পরিশিষ্ট।
১. ১৭৮০-র ১১ই এপ্রিলের প্রবিধানসমূহ অনুযায়ী নিম্নলিখিত স্থানগুলোতে মফস্বল দেওয়ানি আদালত স্থাপন করা হয়েছিল —
১. কলকাতা।
২. ঢাকা।
৩. পূর্ণিয়া।
৪. মুর্শিদাবাদ।
৫. বর্ধমান।
৬. পাটনা।
এই আদালতগুলোর প্রতিটির সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব একজন ‘কভেনেন্টেড সিভিল সার্ভেন্ট’ বা চুক্তিবদ্ধ অসামরিক কর্মচারীর ওপর ন্যস্ত ছিল।
২. ৬ই এপ্রিলের প্রবিধানসমূহ দ্বারা মফস্বল আদালতগুলোর সংখ্যা বাড়িয়ে আঠারোটিতে উন্নীত করা হয়; যথা —
১. মেদিনীপুর—
১. মেদিনীপুর জেলা।
২. জলেশ্বর।
২. রঘুনাথপুর (রঘুনাথপুর—মানভূম জেলার সদর মহকুমার অন্তর্গত একটি ছোট শহর) —
১. পাঞ্চেত জেলা (প্রায়শই Patchet, Patchaet বা Panchkot হিসেবে লিখিত হয়। দেখুন: ও’ম্যালি—মানভূম [বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার্স], পৃষ্ঠা ৫৩-৫৪, ১৯৫-৯৭) এবং এর অধীনস্থ ক্ষুদ্র মহলসমূহ।
২. বিষ্ণুপুর।
৩. চাতরা —
১. রামগড় জেলা [হাজারিবাগ]।
২. পালামৌ।
৩. নাগপুর।
৪. কেন্দী।
৫. কারাগদিহা।
৬. চাকাই। (দেখুন: ও’ম্যালি—মুঙ্গের [বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার্স], পৃষ্ঠা ২০০)
৪. পাটনা (নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, “পাটনার আদালতটি ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানেই বহাল থাকবে, যতক্ষণ না ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতার আলোকে এর বিচার এখতিয়ারের কেন্দ্রস্থল অপেক্ষাকৃত অধিক সুবিধাজনক বা কেন্দ্রীয় স্থানে স্থানান্তর করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়।”)
১. শাহাবাদ সরকার।
২. বিহার।
৩. রোহতাস।
লৌয়া (লৌরিয়া। দেখুন: ও’ম্যালি—চম্পারণ [বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার্স], পৃষ্ঠা ১৬০-৬১।)
১. সারণ সরকার (হাসিপুরসহ)।
২. চম্পারণ (বেতিয়াসহ)।
৬. দারভাঙ্গা —
১. সরকার তিরহুত।
২. হাজিপুর।
৩. পূর্ণিয়া জেলার অংশবিশেষ, যা কুজা [কোশী] নদীর পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
৪. ভাগলপুর, যা গঙ্গা নদীর উত্তর দিকে অবস্থিত।
৭. তাজপুর (পঞ্চম রেগুলেশন-এ( V) বিধান দেওয়া হয়েছে যে, “পূর্ণিয়া, দিনাজপুর ইত্যাদি জেলার ওপর যে আদালতের এখতিয়ার রয়েছে, তার সদর দপ্তরটি পূর্ববর্তী স্থান থেকে সরিয়ে তাজপুরে স্থাপন করা হোক; কারণ এটি উক্ত আদালতের সামগ্রিক এখতিয়ারভুক্ত এলাকার মধ্যে অধিকতর কেন্দ্রীয় অবস্থানে অবস্থিত এবং সেই কারণে, যেসব মানুষ এই আদালতের এখতিয়ারের অধীন, তাদের জন্য এটি অধিকতর সুবিধাজনক।” বাংলায় যে দ্রুত ও আমূল পরিবর্তন ঘটেছিল, তার একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো—মি. বিমস তাঁর ‘আকবরের সুবাহগুলো’ বিষয়ক পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিবরণীতে (জার্নাল অফ দ্য রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটি, ১৮৯৬) তাজপুর শহরটির হদিস পাননি। তবে, রেনেলের মানচিত্রে শহরটির অবস্থান দেখানো হয়েছে —
১. হাভেলি পিনজেরা বা দিনাজপুর জেলা।
২. পূর্ণিয়া (অবশিষ্ট অংশ)।
৩. মালদহ এবং রাজশাহী জেলার অংশবিশেষ, যা গঙ্গা নদীর পূর্ব দিকে অবস্থিত।
৮. ভাগলপুর —
১. রাজমহল জেলার অংশবিশেষ, যা গঙ্গা নদীর পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
২. ভাগলপুর, যা গঙ্গার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।
৩. মুঙ্গের, যা গঙ্গার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।
৪. সুলতানাবাদ ও আমার পরগনা।
৯. রংপুর —
১. রংপুর জেলা (বাহারবন্দসহ)।
২. কোচবিহার।
৩. রাঙ্গামাটি।
৪. ঘোড়াঘাট ও বাজুহা।
৫. সেরুপুর, পাটিলাদহ ও বেতরবন্দ [ভিতরবন্দ]।
*১০. নাটোর —
১. সিলবেরিস [সালবারিস] পরগনার মূল অংশ।
২. বারবকপুর।
৩. চৌগং।
৪. চেওড়া।
১. নাটোর বিভাগ।
৫. বিহার, ইত্যাদি।
৬. দেতিয়া।
৭. আতিয়া।
৮. বুরবাজু।
৯. কগমারি।
১০. সাকনি পরগনা।
১১. বেত্তোরিয়া জেলা এবং এর যে অংশটি পদ্মার দক্ষিণে অবস্থিত।
১২. পুকুরিয়া পরগনা।
১৩. রুকুনপুর।
১৪. লস্করপুর।
১৫. চান্দলি।
১৬. জাহাঙ্গীরপুর।
১৭. কলিগং।
১৮. তাহিরপুর।
১৯. মেসিদেহ।
২০. হাটিনদহ।
২১. ফীটাগঞ্জপুর।
২২. মওকওয়ার।
২৩. কাসিমপুর।
২৪. কিরবাহ।
২৫. এই বিভাগের অন্যান্য অংশ—যা নদীর দক্ষিণে অবস্থিত এবং রংপুর এখতিয়ারভুক্ত এলাকার সাথে সংযুক্ত নয়।
*১১. আজমিরিগঞ্জ—সিলেট সমগ্র এবং ঢাকা প্রদেশের সেই অংশ অন্তর্ভুক্ত, যা ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর উত্তরে অবস্থিত।
*১২. ঢাকা—ঢাকা প্রদেশের সেই অংশ অন্তর্ভুক্ত, যার উত্তরে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা; পূর্বে ত্রিপুরা ও চট্টগ্রাম; পশ্চিমে মেঘনা নদী (চাঁদপুর পর্যন্ত), এবং সেখান থেকে উত্তর-পশ্চিমে কালীগঙ্গা ও পদ্মা নদী (পশ্চিমে ভূষণা পর্যন্ত), এবং সেই জেলাসমূহ যা নাটোর এখতিয়ারভুক্ত এলাকার পূর্ব সীমানা গঠন করে।
*১৩. বাকেরগঞ্জ—ঢাকা প্রদেশের সেই অংশ, যা পদ্মা ও কালীগঙ্গার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মেঘনা নদীর পশ্চিমে (চাঁদপুর থেকে সমুদ্র পর্যন্ত) অবস্থিত; যার পশ্চিম সীমানা হিসেবে রয়েছে ভূষণা ও যশোরের পূর্ব সীমান্ত (রাইমঙ্গল নদীর মোহনা পর্যন্ত); এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ঢাকা প্রদেশের উপকূলবর্তী ও এখতিয়ারভুক্ত সমস্ত দ্বীপপুঞ্জ—তবে সন্দ্বীপ পরগনা এবং এর অধীনস্থ এলাকাগুলো এর ব্যতিক্রম।
১. চট্টগ্রাম জেলা।
২. ত্রিপুরা।
৩. সন্দ্বীপ পরগনা এবং এর অধীনস্থ এলাকা।
*15. মুরলি —
১. ভূষণা জেলা।
২. শাহউজিয়াল [শাহীজিল]।
৩. যশোর।
৪. মাহমুদশাহী পরগনা।
৫. সৈয়দপুর।
*১৬. কলকাতা—
১. কৃষ্ণনগর পরগনা। ২. হুগলি চাকলা — যার অন্তর্ভুক্ত হলো হিজলি, ২৪-পরগনা এবং মহম্মদ আমিনপুর [Muhammad Aminpur. (O’Malley: Hooghly (Bengal District Gazetteers), পৃ. ২৯৬)]
*১৭. বর্ধমান—বর্ধমান চাকলা, এবং সাউতসিকা (Sautsyka) জেলা ও কাটওয়া [Katwa] থানা।
*১৮. মুর্শিদাবাদ—
১. বীরভূম পরগনা।
২. রাজশাহী—তবে আম্মার ও সুলতানাবাদ (যা ভাগলপুরের সাথে যুক্ত করা হয়েছিল), এবং সুরূপপুর, পাটিলাদহ ও বিটারবন্দ (যা রংপুরের সাথে যুক্ত করা হয়েছিল)—এগুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
৩. ফতেহসিংহ।
৪. মুর্শিদাবাদ জেলার অবশিষ্ট অংশ (পদ্মার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত)—তবে ভূষণা, কাটওয়া থানা এবং শাহিজিল এর ব্যতিক্রম।
যেসব জেলার নামের পাশে [*] তারকা চিহ্ন দেওয়া হয়েছে, সেই জেলাগুলোর আদালতগুলো যেহেতু “বড় বড় শহরে অবস্থিত” ছিল, তাই সেগুলোকে একজন ‘কভেনেন্টেড সিভিল সার্ভেন্ট’-এর তত্ত্বাবধানে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; এই কর্মকর্তাকে (আগের ‘সুপারিনটেনডেন্ট’ বা তত্ত্বাবধায়ক পদের পরিবর্তে) ‘বিচারক’ (Judge) হিসেবে অভিহিত করার কথা ছিল এবং তাঁর পদমর্যাদা “রাজস্ব আদায়ের সাময়িক দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পদমর্যাদা থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র” হওয়ার কথা ছিল।
অবশিষ্ট আদালতগুলো (চাতরা, ভাগলপুর, ইসলামাবাদ এবং রংপুর) — যেগুলো “সাধারণত প্রদেশগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত এবং অত্যন্ত দরিদ্র ও স্বল্প জনবসতিপূর্ণ; ফলে সেখানে কোনো অতিরিক্ত আদালত বা বিচারিক এখতিয়ার স্থাপন করা হলে তা অধিবাসীদের জন্য স্বস্তির পরিবর্তে বরং হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে”—সেগুলোর সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব কালেক্টরদের ওপর ন্যস্ত করা হয়, এবং এই ব্যবস্থা “ততদিন বলবৎ থাকবে যতদিন না সেখানে আরও পূর্ণাঙ্গ বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়।”
৩. ১৭৮১ সালের ৫ই জুলাই প্রণীত প্রবিধানমালার (Regulations) মাধ্যমে নিম্নোক্ত পরিবর্তনগুলো সাধন করা হয় : —
১. “লোয়াহ” (Loyah)-তে অবস্থিত মফস্বল দেওয়ানি আদালতটিকে স্থানান্তরিত করে “ম্যাসি”—অর্থাৎ চম্পারণ জেলার মেহসি (Mehsi)-তে নিয়ে যাওয়া হয়।
২. অনুরূপভাবে, “রঘুনাথপুর” (Rogonautpore)-এর আদালতটিকে স্থানান্তরিত করে রাজহাট-এ নিয়ে যাওয়া হয়।
৩. অনুরূপভাবে, “আজমেরীগঞ্জ” (Azmeery Gange)-এর আদালতটিকে স্থানান্তরিত করে সুলতেমো [Sultansi]-তে নিয়ে যাওয়া হয়।
চলবে
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট ফ্রম দ্য সিলেক্ট কমিটি অন দি অ্যাফেয়ার্স অফ দি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সংক্ষেপে দ্য ফিফথ রিপোর্ট।

বিশ্বেন্দু নন্দ