শুক্রবার | ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৪২
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১৩০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজুরিকা চক্রবর্তী-র ছোটগল্প ‘একাকিনী’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী-র ছোটগল্প ‘আবহমান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্বাদু ও রসালো আলুবোখারা–প্রকৃতির এক অনন্য উপহার : রিঙ্কি সামন্ত প্রবাস বাংলা কালচারাল সোসাইটির অনবদ্য সুরঞ্জলি রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী : ফারজানা নাজ শম্পা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্মৃতিবেলা : শিশুবেলা : ড. শিবশঙ্কর পাল ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়ালেও আতঙ্ক ছড়াবেন না, সতর্ক থাকাই একমাত্র পথ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পরিবেশ দিবসে রবীন্দ্রনাথ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার : এলিজাবেথ কলস্কি (৮ম পর্ব) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

বিশ্বেন্দু নন্দ / ৪৭০ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৪

Colonial Justice in British India: White Violence and the Rule of Law Elizabeth Kolsky

ব্রিটিশ ভারতে উপনিবেশিক বিচার — শ্বেতাঙ্গ হিংসা এবং আইনের শাসন, এলিজাবেথ কলস্কি

ভূমিকা

ভারতবর্ষের ব্রিটিশ সাম্রাজ্য-শাসন আমলে উপনিবেশিক প্রজাদের ওপর নামিয়ে আনা হিংসা, ব্যতিক্রমী উদাহরণ না হয়ে দৈনন্দিনের হিংসার ঘটনাবলীতে পরিণত হয়েছে বলেই আইন এবং বিচার দেওয়ার ক্ষমতা শাসক পক্ষ বরাবরই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেয়েছে। আমার এই বইতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ১৫০ বছরের চূড়ান্ত হিংসাত্মক অপকর্মের উদাহরণগুলি শব ব্যবচ্ছেদের মত পরীক্ষা করার মত করে বিশদে বিশ্লেষণ করেছি, কাটাছেঁড়া করেছি। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উপনিবেশিক আইনি কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসা সত্ত্বেও একটা বিষয় পরিবর্তিত হয় নি, সেটা হল আইনি যোগসাজসে ব্যক্তি ইওরোপিয়দের পক্ষ থেকে দেশিয় প্রজাদের ওপরে নির্দিষ্ট ধরণের চাপানো হিংসাকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যম এবং সেই হিংসাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মানতে বাধ্য করার প্রচেষ্টা। আমরা এই বইতে উপনিবেশিক হিংসার ইতিহাস রচনাকালে দেখব জাতিবাদই উপনিবেশিক আইনের অক্ষদণ্ড হিসেবে বিরাজ করেছে।

এই আলোচনা থেকে একটা বিষয় প্রমান হয়, উপনিবেশের প্রজাদের ওপর বেসরকারি ব্রিটিশ প্রজা প্রবল হিংসা চাপিয়ে দেওয়ার ফলে ‘সাম্রাজ্যে যে টানাপোড়েন’ [Frederick Cooper & Ann Laura Stoler — Tensions of Empire — Colonial Cultures in a Bourgeois World (Berkeley : University of California Press, 1997)] তৈরি হল, তাতে ব্রিটিশ উপনিবেশিক সমাজের সাজানোগোজানো চাদরে প্রবল টান পড়ার উপক্রম ঘটল এবং একটা বিষয় পরিষ্কার হল, ব্রিটিশ সাদাত্ব নামক চরিত্রটি ছিল চরম মনোলিথিক, একদেহী। উপনিবেশে ব্রিটিশদের সাদাত্বের পরিচয় যে আদতেই একদেহী, সেই তত্ত্ব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ভারতবর্ষীয় উপনিবেশিক শাসনে প্রবল পিটুনিখাওয়া আর নিরন্তর হিংসার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা কুলি আর পাখাটানা ভৃত্য দল। সাদা বাগিচামালিক, সেনানী বা ম্যজিস্ট্রেটেরা সকলে এক শ্রেণীর, এক থাকবন্দীতে থাকা শাসক, না কী এরা আলাদা আলাদা সামাজিকস্তরের শ্রেণীভুক্ত মানুষ, এই উপনিবেশিক তাত্ত্বিকতা, প্রবল পাশবিক হিংসার মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এই খেটেখাওয়া মানুষজনের কাছে বৃথা বকওয়াস ছিল। যদিও জাতিবাদী সীমান্ত খুবই অস্বচ্ছ, অস্থিতিশীল, কিন্তু উপনিবেশিক আইন এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছিল যাতে ইওরোপিয়রা দেশিয়দের ওপরে পরম দায়মুক্তভাবে প্রবল হিংসা চাপিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করবে না। এইভাবে দেখলে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সাদাত্ব আদতে একটা একদেহী ধারণাই, এ তত্ত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই।

