ভবানীপুরে রবিবার সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ও ভোটাধিকার রক্ষার্থে নাগরিক সমাজের মিছিল বের হয়। মিছিলে নাগরিক মঞ্চের শতাধিক প্রতিনিধি পা মেলান। মিছিলের মুখ্য স্লোগান ছিল গণতন্ত্র বাঁচাও, ভোটাধিকার বাঁচাও। নেতাজী ভবন মেট্রো স্টেশনের সামনে থেকে বিজলী সিনেমা হল পর্যন্ত মিছিলে প্রতিবাদে সরব হন নাগরিক সমাজ।এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সৈকত মিত্র, অভিনেত্রী সোমা চক্রবর্তী, আবৃত্তিকার সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজসেবী সুজাত ভদ্র, ডঃ অরিন্দম বিশ্বাস, সমাজসেবী বর্ণালী মুখার্জি, গায়ক শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রজিৎ মজুমদার, সুদেষ্ণা রায়, অমিত কালী প্রমুখ।
এছাড়াও মিছিলের শেষে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে বেপরোয়াভাবে পশ্চিমবঙ্গকে দখলের ষড়যন্ত্র করছে। গণমঞ্চের প্রতিনিধিরা বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মুখোশ খুলে দিতে ও চক্রান্তের কথা বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দিতে আহ্বান জানান। এদিন সভায় উপস্থিত বক্তারা বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হন। বক্তারা স্পষ্ট জানান, বাংলা ও বাঙালি বিরোধী বিজেপির স্বরূপ উন্মোচনে, সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে, বেপরোয়াভাবে পশ্চিমবঙ্গকে দখলের ষড়যন্ত্র করছে। এর প্রতিবাদে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে দিল্লিতে তৃণমূল দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ ও ভারত জোড়ো অভিযানের সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে এক প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করছে। বক্তারা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী তালিকা থেকে ৯২ লক্ষ ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।এই সংখ্যা ইউরোপের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার থেকেও বেশি। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম ও মহিলা। আমাদের মতে, মুসলিমদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে এবং তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাগুলো থেকে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যেগুলো মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।
পশ্চিমবঙ্গকে এক নির্বাচনী গণহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে হার নিশ্চিত জেনেই কি এখন ভোটার তালিকায় কারচুপি করে জিততে চাইছে বিজেপি? বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে সাধারণ মানুষদের যেভাবে হয়রানি করে চলেছে, তা সকলের সামনে তুলে ধরতে আজকের এই মিছিল ও সভা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করতে পারছে না বিজেপি। সেই কারণে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভোটার তালিকা সংশোধনীর (SIR) নামে বাংলার বহু বৈধ নাগরিকের নাম ‘ডিলিট’ করে দিয়েছে এবং তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে।