শুক্রবার | ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৫৮
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার এবারে দশহরাতে আরামবাগের মনসাডাঙ্গার মনসা মাতার পূজায় ছাগবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বরেন্দ্র ও গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাস, কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের সমন্বয়ে একটি পুনঃপাঠ : অত্রি ভট্টাচার্য ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘ছেঁড়া জামার ঈশ্বর’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অশুভ শক্তির বিনাশ ও ভক্তের সুরক্ষায় নৃসিংহ চতুর্দশী : রিঙ্কি সামন্ত বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার

দিলীপ মজুমদার / ২০৫ জন পড়েছেন
আপডেট মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

হকার — কাকে বলে হকার

‘হকার’ এক পরিচিত শব্দ। নানা দেশে দেখা যায় তাদের। ‘হকারে’র সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই। যারা ঘুরে ঘুরে জিনিসপত্র ফেরি করেন, কিংবা কোন রাস্তার ধারে বা ফুটপাথে জিনিস বিক্রি করেন, সাধারণভাবে তাঁদের হকার বলে। কেম্ব্রিজ অভিধানে এঁদের সংজ্ঞা : ‘Someone who sells goods in formally in public places’. আবার অক্সফোর্ড অভিধানে বলা হয়েছে : ‘A person who travels about selling goods typically advertising them by shouting’ . ১৯১৪ সালে হকারদের সম্বন্ধে যে আইন প্রণয়ন করা হয় [The Street Vendors (Protection of Livelihood and Regulation of Street Vending) Act] সেই আইনে বলা হয়েছে : Street vendors’ means a person engaged in vending of articles, goods, wares, food items or merchandise of everyday use or offering services to the general public in a street, lane, sidewall, footpath, pavement, public park or any other public place or private area, from a temporary built up structure or by moving from place to place…’. হকারের সমার্থক শব্দ : হাকস্টার, পেডলার, চ্যাপম্যান, কস্টারমঙ্গার, পিচম্যান ইত্যাদি। হকারদের নানা শ্রেণি : স্বীকৃত হকার অর্থাৎ যাদের প্রতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি আছে, ক্ষণস্থায়ী হকার অর্থাৎ যাদের কার্যকলাপ বিক্ষিপ্ত এবং কোন বৈধতা নেই, এছাড়া আছে স্থির হকার, আধা-স্থির হকার, ভ্রাম্যমান হকার।

হকারে — দেশে দেশে

হকারদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। প্রাচীন রোমে হকারদের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করেছেন ক্লেয়ার হলারান। রোমানরা নানা নামে ডাকতেন হকারদের। যেমন অ্যাম্বুলেটার (যে মানুষ হেঁটে বেড়ায়), সার্সিটর (যে মানুষ ঘুরে বেড়ায়), সার্কুলেটর (ভ্রাম্যমান বিনোদনকারী), ইন্সটিটর (ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপক)। এই হকাররা মন্দির, থিয়েটার, স্নানাগার,ফোরামের কাছে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করত। তবে রোমানরা হকারদের খুব একটা ভালো চোখে দেখতেন না, তাঁদের সমাজিক মর্যাদা ছিল না।

রাস্তার হকারদের ব্যবসা বাংলাদেশের ঢাকার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইন্দোনেশিয়ার হকারদের বলে ‘পেদাগাং কাকি লিমা’, যার অর্থ পাঁচ পায়ের ব্যবসায়ী। এই সব হকাররা গেরোবাক বা ঠেলাগাড়ি, সেপেদা বা সাইকেল অথবা নিজের কাঁধে বহন করা ঐতিহ্যবাহী পিকুলান বা ঝুড়ির মাধ্যমে তাদের ব্যবসা চালায়। ফিলিপাইনস, লাওস, ক্যাম্বোডিয়া, ভিয়েতনামে হকারদের খুব কদর। তাহো তাঁদের বিক্রির প্রধান উপকরণ। চিন ও হংকংএর হকারদের বিক্রির তালিকায় থাকে ফিশ বল, বিফ বল, বুৎজাইগো, ভাজা চেস্টনাট, স্টিংকিং টোফু।

লণ্ডনের হকাররা উনিশ শতকে ব্যবসার শীর্ষে ছিল। সব রাস্তায় তাঁদের ডাক শোনা যেত। মাফিন বিক্রেতারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে মাফিন বিক্রি করতেন। লাতিন আমেরিকায় হকাররা অ্যাম্বুলেন্টিস নামে পরিচিত। আর্জেন্টিনায় তাঁরা ম্যানতেরস, ব্রাজিলে ক্যামেলস নামে পরিচিত। ইংরেজিভাষী ক্যারিবিয়ানে হকারদের সাধারণত দর কষাকষি করা ব্যক্তি বলে উল্লেখ করা হয়। মেক্সিকো সিটিতে বহু যুগ থেকে হকারদের অস্তিত্ব আছে। নিউইয়র্কে হকাররা সাধারণত রাস্তার বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। সেখানে খেলার মাঠে স্টেডিয়াম বিক্রেতারাও হাজির হন।

ভারতে হকার

ভারতে বহুযুগ আগে থেকেই ছিল হকাররা। বৌদ্ধ সাহিত্যের জাতক কাহিনিতে সেরিবা আর সেরিবানের আখ্যান তার প্রমাণ। ইংরেজ আমলে যে হকারি ছিল তার প্রমাণ আমরা পাই শিবনাথ শাস্ত্রীর ‘রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গ সমাজ’ বইতে। মৃণাল সেনের ‘নীল আকাশের নীচে’ চলচ্চিত্রে হকারি পেশার উল্লেখ আছে। আবাসন ও দারিদ্র্য বিমোচন মন্ত্রকের মতে ভারতে আছে ১ কোটির মতো হকার, যার মধ্যে মুম্বাইতে ২,৫০,০০০, দিল্লিতে ২,০০,০০০, কলকাতায় ১,৫০,০০০ আমদাবাদে ১,০০,০০০। এদের অধিকাংশই অভিবাসী বা ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক। ভারতের হকাররা ট্রেড ইউনিয়ন এবং সমিতিতে সংঘবদ্ধ হয়েছে। গড়ে উঠেছে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্ট্রিট ভেণ্ডরস অব ইণ্ডিয়া (NASVI)। এই সংগঠনে যুক্ত আছে ৭১৫ টি হকার সংগঠন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে লোকসভায় পেশ করা হয় স্টিট ভেণ্ডরস (প্রোটেকশন অব লাইভলিহুড অ্যাণ্ড রেগুলেশন অব স্ট্রিট ভেণ্ডিং) অ্যাক্ট। এই আইনের লক্ষ্য ছিল সামাজিক সুরক্ষা ও জীবিকার অধিকার প্রদান এবং প্রচলিত লাইসেন্স ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা। বিলটি ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর লোকসভায় ও ২০১৪ সালের ৪ মার্চ রাজ্যসভায় পাশ হয়, ২০১৪ সালের ৪ মার্চ রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করে। কিন্তু বেশির ভাগ রাজ্য বিলটিকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করেনি।

কলকাতায় হকার

১৯০১ সালে কলকাতার জনসংখ্যা ছিল ১,৫১০,০০০। ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে পাকিস্তান থেকে দলে দলে উদ্বাস্তু এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। ১৯৫১ সালে কলকাতার জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৪,৬৭০,০০০। এর পরেও উদ্বাস্তুরা আসে, সেই সঙ্গে ভারতের অন্য প্রান্তর থেকে কলকাতায় বহু মানুষ আসে কলকাতায়। ১৯৮১ সালে কলকাতার জনসংখ্যা ছিল ৯,১৯৪,০০০। ১৯৫১ সালের জনগণনায় যে তথ্য প্রকাশ পায় তা হল :

৩৩.২% মানুষ কলকাতার বাসিন্দা; ২৬.৬% ভারতের অন্য রাজ্য থেকে আগত মানুষ; ২৬.৯% পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত মানুষ। ১৯৮১ সালের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রদত্ত হিসেব থেকে জানা যায় পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের সংখ্যা হল ৮,০০০,০০০। ১৯৭১ সালে কলকাতার ফুটপাথবাসীর সংখ্যা ছিল ৪৮,৮০২; ১৯৮৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৫৫,৫৭১। অন্য রাজ্য থেকে আগত মানুষ ও উদ্বাস্তুদের একটা মোটা অংশ জীবিকা হিসেবে হকারিকে বেছে নেন।

বহুদিন ধরে কলকাতার হকারদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের একটা সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। ‘স্ট্রিটস ইন মোশন : দ্য মেকিং অব ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রপার্টি অ্যাণ্ড পলিটিক্যাল কালচার ইন টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি’ গ্রন্থের লেখক ও গবেযক ঋতজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সখ্যতার কয়েকটি কাহিনি বলেছেন। উদ্বাস্তু হকারদের কাছে নগদ টাকা ছিল না, তাই মহাজন তাঁদের ধারে জিনিস দিতেন না। তখন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা হেমন্ত বসু হকারদের নিয়ে তৈরি করলেন ‘বেঙ্গল হকার্স অ্যাসোসিয়েশন’। ১৯৫০ সালে। ইউনিয়নের কর্তারা দায়িত্ব নেওয়ায় হকাররা মহাজনের কাছ থেকে ধারে জিনিস নিতে পারলেন। ১৯৫২ সালে মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায় কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাথের বই দোকানগুলি তুলে দেবার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু পুলিশ আর কর্পোরেশনের লোকজন দোকান ভাঙতে এলে ছাত্র,. শিক্ষক, সাধারণ মানুষ হাত ধরাধরি করে মানব শৃঙ্খল তৈরি করে বাধা দিলেন। ১৯৬০ সালে হ্যারিসন রোড ও লোয়ার সার্কুলার রোডের মোড়ে শ্যামদার চায়ের দোকানে পুলিশ এলে নিত্যযাত্রীরা তাদের বাধা দেন এবং এসে পড়েন সিপিএমের বিধায়ক নারায়ন রায়, পি এস পির বিধায়ক সুধীরচন্দ্র দাস ও ফরওয়ার্ড ব্লকের হেমন্ত বসু। তবে হকারদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির কাজে ব্যবহার করার বীজ বোধহয় এসবের মধ্যেই ছিল।

অপারেশন হকার

মানবাধিকারের প্রশ্নে বিত্তহীন হকারদের প্রতি সমবেদনা সঙ্গত। কিন্তু সেই সঙ্গে পথযাত্রীদের অধিকারকে খর্ব করার প্রশ্নও এসে যায়। ফুটপাথ যাত্রীদের জন্য। হকাররা যদি সেই ফুটপাথ দখল করে বসে থাকেন তাহলে যাত্রীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। শুধু তাই নয়, শহরেরও স্বাস্থ্যহানির সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই শাসকদল হকারদের ভোটব্যাঙ্কের কথা মনে রেখেও মাঝে মাঝে হকার উচ্ছেদের জন্য চেষ্টিত হন। সে চেষ্টা শুরু হয়েছে কংগ্রেস আমল থেকেই। গত শতকের ষাটের দশকে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সরকার হকার উচ্ছেদের জন্য ‘অপারেশন হকার’ নামে এক উচ্ছেদ অভিযান চালায়। তখন হকারদের সংগঠিত করে কমিউনিস্ট পার্টি সরকারের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানায়। থেমে যায় অপারেশন হকার।

শিয়ালদহ ফ্লাইওভার ও হকার উচ্ছেদ

১৯৮১ সাল। তখন বামফ্রন্টের সরকার। তৈরি হবে শিয়ালদহ ফ্লাইওভার। হকার উচ্ছেদ না করে তা সম্ভব নয়। কিন্তু হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হলেন। বামফ্রন্ট ঘোষণা করলেন যে ১৯৭৭ সালের আগে যাঁরা হকারি করতেন, তাঁদের উচ্ছেদ করা হবে না। বিধানসভার সদস্যদের নিয়ে তৈরি করা হল এল ‘পিটিশন কমিটি’। ১৯৮৭-৮৮ সালে এই কমিটি তার প্রথম রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে বলা হয় যে উচ্ছেদ কোন সমাধান নয়, কারণ এই পেশাকে বেছে নেবার পেছনে আর্থ-সামাজিক কারণ আছে। কমিটি সরকারের কাছে কিছু সুপারিশ পেশ করে। হকাররা সেই সুপারিশগুলি মেনে নিলেও সরকারের তরফে অভাব ছিল সক্রিয়তার। (A Paper presented by Saktiman Ghosh on 13.08.2012 at the discussion and seminer on street vendors Model Act,2009 of Street Vendors at Azim Premji University, Bangalore) কলকাতা পুরসভা যে ‘কনসালটেটিভ কমিটি’ গঠন করে তাঁরাও উচ্ছেদেরর বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন তাঁদের সুপারিশ : হকারদের জন্য ১ মিটার বাই ১ মিটার স্থান হকারদের জন্য দেওয়া হবে ফুটপাথে।

