বৃহস্পতিবার | ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:১১
Logo
এই মুহূর্তে ::
ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিজুরিকা চক্রবর্তী-র ছোটগল্প ‘একাকিনী’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৈত্রেয়ী ব্যানার্জী-র ছোটগল্প ‘আবহমান’ ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সুস্বাদু ও রসালো আলুবোখারা–প্রকৃতির এক অনন্য উপহার : রিঙ্কি সামন্ত প্রবাস বাংলা কালচারাল সোসাইটির অনবদ্য সুরঞ্জলি রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী : ফারজানা নাজ শম্পা ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৬নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ স্মৃতিবেলা : শিশুবেলা : ড. শিবশঙ্কর পাল ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়ালেও আতঙ্ক ছড়াবেন না, সতর্ক থাকাই একমাত্র পথ : মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৫নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ পরিবেশ দিবসে রবীন্দ্রনাথ : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৪নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ সিন্ধুসভ্যতা বিশেষজ্ঞ র‍্যান্ডাল ল’-র সুতকাগেনদোর-সফরের নির্যাস : অসিত দাস ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২৩নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ অয়ন মুখোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প ‘পঞ্চাশ নম্বরে নাম’ ক্ষয়িষ্ণু পুরুষ লেখক সসীম কুমার বাড়ৈ আলোচক সুতপা দত্ত দাশগুপ্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২২নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ কলকাতার হকার, উচ্ছেদ অভিযান, ইতিহাসের প্যারাডক্স : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২১নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিনোদিনী দিন ফিরিবার নয় ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১২০নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ বিস্মৃত মানুষের বিস্ময়কর কাহিনি : দিলীপ মজুমদার ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৯নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ আইসক্রিমের দারুন স্বাদে গরম হোক উধাও : রিঙ্কি সামন্ত ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৮নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ মৌসুমী মিত্র ভট্টাচার্য্য-এর ছোটগল্প ‘পদ্মপাতার জল’ নজরুলের চোখে ক্ষুদিরাম : শৌনক ঠাকুর ওয়াল্টার কেলি ফার্মিঙ্গার সম্পাদিত দ্য ফিফথ রিপোর্ট (১১৭নং) অনুবাদ বিশ্বেন্দু নন্দ ইতিহাসসাধক স্বদেশরঞ্জন মণ্ডল : দিলীপ মজুমদার
Notice :

পেজফোরনিউজ অর্ন্তজাল পত্রিকার (Pagefournews web magazine) পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী সকলকে জানাই শুভ দোল পূর্ণিমা-র আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। ভালো থাকবেন সবাই। ❅ আপনারা লেখা পাঠাতে পারেন, মনোনীত লেখা আমরা আমাদের পোর্টালে অবশ্যই রাখবো ❅ লেখা পাঠাবেন pagefour2020@gmail.com এই ই-মেল আইডি-তে ❅ বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন,  ই-মেল : pagefour2020@gmail.com

ধোলাভিরা — প্রাচীন সিন্ধুসভ্যতার নগরায়ন ও ঐতিহ্য : অসিত দাস

অসিত দাস / ৬৬১ জন পড়েছেন
আপডেট শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫

ধোলাভিরা হলো প্রাচীন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরস্থল, যা সিন্ধুসভ্যতার অন্তর্গত। এটি আজকের ভারতের গুজরাত রাজ্যের রাপরাতে অবস্থিত। ধোলাভিরা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন নগর শহর হিসেবে পরিচিত, যার বয়স প্রায় ৪৬০০ বছর। সিন্ধুসভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধোলাভিরার আবিষ্কার ভারতীয় ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ধোলাভিরার ইতিহাস, নগর পরিকল্পনা, অর্থনীতি ও সমাজসংস্কৃতি গবেষকদের কাছে আগ্রহের বিষয়।

১. ধোলাভিরার অবস্থান ও আবিষ্কার

ধোলাভিরার অবস্থান গুজরাতের কচ্ছ জেলার রাপরাত উপজেলায়। এটি খাসিয়া একটি পাহাড়ের কাছে অবস্থিত, যেখানে ঘন বনাঞ্চল ছিল। এই শহরটি সিন্ধু সভ্যতার পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর। ১৯৬৭-৬৮ সালের দিকে প্রত্নতত্ত্ববিদ রাজীব কল ও এস.আর. রাও ধোলাভিরার খোঁজ পান। অতীতে ধোলাভিরা বেশ কিছু পুরাতাত্ত্বিক খুঁটিনাটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও পরে সম্পূর্ণ নগরের ধ্বংসাবশেষ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ধোলাভিরার ইতিহাস প্রায় ২৭০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি সিন্ধু সভ্যতার (বা হরপ্পা সভ্যতার) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যা সমকালীন মেসোপটেমিয়া ও মিশরীয় সভ্যতার সমতুল্য। ধোলাভিরার শহরটি প্রায় ৪৬০০ বছর পুরানো। এটি সিন্ধু সভ্যতার একটি প্রধান বন্দর নগরী ছিল যা সমৃদ্ধ বাণিজ্য ও শস্য উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন অর্জন করেছিল।

৩. ধোলাভিরার নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্য

ধোলাভিরার নগর পরিকল্পনা অত্যন্ত উন্নত ও পরিকল্পিত ছিল। এটি প্রাচীন শহরগুলোর মধ্যে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধোলাভিরার তিনটি প্রধান অংশ ছিল:

  • উচ্চতম দুর্গ বা কেল্লা (Citadel)
  • মধ্যম দুর্গ
  • নিম্ন নগর

এই তিনটি অংশের মধ্যে রাস্তা ও দেয়াল দ্বারা সুসজ্জিত ব্যবস্থা ছিল, যা নিরাপত্তা ও কার্যকারিতাকে নিশ্চিত করত।

৩.১ রাস্তা ও সড়ক ব্যবস্থা

ধোলাভিরার সড়ক ব্যবস্থা ছিল খুবই পরিকল্পিত এবং সরল। প্রধান সড়কগুলো প্রায় ৯ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট ছিল এবং এগুলো শহরের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করত। এছাড়াও ছোট ছোট গলি ও পথগুলো পুরো নগরকে একত্রে আবদ্ধ করেছিল। রাস্তা ও গলির পাথর ও ইটের নির্মাণ পদ্ধতি অত্যন্ত শক্তপোক্ত ছিল।

৩.২ জল সরবরাহ ও স্যানিটেশন

ধোলাভিরার সবচেয়ে উন্নত দিক হলো তার স্যানিটেশন ব্যবস্থা। নগরের বিভিন্ন জায়গায় সুচারুভাবে নির্মিত ছিল নালা ও নিকাশী ব্যবস্থা। বিভিন্ন বাড়ির নিচে সুচারুভাবে নিকাশী নালা তৈরি ছিল যা ব্যবহার করা বর্জ্য তরল সরিয়ে নিত। এছাড়াও, নগরের বিভিন্ন স্থানে বৃহৎ কূপ, জলাধার ও ঝর্ণার ব্যবস্থা ছিল।

৩.৩ গৃহ নির্মাণ

ধোলাভিরার বাড়িগুলো প্রধানত পোড়া ইট দিয়ে নির্মিত ছিল, যা ঐ সময়ের অন্যান্য স্থানের তুলনায় অধিক টেকসই ও সুরক্ষিত ছিল। গৃহের ভিতরে রান্নাঘর, বাথরুম ও স্নানের ঘর ও বসবাসের স্থান সুচারুভাবে ভাগ করা ছিল। অধিকাংশ বাড়ি ভেতরে ঝরনা বা ছোট বাথটব ছিল, যা অত্যন্ত উন্নত সভ্যতার পরিচায়ক।

৪. অর্থনীতি ও কৃষিবাণিজ্য

ধোলাভিরার অর্থনীতি কৃষি, বাণিজ্য ও শিল্পকর্মের উপর নির্ভর করত।

নগরবাসীরা গম, যব, সরষে, মটরশুঁটি এবং অন্যান্য শস্য চাষ করত। পাশ্ববর্তী ও জলাধারের জল সেচ ব্যবস্থায় সাহায্য করত। ধোলাভিরার ভূগোল ও জলবায়ু কৃষির জন্য উপযোগী ছিল।

ধোলাভিরার বাণিজ্য ব্যাপক প্রসার লাভ করেছিল। ধোলাভিরার বন্দর ও নদী পথের মাধ্যমে পাথর, সোনা-রুপার গয়না, মৃৎপাত্র, মোমবাতি, ও অন্যান্য সামগ্রী মেসোপটেমিয়া, মধ্য প্রাচ্য ও প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে রপ্তানি হত। নানা ধরনের মুদ্রা ও ট্রেড মার্কসহ বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা নগর বাণিজ্যের প্রমাণ।

ধোলাভিরার বাসিন্দারা মৃৎশিল্প, ধাতুবিদ্যা, গহনা তৈরি এবং বস্ত্র শিল্পে দক্ষ ছিলেন। তারা মৃৎপাত্র ও বস্ত্র তৈরিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করত। বিশেষ করে সিল এবং মুদ্রণ শিল্পে তারা অগ্রগণ্য ছিল।

৫. সমাজ ও সংস্কৃতি

ধোলাভিরার সমাজ ছিল বৈচিত্র্যময় ও সুবিন্যস্ত। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ এখানে বসবাস করত।

ধোলাভিরার সমাজে প্রায় নিশ্চিতভাবে প্রশাসক, শিল্পী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের বিভিন্ন স্তর ছিল। শহরের কেন্দ্রীয় দুর্গ প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল।

ধোলাভিরার বাসিন্দারা সম্ভবত বিভিন্ন দেব-দেবী ও প্রাকৃতিক শক্তির পূজা করত। মাটির মূর্তি ও বিশেষভাবে নির্মিত পাথরের প্রতিমা যেমন ‘মা দেবী’ এবং পশুপাখির মূর্তি পাওয়া গেছে যা ধর্মীয় সংস্কৃতির নিদর্শন। এছাড়াও, শিখা, মন্দির বা পুজার স্থানের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ধোলাভিরার আবিষ্কৃত বিভিন্ন মুদ্রা, মৃৎপাত্র ও পাথরের টুকরায় অসংখ্য খোদিত লিপির খোঁজ পাওয়া যায়, যাকে সিন্ধুলিপি বলা হয়।

ধোলাভিরার কেন্দ্রবিন্দুতে পাথরে খোদাই করা একটি রহস্যসংকেত রয়েছে, — তা হল ধোলাভিরার সাইন বোর্ড। ১৯৯০-এর দশকে এর আবিষ্কার রহস্যময় হরপ্পা সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এই নিদর্শনটি প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ভাষাবিদ, উভয়ের জন্যই একটি আকর্ষণীয় ধাঁধা উপস্থাপন করে। এর তাৎপর্য কেবল এর আকারের মধ্যেই নয়, বরং ইতিহাসের সবচেয়ে উন্নত প্রাচীন সভ্যতাগুলির মধ্যে একটির দৈনন্দিন জীবন, বিশ্বাস এবং সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে এটি যে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়, তাও উল্লেখনীয়।

সিন্ধু সভ্যতা, যা তার অসাধারণ নগর পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য পরিচিত, এমন একটি লিপি রেখে গেছে যা প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য। অসংখ্য নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত লেখার পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে পণ্ডিতদের কৌতূহলী করে তুলেছে। ধোলাভিরার সাইন বোর্ড, এই লিপির একটি বিশিষ্ট উদাহরণ, এই প্রাচীন প্রতীকগুলির পিছনের অর্থ উন্মোচনের সম্ভাবনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নিদর্শনটি হাজার হাজার বছর ধরে নীরব থাকা একটি ভাষা বোঝার মূল চাবিকাঠি হতে পারে, যা হরপ্পা সংস্কৃতি সম্বন্ধে একটি নতুন ধারণা প্রদান করে।

সাইন বোর্ডটি তার ভৌত বৈশিষ্ট্য এবং ঐতিহাসিক মূল্য, উভয় দিক থেকেই একটি অসাধারণ নিদর্শন। এটি দশটি বৃহৎ আকারের অক্ষর দিয়ে গঠিত, প্রতিটি অক্ষর সাবধানে কাঠের একটি বিশাল স্ল্যাবে খোদাই করা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে, কাঠটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, কিন্তু এই প্রতীকগুলির ছাপগুলি স্বতন্ত্র রয়ে গেছে, যা হরপ্পাবাসীদের কারুশিল্পের প্রমাণ। নির্ভুলভাবে খোদাই করা অক্ষরগুলি বড় এবং স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান, যা তাদের গুরুত্ব নির্দেশ করে, সম্ভবত জনসাধারণের প্রদর্শনী বা একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন হিসেবে।

গঠনের দিক থেকে, সাইন বোর্ডের অপরিষ্কৃত পৃষ্ঠ হাজার হাজার বছর ধরে জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তা সত্ত্বেও, শিলালিপিগুলি তাদের আকৃতি ধরে রেখেছে, যা অতীতের সাথে একটি বাস্তব যোগসূত্র প্রদান করছে। রেখা এবং জ্যামিতিক আকারের সমন্বয়ে গঠিত প্রতীকগুলি একটি শৈলীগত ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করে, সেটি একটি পরিশীলিত এবং মান্য লিখনপদ্ধতির ইঙ্গিত দেয়।

এই সাইনবোর্ডের পূঙ্খানুপুঙ্খ অধ্যয়ন এই প্রাচীন সভ্যতার আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানের দ্বার উন্মোচন করে। লিপি থেকে সমাজে স্থানান্তরিত হলে, আমরা হরপ্পাবাসীদের দৈনন্দিন জীবন, বিশ্বাস এবং জটিল সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি লাভ করি, যা তাদের স্থায়ী প্রতীক এবং শিল্পকর্মের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

হরপ্পা সংস্কৃতি কেবল নগর কাঠামো এবং বাণিজ্য নিয়েই ছিল না; এটি ছিল সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং প্রাণবন্ত জীবনযাত্রার একটি জটিল সমাজ। তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি, শাসনব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি তাদের রেখে যাওয়া যে যে নিদর্শন থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে, তার মধ্যে ধোলাভিরার সাইন বোর্ডও অন্যতম। এই বোর্ডের প্রতিটি প্রতীক এবং রেখা তাদের উৎসব, আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস এবং এমনকি তাদের দৈনন্দিন রুটিন বোঝার একটি সূত্র হতে পারে। ধোলাভিরা অতীতের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে কাজ করে, যা হরপ্পাবাসীদের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির একটি আভাস দেয়।

ধোলাভিরার সাইন বোর্ডের পাঠোদ্ধার ও অনুসন্ধানের মধ্যে সিন্ধুসভ্যতা বোঝার বৃহত্তর চ্যালেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত। লিপির জটিলতা, নিদর্শনগুলির ক্ষতি এবং ক্ষয়ের সাথে যুক্ত, পাঠোদ্ধারকে একটি কঠিন কাজ করে তোলে। দ্বিভাষিক শিলালিপি ব্যবহার করে পাঠোদ্ধার করা অন্যান্য প্রাচীন লিপির মতো, হরপ্পা লিপিতে এমন তুলনামূলক হাতিয়ারের অভাব রয়েছে। এর ফলে অসংখ্য তত্ত্ব তৈরি হয়েছে কিন্তু কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি, যা হরপ্পা সংস্কৃতির অধ্যয়নকে পণ্ডিতদের কাছে আকর্ষণীয় এবং চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

ধোলাভিরার সাইনবোর্ড সিন্ধুসভ্যতার চিরন্তন রহস্য এবং স্পষ্টতার প্রতীক। ধোলাভিরা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অন্যতম প্রধান নিদর্শন হিসেবে হরপ্পা সংস্কৃতি সম্পর্কে অমূল্য অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। এর পাঠোদ্ধারে চ্যালেঞ্জগুলি তাৎপর্যপূর্ণ, তবে আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য বোঝার জন্য এগুলি একটি অপরিহার্য প্রচেষ্টা।

৬. ধোলাভিরার প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ও সমকালীন অবস্থা

ধোলাভিরার আবিষ্কার প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার সম্পর্কে নতুন আলো ফেলেছে। এই শহরের নিদর্শন থেকে জানা যায় যে, প্রাচীন ভারতীয়রা নগর পরিকল্পনা, স্যানিটেশন, শিল্প, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কতটা অগ্রসর ছিল।

বর্তমানে ধোলাভিরা একটি প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্র হিসেবে সংরক্ষিত। এটি পর্যটক ও গবেষকদের আকর্ষণ কেন্দ্র। ভারত সরকার ধোলাভিরার উন্নয়ন ও সংরক্ষণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ধোলাভিরা হলো একটি অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন যা প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার উন্নত নগরায়ন, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রমাণ বহন করে। এর উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পরিকল্পিত রাস্তা, শিল্প ও বাণিজ্যের সমৃদ্ধির কথা আজও আধুনিক নগরায়নের জন্য এক অনুপ্রেরণা। ধোলাভিরার গবেষণা আমাদের অতীতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে এবং প্রাচীন মানব সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।

আমরা যদি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সচেতন হই, ধোলাভিরার মতো স্থানগুলোকে ভালোভাবে সংরক্ষণ করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাদের উত্তরসূরি থেকে প্রাচীন সভ্যতার মহিমা জানতে পারবে।

লোথাল বন্দরের সঙ্গে ধোলাভিরার যোগাযোগ প্রশ্নাতীত। লোথালের পণ্য নৌকা বোঝাই হয়ে ধোলাভিরায় পৌঁছত। তারপর ধোলাভিরার আরবসাগরতীরের বন্দর থেকে মেসোপটেমিয়া ও মিশরের উদ্দেশে রওনা দিত। পথে সিন্ধুসভ্যতার পশ্চিমতম কেন্দ্র সুতকাগেনদর বন্দরে কিছু বিনিময় সংক্রান্ত নথি তৈরি হত। তারপর সেই পণ্য মাগান, দিলমুন, মেসোপটেমিয়া ও মিশরে পৌঁছত। সে এক দীর্ঘ অন্তহীন যাত্রা। কালের ধ্বনি যেন ভেসে আসছে লোথালের প্রস্তরীভূত নগরীর বুক থেকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশেষ সংখ্যা ২০২৬ সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন