রবিবার | ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:২৪
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্মৃতিবেলা : শিশুবেলা : ড. শিবশঙ্কর পাল ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়ালেও আতঙ্ক ছড়াবেন না, সতর্ক থাকাই একমাত্র পথ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পরিবেশ দিবসে রবীন্দ্রনাথ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার এবারে দশহরাতে আরামবাগের মনসাডাঙ্গার মনসা মাতার পূজায় ছাগবলি বন্ধের সিদ্ধান্ত : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বরেন্দ্র ও গৌড়ীয় ব্রাহ্মণ সমাজের ইতিহাস, কুলপঞ্জি ও অভিলিখনের সমন্বয়ে একটি পুনঃপাঠ : অত্রি ভট্টাচার্য ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘ছেঁড়া জামার ঈশ্বর’
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

বিপজ্জনক উপাদানে কফ সিরাপ তৈরি করে বড় ওষুধ কোম্পানি : তপন মল্লিক চৌধুরী

তপন মল্লিক চৌধুরী / ৮০৩ জন পড়েছেন
আপডেট সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫

সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়া জেলায় ৯ শিশুর মৃত্যুর ঘটেছে। জানা যায়, কফ সিরাপ খাওয়ানো হয়েছিল ওই শিশুদের। তার জেরেই রাতারাতি কিডনি বিকল হয়ে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বরের চিকিৎসায় কফ সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যু মিছিলে পরিণত হয়েছে। এরপর রাজস্থানের ভরতপুর ও সিকার এলাকাতেও পরপর শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুটি ক্ষেত্রেই শিশুদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই কাফ সিরাপ খাওয়ানো হয়েছিল। একের পর এক শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ায় নড়েচড়ে কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তে নেমেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জম্মুতে বেশ কিছু শিশু একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক শিশু মারা যায়। এই ঘটনাকে অনেকে রহস্য-রোগ বলে মনে করেছিলেন। দেখ যায়, যে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং মারা যায় তারা কাশি এবং সর্দিতে ভুগছিল, স্থানীয় ডাক্তাররা তাদের কাশির সিরাপ লিখে দিয়েছিলেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে, তাদের কিডনি বিকল হয়ে যায়। পরে জানা যায় যে ডিজিটাল ভিশন নামক একটি ভারতীয় ওষুধ কোম্পানির তৈরি কাশির সিরাপের তিনটি নমুনায় ডাইথিলিন গ্লাইকল বা ডিইজি রয়েছে, যা রঙ, কালি, ব্রেক ফ্লুইড তৈরিতে ব্যবহার করা হয় আর সেই বিষাক্ত অ্যালকোহল খাওয়ার পর কিডনি বিকল হয়। আমাদের দেশের কফ সিরাপ খেয়ে বিদেশেও বহু শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হরিয়ানার একটি ওষুধ কোম্পানির কফ সিরাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ভারতে তৈরি কফ সিরাপ খেয়ে জাম্বিয়ায় ৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল একই সিরাপ খেয়ে উজবেকিস্তানেও ১৮ শিশু মারা যায়। এরপর ভারতে-তৈরি কাশির ওষুধ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি হয়।

প্রসঙ্গত, ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারক দেশ, যেখানে জেনেরিক, ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ, ভ্যাকসিন এবং উপাদান তৈরির জন্য ১০ হাজারের বেশি ওষুধ কারখানা আছে। সেই ওষুধ তৈরির জন্য ৭০% উপাদান আমদানি হয় চীন থেকে। কিন্তু ভারতে তৈরি ওষুধের মান নিয়ে অনেক সময়েই প্রশ্ন ওঠে। ভারতের বহু জায়গাতেই নকল ওষুধ তৈরি হয় যার বেশিরভাগই ছোট শহর এবং গ্রামে বিক্রি হয়। অনেক রাজ্যে রাষ্ট্র পরিচালিত ওষুধ পরীক্ষার ল্যাবগুলিতে যথেষ্ট পরিকাঠামো, কর্মীর সংখ্যার অভাব রয়েছে। বিশ্লেষকরা মত যে নিয়ন্ত্রক তদারকি এবং প্রয়োগ আশ্চর্যজনকভাবে দুর্বল। যে কারণে ২০১৪ সালে, ভারতের শীর্ষ ওষুধ নিয়ন্ত্রক একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, যদি তাঁকে আমেরিকার মান অনুসরণ করতে হত তাহলে তাঁকে প্রায় সমস্ত ওষুধই বন্ধ করতে হয়। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতকে “বিশ্বের ফার্মেসি” হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সরকারি রেকর্ড থেকে জানা যায় যে, ২০০৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৭,৫০০টিরও বেশি ওষুধের মান পরীক্ষা হয় কিন্তু সেগুলিকে “মানসম্মত মানের নয়” বা নিম্নমানের ওষুধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের গবেষণায় দেখা যায় ওই ওষুধগুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে উপাদান ছিল না। গত দশকে এই ধরনের নিম্নমানের ওষুধ থেকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কয়েক লক্ষ।

প্রসঙ্গত, এখনও অনেকে সর্দি, কাশি ইত্যাদি সমস্যায় ঘরোয়া টোটকায় ভরসা করেন কিন্তু অনেকে কফ সিরাপ খেতেই পছন্দ করেন। যদিও কাশি বা কফের সমস্যা বেড়ে গেলে কফ সিরাপ খেতেই হয়। লক্ষ্যনীয় যাঁরা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে প্রায় সকলেরই কফ বা কাশির সমস্যা হয়েছিল। সংক্রমণ কেটে যাওয়ার পরও যে কফ বা কাশির সমস্যা পুরোপুরি সেরেছে তা নয়। তবে বলাই বাহুল্য কফ বা কাশির সমস্যায় বেশি কফ সিরাপ খাওয়াটা একেবারেই ভাল নয়। যদিও কাশির সমস্যায় যদি রাতের পর রাত ঘুম না হয় তখন তো বাধ্য হয়েই খেতে হয়। কিন্তু অনেকেই লক্ষ্য করেছেন যে কফ সিরাপ খেলে একটা ঘুম ঘুম ভাব আসে আর তা সারাদিনই থেকে যায়। এটা অনেকের ক্ষেত্রে আবার নেশার মতো হয়ে যায়। ঘুম ঘুম ভাব বেশি থাকা মানে হল স্নায়ু শিথিল থাকা। যে কারণে অনেকেই খুব দরকার ছাড়াও এই কফ সিরাপ খান। যেটা অত্যন্ত ক্ষতিকারক। কারণ কফ সিরাপ তৈরি করতে ওপিয়াম, হেরোইন, ক্লোরোফর্ম, মরফিন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। আএ এইগুলি হল কফ সিরাপের প্রাথমিক উপকরণ। যদিও এখন এই সব উপকরণে বদল ঘটেছে। এখন ডেক্সট্রোমেটোমরফিন কেমিক্যাল, বেঞ্জোনেটেট, প্রোমেথাজেন-কোডেইন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এইসব উপাদানগুলিও মনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে মস্তিষ্ক এবং সমগ্র স্নায়ুতন্ত্রের উপরেও প্রভাব ফেলে। ওপিয়াম রক্তকোষের সঙ্গে মিশে মানব দেহে এমন একটা অনুভূতি তৈরি করে যাতে মনে হয় শরীরে কোনো ব্যথা নেই। যাঁরা কফ সিরাপ নিয়মিত খান তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঘুম ভাব ছাড়াও মাথা ধরে থাকা, ক্লান্ত লাগা, চোখে অস্পষ্ট দেখা, হ্যালুসিনেট করা নানা সমস্যা হয়।

আশ্চর্যের বিষয় ডাইইথিলিন গ্লাইকল, ইথিলিন গ্লাইকল ইত্যাদি উপাদানগুলি হল শিল্প দ্রাবক। এী উপাদানগুলি অ্যান্টিফ্রিজ, রং, ব্রেক ফ্লুইড এবং প্লাস্টিকে ব্যবহার করা হয়, এগুলি কোনোভাবেই ওষুধ তৈরির জন্য নয়। কিন্তু সেগুলি কীভাবে ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়? যে ডাইইথিলিন গ্লাইকল, ইথিলিন গ্লাইকল গিলে ফেললে বিষাক্ত যৌগে ভেঙে যায়, যার ফলে কিডনি, লিভার এবং স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, তারপর দ্রুত কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু সেই উপাদান কীভাবে ওষুধে ব্যবহৃত হয়?


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন