বুধবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের ডেপুটি চেয়ারম্যান হলে দেশ বাঁচাও গণ মঞ্চ এবং ভারত জোড়ো অভিযান-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল সাংবাদিক সম্মেলন। সম্মেলনে বক্তারা জানান, পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে নির্বাচন কমিশন, বিজেপির নির্দেশে, এক প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করছে। এই সবই করা হচ্ছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর আড়ালে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা সম্ভবত এখনও পশ্চিমবঙ্গের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী তালিকা থেকে ৯২ লক্ষ ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। বক্তারা আরও জানান, বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, এই সংখ্যা ইউরোপের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার থেকেও বেশি। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম ও মহিলা। আমাদের মতে, মুসলিমদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে এবং তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর জেলাগুলো থেকে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যেগুলো মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা।
কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মুসলিম বিচারপতিদের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনাও ঘটেছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক প্রশাসনিক সচিবের পরিবারের সকল সদস্যের নাম সম্পূর্ণভাবে ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, কারণ তিনি মুসলিম।
এরপর সংখ্যার বিচারে রয়েছেন মহিলারা। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায়, যা ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত, সেখানে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা সাধারণত বিজেপিকে ভোট দেন না। এই কারণেই কি তাদের টার্গেট করা হচ্ছে?
বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা দখল করতে চায়। সেই লক্ষ্যেই তারা এখন ভোট চুরির মতো অসাধু উপায় অবলম্বন করেছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এস আই আর প্রক্রিয়ার সময় ২২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ জন বিএলও, যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কাজ করার জন্য নিযুক্ত ছিলেন, এবং ১৯০ জন সাধারণ নাগরিক, যারা আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন বা আতঙ্কজনিত কারণে মারা গেছেন। এটি পশ্চিমবঙ্গকে এক নির্বাচনী গণহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা।গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে হার নিশ্চিত জেনেই কি এখন ভোটার তালিকায় কারচুপি করে জিততে চাইছে বিজেপি? বুধবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিস্ফোরক অভিযোগ ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’-র। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে সাধারণ মানুষদের যেভাবে হয়রানি করে চলেছে, তা সকলের সামনে তুলে ধরতে এই সম্মেলন আয়োজন করে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’। বুধবার ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এবং ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর একটি যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব, সুমন ভট্টাচার্য, দীপঙ্কর দে প্রমুখ। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করতে পারছে না বিজেপি। সেই কারণে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভোটার তালিকা সংশোধনীর (SIR) নামে বাংলার বহু বৈধ নাগরিকের নাম ‘ডিলিট’ করে দিয়েছে এবং তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ৯২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যাটি ইউরোপের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে সংখ্যালঘু ও নারীদের সংখ্যাই সর্বাধিক। সংখ্যালঘু প্রধান এলাকা থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বক্তাদের। কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মুসলিম বিচারপতিদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন প্রশাসনিক সচিব মুসলিম হওয়ার কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামও ভোটার তালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে এরপরই রয়েছেন নারীরা। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলো প্রথাগতভাবে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে নারীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বক্তারা অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক আবহে বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষদের সরাসরি ‘ঘুষপেটিয়া’ বা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দাগিয়ে দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। তাঁদের অভিযোগ, যারা বংশপরম্পরায় এই বাংলায় বসবাস করছেন, তাঁদের শুধু ভাষার ভিত্তিতে বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিদেশি সাজানোর চেষ্টা চলছে। এই ‘ঘুষপেটিয়া’ তকমা দিয়ে আসলে সাধারণ মানুষের মনে ভয় তৈরি করা এবং বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন।