আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গল্প-উপন্যাসে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) জীবনের বিচিত্রমুখী অভিজ্ঞতাকে নিজস্ব মেধা মনন, চিন্তা চেতনার আলোকে উপস্থাপন করেছেন। আমাদের আলোচনার বিষয় তাঁর সাহিত্য কর্ম হলেও আমরা প্রথমে তাঁর ব্যক্তি জীবনের উপর স্বল্প পরিসরে আলোকপাত করব।
তারাশঙ্করের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের বীরভূম এর লাভপুর গ্রামের এক ক্ষয়িষ্ণু জমিদার বংশে ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই। বাবার নাম হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় আর মাতার নাম প্রভাবতী দেবী। তারাশঙ্করের ভাষায় তাঁর বাবা ও পিসিমা শৈলজা ঠাকুরাণী ছিলেন সেকালের প্রতিনিধি। অন্যদিকে তাঁর মা প্রভাবতী দেবী ছিলেন পাশ্চাত্য শিক্ষা বিস্তারের সমর্থক ও বিদুষী মহিলা। মাত্র আট বছর বয়সে তারাশঙ্কর বাবাকে হারান। তিনি তাঁর বিধবা পিসিমা ও নিজের মায়ের স্নেহ ভালবাসায় লালিতপালিত হন। মাতা প্রভাবতী দেবীর ধর্মশাস্ত্রের অগাধ অনুশীলন এবং পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব তারাশঙ্করের মানস গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রভাবতীর বাস্তব দেশপ্রেম শৈশবেই তারাশঙ্করকে উদ্দীপনা যোগায়।
লাভপুরের যাদবলাল হাইস্কুল থেকে তিনি ১৯১৬ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর উমাশশী দেবীর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তারপর তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্ত্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন কিন্তু রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হবার কারণে তাঁর পড়াশোনা আর এগোয় না। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করেন। মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী কর্মকান্ডে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে গ্রেফতার বরণ করেন। বিচারে তাঁর কয়েক মাসের জেল হয়। কারাগারে বসে তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। বাংলা কংগ্রেসের রাজনীতির উপদলীয় কোন্দল ও সংঘাতের কারণে তিনি রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। কারামুক্তির পর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যে সাহিত্য সাধনার মাধ্যমেই তিনি দেশ সেবা করবেন।
তারাশঙ্করের লেখালেখির সূত্রপাত কবিতা দিয়ে হলেও এক সময় তিনি গদ্যশিল্পী হিসাবে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করেন। তবুও তাঁর লেখা কবিতার কথা না বললেই নয়। একটি মাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘ত্রিপত্র’ (১৯২৬) প্রকাশ করেও তিনি ছিলেন মনে প্রাণে আগাগোড়া কাব্যগ্রাহী। পরবর্তীকালপর্বে তাঁর লেখা গল্প-উপন্যাসের কাব্যিক গদ্যের উপস্থিতি উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চৈতালি ঘূণি’ (১৯৩৯) এর প্রথম কয়টি ছত্র থেকে আমরা তাঁর গদ্যের কাব্যিক অনুষঙ্গকে নিরীক্ষণ করতে পারি। “অনবৃষ্টির বর্ষায় খররৌদ্রে সমস্ত আকাশ যেন মরুভূমি হইয়া উঠিয়াছে; সারা নীলিমা ব্যাপিয়া একটা ধোঁয়াটে কুয়াশাচ্ছন্ন ভাব। মাঝে মাঝে উত্তপ্ত বাতাস হু হু করিয়া একটা দাহ বহিয়া যায়। ” অবশ্যই এই রচনার মধ্যে কবিতার বিভা ফুটে উঠেছে। ‘চৈতালি ঘূর্ণি’ উপন্যাসে গ্রামের দরিদ্র চাষী গোষ্ট ও তার স্ত্রী দামিনী গ্রাম্য শোষণের হাত থেকে বাঁচার জন্য শহরে যায়। গোষ্ট কারখানায় চাকরী নেয়। স্বামী-স্ত্রী বস্তিতে থকে। ধনতান্ত্রিক যাঁতাকলে পড়ে গোষ্ঠের পিষ্ঠ হবার কাহিনী তারাশঙ্কর সুন্দর অনুষঙ্গে ‘চৈতালি ঘূর্ণি’ উপন্যাসে উপস্থাপন করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে আরো বলা যায় ‘রসকলি’ মতো গল্পে,‘কবি’ ও ‘রাইকমল’-এর (১৯৪৩) মতো উপন্যাসে রোমান্স আর রসঘন অনুষঙ্গ তারশঙ্করের কবিতা প্রীতিরই উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
বংলা সাহিত্যে স্বমহিমায় তাঁর আত্মপ্রকাশের পটভূমির প্রতি প্রথমে আলোকপাত করা যেতে পারে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালপর্বে সারাবিশ্বে নানা ক্ষেত্রের সাথে সাথে বিশ্বসাহিত্যেও পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে পরিবর্তন আসে তা বাংলা সাহিত্যের গল্প-উপন্যাসে ধীর লয়ে প্রতিফলিত হয়। রবীন্দ্রনাথ প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালপর্বের ঝড়ো হাওয়াকে হৃদঙ্গম করে কালের স্বভাবসিদ্ধ গতিপ্রকৃতিকে তুলে ধরেন তার বিভিন্ন লেখায়। তারপর এক সময় এলো যখন বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, শৈলজানন্দ, নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাস, অচিন্ত্য সেনগুপ্ত প্রমুখ সহ একদল তরুণের আবির্ভাব ঘটল। সময়টা ছিল বিশ শতকের তৃতীয় দশক। তারা রবীন্দ্র প্রভাব বলয় থেকে মুক্তিতে উৎচকিত, তাদের লেখায় নতুনত্বের আভাস। বয়সের দিক থেকে তারাশঙ্কর সে সময়ের তরুণ লেখকদের চেয়ে অগ্রজ হলেও লেখালেখির ক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব তাদের অনেকেরই কিছু পরে।
তিনি ‘কালিকলম’ এর জৈষ্ঠ্য ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রকাশিত প্রেমেন্দ্র মিত্র ও শৈলজানন্দ মুখ্যোপাধ্যায়ের দুটো গল্প ওই সময়ে পাঠ করে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্য ঋদ্ধ গল্প লিখতে উদ্ভুদ্ধ হন। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য ঋদ্ধ প্রথম গল্প ‘রসকলি’, যা কল্লোল পত্রিকার ফাল্গুন ১৩৩৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ‘রসকলি’ তাঁর লেখা সার্থক গল্প, যা তিনি তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমার সাহিত্যজীবনে’ নিজেই বলেছেন। রসকলি’র পরের গল্প ‘হারানো সুর’, এই গল্পটিও কল্লোলে প্রকাশিত হয় বৈশাখ ১৩৩৫ সংখ্যায়। তাঁর ছোটগল্প ‘স্থলপদ্ম’ সে সময় কল্লোলেই প্রকাশিত হয়। ‘কল্লোল’ এ তাঁর লেখা অনেক গল্প প্রকাশ পেলেও ‘কল্লোল’-এর সাথে তাঁর অন্তরের মেলবন্ধন ঘটেনি, এ নিয়ে কিছু তর্ক বিতর্ক ঘটেছে দু’পক্ষে।
তারাশঙ্কর তাঁর গল্প-উপন্যাসে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম, গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের কথা। ছোট বা বড় যে ধরনের মানুষই হোক না কেন তারাশঙ্কর তাঁর সব লেখায় মানুষের মহত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, যা তার সব লেখার বড় বৈশিষ্ট্য। সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন চিত্র তার অনেক লেখায় গল্প -উপন্যাসের বিষয়। তাঁর লেখায় ওই সব সম্প্রদায়ের মানুষের অশিক্ষা, সামাজিক উপেক্ষা,অবহেলা, দৈন্যদশা, রিক্ততা ও কুসংস্কারের বাস্তব চিত্র তিনি অত্যন্ত মুনশীয়ানার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ পরে লেখা ছোটগল্পের সাহিত্য সম্ভার হচ্ছে ‘বেদেনী’, ‘তিনশূন্য’, ‘যাদুকরী’, ‘স্থলপদ্ম’, ‘হারানো সুর’, ‘ইমারত’, ‘কামধেনু, ‘ মা’, ‘শ্মাশান ঘাটের পথে’, ‘বড় বৌ’, ‘নাটু মোক্তারের সওয়াল গল্প’ ইত্যাদি। এ সব গল্পে তাঁর প্রথম গল্প ‘রসকলি’-তে প্রতিভার স্বাক্ষরের প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়।
এখানে বলে রাখা ভাল তাঁর লেখা প্রথম গল্প কিন্তু ‘ রসকলি’ নয়। তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্প ‘মুকুন্দের মজলিস’। বীরভূম থেকে প্রকাশিত ‘পূর্ণিমা’ পত্রিকাতে কামন্দক ছন্দনামে পরপর তিনটি গল্প তিনি লেখেন। ‘পূর্ণিমা’র ১৩৩৩-এর অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ সংখ্যায় ‘মুকুন্দের মজলিস’, ‘ভালচার ক্লাব’ ও ‘কালাকসরৎ’ প্রকশিত হয়। তারপর বের হয় ‘স্ত্রোতের কুটো’। তবুও বলতে হয় ‘ রসকলি’ গল্প নিয়েই তারাশঙ্করের ঋদ্ধ লেখালেখির সূত্রপাত।
প্রসঙ্গক্রমে, তাঁর লেখা প্রথম সাহিত্য ঋদ্ধ ছোটগল্প ‘রসকলি’র কাব্যগ্রাহী ভাষা শৈলীর প্রতি দৃষ্টিপাত করা যেতে পারে। ‘রসকলি’ গল্পের গোপিনীর ভ্রান্ত অসংগত আচরণে মঞ্জরী ক্ষুব্ধ ও উত্তপ্ত মনে বাড়ি ফেরার কথা তারাশঙ্কর এভাবে লিখেছেন, ‘মঞ্জরী ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরিল, বুকের ভিতর তাহার যেন আগুন জ্বলিতেছিল। সগিনীর এত বিষ। আপনার বিষে হতভাগিনী আপনি জর্জর হইয়া মরুক।’ — একই ধরনের প্রায়তোচ্চারিত চিত্রাপিত ভাষা। তাহলেও মঞ্জরীর অনুভবে ‘জর্জর’ হয়ে মরবার অভিপ্রায় অবশ্যই শিল্পি-ভাবনার অত্যুচ্চারণ — চিহ্নিত।
তাঁর উপন্যাস লেখার বিকাশ ঘটে প্রথমে লেখা ছোটগল্পের অনুষঙ্গকে কাজে লাগিয়ে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চৈতালি ঘূণি’ (১৯৩৯)-এর কাহিনী ‘শ্মাশান ঘাটের পথে’ গল্পকে কেন্দ্র করে লেখা। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘কালিন্দী’র আত্মপ্রকাশ তাঁর লেখা ছোট গল্প ‘মা’ এর অনুষঙ্গকে কাজে লাগিয়ে। ‘রায়হাট গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কালিন্দী নদীতে (ব্রাহ্মণী স্থানীয় নাম) জেগে ওঠা নতুন চরের মলিকানা স্বত্ব নিয়ে দুই জমিদার পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্বকে ‘কালিন্দী’ উপন্যাস রচিত। ‘চাঁপাডাঙ্গার বৌ’-এর প্রথম রূপ ছিল বড় বৌ। তার মঞ্চ সফল জনপ্রিয় নাটক ‘দুই পুরুষ’-এর গঠন ‘নাটু মোক্তারের সওয়াল গল্প’ অবলম্বনে। তারাশঙ্কর প্রকৃতপক্ষে উপন্যাসের শিল্পী। আর এক কারণেই তাঁর ছোটগল্পে এক ধরনের মহাকাব্যিক নিটোল গাঁথুনি ও আড়ম্বরপূর্ণ অতিকথনের আভাস পাওয়া যায়।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসের অন্যতম ধ্রুপদী ঔপন্যাসিক। ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ (১৯৫১), ‘গণদেবতা’ (১৯৪২), ‘ধাত্রী দেবতা’ (১৯৩৮), ‘কালিন্দী’ ১৯৩৯ ‘মন্বন্তর’ (১৯৪৪), ‘পঞ্চগ্রাম’ ( ১৯৪৪), ‘সপ্তপদী’ (১৯৫৭), ‘রতিভঙ্গ’ (১৯৬২), ‘রাইকমল’ (১৯৪৩), ‘কবি’ (১৯৪৪), ‘কীর্তি হাটের কচড়া’ (১৯৬৭) ইত্যাদি ধ্রুপদী আঙ্গিকের উপন্যাস লিখে বাংলা উপন্যাস সাহিত্যে তিনি বিশেষ আসন লাভ করেছেন।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয় চার দশকের বেশিকাল ধরে সাহিত্য সাধনায় ব্রতী ছিলেন। ১৯২৯-৩০ থেকে ১৯৭১ সালের মৃত্যু অবধি ১টি কাব্যগ্রন্থ, ৬৫ টি উপন্যাস, ২০০ এর অধিক ছোটগল্প, ১২টি নাটক, অস্যংখ্য প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও আত্মজীবনী রচনা করেন।
তাঁর রচনার বিষয় এবং রচনার চরিত্রগুলোর দিক থেকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটা হল গ্রাম্যজীবন ভিত্তিক নিম্নবিত্ত সমাজের ব্রাত্যজনদের সুখ-দু:খের কাহিনী, আর দ্বিতীয়টা হল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লেখা কাহিনী। একটা ভাগ ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ পর্যন্ত। আর একটা ভাগ ‘মন্বন্তর’ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত। ‘মন্বন্তর’ ‘হাঁসুলি বাঁকের উপকথা’এর আগে লিখিত হলেও ‘মন্বন্তর’ তাঁর সাহিত্য জীবনের রূপান্তর সূচনা করে।’
দু-পর্বের উপন্যাসগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় প্রথম পর্বের উপন্যাসে সমাজের ব্রাত্যজনেরা অনবদ্য অনুষঙ্গে উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে তাঁর ‘কবি’ উপন্যাসের কথা বলা যায়। চোর ডাকাত বংশের ডোমের ছেলে নিতাইচরণ, সে তার বংশের পেশা গ্রহণ করবে না বলে তার বন্ধু রেলষ্টেশনের পয়েন্টম্যান রাজার কাছে আশ্রয় নিয়ে কুলিগিরি করে পেট চালায়। রাজার শ্যালিকা কালো মেয়ে ঠাকুরঝিকে কেন্দ্র করে নিতাইয়ের মনে ভাবের উদয় হয়। সে গান বাঁধে ‘কালো যদি মন্দ গো তবে কেশ পাকিলে কান্দ কেনে হায়। ‘ঠাকুরঝির সাথে মেলামেশার সূত্র ধরে নিতাই ক্রমশ কবি হয়ে উঠে। সে হাটবাজারে কবি গান গেয়ে নাম করে। ঠাকুরঝি মনের মানুষ হলেও নিতাই বুঝতে পারে সে অন্যের বিবাহিতা স্ত্রী। তারপর একসময় ঝুমুর গানের দলের মেয়ে বসন্ত সাথে নিতাইয়ের সখ্যতা গড়ে উঠে। ঝুমুর দলের সাথে সে দেশান্তরী হয়। তার মনে বসন্তের সাথে ঘরবাঁধার আশা জাগে। এদিকে ঠাকুরঝি কিন্তু নিতাইকে ভুলতে পারে না। বসন্ত মরণ ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে নিতাইয়ের কোলের উপর মারা যাওয়ায় নিতাইয়ের ঘরবাঁধা হয় না। নিতাই কবিয়াল মনের দু:খে গান বাঁধে — ‘এই খেদ আমার মনে ভালোবেসে মিটল না আঁশ — কুলাল না জীবন (হায়) — জীবন এত এত ছোট কেনে। ‘
তারাশঙ্করের ‘কবি’ অন্ত্যজ শ্রেণির মানব মানবীদের নিয়ে সৃষ্ট ত্রিভুজ আঙ্গিকের নিটোল প্রেমের কালজয়ী উপন্যাস। অন্যদিকে তাঁর লেখা বৈষ্ণবীকে কেন্দ্র করে রচিত রাইকমল উপন্যাসটিতে বৈষ্ণব পদাবলীর ‘আমারই বধূয়া আন বাড়ি যায় আমারি আঙ্গিনা দিয়া।’ এই পদটির সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে। ‘রাইকমল’ উপন্যাসে এক অব্যক্ত প্রেম ভালবাসার নিষ্কাম অনুষঙ্গ আমরা লক্ষ্য করি, যা নি:সন্দেহে ব্যতিক্রমধর্মী।
‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ তারাশঙ্করের প্রথম ধারার শেষ পর্বের মহাকাব্যিক উপন্যাস। এই উপন্যাসে তারাশঙ্কর ভূমি নির্ভর আভিজাত্য বোধে জারিত জীবন ব্যবস্থার মাঝে বিত্ত-মর্যাদা-সচেতন অর্থদৃপ্ত অহমিকার অনুষঙ্গকে উপস্থাপন করেছেন। ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’-এর একটা অনুষঙ্গ তাঁর নিজের জীবন কাহিনীরই যেন প্রতিচ্ছবি। উচ্চকোটির জীবন আর নিম্নকোটির জীবনযাত্রার সংঘাত এই উপন্যাসে ব্যক্ত হয়েছে। ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা ’ উপন্যাসে তারাশঙ্কর কৌম সমাজের গোষ্ঠী জীবনকে বিষয়ভুক্ত করেছেন। উপন্যাসটিতে রয়েছে সমান্তরাল দুটি কাহিনী। বাঁশবাদি গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কোপাই নদীর বিখ্যাত হাঁসুলী বাঁক এর কাহার সম্প্রদায়ের সুসংহত জীবনের পতন, কৃষি নির্ভর জীবনের পরিসমাপ্তি ও কাঁশ বন ঘেরা উপকথার হাঁসুলী বাঁক বিরানভূমি পরিণত হওয়ার কাহিনী ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’। কাহার সম্প্রদায়ের উচ্ছেদ ও বুর্জোয়া ধনতান্ত্রিক সমাজের যন্ত্রকলে তাদের দাসে পরিণত হবার কাহিনী ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’। তারাশঙ্করের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের অন্তর্দ্বন্দ্ব এই উপন্যাস লিখতে তাকে সাহায্য করেছিল বলে ভাবলে বেশি ভাবা হয় না। ১৯১৪ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে তারাশঙ্করের বয়:সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণ করছেন সবেমাত্র। ওই সময় তারাশঙ্করের মনের উপর যুদ্ধের প্রভাব পড়েছিল।
তিনি লক্ষ্য করেছিলেন রাঢ় অঞ্চলের গ্রাম জীবনেও জীবনজীবিকায় পরিবর্তনের সূচনা দেখা দিয়েছে। ওই সময় বাঙালিরা সদ্য সূচিত কয়লা খনির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে অনেকেই লাভপুরের ক্ষয়িষ্ণু জমিদারির আওতা থেকে বের হয়ে কয়লাখনির ব্যবসায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করছেন। তাদের এলাকার একটা জমিদারও এ ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করে। ওই পরিবারে তারাশঙ্কর বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’য় রাঢ় অঞ্চলের গ্রাম্য জীবনের আর্থ সামাজিক দ্বন্দ্ব সংঘাতের কাহিনীই তারাশঙ্কর তুলে ধরেছেন কাহিনী নির্ভর কাব্যিক গদ্যে। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প — উপন্যাসে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো আছে আঞ্চলিকতা। বাংলা সাহিত্যে অপর কথা শিল্পী শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় রাঢ়ভূমি বীরভূমের কথাশিল্পী। তাঁর গল্প — উপন্যাসেও গ্রাম জীবনের ছবি আছে, তবে তারাশঙ্করের মতো রাঢ় অঞ্চলের সামগ্রিক আঞ্চলিকতা উঠে আসে নি তাঁর লেখা গল্প-উপন্যাসে। শৈলজানন্দের ‘কয়লাকুঠির’ গল্পে নি:সন্দেহে আঞ্চলিকতা আছে, তবে তা নির্দিষ্ট পরিমন্ডলের গন্ডিতে আবদ্ধ।
তারাশঙ্করের জন্মস্থান লাভপুর নানা দিক দিয়ে পুরো দেশের গ্রামাঞ্চল থেকে স্বতন্ত্র্য। তাঁর জন্ম গ্রাম লাভপুর বীরভূমের প্রান্তসীমায় অবস্থিত রাঢ়ভূমি। বীরভূমের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ন্যারো গেজ রেল লাইনের মার্টিন কোম্পানীর ছোট ট্রেন, যাকে খেলনা ট্রেন বললে অত্যুক্তি হয় না। ওখানকার প্রকৃতি আর মানুষজনের জীবন প্রবাহের মধ্যে ব্যাপক ফারাক।
পথের নিচে কাঁকুড়ে রুক্ষ লালমাটি আর গ্রামের প্রান্তে বর্ষার দুরন্ত ময়ূরাক্ষী নদী, যা ওখানকার যাপিতজীবনকে নিঃসন্দেহে দুঃসাধ্য করে তুলেছিল। এক কথায় ওখানকার লোকজনেরা ছিলেন আত্মবন্দী। অন্যদিকে, জাতপাতের সমস্যাও ওখানে বসবাসকারী মানুষের জীবনকে ক্ষণে ক্ষণে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। একদিকে ব্রাহ্মণ্য আভিজাত্য সচেতন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার গোষ্ঠী, আর এক প্রান্তে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সহজ সরল যাপিতজীবন। জন্মমাটির এই আঞ্চলিকতার অনুষঙ্গকে তারাশঙ্কর প্রগাঢ় মমতায় তার গল্প-উপন্যাসে তিনি উপস্থাপন করেছেন।
তারাশঙ্করের দ্বিতীয় ধারার উপন্যাসের প্রসঙ্গে নাম করতে হয় ‘ মন্বন্তর’ এর । এ উপন্যাস অনেকাংশে তারাশঙ্করের ভাবনায় প্রগতি আন্দোলনের (১৯৩৫-১৯৫০) দ্বারা অনুপ্রাণিত। ‘মন্বান্তর’ উপন্যাসটি গ্রন্থিত আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। স্বাধীনতা আন্দোলন ও দেশবিভাগ প্রাক পর্বের রাজনৈতিক, সামাজিক জটিলতা তারাশঙ্করের মনকে আন্দোলিত করে। ভয়াবহ মন্বান্তরের চিত্র তিনি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি রাজনৈতিক জীবনবোধে উজ্জীবীত হন, তার পরেই তিনি রচনা করেন ‘মন্বন্তর’, ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’-এর মতো রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুষঙ্গে লিখিত উপন্যাসগুলো। তারাশঙ্করের জীবনবোধের প্রথম থেকেই রাজনীতির উপস্থিতির কথা আমরা জানি। এ জীবনবোধের কারণেই তিনি ‘গণদেবতা’, ‘পঞ্চগ্রাম’, ‘ধাত্রীদেবতা’ উপন্যাস ত্রয় রাজনৈতিক মহাকাব্যিক অনুষঙ্গে লিখতে সমর্থ হন বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে। তিনি বারবার এসব উপন্যাসে তাঁর স্বভূমি লাভপুরের গ্রাম্যজীবনের কথাই যেন তুলে ধরেছেন। তারাশঙ্কর অল্প বয়সে পিতৃহীন হয়ে রাঢ়দেশের লাভপুরের গ্রামজীবনে বাল্যে জমিদারী বংশের আভিজাত্যবোধের মূর্ত প্রতীকিরূপিনী প্রতাপান্বিতা পিসিমা এবং ব্যক্তিত্বময়ী মানবমুল্যের আলোকবর্তিকাধারিনী নিজের মায়ের প্রভাব তাঁর উপর বিশেষভাবে পড়েছিল। সমাজসেবার ব্রত তিনি তাঁর গর্ভধারিনী মায়ের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। এই প্রেরণা থেকেই তিনি গান্ধীবাদী আন্দোলনে উদ্বোধিত হয়েছিলেন, সে কথা আগেও বলা হয়েছে। তিনি প্রত্যক্ষভাবে দেশ সেবার সাথে নিজেকে কিন্তু সম্পৃক্ত করতে আর পারেন নি এটা সত্য। তিনি পরক্ষোভাবে সাহিত্য সাধনার মাধ্যমে নিজেকে দেশসেবায় উদ্দীপ্ত হন। সেই সূত্রেই তারাশঙ্কর দিশে পেয়েছিলেন সাহিত্যের ভেতর দিয়ে দেশের সেবা করার এ- সব বিবরণের আভাস আছে তাঁর আত্মজৈবিক উপন্যাস নামে পরিচিত ‘ধাত্রীদেবতা’তে।
‘ধাত্রীদেবতা’র জীবন কথা রাজনৈতিক সচেতনায় ভাস্বর। এ উপন্যাসে রচনা করে তারাশঙ্কর ভারতীয় জাতীয়বাদী রাজনীতির ইতিহাসকে শিল্পের মর্দাদা দান করেছেন। আইন অমান্য আন্দোলনকালের নিজে কারাবরণকে শিবনাথের আত্মকথার ‘ধাত্রী দেবতা’তে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি তাঁর জীবনের প্রথম পর্বে রাজনীতিতে বীতরাগ হলেও এক সময় পশ্চিম বাংলার বিধান সভার সদস্য হন। পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় সংসদের সদস্যও মনোনীত হয়েছিলেন। তারঁ মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘গণদেবতা’ ও ‘পঞ্চগ্রামে’ তিনি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের অনুরণন ঘটিয়েছেন। তিনি এই দুটি উপন্যাসে ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র , অভিজাত-অনভিজাত শ্রেণির গ্রামীণ মানুষের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক নৈতিকতা, বৈচিত্রময় চরিত্রের বাস্তবতা অভিজ্ঞতার আলোকে উপস্থাপন করেছেন। এই অর্থে তারাশঙ্কর সার্থক জীবন শিল্পী।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গল্প-উপন্যাসে যে বহুমাত্রিক অনুষঙ্গের অবতারণা করেছেন তা অন্য লেখকদের মধ্যে খুব কমই দেখা যায়। তিনি তাঁর গল্প-উপন্যাসে ভয়ঙ্কর আদিমতান্ত্রিক ঐতিহ্য, প্রেম, অপ্রেম, পরকীয়া, সৌখিনতা, বিলাসিতা, বৈরাগ্য, বৈষ্ণব সহজিয়াভাব, অবহেলা, প্রবঞ্চনা, তঞ্চকতা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, সুখ-দু:খ, ব্যথা-বেদনা, ভাঙা-গড়ার কাহিনী বিধৃত করেছেন নানা অনুষঙ্গে, নানা আঙ্গিকে, নানা ঘরাণায়। ধ্রুপদ আঙ্গিকের গল্প-উপন্যাস ছাড়াও প্রেম-ভালবাসা, বিরহ-বিচ্ছেদ এবং পরকীয়া প্রেমের গল্প-উপন্যাস লিখেছেন তার উদাহরণ ‘চাঁপাডাঙার বৌ’, ‘জলসাঘর’, ‘ব্যর্থ নায়িকা’, ‘প্রেম ও প্রয়োজন’, ‘ছলনাময়ী’, ‘মঞ্জরী অপেরা’ ইত্যাদি। তিনি ‘সপ্তপদী’, ‘যতিভঙ্গ’ উপন্যাসে অবাঙালি নাগরিক জীবন নিয়ে প্রগাঢ় ভালবাসার গল্প লিখেছেন তা নি:সন্দেহে অসাধারণ। তারাশঙ্করের অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে নাম করতে হয় ‘আগুন’ (১৯৩৭), ‘সন্দীপন পাঠশালা’ (১৯৪৬), ‘ঝড় ও ঝড়াপাতা’ (১৯৪৬), ‘তমস তপস্যা’ (১৯৪৯), ‘আরোগ্য নিকেতন’ (১৯৫৩), ‘বিপাশা’ (১৯৫৭), ‘একটি চড়–ই পাখি ও কালো মেয়ে’ (১৯৬৩), ‘নীলকন্ঠ’ (১৯৩৩), ‘গন্না বেগম’, ‘মহাশ্বেতা’ (১৯৬০), ‘জঙ্গল গড় ’ (১৯৬৪), ‘রতিভঙ্গ’ (১৯৬২), ‘বৈষ্ণবের আখড়া’, ‘সুতপার তপস্যা’ (১৯৭১), ‘ঊনিশ শ একাত্তর’ (১৯৭১) ইত্যাদি।
তিনি গল্প-উপন্যাস ছাড়াও প্রবন্ধ ও আত্মজীবনী লিখেছেন। সেগুলো হচ্ছে ‘রবীন্দ্রনাথ ও বাংলার পল্লী’, ‘আমার কালের কথা’ (১৯৫১), আমার সাহিত্য জীবন (১৯৬৭) ইত্যাদি।
তারাশঙ্কর যে সমস্ত মঞ্চ সফল নাটক রচনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে ‘ কালিন্দী’ (১৯৪১), ‘দুই পুরুষ’, ‘দ্বীপান্তর’, ‘বিংশ শতাব্দী’, (১৯৪৫) ‘পথের ডাক’, ‘চকমকি’ ইত্যাদি। তাঁর অনেক উপন্যাস ও গল্পের কাহিনী নিয়ে সিনেমা হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তারাশঙ্কর সহায়ক ভুমিকা রাখেন। বাংলাদেশ সহায়ক শিল্প সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী সমিতির সভাপতি হয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণযোগ্য। সে সময় তিনি ‘সুতপার তপস্যা’ (১৯৭১), ‘ঊনিশ-শ একাত্তর’ (১৯৭১) ও ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ (১৯৭১) নামে তিনটি উপন্যাস লেখেন। ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ উপন্যাসে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী তুলে ধরেন।
বাংলা সাহিত্যে সৃজনশীল সৃষ্টি কর্মের জন্য তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরস্কারে ভুষিত হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎস্মৃতি পুরস্কার, জগত্তারিনী স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন। ‘আরোগ্য নিকেতন’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্রপুরস্কার পান। ভারতীয় সাহিত্য অ্যাকাদেমী ‘আরোগ্য নিকেতন’ উপন্যাসের জন্য তাঁকে সাহিত্য অ্যাকাদেমী পুরস্কার প্রদান করে। ‘গণদেবতা’ উপন্যাসের জন্য তিনি জ্ঞানপীঠ পুরস্কার লাভ করেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ খেতাবে ভূষিত করে।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর লোকান্তরিত হলেও বাংলা সাহিত্যে অবিস্মরণীয় অবদান রাখার জন্য তিনি চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।
মনোজিৎকুমার দাস, লেখক, লাঙ্গলবাঁধ, মাগুরা, বাংলাদেশ।