প্রথম রাজকীয় সনদে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে, ব্রিটিশ রাজকীয় প্রতিনিধি মার্ফৎ ভারতে শাসনকর্ম চালানোর অধিকার দেওয়া হল। অষ্টাদশ শতকের শুরুর দিকে দেশিয়দের দেশিয় আইনে আর ব্রিটিশদের ব্রিটিশ আইনে শাসন করার উদ্দেশ্যে, শাসক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষ উপনিবেশের প্রেসিডেন্সিগুলিতে রাজকীয় আদালত বা ক্রাউন কোর্ট এবং মফঃস্বলে কোম্পানি কোর্ট তৈরি করে (যদিও লেখিকা বলেন বলেন নি, মুঘল ফরমান বা নবাবি নির্দেশে কোম্পানির বাইরের জনগণের ওপরে চালানো এই ধরণের আদালতের অস্তিত্ব বেআইনি ঘোষণা করা হয়। সুশীল চৌধুরী ফ্রম প্রস্পারিটি টু ডিক্লাইনে দেখিয়েছেন নবাবি এলাকায় কোনও রকম গোলোযোগ করে আদালতের আওতা মুক্ত থাকতে কলকাতায় পালিয়ে আসত বহু দেশিয়, এই নিয়ে কোম্পানির সঙ্গে প্রবল বিতণ্ডা হয়ছে নবাবি প্রশাসনের, তারা কোম্পানির আদালতে দেশিয় প্রজাদের বিচার করার অধিকার স্বীকৃতি দেয় নি — অনুবাদক)। ক্রাউন কোর্টে প্রেসিডেন্সির আওতায় থাকা ব্রিটেন এবং ব্রিটিশ প্রজা সংক্রান্ত যে কোনও মামলা ব্রিটিশ আইনে বিচার চলত। কোম্পানি কোর্টগুলোতে নানান ধরণের আইন মার্ফত অব্রিটিশ এবং দেশিয়দের বিচার করা হত এবং শাস্তিও দেওয়া হত। এই দ্বৈত বিচার ব্যবস্থার দৌলতে অসরকারি ব্রিটিশেরা স্থানীয় বিচার ব্যবস্থার হাত থেকে বেঁচে যেত। সাদাদের তৈরি উপনিবেশিক বিশৃংখলার ওপরে উপনিবেশিক সরকার কার্যকর লাগাম পরাতে স্রেফ ব্যর্ত্রহ হয়েছে। আইনের নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে আর কার্যকরীভাবে লন্ডনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে ভারতীয় অ-সরকারি ব্রিটিশ প্রজা উপনিবেশের প্রজাদের ওপরে নিরন্তর হিংসা চাপিয়ে দিতে দ্বিধা বোধ করে না বলেই দেশজুড়ে তৈরি হওয়া আইনি শূন্যতা উপনিবেশিক সরকারের স্থিতিশীলতায় বার বার আঘাত হেনেছে।

উনবিংশ শতকের প্রথম দিকে বাড়তে থাকা অসরকারি ইওরোপিয়দের ফৌজদারি বেয়াদপি বৃদ্ধি পাওয়া এবং উপনিবেশের স্থায়িত্বের ফলে সাদা চামড়ার মানুষদের বসতি বিস্তৃতির জন্যে উপনিবেশিক শাসকেরা আইন এবং বিচার ব্যবস্থা সংস্কার করে, উভয় প্রকার প্রজার জন্যে একই ধরণের আইন-বিচারের কাঠমো এবং সংহিতা তৈরির ভাবনা ভাবতে শুরু করে। এই বইতে যে মূল কথা আমি বলার চেষ্টা করেছি সেটা হল, উপনিবেশিক প্রশাসন বিশৃঙ্খল, হিংসক অসরকারি ব্রিটিশ এবং উপমহাদেশের উপনিবেশিক ভারতীয় প্রজাদের শাসন করা আর বিচার দেওয়ার জন্যে আইন সংহিতা তৈরি করার উদ্যম নিল। ভারতবর্ষীয়দের বিচার দেওয়ার জন্যে আইনি সংহিতা তৈরি বা র‍্যাশনালাইজেশনের উদ্দেশ্যেই শুধুই উপনিবেশিক বিচার ব্যবস্থার বিস্তৃতি ঘটল না, একই সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে উপনিবেশ ততদিনে একশ বছর পার হয়েছে; অষ্টাদশ শকের শেষের সময়ের তুলনায় উনবিংশ শতকের মাঝের সময়ে তীব্র হিংসক সাদাদের সাজা দেওয়া আর সার্বিকভাবে তাদের ওপরে আইনের খাঁড়া নামিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল উপনিবেশিক প্রশাসকেরা। ১৮৬০-এর দশকের আগে যে গুণমানে, যে হারে শ্বেতাঙ্গদের শাস্তি হত, ভারতীয় দণ্ড সংহিতা চালু হওয়ার পরে শাস্তি হওয়ার প্রবণতা অনেক কমে গেল (১৮৬০-এর পরে ভারতে মাত্র ৪ জন বেসামরিক আমলার মৃত্যুদণ্ড নথিবদ্ধ রয়েছে)। অষ্টাদশ শতকে মফঃস্বলে ব্রিটিশদের গ্রেফতার করে ‘তাদের ম্যাগনাকার্টা এবং ব্রিটিশ জন্ম-অধিকার থাকা সত্ত্বেও’ দেশে চালান করা যেত (H. C. Mookheji, “The Anti-Penal Code Meeting,” in Selections ficm the Wrirings of Hurrish Chunder Mookheji (Calcutta: Cherry Press, 1910), p. 273)।

উপনিবেশিক আমলা পরিচালিত সাধারণ ফৌজদারি আদালতে শাসক জাতির শ্বেতাঙ্গ প্রতিনিধিকে সাজা দেওয়ার কাজ শুধু বেমানানই ছিল না, অকার্যকরও ছিল। একই স্তরের প্রজাদের শাসন করার এবং সুবিচার দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইনের শাসন নামে যে ধারণার ভারতে বিকাশ ঘটিয়েছিল খোদ উপনিবেশিক ব্রিটিশরা — সেই সম বিচার দেওয়ার ধারণাটাকেই উপনিবেশিক প্রশাসকেরা নির্লজ্জভাবে বিরুদ্ধাচরণ করেছে আইন তৈরির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাতিবাদী আইন বিভাজন ঘটিয়ে এবং ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ইওরোপিয়দের প্রতি শ্বেতাঙ্গ পুলিশ, বিচারপতি এবং আইনজ্ঞদের অভূতপূর্ব পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে। জনৈক ভারতীয় সাংবাদিক খোলাখুলি লিখছেন, ‘আমাদের শাসকেরা মুখে অনেক কিছুই বলে, কিন্তু ইওরোপিয়দের জন্যে তৈরি করে এক ধরণের আইন, আরেক ধরণের আইন বরাদ্দ থাকে দেশিয়দের জন্যে (Muhammadan, June 6, 1901, BL, 1OR, L/R/5/110)’। [ক্রমশ]


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন