| | |
এই মুহূর্তে ::
নন্দিনী অধিকারী-র বড়োগল্প ‘দুর্গাদালান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ নকশালবাড়ি স্থাননামের নকশাল শব্দটির উৎসের সন্ধান : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনয় মজুমদারের কবিতা — বিজ্ঞান ও দর্শনের রসায়নজাত স্বতন্ত্র নির্মাণ : আনন্দগোপাল হালদার উৎসবে মানুষ নতুন হয়ে ওঠে : হাসান আজিজুল হক ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-র ছোটগল্প ‘চার্বাক দর্শন’ দুর্গা যখন মাঠংমা : শ্যামলী কর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার গিরমিটিয়া ভারতীয়দের ইতিহাস — কলকাতা বন্দর থেকে বিশ্বজুড়ে এক সংগ্রামের কাহিনী : কমল ব্যানার্জী ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সৃজন-মানসের অন্তর্বয়ন ও লেখাজীবনের প্রেক্ষিত : আনন্দগোপাল হালদার কেতকী কুশারী ডাইসন, রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা ও আমাদের রক্ষণশীল সমাজ : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ রাষ্ট্রের বিধি বনাম মায়ের শেষ ইচ্ছে — চিন্ময়কৃষ্ণের ঘটনা যে প্রশ্ন রেখে গেল : যশোবন্ত রায় বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার নেপালের পর কি কলকাতা জলের তলায় চলে যাবে — চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বৈশ্বিক অস্থিরতায় জাতিসংঘের ছয় অগ্রাধিকার : নিকোলাস বিশ্বাস বাম-ব্যানারে শারদোৎসব না দুর্গোৎসব : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ গুরুবাবাদের প্রবঞ্চনা-শোষণ-যৌনতা ও রাজনীতির জম-জমাট রঙ্গ : দিলীপ মজুমদার সিরাত : জীবন খুঁজে দেয় : বোধিসত্ত্ব সঞ্জয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৫৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘টেবিলের নিচে একটি দেশ’
Notice :
❅ পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন, ই-মেল : pagefour2020@gmail.com, আমাদের পোর্টালের কিছু ছবি বাদে প্রায় সব ছবিই অন্তর্জাল থেকে সংগ্রহ করা হয়। কারুর যদি কপিরাইট থাকে জানাবেন। আমরা সেই ছবি পোর্টাল থেকে ডিলিট করে দেব।

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (দ্বিতীয় খন্ড) (৬৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ

Reporter
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গা / ৫৪ Views জন পড়েছেন
আপডেট রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

[জেমস গ্রান্টের প্রতিবেদনটি ১৭৮৬-র ২৭ এপ্রিল কলকাতা থেকে পেশ করা হয়। তিনি দাবি করেন যে, বাংলার ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থায় স্থানীয় এজেন্টদের যোগসাজশে বার্ষিক অন্তত দুই কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি ঘটেছে। এর মধ্যে এক কোটি ঊনত্রিশ লক্ষ টাকা জমিদারি বা ইজারাদারদের জবরদখল, গোপন হস্তান্তর ও অর্থ আত্মসাতের ফলে হয়েছে; বাকি একাত্তর লক্ষ টাকা কোম্পানির রাজস্ব কাঠামো পরিচালনায় নিযুক্ত দেশীয় কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ বিশ্বাসভঙ্গের ফল। গ্রান্ট অভিযোগ করেন, এই কর্মকর্তারা সুপ্রতিষ্ঠিত ও উৎপাদনশীল উৎসগুলোর রাজস্ব ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দিত, অথবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র, হিসাব ও স্থানীয় তথ্য গোপন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদারকি ব্যাহত করত — যা পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে হস্তান্তর করা তাদের প্রধান কর্তব্য ছিল। তিনি মনে করেন, বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থা আসলে সরল; কিন্তু স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তারা তা জটিল বলে চিত্রিত করেছে। তিনি জানান, গ্রামাঞ্চলে আরও একটি মৌসুম অবস্থান করে বার্ষিক রাজস্ব বন্দোবস্ত চূড়ান্ত করার সময় উপস্থিত থাকতে চান, যাতে বোর্ডের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। তিনি স্বীকার করেন, তাঁর কাজ অগোছালো হতে পারে, তবে জনস্বার্থে সমালোচনার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ১৭৮৪-র ১২ এপ্রিলের আগে কোম্পানির ব্রিটিশ নাগরিকের কাছে এই নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয়নি বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। গ্রান্ট বলেন, এই নথিপত্র সবসময় দেশীয় কর্মকর্তাদের কাছে ছিল এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সযত্নে গোপন রেখেছে। কাসিম আলীর আমলের বিশৃঙ্খলার অজুহাতে নথি হারানোর দাবি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।]

একইভাবে, বর্তমান ক্ষেত্রে বাংলা সুবার ভূমি-রাজস্বের ওপর সেই একই সাধারণ নীতি প্রয়োগ করলে দেখা যাবে যে, অর্থ বিভাগে নিয়োজিত স্থানীয় এজেন্টদের অনুরূপ যোগসাজশের কারণে এখানেও বার্ষিক অন্তত দুই কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি ঘটেছে; এর মধ্যে এক কোটি ঊনত্রিশ লক্ষ টাকার পরিমাণকে জমিদারি হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে, যা দেশের তৎকালীন ইজারাদার বা ভূমি-ব্যবস্থাপকদের জবরদখল, গোপনে হস্তান্তর বা অর্থ আত্মসাতের ফলে উদ্ভূত হয়েছিল। কিন্তু বাকি একাত্তর লক্ষ টাকার বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করতে হবে; এটা মূলত উদ্ভূত হয়েছিল এবং অব্যাহত ছিল — কোম্পানির পক্ষে রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়াদি নিষ্পন্ন ও পরিচালনার জন্য প্রথমে নিযুক্ত প্রশাসন অথবা পরবর্তীতে সমক্ষমতাসম্পন্ন (যদিও পদমর্যাদায় অপেক্ষাকরা নিম্নস্তরের) দেশীয় কর্মকর্তাদের সংঘটিত প্রত্যক্ষ, অপরাধমূলক ও অমার্জনীয় বিশ্বাসভঙ্গের ফলে। এই প্রক্রিয়া বর্তমান প্রতিবেদনের সমাপ্তি পর্যন্ত চলেছিল। তারা সাধারণত সেই সব সুপ্রতিষ্ঠিত ও সর্বাধিক উৎপাদনশীল উৎসগুলোর ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক, অন্যায্য ও জবাবদিহিহীনভাবে রাজস্বের পরিমাণ কমায় — যা তৎকালীন দেওয়ানি ভূমির ন্যায্য ও পরিমিত রাজস্ব তালিকার ভিত্তি ছিল এবং যা তখন নিঃসন্দেহে নির্ণীত ও পূর্ণরূপে আদায়যোগ্য ছিল। অথবা, তারা ইচ্ছাকরে আর দুর্নীতিপূর্ণ অবহেলায় তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এমন সব নথিপত্র, হিসাব ও স্থানীয় অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য গোপন করেছিল, যা অর্থসংক্রান্ত প্রতিটি অধস্তন সংস্থার কার্যক্রম কার্যকরভাবে যাচাই, নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি করার জন্য অপরিহার্য ছিল; অথচ পূর্ববর্তী সরকারের অধীনে দাপ্তরিকভাবে অর্জিত এই তথ্যগুলো পরবর্তী শাসকদের কাছে হস্তান্তর করা তাদের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য ছিল।

সরকারের প্রতিটি বিভাগে দেশীয় হিন্দুস্তানি প্রতিনিধিদের দুর্নীতি, অজ্ঞতা ও অসদাচরণ প্রায়শই সমালোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে — এই অসদাচরণ কুখ্যাত, শোচনীয় এবং প্রতিকারহীন রূপে গণ্য করা হয়। তবে আমি আশা করি, আমার নিজস্ব কঠোর সমালোচনার যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য এখানে প্রদত্ত বিস্তারিত বিবরণ যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে। কারণ, এই প্রতিবেদনের সারমর্মের সাথে পলিটিক্যাল সার্ভে অফ দ্য সরকারস (Political Survey of the Circars)-এ বর্ণিত তথ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে আমি বিশ্বাস করি যে, আমি এমন কোনো অনিষ্টের বর্ণনা বা আক্ষেপ করছি না যার মূল উৎস আমি খুঁজে পাইনি — অথচ সেই উৎসস্থলেই কেবল এর আমূল প্রতিকার সম্ভব; কিংবা আমি এমন কোনো কাল্পনিক সুবিধার কথা বলছি না যা ভিত্তিহীন এবং বাস্তবে অর্জন করা অসম্ভব। সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে, প্রস্তাবিত লক্ষ্য অর্জনের সর্বোত্তম উপায় নির্দেশ করাটা ধৃষ্টতা হবে; প্রশাসনের প্রকৃত কঠিন কাজটি তো এরপরই আসবে; আমার সীমিত প্রচেষ্টা কেবল পথ পরিষ্কার করার এবং উচ্চতর প্রশাসনিক মেধা প্রয়োগের উপযোগী — এমন এক সমৃদ্ধ অথচ দীর্ঘকাল অনাবিষ্কৃত ও উপেক্ষিত ক্ষেত্র উন্মুক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ স্তরের উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি যে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দায়িত্ব পালন করেছি, তাতে আমার সামান্য যেটুকু কৃতিত্ব দাবি করার অবকাশ রয়েছে, তার প্রতিদান নিয়ে আমার খুব একটা দুশ্চিন্তা করার কারণ নেই — যদি না বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে জনস্বার্থের কোনো সুরাহা হয়।

সেই অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতেই আমার ইচ্ছা ছিল যে, এই দেশে আমার স্বল্প পরিসরের সেবাকার্য সমাপ্ত করার প্রাক্কালে আমি এই প্রতিবেদনটি পেশ করব। প্রকৃত করাজ্ঞতা এবং আমার সম্মানীয় নিয়োগকর্তাদের স্বার্থের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি — যা প্রকৃত জাতীয় কল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ — তার প্রতি আমার অকৃত্রিম শুভকামনার এক বিনম্র নিদর্শন হিসেবেই আমি এটা রেখে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আলোচ্য কাজটিতে বিদ্যমান বড় ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং আরও ভালো মেধা বা অতিরিক্ত তথ্য-উপাত্ত ছাড়া একটা সংক্ষিপ্ত পাণ্ডুলিপির পরিসরে বিষয়টিকে আরও বিশদ ও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার অসম্ভবতার কথা বিবেচনা করে; এবং উত্থাপিত বিষয়টির সম্ভাব্য সব রকম ব্যাখ্যা প্রদানের আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা থেকে — তা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা আমার কাছে থাকা নথিপত্র পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমেই হোক — আমি এই পদক্ষেপ নিতে চাই। এর উদ্দেশ্য হলো এমন সব উপযুক্ত ভিত্তি খুঁজে বের করা একই সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যার মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাংবিধানিক অধিকার ও বিশেষ সুবিধাসমূহ (যা প্রকৃত বা প্রতিনিধিত্বমূলক সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে তারা অন্যায়ভাবে হারিয়ে থাকতে পারে) পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়; এবং একই সাথে রাষ্ট্রের জমিদার শ্রেণির থেকে অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া বলে বিবেচিত অধিকারগুলোও ফিরিয়ে দেওয়া যায়; আর এভাবেই পার্লামেন্টের সর্বশেষ রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর কেবল আক্ষরিক নির্দেশাবলি নয়, বরং তার মূল উদ্দেশ্য বা চেতনাকেও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তাই আমি স্বেচ্ছায় গ্রামাঞ্চলে আরও একটা মৌসুম অবস্থান করা সমীচীন মনে করেছি — বিশেষ করে বাংলার বার্ষিক রাজস্ব বন্দোবস্ত চূড়ান্ত করার স্বাভাবিক সময়টিতে — যাতে মাননীয় বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হলে আমি সশরীরে তার উত্তর দিতে পারি অথবা কোনো অধস্তন কর্মকর্তার জিজ্ঞাসার লিখিত জবাব দিতে পারি; উল্লেখ্য, ওই কর্মকর্তাদের ওপর আমার কাজের বিষয়বস্তু ও শৈলী — যা যে বেশ অগোছালো তা আমি ভালোভাবেই বুঝি — পর্যালোচনা, সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রদান বা সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং তা সত্ত্বেও আমি সানন্দেই আমার এই কাজটিকে সমালোচনার সম্মুখীন হতে দিচ্ছি; আমি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মনোভাব পোষণ করছি; জনসমক্ষে আমার এই উপস্থাপনার ফল — তা আমার বক্তব্যের আংশিক বা পূর্ণ অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান, যা-ই হোক না কেন — যদি জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে সামান্যতমও কাজ দেয়, তবে তা অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত ও যথাযথ বলেই গণ্য হবে। উল্লেখ্য, মাননীয় গভর্নর-জেনারেলের থেকে আনুষ্ঠানিক আদেশ না হলেও যে উৎসাহ ও সমর্থন আমি পেয়েছি, তা ছিল আমার প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি; আর নিজের বিবেকের তাড়নায় ও উপযুক্ত আচরণের তাগিদে — অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত বা কারণ ছাড়াই — আমি এই বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরার সাহস করেছি।

বর্তমানে যে উদ্দেশ্যটি ব্যক্ত করা হয়েছে, তা পূর্ণাঙ্গভাবে সাধনের লক্ষ্যেই আমি আর বিলম্ব না করে এই গ্রন্থে কিছু প্রশ্নের আগাম উত্তর বা ব্যাখ্যা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি; অথচ এই প্রশ্নগুলোর সমাধান আগেভাগে জানার আশায় আমি গত ৩রা তারিখে মাননীয় গভর্নর-জেনারেলের সদয় অনুমতিক্রমে সেগুলো উত্থাপনের আবেদন জানিয়েছিলাম। সেই প্রশ্নগুলোর সমাধান বা উত্তর যা-ই হোক না কেন, আমার লিখিত বিষয়বস্তুর মূল সারমর্ম তাতে খুব একটা পরিবর্তিত হবে না। আমি আনন্দিত হব যদি সেই নথিপত্র বা হিসাবগুলো পাওয়া যায় যার কথা আমি উল্লেখ করেছি এবং যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি; কারণ আমার বর্ণিত প্রধান কিছু তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সেগুলো যেমন অপরিহার্য হতে পারে, তেমনি সেগুলো নিজস্ব গুরুত্বের দিক থেকেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে ১৭৮৪ সালের ১২ই এপ্রিলের আগে কোম্পানির সিভিল সার্ভিসে নিয়োজিত কোনো ব্রিটিশ নাগরিকের কাছে যে এই নথিপত্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয়নি কিংবা এগুলোর ব্যবহারিক উপযোগিতা স্পষ্টভাবে বা পূর্ণাঙ্গভাবে জানানো হয়নি — সে বিষয়ে আমি দৃঢ় ও নিশ্চিত বিশ্বাস পোষণ করি; কারণ আমার দৃঢ় ধারণা, পরিস্থিতি যদি ভিন্ন হতো, তবে এতদিনে এ ধরনের নথিপত্রের গুরুত্ব ও উপযোগিতা সবার সামনে উঠে আসত, স্পষ্ট হতো এবং সাধারণ কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করত। সার্বভৌম শাসকের যাবতীয় ন্যায্য ও বিধিসম্মত পাওনা সরকারি কোষাগারে জমা করার বা তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় এই নথিপত্র ও অন্যান্য হিসাব যে সর্বদা দেশীয় কর্মকর্তাদের কাছেই ছিল, সে বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আবার তারা যে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গোপন করে রেখেছে, সে বিষয়েও আমি নিশ্চিত; এর সপক্ষে প্রথমত প্রত্যক্ষ ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায় — অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকাশিত নথিপত্রের স্বল্পতা, অসম্পূর্ণতা বা সেগুলোর অগোছালো ও বিভ্রান্তিকর বিন্যাসের মধ্যে। দ্বিতীয়ত, সেই অবিচল ও একঘেয়ে দাবি — যা কাসিম আলীর আমলের বিশৃঙ্খলার সময় সংগৃহীত অর্থের উপযুক্ত বিবরণসহ পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য নথিপত্র সংগ্রহের যেকোনো প্রচেষ্টার বিপরীতে তোলা হয়েছিল — যে, ওই নথিপত্রগুলোর সবই বা তার বড় অংশই হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে; এবং সবশেষে, সেই জটিলতা বা দুরূহতা — যার জালে জড়িয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে এমন এক রাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যা আসলে বিশ্বের অন্যতম সহজ ও সরল পদ্ধতি ছিল। স্থানীয় তথ্যের অপর্যাপ্ততা কিংবা ইচ্ছাকরাভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ও বিব্রত করার মতো অপরাধমূলক আচরণের কারণে এই ব্যবস্থাকে জটিল হিসেবে তুলে ধরা হতো; যার উদ্দেশ্য ছিল অস্পষ্ট ও জটিল হিসাব-নিকাশের আড়ালে সৎ ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের কার্যকর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা — কারণ এই প্রচেষ্টা সফল হলে প্রাথমিক প্রতারণা ধরা পড়ার পাশাপাশি মধ্যবর্তী পর্যায়ে অবৈধ উপায়ে অর্জিত সকল সুবিধাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

তা সত্ত্বেও, এখন যদি সংশ্লিষ্ট নথিপত্রগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায় বা কোনো বিদেশি উৎসের মাধ্যমে সেগুলোর অনুলিপি হাতে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যেসব কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মূল নথির দায়িত্বে ছিলেন এবং এখনও তা নিজেদের দখলে রেখেছেন, তাঁরা হয়তো আগেভাগে নিজেদের ওপর থেকে দায়িত্ব অবহেলার দায় অন্যের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা করতে পারেন। তাঁরা হয়তো আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি দেখাবেন যে, তাঁদের কাছে কখনোই এসব নথি চাওয়া হয়নি — যেন ভারতীয় ভূখণ্ড-ভিত্তিক রাজস্ব হিসাবের রহস্যময়, কারিগরি ও বহুমুখী উপাদানগুলোর (যা আসলে উপ-বিভাগীয় বিন্যাসের কারণে সরলীকরা ও গঠনগতভাবে জটিলতাহীন ছিল) নাম কোনো বহিরাগত ব্যক্তির পক্ষে সহজাতভাবেই জেনে ফেলা সম্ভব ছিল! তবে এমন কোনো চতুর ও অসৎ কৌশল অবলম্বনের চেষ্টা করা হলে মাননীয় বোর্ড তা সহজেই ধরে ফেলবেন বলে আমার বিশ্বাস। একইসঙ্গে আমি আশা করি, এই বিষয়ে আমার নিজের পক্ষ থেকে আরও কিছু বলার সুযোগ পেলে আপনারা তা সদয়ভাবে শুনবেন; কারণ আমি কোম্পানির সেইসব চুক্তিবদ্ধ কর্মকর্তাদের (covenanted servants) একজন যাদের ওপর সাধারণত এই অভিযোগের দায় বর্তায় — যদিও এই অভিযোগে আমাকেই যদি সবার আগে অভিযুক্ত করা হতো, তবুও আমার কোনো ভয় থাকত না।

অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে নিবেদন করছি, মাননীয় মহোদয় ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, আমি আপনাদের বিশ্বস্ত ও একান্ত অনুগত সেবক, কলকাতা, ২৭শে এপ্রিল ১৭৮৬। জে। জি। [২৪৬]

ঐতিহাসিক ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ।

ভূমিকা।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার লক্ষ্যে প্রণীত সাম্প্রতিক পার্লামেন্টারি আইনটি (যা ১৭৮৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে) এ দেশে সরকারের প্রতিনিধিদের সেই পীড়াদায়ক ও অনিশ্চিত অবস্থা থেকে অবশেষে মুক্তি দিয়েছে। এই অনিশ্চয়তা সংস্কারের সর্বোত্তম উদ্যোগগুলোকে যেমন ব্যাহত করতে পারত, তেমনি বাধা দিতে পারত সেই সুশৃঙ্খল ও সুপরিকল্পিত শাসনব্যবস্থা গ্রহণে বা পুনরুদ্ধারে — যা বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ১৭৬৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের (অর্থাৎ প্রকৃত সার্বভৌম ক্ষমতার হস্তান্তরের) ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্যের আলোচ্য অংশে দীর্ঘকাল ধরে কার্যকর ছিল। আইনসভার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য এখন যেমন স্পষ্ট, তেমনি তা যে তাদের ঘোষিত লক্ষ্যের দিকেই উপযুক্তভাবে পরিচালিত — তাও সর্বজনস্বীকরা; সেই লক্ষ্যটি হলো একটা বৈধ ও স্থায়ী সাম্রাজ্যের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ব্রিটেনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সুবিধা নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি, একটা স্থিতিশীল স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে স্থানীয় অধিবাসীদের বিশাল জনগোষ্ঠীকে তাদের প্রাচীন প্রথাগত অধিকার, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা এবং দেওয়ানি ও ধর্মীয় আইন অবাধে ভোগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রশাসনব্যবস্থাটি এমন যুক্তিসঙ্গত নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে যা দূরবর্তী কোনো অঞ্চলের শাসনের জন্য সর্বোত্তম — যে অঞ্চলটি অনিবার্যভাবেই বিদেশি শাসকদের একটা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর (অলিগার্কি) শাসনের অধীন; আর এই পরিস্থিতিটি যেমন অত্যন্ত সংবেদনশীল, তেমনি বিশ্ব-রাজনীতির ইতিহাসে সম্পূর্ণ অভিনব। নতুন পার্লামেন্টারি আইনের কঠোর বিধানগুলোর ক্ষেত্রে কোম্পানির অধিকাংশ কর্মচারীর কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও — যে বিধানগুলোকে হয়তো সবার ওপর ঢালাওভাবে দোষারোপ বা অপরাধী সাব্যস্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হতে পারে (যদিও প্রকৃত বা কথিত অপরাধ বা অসদাচরণ ছিল কেবল গুটিকয়েক ব্যক্তির) — সেগুলো সম্ভবত সহজেই গৃহীত হয়েছিল। এর কারণ হতে পারে এ দেশে নির্বাহী পদে কর্মরত মহামান্য রাজার ব্রিটিশ প্রজাদের বিচ্ছিন্ন স্বার্থ, তাদের স্বল্প সংখ্যা এবং তাদের চুক্তিবদ্ধ বা পূর্বনির্ধারিতভাবে সীমিত স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনা করা; বর্তমান অবস্থায় এই আইনটিকে — এর সমস্ত কল্যাণকর ও আপত্তিকর ধারা-সহ — অধিকারের এক মহান সনদ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্ততপক্ষে গ্রেট ব্রিটেনের সেইসব ইস্ট ইন্ডিয়া-স্থায়ী প্রজাদের জন্য তো বটেই, যারা এমন এক অর্পিত শাসনব্যবস্থার অধীনে বসবাসের অমূল্য সুবিধা ভোগ করছেন — যে ব্যবস্থা হিন্দুস্তানে প্রথমবারের মতো বাস্তবসম্মত, উদার ও ন্যায়ভিত্তিক সুষম বিচারের মৃদু প্রভাবে নমনীয় ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে।

চলবে

ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন

Currently Maintained by the2.dev