অপারেশন সানশাইন

অপারেশন সানসাইনের একটা পটভূমি আছে। সে পটভূমি হল উদারবাদী অর্থনীতি। যেটা শুরু হয় ১৯৯১ সালে। উদারবাদী অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় ‘উন্নয়ন’ শব্দটি। পুঁজির সঞ্চয়ন ও মুনাফার ক্ষেত্রে তৈরি হব নতুন ক্ষেত্র। সরকারি ক্ষেত্রকে বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হল। দেশি-বিদেশি বহুজাতিক সংস্থার ভোগ্যপণ্য বিক্রির বাজার ও শপিংমল তৈরি করতে হবে। সেসবের জন্য হকারমুক্ত শহর প্রয়োজন। উন্নয়নের বলি হতে হবে হকারদের।

তাই শুরু হল অপারেশন সানশাইন। নেতৃত্ব দিলেন সিপিআইএমের দুই নেতা সুভাষ চক্রবর্তী ও কান্তি গাঙ্গুলি। ১৯৯৬ সালের ২৪ নভেম্বর। মধ্যরাতে ১০ হাজার পুলিশ, র্যাফ আর ক্যাডার বাহিনী নামলেন হকার উচ্ছেদে। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বহু স্টল। অগ্নিসংযোগ করা হল। ১৬০০টি স্টল ধ্বংস হল ১০২ জন হকার গ্রেপ্তার হলেন। ১৮ জন হকার আত্মহত্যা করলেন। জীবিকা হারিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন প্রায় ১০০ জন হকার। বিধানসভায় পাশ হল হকারবিরোধী বিল। বিলে বলা হল হকারি অ-জামিনযোগ্য অপরাধ; সরকারি নির্দেশ লঙ্খন করলে ৩ বছরের জেল এবং/অথবা জরিমানা বা উভয় হতে পারে। হকাররা শুরু করলেন আন্দোলন। হকার সংগ্রাম কমিটি বললেন : ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, রাজনীতিবিদ, পুলিশ, পুর কাউন্সিলর সকলেই হকারদের ব্যবহার করেন; প্রতি বছর হকারদের বিভিন্ন সংস্থাকে ২৬৫ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয় যা তাঁদের ব্যবসার প্রায় ৩ শতাংশ। সরকারের হকারবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে তরুণ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হকারদের পাশে দাঁড়েন ছাত্র-ছাত্রী, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ। ৩ বছর পরে হকাররা সফল হলেন, আবার হকারি শুরু হল। কলকাতার মহানাগরিক বিকাশ ভট্টাচার্য জানালেন হকাররা শহরের যেকোন রাস্তাতে বসতে পারবেন এবং ফুটপাথের এক তৃতীয়াংশ দখল করতে পারবেন; তবে তাঁরা কোন ক্রশিং-এর ৫০ মিটারের মধ্যে বসতে পারবেন না এবং কোন স্থায়ি ইমারত গড়তে পারবেন না।

হকারদের জন্য আইন তৈরির ইতিবৃত্ত

রিম্পা ঘোষ ‘সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসে’র পিএইচডি রিসার্চ স্কলার। তাঁর মূল্যবান গবেষণাপত্রের নাম, ‘হকারবৃত্তান্তের বিবর্তন : অপারেশন সানশাইন থেকে কেন্দ্রীয় আইন’। শ্রীমতী ঘোষ বলেছেন যে ২০০০ সালের ৭-৯ জানুয়ারি কলকাতার লোরেটো স্কুলে হকারদের বিষয়ে এক জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যেরহকার ইউনিয়নের প্রতিনিধি, আইন বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী ও সরকারি অফিসারেরা। এই কর্মশালা থেকে হকারদের স্বার্থে জাতীয় নীতি ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি উচ্চারিত হয়। এখান থেকেই হকারদের সর্বভারতীয় সংগঠন ‘ন্যাশনাল হকার ফেডারেশনে’র সূচনা।

২০০১ সালে দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে এক সভা আয়োজিত হয় কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে। শহরের হকারদের জন্য ড্রাফট পলিসি তৈরির জন্য গঠন করা হয় এক টাস্ক ফোর্স। এই টাস্ক ফোর্স বিভিন্ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০০৪ সালে প্রণয়ন করে জাতীয় হকার নীতি। দুঃখের বিষয় কোন রাজ্য সরকার জাতীয় হকার নীতিকে রূপায়িত করার আন্তরিক উদ্যোগ দেখান নি। কলকাতা পুরসভা ২০০৪-এর পলিসি অনুযায়ী গঠন করে ‘এপেক্স কমিটি’। এই কমিটিতে হকারদের প্রতিনিধি ছিলেন ৮০%, ছিলেন পুরসভা ও পুলিশের প্রতিনিধি। এপেক্স কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত : ক] কোন স্থায়ী কাঠামো রাখা যাবে না, খ] রাস্তার উপরে বসতে পারবে না কোন হকার, গ] হকাররা ফুটপাথের একের তিন অংশ ব্যবহার করতে পারবে এবং দুয়ের তিন অংশ থাকবে পথচারীদের জন্য, ঘ] কলকাতা শহরের ৫৮টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংযোগস্থলের ৫০ মিটারের মধ্যে কোন হকার হকারি করতে পারবেন না।

হকারদের জন্য কেন্দ্রীয় আইন তৈরির জন্য ২০০৯ সালে সংশোধিত জাতীয় নীতি ও ‘দ্য স্ট্রিট ভেণ্ডরস (প্রোটেকশন অব লাইভলিহুড অ্যাণ্ড রেগুলেশন অব স্ট্রিট ভেণ্ডিং) মডেল বিল পাশ হয়। কিন্তু ২০০৯ সালের আইনের রূপায়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলি সক্রিয়তা দেখান নি। সুপ্রিম কোর্টের এক মামলায় বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি ও জি এস সিংভির ডিভিশন বেঞ্চ এক রায়ে বলেন যে ২০১১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত রাজ্য সরকারকে ২০০৯ সালের মডেল আইন অনুযায়ী আইন তৈরি করতে হবে। ন্যাশনাল হকার ফেডারেশনের ধারাবাহিক চাপের ফলে দেশের মাত্র ১১টি রাজ্য ড্রাফট তৈরি করে, ৭টি রাজ্যে হকার আইন পাশ হয়।

৭৪তম সংবিধান সংশোধনের ফলে ফুটপাথ পুরসভার অধীন এবং পুরসভা রাজ্য তালিকাভুক্ত হওয়ার ফলে কেন্দ্রীয় আইন তৈরির ক্ষেত্রে অন্তরায় দেখা যায়। অবশেষে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া তৈরি হয় এবং ২০১৪ সালে আইনটি লাগু হয়। এই আইনে ‘প্রোটেকশন অব লাইভলিহুড’কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। হকারদের কেন্দ্রীন আইন ২০১৪ অনুযায়ী টাউন ভেণ্ডিং কমিটি গঠন করে, সার্ভে করে, হকারদের রেজিস্ট্রিটশন সার্টিফিকেট দেওয়ার পরেই স্থানান্তরকরণ করা যাবে। উচ্ছেদ সম্পূর্ণ বে-আইনি। এই আইনে জীবিকা রক্ষাকেই প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল — ক] টাউন ভেণ্ডিং কমিটিতে হকারদের ভোটে নির্বাচিত ৪০% প্রতিনিধি থাকবেন, খ] শহরের মোট জনসংখ্যার ২.৫% হকারদের জন্য জমির ব্যবস্থা রাখা, যাতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হকারদেরও স্থান সংকুলান হয়।

রিম্পা ঘোষ বলেছেন, “আইন হলেও এর রূপায়ণের ক্ষেত্রে রাজ্যসরকারগুলির গড়িমসিভাব চলতে থাকে। আজও উচ্ছেদ বন্ধ হয় নি কখনও সৌন্দর্যায়নের নামে, কখনও অনুর্ধ-১৭ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে, কখনও স্মার্ট সিটির নাম করে। সাম্প্রতিককালে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর, দিল্লি আর এই রাজ্যের সল্টলেক, সেক্টার-৫, দুর্গাপুরে হকার উচ্ছেদ হয়েই চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার হকারদের জন্য রাজ্য রুলস তৈরি করলেও তা কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্ট সেই রুলস বাতিল করে দিয়েছেন।”

তৃণমূল সরকারের আমলে হকার উচ্ছেদ

২০১৭ সালে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় অনুর্ধ-১৭ বিশ্বকাপ ক্রিকেট। তৃণমূল সরকার সল্টলেক ও নিউটাইনের হকারদের নোটিশ দিয়ে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেন। তবে এই উচ্ছেদ সাময়িক ছিল। বিশ্বকাপের পরে আবার হকাররা নির্দিষ্ট স্থানে ফিরে আসেন। তবে এই সালের ডিসেম্বর মাসে সল্টলেকের করুণাময়ী পুরসভা হকার উচ্ছেদ অভিযান চালান এবং পুলিশের সহযোগিতায় তাঁদের বহু স্টল ভেঙে দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের জুন মাসে পুলিশ ও পৌরসভার আধিকারিকরা কলকাতা, সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউনসহ একাধিক এলাকায় বুলডোজার দিয়ে হকারদের উচ্ছেদ করেছে। কোথাও ভাঙা হয়েছে ছাউনি, কোথাও আস্ত দোকান তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কোথাও সামনের বর্ধিত অংশ খুলে দেওয়া হয়েছে। হকার সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক শক্তিমান ঘোষ তৃণমূল সরকারের এই অভিযানের সঙ্গে বাম আমলের অপারেশন সানশাইনের তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আইন বলছে হকার কোথায় কীভাবে বসবে তা ঠিক করার অধিকার একমাত্র টাউন বেণ্ডিং কমিটির। এরা সব পুরানো হকার। এই রাজ্যের স্থানীয় লোক। সল্টলেক বা নিউটাউনে যে বাহিনী নিয়ে গিয়ে ভেঙে দিয়ে হকার উচ্ছেদ করেছে তাতে অপারেশন সানশাইনের সেই পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। যেটা মুখ্যমন্ত্রী না বললেও তাঁর প্রশাসনের লোকেরা করেছে।’

হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ করেছে বাম সংগঠন, কংগ্রেস এবং বিজেপি। বিরোধী দলনেতা সরকারকে কাঠগোড়ায় তুলে বলেছেন, “রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে বিরোধী দলনেতা হিসেবে হকারদের বলব শুক্রবার থেকে উচ্ছেদ করতে এলে প্রতিরোধে নামুন। প্রয়োজনে আমিও রাজ্যের বুলডোজারের সামনে দাঁড়াব।”

সাম্প্রতিক হকার উচ্ছেদ

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পালা বদল হল। সংখ্যগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি দখল করলেন ক্ষমতা। দ্রুত শুরু হল হকার উচ্ছেদ। এবারেও চলল বুলডোজার। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। আমরা দেখেছি হকার উচ্ছেদে এই রাজ্যে আগেও চলেছে বুলডোজার। তবে এবারের সঙ্গে কিছু পার্থক্য চোখে পড়ছে। পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠনের আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে উচ্ছেদ অভিযান। এবং অভিযানটি অত্যন্ত ব্যাপক। প্রায় সমস্ত রাজ্য জুড়ে। প্রতিবাদে নেমেছেন বামদলগুলি, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস। একেই ইতিহাসের প্যারাডক্স বলেছেন অরূপকুমার সেন (ফ্রন্টইয়ার উইকলি, ১৮.০৫.২০১৮)। কংগ্রেস আমলের উচ্ছেদে প্রতিবাদী বামদল; বাম আমলের উচ্ছেদে প্রতিবাদী কংগ্রেস; তৃণমূল আমলের উচ্ছেদে প্রতিবাদী বামদল. কংগ্রেস ও বিজেপি; আবার বিজেপি আমলের উচ্ছেদে প্রতিবাদী বামদল, কংগ্রেস, তৃণমূল। আর এসব দেখে কি ভাবছেন হকাররা ? ভাবছেন :

