টিফিনের সময় আজ টিচার্সরুমে হইচই অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই। আজ যে বসুধাদি এসেছে। নিজের হাতে তৈরী বাটিক আর কাঁথাস্টিচের শাড়ির সম্ভার নিয়ে বছরে অন্ততঃ বারদুয়েক এই স্কুলের ম্যাডামদের কাছে আসে বসুধা। এত কম আসে বলে ম্যাডামরা অনুযোগ করেন; বসুধা হাসিমুখে সব মেনে নেয়। বলে, “কি যে করি! সবই তো হাতের কাজের শাড়ি। সংসার সামলে এসব তৈরী করতে আমার একটুবেশিই সময় লেগে যায়।”
বসুধা টিচার্সরুমের চারদিকে চোখ ঘোরাতে থাকে। কোণের দিকের চেয়ারে বসা বসা মৌনীর ওপর ওর চোখ আটকে যায়। মুখে বলে, “ঐশী ম্যাডামকে তো দেখছি না!” ওদিক থেকে নিষ্ঠা কলকলিয়ে ওঠে, “বসুধাদি তোমার ঐশী ম্যাডাম এখন বিলেতবাসী গো। বিয়ের পর ইউকেতে সেটেলড্।” পাশে বসা ঋতি বসুধার অবস্থা দেখে হেসে ফেলে। নিষ্ঠাকে আলতো ঠেলা মেরে বসুধার দিকে ইঙ্গিত করে। তারপর বলে, “ও বসুধাদি, একজায়গায় আটকে থাকলে হবে?” বসুধা ওর কথা ধরতে পারে না। মৌনীর দিকে তাকিয়েই বলতে থাকে, “ঠিকই বলেছেন ম্যাডাম। ঐশী ম্যাডাম ভালই করেছেন। একই জায়গায় পড়ে না থেকে বিলেতে চলে গেছেন। তবে ঊনি আমার হাতের কাজের খুব প্রশংসা করতেন। প্রতিবারই কিছু না কিছু আমার থেকে নিতেন।” ওর কথায় ঋতি হেসে গড়িয়ে পড়ে। নিষ্ঠা বলে, “তুমিও আর একজায়গায় আটকে থেকো না বসুধাদি। আমাদের দিকেও একটু দেখ। আজ কি এনেছ দেখাও।”
বসুধার সম্বিৎ ফেরে, চোখ নামিয়ে নেয়। ঋতি উঠে গিয়ে মৌনীর কাঁধে হাত রেখে বলে, “বসুধাদি, ইনি হলেন মৌনী ম্যাডাম। ঐশীর জায়গায় এসেছেন। তোমার শাড়ি এনাকে দেখাও। ইনিও নিশ্চয়ই খুশী হবেন তোমার হাতের কাজ দেখে।” মৌনী বসুধার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসে। ঋতি নিজের চেয়ারে ফিরে আসে।
বসুধা ব্যাগ খুলতেই সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ওর নানারঙের, নানানকাজের শাড়ির সম্ভার। একটু সময় পরে মৌনী টিচার্সরুম ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
স্কুলটা প্রি-প্রাইমারী। ম্যাডামরা বেশিরভাগই কাছাকাছি থাকেন। একমাত্র মৌনী একটু দূরে থাকে। নিজের গাড়িতে আসে। অসুবিধে হয় না। স্কুলে এসে খুব কমসময়ই ও টিচার্সরুমে কাটায়। নিজের অফ্-পিরিয়ড থাকলে স্কুলের এদিকওদিক ঘুরে বেড়ায় ও। লক্ষ্য রাখে বাচ্চাদের ওপর। এমনকি বাচ্চাদের টয়লেটের সামনে গিয়েও দেখে ওরা কোনো অসুবিধায় পড়ল কিনা। কলিগরা এ নিয়ে খানিকটা কানাকানিও করে। কেউ বলে অহঙ্কারী, কেউবা বলে ম্যানেজমেন্টের নেকনজরে পড়তে চাইছে। কেউ কেউ আবার ওকে সুপরামর্শ দিয়েছে, “এত কাজ দেখিয়ে আমাদের বিপদের মুখে ঠেলো না ভাই। এই সামান্য মাইনেতে অত কাজ পোষাবে না।” মৌনী নিরুত্তর থেকেছে। হেসে এড়িয়ে গেছে।
নিষ্ঠা একটু ফাজিল টাইপের মেয়ে। বলে, “মৌনী তুমি তো তোমার নামকে সার্থকতার চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছ। তোমার ক্লাসের বাইরে তো তোমার গলার আওয়াজই শোনা যায় না। আর আমাকে দেখ! নিজের নামের উল্টোপথে হাঁটি। যেকোনো কাজ যতটুকু না করলে নয় ঠিক ততটুকুই করি। আমার চাকরির উদ্দেশ্য টাকা। বিনিময় প্রথায় বিশ্বাস করি। তাই যতটুকু পাই ততটুকুই দিই।” ওর কথায় মৌনী অবাক হয়, মুখে কিছু বলে না।
প্রতিদিনই মৌনীর বাড়ি থেকে টিফিন আসে। ওকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে গাড়ি চলে যায়। টিফিনটাইমে ওর জন্যে খাবার নিয়ে আসে। মৌনী স্কুলের বাইরে বেরিয়ে গাড়ি থেকে টিফিনবক্স নিয়ে আসে। প্রথমদিকে দারোয়ান বলত, “ম্যাডামজী আপনি কষ্ট করে কেন আসেন? আমিই আপনার টিফিন পৌঁছে দেব।” মৌনী রাজী হয়নি। বলেছে, “আমার কোনো অসুবিধা হয় না। যেদিন পারব না সেদিন তোমাকে বলব।”
প্রতিদিন মৌনী টিচার্সরুমে টিফিনবক্স খুললেই সুঘ্রাণ সবার নজর কাড়ে। সাতসকালে কেক, ডিমসেদ্ধ, মিষ্টির ওপর ভরসা করে বেশিরভাগ কলিগ স্কুলে আসে। সেখানে মৌনীর বক্সে কোনদিন গরমাগরম কচুরী-আলুরদম তো কোনদিন চাউমিন, পাস্তা। ঋতি আর নিষ্ঠা যেহেতু ওর কাছাকাছি বয়সের তাই ওরা কৌতূহল জিইয়ে রাখে না। জিজ্ঞাসা করে, “তোমার বাড়িতে কে কে আছে গো? এত সুন্দর করে তোমার জন্যে ব্রেকফাস্ট সাজিয়ে পাঠিয়ে দেয়।” মৌন জবাবে বলে, “আমার সারথি।” ওরা চোখ গোলগোল করে, সে কে? ও হাসে। বলে, “ওই যে, যার বাহনে চড়ে রোজ স্কুলে আসি! তার একটা ক্লাউড কিচেনও আছে। সেখান থেকেই আমি ভাগ পাই।”
মৌনীকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে নিষ্ঠা কলকলিয়ে ওঠে, “মানে তোমার ড্রাইভার! কাল থেকে আমারও চাই টিফিন। তোমার টিফিনে ভাগ বসিয়ে দেখেছি খাবারের কোয়ালিটি বেশ ভালই, কিন্তু দাম কিরকম? খুব বেশি হলে এ্যাফোর্ড করতে পারব না। এখানে ক’টা টাকাই বা পাই।” পাশ থেকে ঋতি বলে, “আমিও নেব। প্রতিদিন টিফিন গোছানোর হাত থেকে তো মুক্তি পাব। মৌনী, আজ ছুটির পর তোমার সারথির সাথে কথা বলব।”
স্কুল ছুটির পর মৌনী ওদের সাথে সারথির আলাপ করিয়ে দেয়। কথা বলে ওরা ভীষণ খুশি। এরপর নিয়মিত ওদের জন্যেও খাবার নিয়ে আসে সারথি।
কিছুদিন পরে সবার আড়ালে ঋতি হঠাৎই বলে, “ মৌনী, তোমার সারথি কি অবিবাহিত?” হকচকিয়ে গিয়ে মৌনী বলে, “হঠাৎ এমন প্রশ্ন?”
ঋতি খানিকটা সময় নিয়ে যেন নিজেকে গুছিয়ে নেয়। তারপর বলে, “আমার কি জানি কেন মনে হয় ও অন্য ড্রাইভারদের থেকে আলাদা। ওর পরিশীলিত কথাবার্তায় যথেষ্ট সুশিক্ষিত বলেই মনে হয়। মুখ ভর্তি খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি নিয়েও বেশ লাগে দেখতে। তবে চোখদুটো খুব চঞ্চল। সবসময় কি যেন একটা খোঁজে। কথা বলতে বলতেও গাড়ির ভেতরে তাকিয়ে থাকে।”
মৌনী টিপ্পুনী কাটে, “আরিব্বাস, সাংঘাতিক অবজারভেশন করেছ তো! ব্যাপারটা গুরুতর বলে মনে হচ্ছে।” ঋতি ওকে জড়িয়ে ধরে কানে কানে বলে, “মনে হচ্ছে আমি ওর প্রেমে পড়েছি।” ঋতির কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে মৌনী ওর হাত দুটো ধরে। বলে, “ও যে আমার সারথি। ওকে ছাড়া আমি অচল।” ওকে চুপ করিয়ে দিয়ে ঋতি বলে, “আমি এটুকু বুঝেছি, ড্রাইভারী করেও যে ক্লাউড কিচেন চালাতে পারে তার জীবনে এগিয়ে চলার দক্ষতা আছে। ও যদি অবিবাহিত হয় তাহলে আমার জন্যে একটু চেষ্টা কর না মৌনী। আমি কথা দিচ্ছি ও তোমার সারথি থাকবে। বরের মনিব হিসেবে তোমাকে মেনে নিতে আমার আপত্তি নেই।”
“ঠিক আছে চলো, আজই না হয় কথাটা পাড়ি সারথির কাছে।”
স্কুল ছুটির পর দুজনে গাড়ির কাছে আসে। গাড়ির জানলায় মুখ ঢুকিয়ে মৌনী বলে, “এই যে সারথি, একটু নেমে আয়। তোর সাথে ঋতির কিছু কথা আছে।
ঋতি খুব আস্তে মৌনীকে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কি ওকে সারথি বলেই ডাক?”
“হ্যাঁ, যে আমার পথপ্রদর্শক তাকে ভালোবেসে আর কি নামেই বা ডাকতে পারি! তোমার কি আপত্তি আছে? তাহলে না হয়…” চুপ করে যায় মৌনী। ততক্ষণে সারথি গাড়ি থেকে নেমে এসেছে। খানিকটা বিরক্তি নিয়েই ঋতিকে জিজ্ঞাসা করে, “খাবারে কি কিছু প্রবলেম ছিল?”
ঋতি হাঁ হাঁ করে ওঠে, “না না একেবারেই সেসব কিছু নয়। আমি ভাবছিলাম যে সবাইমিলে একটা ছোটখাটো আউটিংএ গেলে কেমন হয়?” মৌনী সারথিকে চোখ টেপে। সবটা বুঝতে না পারলেও কিছু একটা গোলমাল আন্দাজ করে সারথি বলে, “বাইরে কেন, সামনেই তো নববর্ষ। ওই দিন তো স্কুল ছুটি। সেদিনই না হয় বাড়িতে আসুন। সবাইমিলে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া, গল্প সবই হবে।
ঋতি খানিকটা ধন্দে পড়ে, প্রথমেই বাড়িতে ডাকাটা অস্বস্তিতে ফেলে ওকে। তবুও জিজ্ঞেস করে, “আপনার বাড়ি কোথায়?”
“চিন্তা কোরো না। ঠিকানাটা আমি তোমাকে হোয়াটসএপে পাঠিয়ে দেব। আমিও তো ওই বাড়িতেই থাকি।” মৌনী উত্তর দেয়।
ঋতির কাছে সবটা কেমনযেন গোলকধাঁধা লাগে। কি বলবে বুঝে উঠতে পারে না। মৌনী ওকে আশ্বস্ত করে, “তুমি আমার ঠিকানাতেই এস। সারথি থাকবে।
রবিবার সন্ধ্যেয় মৌনীর ছোট্ট ফ্ল্যাটের ড্রয়িংরুমে আড্ডা জমে উঠলেও ঋতি উসখুস করছে, এখানে মৌনী আর ওর ড্রাইভার ছাড়া আর কেউ নেই। সারথির পরিজন বা মৌনীর পরিবারের কথা সরাসরি জিজ্ঞাসা করতেও কোথায় যেন ওর বাঁধছে। যে আজ নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল সে খাবার সার্ভ করা আর একসাথে ডিনার করার সময় দায়সারাগোছের দু-চারটে কথা বলেই উধাও। তবে বুঝতে পারছে যে কোথাও একটা গোলমাল আছে। তবে কি ড্রাইভারের সাথে মৌনীর অনৈতিক কোনো সম্পর্ক! আবার মন থেকে এসব ভাবনা ঝেড়ে ফেলে। ভাবে, যাকগে, যা খুশি হোক না কেন মৌনী যদি ওর একান্তে বলা কথার সম্মান না রাখে তাহলে সারথিকে নিয়ে ভাবনার এখানেই ইতি টানবে ও। যাইহোক, রাতের খাওয়াদাওয়ার পাট মিটলে মৌনী বলে, “চল ঋতি, আমার এই ছোট্ট পৃথিবীটা তোমাকে ঘুরিয়ে দেখাই। মৌনী ওকে নিয়ে দুকামরার এই ফ্ল্যাটের একটা ঘরে ঢোকে। ঘরটা খেলনা আর বাচ্চাদের অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো। ছোট্ট বিছানার পাশের টেবিলে একটা মিষ্টি মেয়ের ছবি। সেদিকে তাকিয়ে ঋতি জিজ্ঞেস করে,”তোমার মেয়ে?” মৌনী ঘাড় নাড়ে, “হুঁ।”
“কোথায় সে? দেখছি না তো তাকে?”
সেকথার উত্তর না দিয়ে বলে, “চল ওঘরে যাই”।
পাশের ঘরে হালকা নীল আলো জ্বলছিল।
ওরা ঘরে ঢোকে। মৌনী টিউবলাইটটা জ্বেলে দেয়। ঝকঝকে আলোটা নিমেষে ঋতির মুখের সব আলো যেন শুষে নেয়। ওর পা-দুটো যেন মাটির সঙ্গে গেঁথে গেছে। এ কি দেখছে ও! দেওয়াল জুড়ে মৌনী আর সারথির বিয়ের ছবি ঝকঝক করছে। নিজেকে খানিকটা সামলে নিয়ে কোনওরকমে বলে, “এই পরিহাসটা কেন করলে মৌনী? বছরের প্রথম দিনেই সারপ্রাইজ গিফ্ট দিলে!” ওর হাত ধরে নিয়ে ওকে খাটের ওপর বসায় মৌনী। বলে, “বিশ্বাস কর, আমি কোনো সত্য গোপন করতে চাইনি। ভালোবাসার সম্পর্কের ওপর জীবন আমাদের চোখ রাঙিয়েছে। তাই আজ খুব কাছের সম্পর্ক সবার সামনে তুলে ধরতে ভয় পাই। মনে হয় আমরা নিজেদের মধ্যে যেমনটি আছি তেমনটিই থাকি। যে যা ভাবে ভাবুক।”
ওর কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারে না ঋতি। শুধু ফ্যালফেলিয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। মৌনী বলে চলে, “আমার দশ বছরের মেয়ে সামান্য জ্বরে আমাদের একা করে দিয়ে চলে গেল। অবন, আমার স্বামী শোকটা সামলাতে পারল না। দুনিয়া ভুলে গেল। ওর ব্যবসা লাটে উঠল। আঁকড়ে ধরল শুধু আমাকে। কোত্থেকে জেগে উঠল ওর রান্নার শখ। এটা ওটা রান্না করে মেয়ের ছবির সামনে সাজিয়ে দেয়। ওর সঙ্গে সারাক্ষণ কথা বলে। আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। এই সময়ই স্কুলের চাকরিটা জুটে যায়। সবসময় ভাবতাম কিভাবে ওকে সুস্থ জীবনে ফেরাব। একসময় এই ক্লাউড কিচেনের কথা মাথায় আসে। অবনকে বলি, মেয়ের জন্যে তো রোজই রান্না কর। যেমন অর্ডার পাবে তেমনই না হয় রান্না করবে। তোমাকে কোথাও যেতে হবে না। কেউ জানবে না তোমার কথা। আমি নিজে গিয়ে ডেলিভারী করে আসব। সেখানেও বিপদ। আমাকে একা ছাড়বে না। তাই তো ওকে সারথি বলি। আমি তো বরাবরই বলেছি যে ও আমার জীবনের পথপ্রদর্শক। ওকে ছাড়া আমি অচল। এবার তুমিই বল, তোমার না বুঝতে পারার দায় কি আমার?
ঋতি নিজের ছন্দে ফিরে আসে। বলে, “গাড়িতে তো তোমার মালকিনের হাবভাব। স্বামীর পাশে না বসে সবসময় পেছনে বস। ওকে তুইতোকারি কর। এসব দেখে কি অবনবাবুকে ড্রাইভার ছাড়া অন্য কিছু ভাবা সম্ভব?”
“তুই সম্বোধনটা ছোটবেলার অভ্যেস।”মৌনী হাসে। “আমরা ছোট থেকেই একে অপরকে চিনি। তাই ওটা রয়েই গেছে। আর অবন গাড়ি চালানোর সময় পাশের সীটটা ফাঁকা রাখে পুপুর জন্য। আমাদের মেয়ে। আগে যখন তিনজনে একসাথে বেরোতাম তখন পুপু ওই সীটেই বসত। এখন অবন ওখানে কাউকেই বসতে দেয় না। বলে, ওখানে পুপু আছে। গাড়ি চালাতে চালাতে মাঝেমাঝেই খালি সীটে হাত বোলায়। আমি জানি, ও পুপুকে আদর করে।”
মৌনীর মুখের দিকে ঋতি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। ধীরে ধীরে বলে, “আমাকে অন্ততঃ সব কথা জানাতে পারতে। অবনবাবুর চোখে আমি নীচে নেমে গেলাম। এ লজ্জা রাখি কোথায়!”
ঋতির কাঁধে হাত রাখে মৌনী “তুমি কষ্ট পেও না। আমার সারথি এসবের বিন্দুবিসর্গও জানে না। ও এটুকুই জানে যে তুমি আমাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে চাও। তাছাড়া এর আগে তোমাকে এভাবে একা পাইনি। বলার সুযোগ কোথায়? সবার সামনে সবকিছু না আসাই ভালো।”
ড্রয়িংরুম থেকে অবনের গলা শোনা যায়, “কি রে মৌ, তোদের গল্প হল? সাড়ে দশটা বাজে, চল্ ঋতি ম্যাডামকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি।”
ঋতি চোখ মটকায়, “মৌনী, তোমার সারথি আমাকে তাড়াতে চাইছে। চলো, ওনাকে মজা দেখাচ্ছি।”
ওরা ড্রয়িংরুমে আসে। ঋতি বলে, “চলুন অবনবাবু, এত রাতে মৌনীর যাওয়ার দরকার নেই।”
অবন একটুসময় চুপ করে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে বলে, “মৌ-ই যে আমার শক্তি। ওকে ছাড়া আমি চলব কি করে?”
ওর কথায় ঋতি হেসে ফেলে, “কে যে কার সারথি এই পাজল্ সলভ্ করা আমার পক্ষে অসম্ভব। অতএব মৌনী চল।” গুনগুনিয়ে ওঠে ঋতি, “মন চল নিজ নিকেতনে।।”
পেজফোরনিউজ-এর নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা ২০২৪-এ প্রকাশিত।