শুক্রবার কলকাতার লেক মার্কেটের সামনে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের পথসভা অনুষ্ঠিত হল। এই পথসভায় গণমঞ্চের প্রতিনিধিরা বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মুখোশ খুলে দিতে ও চক্রান্তের কথা বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দিতে আহ্বান জানান। এদিন পথসভায় উপস্থিত বক্তারা বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরব হন। বক্তারা স্পষ্ট জানান, বাংলা ও বাঙালি বিরোধী বিজেপির স্বরূপ উন্মোচনে,
সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে, বেপরোয়াভাবে পশ্চিমবঙ্গকে দখলের ষড়যন্ত্র করছে। এর প্রতিবাদে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। উপস্থিত ছিলেন রন্তিদেব সেনগুপ্ত, সৈকত মিত্র, হরনাথ চক্রবর্তী, প্রদীপ্ত গুহ ঠাকুরতা, নাজমুল হক, ডঃ দীপঙ্কর দে , সুপ্রিয় সেনগুপ্ত, হিমাদ্রীবাবু ও সুদেষ্ণা রায় প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে দিল্লিতে তৃণমূল দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ ও ভারত জোড়ো অভিযানের সাংবাদিক সম্মেলনে উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে এক প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করছে। বক্তারা বলেন, —
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী তালিকা থেকে ৯২ লক্ষ ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।এই সংখ্যা ইউরোপের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার থেকেও বেশি। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম ও মহিলা। আমাদের মতে, মুসলিমদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে এবং তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাগুলো থেকে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যেগুলো মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।

কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মুসলিম বিচারপতিদের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা দখল করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই তারা এখন ভোট চুরির মতো অসাধু উপায় অবলম্বন করেছে। পশ্চিমবঙ্গকে এক নির্বাচনী গণহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে হার নিশ্চিত জেনেই কি এখন ভোটার তালিকায় কারচুপি করে জিততে চাইছে বিজেপি? বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে সাধারণ মানুষদের যেভাবে হয়রানি করে চলেছে, তা সকলের সামনে তুলে ধরতে আজকের এই পথসভা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করতে পারছে না বিজেপি। সেই কারণে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভোটার তালিকা সংশোধনীর (SIR) নামে বাংলার বহু বৈধ নাগরিকের নাম ‘ডিলিট’ করে দিয়েছে এবং তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে। তাছাড়া
সাধারণ মানুষের মনে ভয় তৈরি করা এবং বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন।