেনডেন্ট, দরিদ্র জনগণের ত্রাণের জন্য, ১০০ টাকা মূল্যের বেশি মামলা, মামলার কারণ উদ্ভূত হওয়ার স্থানের নিকটবর্তী জমিদার বা সরকারি কর্মকর্তা, অথবা পক্ষদের নির্বাচিত সালিসকারীদের কাছে পাঠানোর ক্ষমতা রাখবেন; তবে, চরম অবিচার বা পক্ষপাতিত্বের ক্ষেত্রে তার এই ক্ষমতা পুনর্বিবেচনার যোগ্য হবে।”
শেষোক্ত প্রবিধানে বলা হয়েছিল, “সংসদের কর্তৃত্ববলে নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রণীত না হওয়া পর্যন্তই এই প্রবিধানগুলি বাধ্যতামূলক বলে গণ্য হবে।”
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