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

2 responses to “কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার”

  1. প্রবীর সামন্ত says:

    আপনার এই লেখা হকারের ইতিবৃত্ত, হকার শব্দের ব্যাখ্যা, এই পেশার প্রাচীনত্ব কতদিন পূর্বে কোন দেশে কোথায় এই পেশার উল্লেখ আছে,ভারতবর্ষে হকারদের নিয়ে নানা আলোচনা কমিটি গঠন, আইন নিয়মের সূত্রপাত, পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কেমনভাবে এই হকারদের নিয়ে উচ্ছেদ স্থাপন,নিয়ম তৈরি, নিয়ম আইন না প্রয়োগ না করা এই নিয়ে মোটামুটি বিশদ আলোচনা করেছেন। অনেক না জানা কথা জানা হল।
    আমরা সাধারণ মানুষরা মনে করি এই পেশাকে কেউই সম্মানের চোখে দেখে নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শাসকগোষ্ঠী সব সময়ই হকারদের সঙ্গে রাজনৈতিক ছলনা করেছেন, ক্ষমতা দখল, ভোট যুদ্ধের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেছেন। হকারদের রুজিরোজকারের কথা মাথায় রেখে আন্তরিকভাবে এঁদের সমস্যার সুষ্ঠ সমাধানের কথা কেউ ভাবেন নি। তাই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকার আসবে যাবে এই হকারদের পুতুলখেলার পুতুলের মত ব্যবহার করবে এবং বিরোধীরাও সেই খেলার একটি পক্ষ হয়ে ফায়দা লোটার খেলায় মত্ত হবেন। আর বিজ্ঞ জ্ঞানী মানুষেরা “খুব অন্যায়” – “খুব অন্যায়” বলে প্রগতিশীলতার রুমালে মুখ মুছে বিছানায় শুতে যাবেন। এসব কথা সাধারণ মানুষেরা জানেন আর জানেন হকাররা।
    সমস্যায় জর্জরিত করে না রাখলে রাজত্ব নিরাপদ হয় না।

  2. Abhijit Banerjee says:

    প্রযুক্তি গত সমস্যার কারণে গতকাল থেকে চেষ্টা করে অবশেষে পড়তে পারলাম এই অত্যন্ত সুচিন্তিত,সময়োচিত বিষয়ের ওপর লেখা তথ্য নির্ভর নিবন্ধটি।
    বেঙ্গল হকার্স অ্যাসোসিয়েশন ঘটনা চক্রে শত বর্ষ প্রাচীন টাউন স্কুলের অদূরে অবস্থিত।
    তখন কেউ কখনো নেতাজির ঘনিষ্ঠ অনুগামী সর্বজন শ্রদ্ধেয় হেমন্ত বসু কে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করছেন বলতে পারে নি।
    কিন্তু নিয়তির পরিহাস, হেমন্ত বসু এই বেঙ্গল হকার্স অ্যাসোসিয়েশন এর অনতি দূরে আততায়ীর হাতে নৃশংস আক্রমণের শিকার হন।
    হত্যাকারীর বা হত্যাকারীদের প্রকৃত পরিচয় আজও অস্পষ্ট।
    কিন্তু এ কথা স্পষ্ট যে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হকার আন্দোলন রাজনৈতিক সুবিধাবাদী রূপান্তরিত হয়েছে।
    তবে এখানে উল্লেখ্য অপারেশন সান সাইন এর সময় জয়পুরিয়া কলেজের প্রবীণ অধ্যাপক জগদীন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য তাঁর পছন্দের রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে গিয়েও হাতিবাগান অঞ্চলে,এর বিরোধিতা করেন এবং কারারুদ্ধ হন।
    অর্থাৎ কিছু মানুষ যেমন স্বার্থান্বেষী তেমনি কিছু মানুষ বিবেকবান ছিলেন,আছেন এবং থাকবেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন